২১৫ কোটি টাকার দুর্নীতিতে কেন জ্যাকলিনের নাম, ঈর্ষা নাকি অপরাধের আগুনে হাত পোড়ালেন!
Jacqueline Fernandes: অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখরের কিছু ঘনিষ্ঠ ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই ইডির ব্ল্যাকলিস্টে রয়েছেন এই অভিনেত্রী।

লকডাউনের সময় থেকেই জ্যাকলিন ফার্নান্ডেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় বেশ শোরগোল ফেলেছিলেন। লকডাউনের সময় হঠাৎই কানাঘুষো শোনা যেতে থাকে, ভাইজানের (সলমন খান) সঙ্গে তাঁর খামারবাড়িতেই নাকি দিন কাটাচ্ছেন এই বলি তারকা। এর আগেও অবশ্য ভাইজানের সঙ্গে একাধিকবার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁর নাম জড়িয়েছিল। এই খবর ছড়িয়ে পড়া মাত্রই নেটিজেনদের মনে প্রশ্ন ওঠে, তবে কি এবার জ্যাকলিনের সঙ্গেই গাঁটছড়া বাঁধতে চলেছেন বলিউডের চিরকুমার সালমন খান! কিন্তু না, কিছুদিন যেতে না যেতেই ভারতের জনপ্রিয় র্যাপার বাদশাহের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে থাকে জ্যাকলিনের নাম। মূলত ‘বড় লোকের বিটি লো’ গানটি জনপ্রিয় হওয়ার পর পরই বলি পাড়ায় গুঞ্জন ওঠে, জ্যাকলিন নাকি এখন বাদশাহর সঙ্গে চুটিয়ে প্রেম করছেন। কিন্তু এই সমস্ত ঘটনাকে ছাপিয়ে, গত বছরে সোশ্যাল মিডিয়ায় শ্রীলঙ্কান সুন্দরীর সঙ্গে একাধিক আর্থিক কেলেঙ্কারির মামলায় অভিযুক্ত সুকেশ চন্দ্রশেখরের কিছু ঘনিষ্ঠ ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই ইডির ব্ল্যাকলিস্টে রয়েছেন এই অভিনেত্রী। অভিযোগকে আরও মারাত্মক করে ইডি জানিয়েছে, ভারত ছেড়ে একাধিকবার পালানোর চেষ্টা করছেন জ্যাকলিন।
২০০ কোটি টাকার প্রতারণা এবং ২০টি আর্থিক তছরুপের মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে নাম জড়ানোর পর থেকে জ্যাকলিনকে চারবার তলব করে ইডি (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট)। জ্যাকলিনের সঙ্গে ওই একই কাণ্ডে নাম জড়ায় গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডের অন্যতম সুপরিচিত অভিনেত্রী, নোরা ফতেহির। ইডির তরফ থেকে জানানো হয়, দুর্নীতির টাকায় সুকেশ তাঁর তৎকালীন বান্ধবীকে একাধিক মূল্যবান সব জিনিসপত্র উপহার দিয়েছিলেন। এই উপহারের তালিকায় ছিল– গুচি ব্র্যান্ডের জিমের পোশাক, একজোড়া হিরের কানের দুল, একাধিক হিরের ব্রেসলেট, বিএমডাবলু ৫, একটি মিনি কোপার গাড়ি (যা তিনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন)। এছাড়াও ৩৫ লাখের একটি ঘোড়া এবং ৩ লাখের একটি বিড়ালসহ অভিনেত্রীর পরিবারের জন্যও সুকেশ একাধিক মূল্যবান দ্রব্য উপহার হিসাবে পাঠান।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Sudipta Chakrabarty Interview: ইনস্ক্রিপ্ট-এর সঙ্গে একান্ত কথোপকথনে সুদীপ্তা চক্রবর্তী।
উপহারের তালিকা ইডির হাতে আসতেই জ্যাকলিনের প্রতি সন্দেহ ক্রমশ বাড়তে থাকে তাঁদের এবং তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বাইরে পা না রাখার ব্যাপারেও কড়া নির্দেশিকা জারি করেছিল আদালত। কিন্তু আদালতের আইন অমান্য করেই তিনি আইফা অ্যাওয়ার্ড শো’র কারণে দুবাই যাওয়ার উদ্দেশে পাড়ি দিলেও, মুম্বাই বিমানবন্দরেই তাঁকে আটক করা হয় এবং বিগত বছরের ৫ ডিসেম্বর ইডির দপ্তরে টানা পাঁচ ঘণ্টার জেরার সম্মুখীন হতে হয় জ্যাকলিনকে। যদিও একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তাঁকে ইডির দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার কথা বলা হলেও, তিনি তা এড়িয়ে গেছিলেন। এই সময় শুধু জ্যাকলিনকেই নয়, নোরাকেও ইডির প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল, তবে তাঁর বিরুদ্ধে বিশেষ কোনও মজবুত প্রমাণ না মেলায় সেই যাত্রায় বেঁচে যান নোরা ফতেহি।
জ্যাকলিনকে দেওয়া উপহার এবং তাঁদের ঘনিষ্ট ছবি প্রকাশ্যে এলে, সুকেশ একটি চিঠিতে লিখে পাঠান তার অবৈধ টাকার বিষয়ে অভিনেত্রী একেবারেই ওয়াকিবহল ছিলেন না। তিনি আরও জানান, অভিনেত্রীকে দেওয়া সমস্ত উপহারের টাকা তাঁর নিজের, এরসঙ্গে দু’নম্বরি টাকার কোনও সম্পর্ক নেই। চিঠিতে তিনি লেখেন, জ্যাকলিন এবং তাঁর মধ্যে যে সম্পর্ক ছিল, সেখানে টাকার কোনও জায়গা ছিল না, সেই সম্পর্কে শুধুমাত্র ভালোবাসা ছিল এবং একজন ভালোবাসার মানুষকে যেমন উপহার দেওয়া হয়, সেই হিসাবেই তিনি জ্যাকলিন এবং তাঁর পরিবারকেও উপহারগুলি পাঠিয়েছিলেন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Catherine of Valois: মৃত্যুকালীন অবস্থায় রানির যেমন চেহারা হয়েছিল সেই একইভাবে বানানো কাঠের পুতুলটি আজও চ্যাপেলে বর্তমান।
মাত্র সতেরো বছর বয়স থেকেই প্রতারণা এবং জালিয়াতির সঙ্গে নাম জড়াতে থাকে সুকেশের। বিভিন্ন সময় উচ্চপদস্থ নেতা-মন্ত্রীদের সঙ্গে ছবি তুলে এবং পরবর্তীতে সেই ছবির অপব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার ভুয়ো প্রতিশ্রুতি দিয়ে অসংখ্য লোকের কাছ থেকে তোলাবাজির কাজ করতেন সুকেশ। সুকেশ এবং তাঁর স্ত্রী যখন তিহাড় জেলে বন্দিদশা কাটাচ্ছিলেন, তখন জেল বসেই ৮২ জন কর্মচারীকে ঘুষ দিয়ে র্যানব্যাক্সি কোম্পানির প্রাক্তন মালিক শিবিন্দর সিং এবং তাঁর পত্নী অদিতি সিংয়ের কাছ থেকে ২০০ কোটি টাকা আদায় করেন তিনি। শিবিন্দর সিং নিজেই তখন জেলে বন্দি থাকায় সুকেশ বিভিন্ন সময়, ভয়েস মডিউলেশন প্রযুক্তির সাহায্যে একাধিক নম্বর থেকে তাঁর জামিনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অদিতি সিংয়ের কাছ থেকে এই টাকা আদায় করেন।
জানলে অবাক হতে হয়, এই তিহার জেলে বসেই জ্যাকলিনের সঙ্গে প্রেমের সূত্রপাত ঘটে সুকেশের। সূত্রের খবর অনুযায়ী গত বছরের জানুয়ারি মাস থেকেই জেলে বসে মোবাইল থেকে মেসেজ চালাচালির মধ্যে দিয়েই প্রেমের শুরুয়াত হয়েছিল। অভিনেত্রীর মেকআপ আর্টিস্ট শান মুত্তাতিলের মাধ্যমেই তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় সুকেশের। প্রথমদিকে অভিনেত্রী বিশেষ আগ্রহ না দেখালেও পরে সুকেশ জ্যাকলিনের হেয়ার ড্রেসারের মারফত যোগাযোগ চালানোর প্রয়াস করতে থাকে। সে নিজের পরিচয় গোপন করে নিজেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একজন ঘনিষ্ট ব্যক্তি বলে দাবি করতে থাকেন এবং আরও বলেন, তিনি একটি টিভি নেটওয়ার্কের কর্ণধার এবং গয়নার ব্যবসায়ী। সুকেশ যে জেলে বসেই এইসব কার্যকলাপ চালাতেন– সেই কথা নাকি একেবারেই টের পাননি অভিনেত্রী।
জ্যাকলিন এই প্রসঙ্গে আরও জানান, সুকেশ নাকি জেলের মধ্যেই অফিসের মতো একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছিলেন এবং সেখানে বসেই নাকি তিনি ভিডিও কল করে অভিনেত্রীর সঙ্গে কথা বলতেন। যদিও এই অভিযোগকে সম্পূর্ণরূপে অগ্রাহ্য করেছে সুকেশের উকিল। তাঁর কথায়, জ্যাকলিন নিজের পিঠ বাঁচাতেই এইসব ভ্রান্ত অভিযোগ করছেন যার কোনও বাস্তবিক ভিত্তি নেই। বর্তমানে দিল্লির রোহিণী জেলে বন্দিদশা যাপন করছেন সস্ত্রীক সুকেশ চন্দ্রশেখর। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, তিনি নাকি তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পারার অনুমতি না পাওয়ার কারণে একাধিকবার অনশনের মুখাপেক্ষীও হয়েছেন।
















