সংসদের বাইরে ‘পিপলস ইমপিচমেন্ট’: জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিরোধীদের নতুন লড়াই
Peoples Impeachment of Gyanesh Kumar: খাড়্গের সরকারি বাসভবনের লনে ‘মক পার্লামেন্ট’ থেকে উঠল জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ছয় দফা অভিযোগ। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ১৩.২ কোটি ভোটারের নাম মুছে ফেলা সহ, ছয়টি অভিযোগ রয়েছে। মল্লিকার্জুন খাড়্গে জ্ঞানেশ কুমারকে ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
৩১ অক্টোবরের মক পার্লামেন্ট
ভারতের রাজনৈতিক পরিসরে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে গেল ৩১ অক্টোবর। শনিবার রাজধানী দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের সরকারি বাসভবনের লনে বসেছিল ‘মক পার্লামেন্ট’। যার মূল এজেন্ডা ছিল, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ‘পিপলস ইমপিচমেন্ট’ প্রস্তাব পাস করানো।
বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ২১টি দলের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই প্রতীকী অধিবেশনে শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে আবারও ‘ভোটচুরি’ ও ‘গণতন্ত্র হরণ’-এর জোরালো অভিযোগ উঠল। পুরনো সংসদ ভবনের সেন্ট্রাল হলের আদলে সাজানো এই মঞ্চ থেকে বিরোধীরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তারা এই লড়াইকে রাজপথ থেকে শুরু করে আইনি ও সাংবিধানিক স্তর পর্যন্ত নিয়ে যেতে প্রস্তুত রয়েছেন।
‘মক পার্লামেন্ট’ থেকে ‘পিপলস ইমপিচমেন্ট’
প্রাথমিকভাবে এই কর্মসূচির নাম ছিল ‘মক পার্লামেন্ট’। কিন্তু আইনি জটিলতা এবং সংসদীয় বিশেষাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা থেকে বিরোধীরা শেষ মুহূর্তে এর নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘পিপলস ইমপিচমেন্ট’।
কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়, দিল্লিতে প্রবল বৃষ্টির কারণে শুক্রবারের নির্ধারিত অনুষ্ঠান একদিন পিছিয়ে শনিবার করা হয়। এই প্রতীকী অধিবেশনে স্পিকারের ভূমিকায় ছিলেন লোকসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ মীরা কুমার। তাঁর সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সৌগত রায়, সমাজবাদী পার্টির অবধেশ প্রসাদ এবং কংগ্রেসের গুরুদীপ সাপ্পাল ও মুহাম্মদ আলী খান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সনিয়া গান্ধী এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। গোটা অধিবেশনটি রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ছয় দফা অভিযোগ
এই প্রতীকী বিচারপ্রক্রিয়ার কেন্দ্রে ছিল জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা ছয়টি গুরুতর অভিযোগ। মল্লিকার্জুন খাড়্গে নিজে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন এবং তাঁকে ‘দেশদ্রোহী’ হিসেবে চিহ্নিত করেন। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বিজেপির অনুকূলে ম্যানিপুলেট করার উদ্দেশ্যেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। খাড়্গে দাবি করেন, এই কাজ ‘দেশ ও সংবিধানের বিরুদ্ধে একটি অপরাধমূলক কাজ এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতা’র শামিল।
‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইচ্ছাকৃতভাবে ১৩.২ কোটি ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। বিরোধীদের মতে, এই প্রক্রিয়াটি পক্ষপাতদুষ্ট এবং ন্যায়বিচারের চরম লঙ্ঘন করেছে। তাঁদের অভিযোগ, সংসদের অনুমোদন বা জ্ঞান ছাড়াই নির্বাচনী ফর্ম ৬-এ অবৈধভাবে সংশোধন করা হয়েছে। ইসিনেট/ইরোনেট সফটওয়্যারের মাধ্যমে ভোটার নিবন্ধন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়েছে। ভোটার তালিকাকে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই কমিশনারের সঙ্গে আইন লঙ্ঘন করে, তাদের বাদ দিয়ে এককভাবে কাজ করা হয়েছে। গণতান্ত্রিকভাবে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফল ম্যানিপুলেট এবং মিথ্যা প্রতিপন্ন করার একটি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এই কাজ করা হয়েছে। এই ছয়টি অভিযোগের ভিত্তিতে খাড়্গে দাবি করেন,জ্ঞানেশ কুমারকে কেবল অপসারণই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা চালানো উচিত।
রাহুল গান্ধীর সতর্কবার্তা
এই প্রতীকী অধিবেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল বিরোধী নেতাদের ভাষণ। রাহুল গান্ধী তাঁর সমাপনী ভাষণে এই ‘পিপলস ইমপিচমেন্ট’-কে ভোট ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে একটি ‘রাজনৈতিক অস্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন,
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Global Spotlight on Gyanesh Kumar: ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে, জেন-জি আন্দোলন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে কভার হয়েছে। বিবিসি, রয়টার্স, গার্ডিয়ান, আল জাজিরা, ডিডাব্লিউ, এপি, নিউ ইয়র্ক টাইমস, আরএফআই, ফ্রান্স ২৪, ডন, সবাই জানিয়েছে, এসআইআরে ১৩ কোটি নাম বাদের কথা, ভারতের মুসলিম নাগরিকদের এসআইআরের মাধ্যমে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে লক্ষ্যবস্তু বানানোর কথা, রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী সাংসদরা বারবার আটকের কথা।
“আমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছি কারণ আমাদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। আমাদের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান... আমাদের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে।”
তিনি সরাসরি জ্ঞানেশ কুমারকে সতর্ক করেন,
“আপনি যদি ভাবেন যে ২০২৩ সালের আইনি রক্ষাকবচ আপনাকে রক্ষা করবে, আমি পরামর্শ দেব, এই দেশের জনগণের মেজাজ দেখুন। আমরা নিশ্চয়তা দিচ্ছি, বিরোধী নেতারা এবং জনগণ আপনাকে পালিয়ে যেতে দেবে না”
অন্যদিকে, স্পিকার মীরা কুমার অধিবেশন উদ্বোধন করে বলেন,
“আপনারা দেখেছেন, জনগণের ভোটাধিকার অনুচিতভাবে মুছে ফেলা হচ্ছে। যখনই এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়, এর উত্তরগুলিতে কোনো স্বচ্ছতা থাকেনা। এই কারণেই জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের জন্য একটি ‘ইমপিচমেন্ট মোশন’ আনা হয়েছে।”
তিনি বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে ভারতের ভাবমূর্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এশিয়া, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলি ভারতের গণতন্ত্রের মডেল অনুসরণ করে, তাই একে আমাদের রক্ষা করতে হবে।
বিজেপির পাল্টা আক্রমণ
বিরোধীদের এই প্রতীকী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিজেপি তীব্র পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে। বিজেপি মুখপাত্র গুরু প্রকাশ পাসওয়ান এই অধিবেশনকে ‘মক পার্লামেন্ট নয়, বরং একটি উপহাস’ বলে অভিহিত করেছেন। বিজেপি নেতা সম্বিত পাত্র এই কর্মসূচিকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ বলে কটাক্ষ করেন, রাহুল গান্ধীকে ‘প্রতীকী প্রধানমন্ত্রী’ বানানোর পরামর্শ দেন। বিজেপির পক্ষ থেকে কটাক্ষ করে বলা হয়, রাহুল গান্ধী এখন ‘নিজের পছন্দের সংসদে’ বসে আছেন কারণ তিনি বাস্তবে নির্বাচনে জিততে পারছেন না।
ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম মুছে ফেলার অভিযোগকে বিজেপি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, এই সংখ্যাটি বিভ্রান্তিকর। বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্র ব্যাখ্যা করেন যে, ১৩ কোটি সংখ্যাটিতে ‘এএসডিডি’ (অ্যাবসেন্ট, শিফটেড, ডেড, ডুপ্লিকেট) বিভাগের অধীনে থাকা ভোটাররা অন্তর্ভুক্ত, যাদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় এখনও পর্যন্ত ওঠেনি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যোগ্য ভোটাররা ফর্ম ৬-এর মাধ্যমে
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।
তাদের নাম পুনরুদ্ধার করতে পারবেন।
আইনি বাস্তবতা বনাম রাজনৈতিক প্রতীক
বিরোধীদের এই ‘পিপলস ইমপিচমেন্ট’ একটি প্রতীকী প্রক্রিয়া মাত্র। ভারতের সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের প্রক্রিয়া সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির অপসারণের অনুরূপ। এর জন্য সংসদের উভয় কক্ষে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করতে হয়, যার জন্য লোকসভায় কমপক্ষে ১০০ এবং রাজ্যসভায় ৫০ জন সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন। এরপর প্রস্তাবটিকে উভয় কক্ষে উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে পাস করাতে হয়।
এর আগে এপ্রিল মাসে বিরোধীরা এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনার চেষ্টা করলে লোকসভা স্পিকার ওম বিড়লা এবং রাজ্যসভার চেয়ারম্যান সি.পি. রাধাকৃষ্ণন তা প্রত্যাখ্যান করেন। এই প্রেক্ষাপটেই বিরোধীরা এবার সংসদের বাইরে ‘জনগণের আদালতে’ এই প্রতীকী প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিয়েছেন।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
এই ঘটনা ভারতীয় রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। একদিকে ২১টি দল একজোট হয়ে শাসক দলের নির্বাচনী আচরণের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে ধরা গিয়েছে। বিরোধীদের এই প্রতীকী বিচার আইনগতভাবে জ্ঞানেশ কুমারের পদে কোনো প্রভাব ফেলবে না, তবে রাজনৈতিকভাবে শাসক দলের উপর চাপ সৃষ্টি করবে। এই কর্মসূচির পরদিন, ১ নভেম্বর, দিল্লির রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের একটি বিশাল সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে, যা এই আন্দোলনকে আরও বেগবান করবে বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, জ্ঞানেশ কুমারের ‘পিপলস ইমপিচমেন্ট’ ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভিতরের টানাপোড়েন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে চলমান বিতর্কের একটি জ্বলন্ত প্রতিচ্ছবি। এই প্রতীকী লড়াই আগামী দিনে ভারতীয় রাজনীতির গতিপথকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা সময়ই বলে দেবে।
তথ্যসূত্র
১। ডেইলি স্টেটসম্যান। ২০২৬। ‘দেশদ্রোহী জ্ঞানেশ কুমার’, ইন্ডিয়া জোটের পাবলিক ইমপিচমেন্টে ৬ দফা অভিযোগ।
২। আনন্দবাজার পত্রিকা। ২০২৬। জ্ঞানেশের ‘প্রতীকী ইমপিচমেন্ট’, শনিবার দিল্লিতে বিরোধীদের কর্মসূচি!
৩। এবিপি লাইভ (বাংলা)। ২০২৬। মক পার্লামেন্টে জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ইমপিচ’ করল বিরোধীরা, রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা চালানোর দাবি।
৪। নিউজ১৮ বাংলা। ২০২৬। জ্ঞানেশ কুমারের গণ ইমপিচমেন্ট চেয়ে খাড়্গের বাড়িতে শুরু মক পার্লামেন্ট।
৫। এনডিটিভি। ২০২৬। ‘মুড অব দ্য পিপল’: ইন্ডিয়া ব্লক ‘ইমপিচেস’ জ্ঞানেশ কুমার অ্যাট মক পার্লামেন্ট।
৬। টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া। ২০২৬। ‘নোওয়েয়ার এলস টু গো’: ইন্ডিয়া ব্লক হোল্ডস মক ইমপিচমেন্ট অব সিইসি অ্যাট খাড়্গের রেসিডেন্স।
৭। এবিপি লাইভ (ইংলিশ)। ২০২৬। ইন্ডিয়া ব্লক হোল্ডস ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’ অব সিইসি জ্ঞানেশ কুমার, লিস্টস সিক্স চার্জেস অ্যাগেইনস্ট হিম।
৮। টাইমস অব ইন্ডিয়া। ২০২৬। ইন্ডিয়া ব্লক ‘ইমপিচেস’ সিইসি ইন মক পার্লামেন্ট, বাট হোয়াট উইল ইট টেক টু রিমুভ হিম ফর রিয়াল।
৯। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। ২০২৬। ইন্ডিয়া ব্লকের ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’ অব জ্ঞানেশ কুমার: হোয়াট ইজ দ্য প্রসেস টু রিমুভ আ সিইসি?
১০। এনডিটিভি। ২০২৬। ‘১৩ কোটি ভোটার্স নট ডিলিটেড’: বিজেপি ডিফেন্ডস এসআইআর, স্ল্যামস ইন্ডিয়া ব্লকস সিইসি প্রোটেস্ট।
১১। দ্য ওয়্যার। ২০২৬। ইলেকশন কমিশন সাইটস ‘ট্রেড সিক্রেটস’ টু ডিনাই ইনফরমেশন অন সফটওয়্যার ইউজড ইন এসআইআর, আরটিআই রিভিলস।






