দলে কোণঠাসা হয়ে পড়ছিলেন! সিপিএম থেকে ইস্তফা কেন? যা জানালেন প্রতীক উর রহমান
Pratik-Ur Rahman resignation: সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির বেশ কিছু ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে, মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে বলে ইস্তফাপত্রে লেখেন প্রতীক-উর।
ভোটের মুখে একের পর এক ধাক্কা রাজ্য সিপিএমে। দলের জেলা ও রাজ্য কমিটির সমস্ত দায়িত্ব এবং পার্টির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি নিলেন সিপিএমের অন্যতম পরিচিত যুব মুখ প্রতীক উর রহমান। প্রতীক উর সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই-এর প্রাক্তন সভাপতি। তিনি ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রে তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন। রাস্তার লড়াইয়ে অন্যতম যুব মুখ তিনি। দল থেকে তাঁর সরে আসায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের মুখে সিপিএম।
সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপে ঘরে-বাইরে অস্বস্তিতে পড়েছে রাজ্য সিপিএম। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে হুমায়ূন কবীরের সাক্ষাৎ নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে সিপিএমের জোট হওয়া নিয়ে। হুমায়ূন কবীর আইএসএফ এবং বামেদের সঙ্গে জোট করে লড়তে চান বললেও, মহম্মদ সেলিম বলেন, তিনি মন বুঝতে গেছিলেন। এই ঘটনায় যখন ঘরে বাইরে প্রশ্নের মুখে সিপিএম— কী ভাবে হুমায়ূনের মতো সাম্প্রদায়িক একজন ব্যক্তিত্বের সঙ্গে বামেরা এক মঞ্চে যেতে পারে? এই প্রশ্ন যখন ওঠে, সিপিএমের যুব নেতা শতরূপ ঘোষ বলেন,
সমস্ত নীতি নৈতিকতার ঠেকা কি আমরা একা নিয়ে বসে রয়েছি?
সেসময় প্রতীক উর সামাজিক মাধ্যমে লেখেন,
নীতি নৈতিকতা ছাড়া আর যাই হোক কমিউনিস্ট পার্টি হয় না।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Mostari Banu SIR case: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদালতের উপস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ জানানো এই লড়াকু নারীকে নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে—যদি শাসকদলের পক্ষ থেকে সক্রিয় রাজনীতির প্রস্তাব আসে?
তাঁর এই পোস্টে অনেকেই মনে করেন যে, শতরূপের কথার পাল্টা হিসেবেই প্রতীক উর এই পোস্ট দিয়েছেন। যদিও ইনস্ক্রিপ্ট প্রতীক উরের সঙ্গে এই বিষয়ে যোগাযোগ করলে তিনি জানান,
সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিটি মানুষের মত প্রকাশের জায়গা। মত প্রকাশ করেছি। এখন তো দেওয়াল লিখন কমে গেছে, তাই ফেসবুকের দেওয়ালে লিখে রেখেছি, নিজের জন্য, আগামী প্রজন্মের জন্য। যাতে আয়নার সামনে দাঁড়াতে পারি।
ইনস্ক্রিপ্টের সঙ্গে এই কথোপকথনের ১৩ দিনের মাথায় আয়নার সামনে দাঁড়ালেন প্রতীক উর। সাম্প্রতিক সময়ে পার্টির বেশ কিছু ভাবনা ও কর্মপদ্ধতির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে না পেরে, মানসিক দ্বন্দ্বের মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে বলে ইস্তফাপত্রে লেখেন প্রতীক উর।
যদিও খবর, দুই মাস আগেই নাকি পার্টিকে আরও একটি চিঠি দিয়েছিলেন প্রতীক উর। তবে তাঁর এই সরে আসার কারণ কি শুধুই দলের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত না হওয়া নাকি দলে কোণঠাসা হয়ে পড়ছিলেন তিনি? এই প্রশ্নের জবাবে ইনস্ক্রিপ্টকে প্রতীক উর জানান,
যা বলার পার্টির অন্দরে বলেছি। প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাই না এখনই। নাহলে সমাজমাধ্যমেই লিখতাম, পার্টিকে চিঠি দিতাম না।
কর্মী হিসেবে না থাকলেও সমর্থক হিসেবে কি প্রতীক উর সিপিএমেই থাকবেন? নাকি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের ছায়ায় রাজনৈতিক জীবনের নতুন ইনিংস শুরু করবেন? এ নিয়ে অবশ্য কোনো মন্তব্যই করতে চাননি তিনি।
প্রতীক উর মুখ খুলতে না চাইলেও জানা যাচ্ছে, দলের ভূমিকায় দুঃখ ছিল তাঁর। তৃণমূলের আক্রমণে বারবার ঘর ভেঙেছে প্রতীক উরের। আধমরা করে ছেড়ে দিয়েছে শাসকদল। কিন্তু তারপরও লড়াই চালিয়ে গেছেন। সিপিএমের হয়ে লোকসভা নির্বাচনে ডায়মন্ড হারবারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন। যা কার্যত বাঘের মুখে পড়ার মতো বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। দলের যেভাবে তাঁর পাশে থাকার কথা ছিল, সেভাবে প্রতীক উর দলকে পাশে পাননি। তাই এ নিয়ে দুঃখ ছিল প্রতীক উরের। হুমায়ূন কবীর বা নীতি আদর্শের জন্য নয়, দলের আভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং বাইরে শাসক দলের চাপে খানিকটা ক্লান্ত হয়েই এই সিদ্ধান্ত।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের সঙ্গে বামেদের জোট হচ্ছে না, হাত শিবির এবার পশ্চিমবঙ্গে একাই লড়বে। অন্যদিকে, আইএসএফ-কে নিয়ে জোটে যেতে রাজি নয় ফরওয়ার্ড ব্লক। ২০২১ সালেও ফরওয়ার্ড ব্লক ও আরএসপি চায়নি আব্বাস সিদ্দিকীর দলের সঙ্গে জোট হোক। কংগ্রেসও এর বিরোধী ছিল কারণ নওশাদ সিদ্দিকী এখন শিক্ষা, উন্নয়ন-সহ সংখ্যালঘু, আদিবাসীদের কথা বললেও— প্রথমে তাঁদের সাম্প্রদায়িক দল হিসেবেই দেখছিলেন বাকিরা। তা সত্ত্বেও সিপিএম জোট বেঁধেছিল। এবং সেই জোটের একমাত্র বিধায়ক হন নওশাদ সিদ্দিকী। বিধানসভায় প্রবেশ করতে এবার মরিয়া সিপিএমের লক্ষ্য সংখ্যালঘু ভোট বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তাই তো তৃণমূল এবং বিজেপি ফেরত হুমায়ূন কবীরের সঙ্গে বৈঠকে যেতেও পিছপা হননি মহম্মদ সেলিম। কিন্তু আদর্শের কথা না ভেবে এভাবে একের পর এক ছকভাঙা সিদ্ধান্তে ঘরের মধ্যেই অসন্তোষ তৈরি করছে না তো সিপিএম? রাজ্যে তৃণমূল-বিজেপির যে বাইনারির কথা তাঁরা বলেন, তা ভাঙতে বিকল্প হিসেবে মানুষের আস্থা অর্জনে বামেদের আরও সচেতনভাবে পা ফেলাটা জরুরি ছিল বলেই ওয়াকিবহাল মহলের মত।






