ভোট এলেই অনুপ্রবেশ-জিগির শাহদের! কেন এই ইস্যু জিইয়ে রাখতে চায় বিজেপি?

Lok Sabha Election 2024: এ রাজ্যে কতগুলি আসন জিততে চলেছে বিজেপি, এ নিয়ে চর্চা চলছে বহু দিন ধরেই। অমিত শাহ এ দিনের সভা থেকে স্পষ্ট করে দেন, লোকসভা ভোটে বিজেপির পাখির চোখ এবার বাংলা।

Sohini Das
৩ মিনিট
ভোট এলেই অনুপ্রবেশ-জিগির শাহদের! কেন এই ইস্যু জিইয়ে রাখতে চায় বিজেপি?

লোকসভা ভোট শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রথম দফায় পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে ভোট হয়ে গিয়েছে। বাকি পশ্চিমবঙ্গের সিংহভাগ এলাকাই। দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করেও পশ্চিমবঙ্গে দাঁত ফোটাতে পারেনি বিজেপি। ২০১৯ লোকসভা ভোটে বামকে হঠিয়ে রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের আসনটুকু জিততে পেরেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। সেইটুকুই অনেক। এ হেন বাংলা যে বিজেপির পাখির চোখ এই লোকসভা ভোটে, তা বলাই বাহুল্য।

ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর-সহ অনেকেই বলেছেন, এ বছর বাংলায় একে উঠে আসবে বিজেপি। যদিও বিশেষজ্ঞমহলের একাংশ তেমনটা মনে করছে না একেবারেই। এ রাজ্যের প্রতিটি লোকসভা কেন্দ্রে প্রার্থী দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে বিজেপিকে। তার উপর ভোটের মুখে মুখে ইলেক্টোরাল বন্ড কেলেঙ্কারি সামনে এসে পড়ার ঘটনা ভালোই অস্বস্তিতে ফেলেছে বিজেপিকে। তড়িঘড়ি জনগণের নজর ঘোরাতে সিএএ কার্যকর করার কথা ঘোষণা করে দেয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দফতর। বাংলা, অসম-সব বিভিন্ন রাজ্য সেই সিএএ নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ভোটের বাজারে মোদি-শিবিরের যে খুব একটা ভালো প্রভাব তৈরি করতে পারেনি এই সিএএ ইস্যু, অন্ততপক্ষে বাংলায় তো নয়ই, তা ভালোই মালুম পাওয়া গিয়েছিল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মুসলিমদের অকথ্য অপমান মোদির! প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন কেন ব্যবস্থা নেবে না?

Narendra Modi Hate Speech against Muslim: মোদি কি সত্যি কথা বলছেন? কংগ্রেস কি এমন বলেছিল যে সমস্ত সম্পদের উপর মুসলমানদের অধিকার?

তবে সেই বাংলা নিয়েই এবার আরও একবার আশাবাদী শোনাল দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। লোকসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে জনসমর্থন জিততে দলের কৌশলের কথাও ভেঙে বললেন শাহ। ভোট ঘোষণার আগে যতবার বাংলায় এসেছেন, ততবার এনআরসি-সিএএ ধুয়ো তুলেছেন শাহ। সম্প্রতি ভোটপ্রচারে গিয়ে একটি সভা থেকে ফের সংখ্যালঘুদের আক্রমণ করে বসেছেন মোদি। কংগ্রেসকে কটাক্ষ করতে গিয়ে তিনি বলে বসেন, কংগ্রেস নাকি বলেছে দেশের সম্পত্তির উপর প্রধান অধিকার মুসলিমদের। কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে 'ঘুসপেটিয়া'-দের মধ্যে সম্পত্তি বিলিয়ে দেওয়ার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। দেশে নির্বাচনী আচরণবিধি চলাকালীন খোদ প্রধানমন্ত্রীর মুখে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কথাবার্তা নিয়ে জোর সমালোচনা নানা মহলে। বিজেপির সেনাপতি তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কথাতেও কিন্তু কার্যত শোনা গিয়েছে সেই বক্তব্যের সমর্থনই।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ভোটমুখী রূপরেখা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি ফের বাংলায় অনুপ্রবেশ নিয়ে সরব হন। জানান, বাংলায় অনুপ্রবেশ রোখাই তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। শাহের দাবি, বাংলার মানুষও তাই চান। তাঁরা নরেন্দ্র মোদিকেই ফের প্রধানমন্ত্রীর পদে দেখতে চান বাংলার মানুষ। একই সঙ্গে কংগ্রেস বা তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কেউ-ই যে সিএএ-র পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। সম্প্রতি দিনাজপুরের একটি জনসভায় লোকসভা ভোটের ফলাফল সম্পর্কেও ভবিষ্যদ্বাণী করেন শাহ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
CAA-র জন্য প্রয়োজনীয় নথি না থাকলে কী হবে? যা জানালেন শাহ

CAA Implementation: কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, যাদের কাছে সেই প্রয়োজনীয় নথি নেই, অথচ তাঁরা বছরের পর বছর ধরে ভারতে রয়েছেন, তাঁদের কী হবে!

এ রাজ্যে কতগুলি আসন জিততে চলেছে বিজেপি, এ নিয়ে চর্চা চলছে বহু দিন ধরেই। অমিত শাহ এ দিনের সভা থেকে স্পষ্ট করে দেন, লোকসভা ভোটে বিজেপির পাখির চোখ এবার বাংলা। অমিত শাহ জানিয়েছেন, এবার বাংলায় ৩৫টি লোকসভা আসনে জিততে চলেছে বিজেপি। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে ৪২টি আসনের মধ্যে ১৮টি আসন পেয়েছিল বিজেপি। এবার তার দ্বিগুণ আসন পাওয়ার দাবি করছে বিজেপি। এ রাজ্যে জয় সম্পর্কে এক রকম ভাবে আত্মবিশ্বাসীই ঠেকল শাহ এবং তার দলকে।

এমনিতেই ভোটের আগে এসএসসি দুর্নীতি নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের জেরে বেশ খানিকটা কোণঠাসা পরিস্থিতিতে পড়েছে তৃণমূল। তবে সেই ইস্যুকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদ ও সংখ্যালঘু বিরোধিতার দিকেই বেশি মন দিতে দেখা গেল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। শাহ এদিন ওই জনসভা থেকেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দেন। বাংলাদেশ থেকে আসা বৌদ্ধ ও হিন্দু শরণার্থীরা ভারতে নাগরিকত্ব পেলে মুখ্যমন্ত্রীর সমস্যা রয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করেন তিনি। তার পরেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে যদি অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হয়, তাহলে ফের মোদিকেই প্রধানমন্ত্রী করে আনতে হবে বঙ্গবাসীর।

বিজেপি শাসনের কেন্দ্রে ফেরা একরকম নিশ্চিত বলেই মনে করছে একটি পক্ষ। বছরের শুরু থেকেই বিজেপির প্রতিটি পদক্ষেপে স্পষ্ট হয়েছে তাদের সেই আত্মবিশ্বাসই। তবে যে বাংলায় লোকসভা ভোটে সব ক'টি কেন্দ্রে প্রার্থী দিতেই নাকানিচোবানি খেয়েছে বিজেপি, সেখানে ৩৫টি আসন জয় নিয়ে কী করে এতটা নিশ্চিত হচ্ছেন শাহরা? ভোট এলেই প্রতিবছর অনুপ্রবেশ নিয়ে সরব হতে দেখা যায় মোদি-শাহদের। এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু আদৌ কি কোনও রাজ্যের অনুপ্রবেশ বন্ধ করা সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হাতে রয়েছে। সে কাজ করতে পারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। তবে সে নিয়ে আদতে কোনও পদক্ষেপ করেন না কেন শাহর দফতর। নাকি সেই ইস্যু ভোটের আগে জিইয়ে রাখাই প্রধান উদ্দেশ্য বিজেপির? উঠেছে প্রশ্ন। পাশাপাশি সত্যিই এই অনুপ্রবেশ বা সিএএ ইস্যু নিয়ে বাংলা শিকে ছিঁড়বে বিজেপির? এই বাংলায় আদৌ কোনওদিন স্বপ্নপূরণ হবে শাহদের? প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।