সন্তান হারানোর অনুভূতি: প্রতীক উর প্রশ্নে বিষাদের সুর সেলিম কণ্ঠে

Pratik Ur Rahman resignation: প্রতীক উর রহমান প্রকাশ্যে এখনও তৃণমূলে যোগদানের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। মহম্মদ সেলিমও প্রতীক উরের তৃণমূলে যোগদানের গুঞ্জনে স্পষ্ট ভাবে কিছু বলেননি, তবে ইঙ্গিতপূর্ন মন্তব্য করতে শোনা যায় তাঁকে।

Sangita Ghorai
৫ মিনিট
সন্তান হারানোর অনুভূতি: প্রতীক উর প্রশ্নে বিষাদের সুর সেলিম কণ্ঠে

বামেরা শক্তিশালী হচ্ছে, তাই তাদের থেকে ‘খাবলে’ নিতে হচ্ছে। প্রতীক উর রহমানের ইস্তফা প্রশ্নে অতঃপর এভাবেই মুখ খুললেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। সেলিমের উবাচ,

ভোটের সিজন আসছে, দলে থেকে কাজ করতে কতজনের দমবন্ধ লাগবে। তারপর তৃণমূল থেকে বিজেপি, বিজেপি থেকে তৃণমূলে যাওয়া-আসা শুরু হবে।

তবে, প্রতীক উর তো সেই স্রোতের অংশ নন, তাহলে তাঁকে কেন আটকানো গেল না, সেলিম উত্তর দিতে চাননি।

তবে, তৃণমূল-বিজেপির যুবনেতা নেই, তাই দলবদল করিয়ে যুবনেতা আনাতে হয় এমন মন্তব্য করতেও শোনা যায় তাঁকে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সৃজনশীল প্রতীকদের নিজস্ব প্রতীক! প্রতীক উর অভিজিৎ হবেন নাকি কানহাইয়া?

প্রতীক উর বা সৃজন ভট্টাচার্যরা কি সহজ, গানিতিক হিসেব কষা কম ঝুঁকি এবং স্বল্প সময়ে বেশি লাভের বিনিয়োগের বাইরে বেড়িয়ে রাজনীতি করতে পারেন না?

গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্য-রাজনীতি তোলপাড় প্রতীক উর রহমানের সিপিএম থেকে ইস্তফা এবং তৃণমূলে যোগদানের গুঞ্জনে। প্রতীক উর রহমান ইতোমধ্যেই গুটিকয়েক সংবাদমাধ্যমে না নাম করে সিপিএম রাজ্য সম্পাদকের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। সূত্র বলছে, প্রতীকের দলবদল এখন স্রেফ সময়ের অপেক্ষা। প্রতীক উর যা বলছেন, যেভাবে বলছেন তার সবটাই নিখুঁত চিত্রনাট্যের অংশ। এমনকী তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথাও বলছেন তৃণমূল সাংসদের অফিসে বসে। কার সাথে তিনি কথা বলবেন কাকে বাদ দেবেন তা নাকি ঠিক করে দিচ্ছে আইপ্যাক।

প্রতীক উর অভিযোগ করেছেন, দলের ভিতরে প্রশ্ন করে ব্রাত্য হয়েছেন তিনি। রাজ্য সম্মেলন হচ্ছে অথচ তাঁকে ডেলিগেট করা হয়নি। প্রতীক উরের কথায়,

দলে এখন ডর কা মহল, গব্বর সিং আছে কিছু বলা যাবে না।

নাম না করলেও মহম্মদ সেলিমকেই প্রতীক উরের এই ইঙ্গিত বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একদিকে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অন্যদিকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশস্তি, ভাষ্যই বলে দিচ্ছে প্রতীক উরের গন্তব্য। সম্প্রতি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের পক্ষেও সওয়াল করেন সদ্য প্রাক্তন সিপিআইএম যুবনেতা প্রতীক উর। স্বীকার করেন অতীতে ভুল হয়েছিল। এতে তাঁর তৃণমূল যোগের জল্পনা আরও জোরালো হয়। যদিও প্রতীক উর রহমান প্রকাশ্যে এখনও তৃণমূলে যোগদানের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। তবে সূত্রের খবর রাত পোহালেই আমতলায় প্রতীক উরের তৃণমূলে যোগদান।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দলে কোণঠাসা হয়ে পড়ছিলেন! সিপিএম থেকে ইস্তফা কেন? যা জানালেন প্রতীক উর রহমান

Pratik-Ur Rahman resignation: সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির বেশ কিছু ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে, মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে বলে ইস্তফাপত্রে লেখেন প্রতীক-উর।

এই আবহেই প্রেস কনফারেন্স করেন মহম্মদ সেলিম। প্রতীক উরের তৃণমূলে যোগদানের গুঞ্জনে স্পষ্টভাবে কিছু বলেননি সেলিম,তবে প্রতীক উরের চলে যাওয়া যে সততই বিষাদের তা লুকোননি সিপিএম রাজ্য সম্পাদক। প্রতীক উর প্রসঙ্গে মহম্মদ সেলিম বলেন,

সন্তানহারা হলে যে অনুভূতি হয়— প্রতীক উর রহমানকে হারানোও একই অনুভূতি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সেলিমের মন্তব্য বুঝিয়ে দেয়, প্রতীক ফিরে আসবেন, সিদ্ধান্ত বদল করবেন, এমন কোনো সম্ভাবনাই নেই তা বুঝতে পেরেছেন সেলিম। তাই এই বিলাপ।

সেলিম বলছেন, সিপিআইএম-এর ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’র সময় থেকেই প্রতীক উরকে দল থেকে দূরে সরানো শুরু হয়। দল বিভিন্ন সূত্রে প্রতীক উরের বিরোধী দলের সঙ্গে যোগের খবর পেয়েই এ কাজ করে, তাঁকে শোধরানোর চেষ্টাও হয় বলে জানান মহম্মদ সেলিম। তিনি বলেন,

যখন তাঁর নামে নির্দিষ্ট অভিযোগ আসে দলের কাছে, তখন থেকে তাঁকে সংশোধন করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সে আস্তে আস্তে দল থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে, দলের হরেক সূত্রে খবর আসে সে বিরোধী শক্তির সাথে যোগাযোগ গড়ে তুলছে। ঘটনাটা আমার কাছে বেদনাদায়ক।

'২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে অভিষেকের বিরুদ্ধেই কাস্তে-হাতুড়ি প্রতীকে লড়েছিলেন প্রতীক উর রহমান। সূত্র বলছে, রাত পোহালে সেই অভিষেকের ঘাটেই ভিড়বে প্রতীক উরের মান্দাস, এক বৃত্ত শেষ হয়ে শুরু হবে অন্য এক বৃ্ত্ত।

তাঁর এই ইউটার্নে স্বাভাবিকভাবেই হতভম্ভ রাজনীতির কারবারিরা। সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই থেকে উত্থান, ইস্তফা দেওয়ার আগে প্রতীক উর সিপিএম রাজ্য কমিটির নেতা ছিলেন। দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে আসা এই বাম যুবনেতার জনপ্রিয়তা ছিল খেটে খাওয়া মেহনতি মানুষের মধ্যে। তাঁর এই দলবদলের ক্ষয় বামেরা কী ভাবে মেরামত করে সেটাই দেখার।

লিখেছেন
Sangita Ghorai
Sangita Ghorai
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।