মাথায় করে রেখেছিল বলিউড, তিলে তিলে যে ভাবে ধ্বংস হল জ্যাকলিনের কেরিয়ার

Jacqueline Fernandez : “আমার পুরো জীবন, কেরিয়ার সমস্ত নষ্ট করে দিয়েছে”, সরাসরি সুকেশের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ

Kankana Mukherjee
২ মিনিট
মাথায় করে রেখেছিল বলিউড, তিলে তিলে যে ভাবে ধ্বংস হল জ্যাকলিনের কেরিয়ার

ত্রী নোরা ফতেহি ইতিমধ্যেই মুখ খুলেছিলেন ঘটনার বিরুদ্ধে অবশেষে সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে সুকেশ চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধে রাজসাক্ষী হতে চাইছেন অভিনেত্রী জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজও।

“আমার পুরো জীবন, কেরিয়ার সমস্ত নষ্ট করে দিয়েছে”, সরাসরি সুকেশের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ। ২০০ কোটি টাকার তছরুপ মামলায় নাম জড়ায় অভিনেত্রীরও। সেই থেকে বিগত এক বছরে একাধিকবার আদালতে হাজিরা দিতে হতে তাঁকে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপর আরোপ করা হয় আইনি বাধা। অবশেষে ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙল, সুকেশ চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধে এ বার আদালতে বিস্ফোরক জ্যাকলিন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
২১৫ কোটি টাকার দুর্নীতিতে কেন জ্যাকলিনের নাম, ঈর্ষা নাকি অপরাধের আগুনে হাত পোড়ালেন!

Jacqueline Fernandes: অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখরের কিছু ঘনিষ্ঠ ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই ইডির ব্ল্যাকলিস্টে রয়েছেন এই অভিনেত্রী।

জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ, বলিউডের খুব পরিচিত নাম। উঠতি কেরিয়ার। নায়িকা হিসেবে জনপ্রিয় মুখ। হঠাৎ ছন্দপতন। আলাপ হয় সুকেশ চন্দ্রশেখরের সঙ্গে। অভিনেত্রী আদালতে জানিয়েছেন, “একজন সরকারি আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। পিঙ্কি ইরানির সূত্রেই ওর সঙ্গে আলাপ। নিজেকে সান টিভির মালিক দাবি করে, ও আমায় বুঝিয়েছিল আমার দক্ষিণ ভারতে আরও কাজ করা উচিত। এও বলে যে, ওদের বেশ কিছু প্রজেক্ট রয়েছে। পিঙ্কি ও সুকেশ দিনে ৩বার কল করত।” আরও বড় আর্থিক হাতছানির দিকেই পা বাড়ান অভিনেত্রী। বলা ভালো পা হড়কে যায়। সম্প্রতি এই জবানবন্দি দিতে দিতেই আদালতে কান্নায় ভেঙে পড়েন অভিনেত্রী। “সুকেশ আমাকে ফাঁসিয়েছে”, বলেও দাবি তাঁর।

অভিনেত্রী জানান, দামী গাড়ি, নামী চাকরি এমনকী নাম পর্যন্ত ভুয়ো ছিল সুকেশের। অভিনেত্রীর সঙ্গে আলাপের সময় নিজেকে শেখর বলে পরিচয় দিয়েছিল অভিযুক্ত। সম্পর্ক আরও খানিকটা জোরালো করতে একের পর এক প্রলোভন দেখান তিনি নায়িকাকে। জ্যাকলিনের বয়ানে জানা যায়, জ্যাকলিন যখন কেরলে গিয়েছিলেন তখন তিনি নায়িকাকে একটি ব্যক্তিগত জেট দিয়েছিলেন সুকেশ। এখানেই শেষ নয়, কেরলে যাতায়াতের জন্য একটি ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার যাত্রারও ব্যবস্থা করে দিয়ে সুকেশ।

আর এইসব প্রাচুর্য এবং নতুন অভিনীত সুযোগ সম মিলিয়ে ফাঁদে পড়ে গিয়েছিলেন বড়ই দাবি জ্যাকলিনের। তবে আবেগ নিয়ে খেলা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি জানিয়েছেন, সুকেশের সঙ্গে তাঁর শেষ দেখা হয়েছিল ২০২১ সালের ৮ আগস্ট। শুধু তাই নয় তিনি মামলায় সরাসরি নাম জড়ান পিংকি ইরানির। পিংকি সব জানতো বলেই অভিযোগ তাঁর। তাঁর বয়ানে, “পিঙ্কি এবং সুকেশ দু’জনেই প্রতারণা করেছে। আমাকে হুমকি দিয়েছে। আমি যখন তার অপরাধ জীবন সম্পর্কে জানতে পারি তখনই বুঝি মস্ত ভুল করেছি। শেখরের আসল নাম সুকেশ। পিঙ্কি সবই জানত। তবু সে আমায় সজাগ করেনি!” একই দাবি নোরা ফাতেহিরও। তাঁকেও বিলাসবহুল জীবনযাত্রা, বিএমডব্লিউ গাড়ির লোভ দেখিয়ে ফাঁদে ফেলতে চেয়েছিল বলেই জানান নোরা।

সম্পূর্ণ ঘটনা পর্যালোচনা করলে দেখা যায় মানুষের প্রলোভন কীভাবে উজ্জ্বল শিখর থেকে অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। কেরিয়ারে তো বটেই ব্যক্তিগত জীবনেও এখন ছন্নছাড়া অভিনেত্রী। ঘুরে দাঁড়াতেই তাই রাজসাক্ষী হওয়ার পদক্ষেপ। এখন দেখার কতো দ্রুত নিষ্পত্তি হয় সম্পূর্ণ মামলার।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেন তুলে দিতে হচ্ছে মাদ্রাসা কমিশন?

West Bengal decides to merge Madrasah Service Commission: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ৫ অক্টোবরের মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ স্কুল সার্ভিস কমিশনের সঙ্গে মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে একীভূত করার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।

আমার উৎসব, ওঁদের আরও একটা দীর্ঘ কাজের দিন

Durga Puja for Gig Workers: গিগ কর্মীদের দুর্গাপুজোর চার দিন কীভাবে কাটে? বাড়তি উপার্জনের আশায় ব্যক্তিগত আনন্দ, উৎসবের আমেজ আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানোর সময় থেকে কতটা বিসর্জন দিতে হয় তাঁদের?

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

বাংলাদেশে রবীন্দ্র-বিরোধিতা নিয়ে কী বলছেন বুদ্ধিজীবীরা?

Tagore graffiti vandalism Bangladesh: বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? বুদ্ধিজীবীরা কী বলছেন?

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

বাংলাদেশে কেন টার্গেট রবীন্দ্রনাথ? সরকার বদলায়, কেন বদলায় না মন?

Rabindranath Tagore Targeted in Bangladesh: বাংলাদেশে বারবার কেন নিশানা হচ্ছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর? হাসিনা থেকে ইউনূস, সরকার বদলালেও কেন থামছে না তাঁর সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার মুছে ফেলার চেষ্টা? জাতীয় সঙ্গীতের স্রষ্টাকেই কেন বারবার প্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হচ্ছে?

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।