পহেলগাঁও হামলার আগে ২০০০ সাল থেকে যেভাবে জঙ্গিদের নিশানা হয়েছে সাধারণ মানুষ

Pahalgam Attack: কাশ্মীরের মানুষকে ব্যবহার করেই টিআরএফ এমন হামলা চালাল অথচ ভারতের প্রতিরক্ষাবাহিনীর কাছে কোনও খবর নেই?

inscript
৩ মিনিট
পহেলগাঁও হামলার আগে ২০০০ সাল থেকে যেভাবে জঙ্গিদের নিশানা হয়েছে সাধারণ মানুষ

মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ২৬ জন নিরীহ পর্যটককে হত্যা করেছে দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের জঙ্গিরা। এই বছর পর্যটকদের লক্ষ্য করে সবচেয়ে বড় মর্মান্তিক আক্রমণ তো বটেই, সাম্প্রতিককালে ঘটে যাওয়া সমস্ত জঙ্গিহামলার মধ্যে নৃশংসতম হয়ে উঠেছে এই ঘটনা। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদের অবসান ঘটানোর দাবি করেছিল কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। এই ঘটনার পরেও শ্রীনগর যাওয়ার আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আবারও সেই দাবি তুলেছেন। X-এ একটি পোস্টে অমিত শাহ বলেছেন, "জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনায় মর্মাহত। মৃতদের পরিবারের সদস্যদের পাশে আছি। সন্ত্রাসের এই জঘন্য কাজে জড়িতদের রেহাই দেওয়া হবে না। আমরা অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম পদক্ষেপ করব।" প্রশ্ন উঠছে, যে সাধারণ মানুষ সরকারের দাবির উপর আস্থা রেখে 'নিরাপদ' কাশ্মীরে ছুটি কাটাতে গেছিলেন, তাঁদের প্রতিশ্রুতিভঙ্গের দায় সরকার নেবে? কেন এখনও এত দুর্বল কাশ্মীরের নিরাপত্তা? কাশ্মীরের মানুষকে ব্যবহার করেই টিআরএফ এমন হামলা চালাল অথচ ভারতের প্রতিরক্ষাবাহিনীর কাছে কোনও খবর নেই? ২০০০ সাল থেকে টানা হামলা চলছে সাধারণ মানুষের উপর। কাশ্মীর শান্ত হয়নি। কেবল ২০০৬ থেকে ২০১৬, এই ১০ বছরের পর্বে তেমন বড় আক্রমণ ঘটেনি।

২০০০ সাল থেকে কাশ্মীরে সাধারণ নাগরিক ও সেনার উপর যে যে বড় সন্ত্রাসবাদী হামলাগুলি হয়েছে:

২১ মার্চ, ২০০০

অনন্তনাগের ছাটিসিংপোরায় বন্দুকধারী জঙ্গিদের হাতে ৩৬ জনের মৃত্যু হয়। ২১ মার্চ রাতে অনন্তনাগ জেলার ছাটিসিংপোরা গ্রামে সংখ্যালঘু শিখ সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে জঙ্গিরা হত্যা করে।

অগাস্ট ২০০০

নুনওয়ান বেস ক্যাম্পে সন্ত্রাসবাদী হামলায় অমরনাথের তীর্থযাত্রী সহ ৩২ জন নিহত হন জঙ্গিদের গুলিতে

জুলাই ২০০১

আবার নিশানায় অমরনাথ তীর্থযাত্রীরা। অনন্তনাগের শেষনাগ বেস ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়।

১ অক্টোবর, ২০০১

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কাশ্মীরে নিরস্ত্র পর্যটকদের উপর মর্মান্তিক হামলার নেপথ্যে TRF! কারা এই গোষ্ঠী?

Pahalgam Terrorist attack TRF: টিআরএফ সোশ্যাল মিডিয়ায় মগজধোলাইয়ের কাজটি করে। ভারতের বিরুদ্ধে গিয়ে এমন সন্ত্রাসবাদী দলে যোগ দেওয়ার জন্য মানুষদের উস্কানি দেয় টিআরএফ, জানিয়েছিল মন্ত্রক।

জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভা ভবনের বাইরে একটি গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে৷ আত্মঘাতী ওই সন্ত্রাসী হামলায় ৩৬ জন নিহত হন।

২০০২

চন্দনওয়ারি বেস ক্যাম্পে সন্ত্রাসবাদী হামলায় ১১ জন অমরনাথ তীর্থযাত্রী নিহত হন।

২৩ নভেম্বর, ২০০২

শ্রীনগর থেকে ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে লোয়ার মান্ডায় একটি ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণ ঘটে৷ জম্মু-ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণে নয়জন নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মী, তিন মহিলা এবং দুই শিশু সহ ১৯ জন প্রাণ হারান।

২৩ মার্চ, ২০০৩

কাশ্মীরের দক্ষিণে সোপিয়ান এলাকার নাদিমার্গ গ্রামে অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের হাতে নিহত হন ২৪ জন। হামলার নিশানায় ছিলেন ১১ জন কাশ্মীরি পণ্ডিতের পরিবার। পুলওয়ামা জেলার এই গ্রামে নিহতদের মধ্যে ১১ জন ছিলেন মহিলা এবং ২ জন শিশু।

১৩ জুন, ২০০৫

শ্রীনগর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে পুলওয়ামায় একটি আরডিএক্স ভর্তি ট্রাকে ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) বিস্ফোরণ হয়। পুলওয়ামার একটি সরকারি স্কুলের সামনে একটি ভিড় বাজারে বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি বিস্ফোরণে দুই স্কুলপড়ুয়া শিশু এবং তিনজন সিআরপিএফ অফিসার সহ ১৩ জন সাধারণ মানুষ নিহত এবং শতাধিক মানুষ আহত হন৷

১২ জুন, ২০০৬

কুলগামে নয়জন নেপালি ও বিহারি শ্রমিক নিহত হন।

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

উরিতে ভারতীয় সেনা ব্রিগেড সদর দফতরে চারজন জইশ-ই-মহম্মদ সন্ত্রাসবাদী হামলা চালালে ১৯ জন সেনা নিহত এবং ৩০ জন আহত হন।

১০ জুলাই, ২০১৭

দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগ জেলার বোয়াটেং গ্রামে পুলিশ এবং জঙ্গিদের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে সাতজন তীর্থযাত্রী নিহত হন।

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯

পুলওয়ামা জেলার জম্মু-শ্রীনগর জাতীয় মহাসড়কের লেথাপোরাতে এক আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী নিরাপত্তা কর্মীদের গাড়ির কনভয়ে আক্রমণ চালায় যাতে ৪০ জন সেনা নিহত হন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।