মোদির ‘মুসলিম’ বনাম ইন্দিরার ‘মঙ্গলসূত্র’: সারা ভারত কাঁপছে যে বিতর্কে

PM's Mangalsutra Remark: প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি একটি জনসভায় গিয়ে বলেন, কংগ্রেসের উদ্দেশ্য মহিলাদের সোনাদানা, মঙ্গলসূত্র ছিনিয়ে নিয়ে বিশেষ গোষ্ঠীর মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া।

Sohini Das
৩ মিনিট
মোদির ‘মুসলিম’ বনাম ইন্দিরার ‘মঙ্গলসূত্র’: সারা ভারত কাঁপছে যে বিতর্কে

ভোটের মুখে সংখ্যালঘুদের নিয়ে কুকথা বলেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী। কংগ্রেসকে আক্রমণ করতে গিয়ে দেশের মুসলিমদের তিনি অপমান করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীরা। ইতিমধ্যেই দেশ জুড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে লোকসভা ভোট। দেশ জুড়ে নির্বাচনী আচরণবিধিও লাগু হয়ে গিয়েছে। এই সময় দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে এ ধরনের কথাবার্তা বলাটা কতটা সমীচিন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন উঠে গিয়েছে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও।

ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে কংগ্রেস। কমিশনে আরও দুটি চিঠি জমা পড়েছে নাগরিকদের তরফেও। প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি একটি জনসভায় গিয়ে বলেন, কংগ্রেসের উদ্দেশ্য মহিলাদের সোনাদানা, মঙ্গলসূত্র ছিনিয়ে নিয়ে বিশেষ গোষ্ঠীর মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া। মোদি এ-ও বলেছেন, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে নাকি 'ঘুসপেটিয়া'-দের মধ্যে সম্পত্তি বিলিয়ে দেবে। প্রধানমন্ত্রীর সেই বক্তব্য নিয়ে জোর চর্চা নানা মহলে। শুধু মোদিই নন, ভোটের আগে বারংবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মুখেও শোনা গিয়েছে সংখ্যালঘু তত্ত্ব। অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে মোদি সরকারের তৎপরতার কথা বারবার তুলে ধরেছেন তিনিও।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মুসলিমদের অকথ্য অপমান মোদির! প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন কেন ব্যবস্থা নেবে না?

Narendra Modi Hate Speech against Muslim: মোদি কি সত্যি কথা বলছেন? কংগ্রেস কি এমন বলেছিল যে সমস্ত সম্পদের উপর মুসলমানদের অধিকার?

মোদির মঙ্গলসূত্র বক্তব্যের পাল্টা দিয়েছেন কংগ্রেসনেত্রী তথা সনিয়াপুত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধি। মোদির এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে প্রিয়াঙ্কা বলেন, 'গত দু'দিন ধরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নাগাড়ে বলে চলেছেন, কংগ্রেস পার্টি আপনাদের মঙ্গলসূত্র, সোনাদানা ছিনিয়ে নিতে চাইছে। ৭০ বছরের বেশি হয়ে গিয়েছে, দেশ আজ স্বাধীন। কংগ্রেস ৫৫ বছর ক্ষমতায় ছিল। কখনও আপনাদের ঘরের সোনা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে? আপনার মঙ্গলসূত্র? আমাদের দেশ যখন যুদ্ধ করেছিল, ইন্দিরা গান্ধী নিজের গয়না দেশের জন্য দান করে দিয়েছিলেন। আমার মায়ের মঙ্গলসূত্র এই দেশের জন্য বলিদান হয়েছিল। এগুলো বিজেপির পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়।'

মোদির এই বক্তব্য যেন ভোটের আগে আগুনে ঘি ঢেলেছে। ভোটের আগেই বিজেপি জমানার ইলেক্টোরাল বন্ড দুর্নীতির ব্যাপারটি সামনে এসেছে। সেই দুর্নীতি থেকে মানুষের নজর ঘোরাতে তড়িঘড়ি সিএএ কার্যকর করে দিয়েছিল দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সিএএ নিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ চলেছে। এই সিএএ আইনের সরাসরি বিরোধিতা করেছে অসম, বাংলার মতো বেশ কয়েকটি রাজ্য। তার পর থেকেই বারবার বিভিন্ন জনসভায় সংখ্যালঘুদের আক্রমণ করেছেন মোদি-শাহরা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভোট এলেই অনুপ্রবেশ-জিগির শাহদের! কেন এই ইস্যু জিইয়ে রাখতে চায় বিজেপি?

Lok Sabha Election 2024: এ রাজ্যে কতগুলি আসন জিততে চলেছে বিজেপি, এ নিয়ে চর্চা চলছে বহু দিন ধরেই। অমিত শাহ এ দিনের সভা থেকে স্পষ্ট করে দেন, লোকসভা ভোটে বিজেপির পাখির চোখ এবার বাংলা।

সম্প্রতি বেঙ্গালুরুতে একটি জনসভায় গিয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধি বিজেপির এই দিকটার তীব্র নিন্দা করেন। তাঁর কথায়, , "ভারতীয় জনতা পার্টির নেতারা নারীদের বলিদানের কথা বুঝতে পারবেন না। দেশের জন্য বলিদান দেওয়া আমাদের মহিলাদের রক্তে রয়েছে। এটাই দেশের সংস্কৃতি। এখানে মা-বোনেরা দেশের জন্য প্রাণপাত করেছেন। যতক্ষণ না ঘরের প্রতিটি সদস্য বাড়ি ফেরে, ততক্ষণ জেগে বসে থাকেন মহিলারা। পরিবারে কোনও আর্থিক সংকট এলে নিজের গলার গয়না খুলে বন্ধক রাখতেই পিছপা হন না মহিলারা। নিজে না খেয়ে শুয়ে পড়বে কিন্তু, পরিবারের কোনও সদস্যকে খালি পেটে রাখেন না আমাদের মা-বোনেরা।" নোটবন্দি, করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউন এবং কৃষক আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে মহিলাদের অবদানের কথাও বক্তৃতায় তুলে ধরেছিলেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি বলেন, "মোদিজি যদি মঙ্গলসূত্রের মাহাত্ম বুঝতেন, তাহলে এমন অনৈতিক কথা বলতে পারতেন না। যখন নোটবন্দি হয়েছিল, দেশে কৃষক আন্দোলন হয়েছিল, কত মহিলার মঙ্গলসূত্র কেড়ে তাঁদের বিধবা করা হয়েছিল, মনে আছে? মণিপুরে যখন একজন মহিলাকে বিবস্ত্র করে ঘোরানো হল, তখন কেন চুপ ছিলেন মোদীজি? ভোটের জন্য আজ এত বড় বড় কথা বলছেন।"

এদিকে মোদির বক্তৃতা নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন। রাজস্থানের বাঁশওয়ারার ওই সভায় কংগ্রেসের ইস্তেহার ও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের একটি পুরনো বক্তৃতা উল্লেখ করেন। কংগ্রেসের সংখ্যালঘু তোষণের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল সেই বক্তব্য। মোদির সেই বক্তব্য অসাম্প্রদায়িক ও দেশের নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে দাবি করে কমিশনের দ্বারস্থ হয় কংগ্রেস। একই দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি লিখেছিল সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিও। সোমবার এ নিয়ে নির্বাচন কমিশন কোনও মন্তব্য করতে না চাইলেও, পরে তারা জানিয়েছে বিষয়টি বিবেচনা করছে তারা।

আদৌ বিজেপির এই বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের প্রভাব পড়বে ভোটবাক্সে? নাকি হিন্দুত্ববাদের আফিমে মজে থাকা দেশবাসী সরকারের সেই অসাম্প্রদায়িক, অসাংবিধানিক বক্তব্য শুনেই হাততালি দিয়ে চলবে, যেমনটা সেদিন দিয়েছিল রাজস্থানের জনসভায়। সত্যিই কি সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর ফল ভুগবে বিজেপি? উত্তর মিলবে ৪ জুন।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।