'ইডি পার্টিকে মানুষ মুছে দিয়েছে’, পঞ্জাবে পুরভোটে জয়ের পর বিজেপিকে কটাক্ষ কেজরিওয়ালের

Arvind Kejriwal: পঞ্জাবের পুরভোটে বড় জয় পেয়েছে আম আদমি পার্টি। ফল ঘোষণার পর অরবিন্দ কেজরিওয়াল বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘ইডি পার্টিকে মানুষ মুছে দিয়েছে’। তাঁর দাবি, ভগবন্ত মান সরকারের কাজের উপর আস্থা রেখেই ভোটাররা আপকে সমর্থন করেছেন।

inscript
৩ মিনিট
'ইডি পার্টিকে মানুষ মুছে দিয়েছে’,  পঞ্জাবে পুরভোটে জয়ের পর বিজেপিকে কটাক্ষ কেজরিওয়ালের

পঞ্জাবের পুরনিগম ও পুরসভা নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে আম আদমি পার্টি (আপ)। ফল প্রকাশের পর দলের প্রধান বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ করে বলেছেন,

ইডি পার্টিকে মানুষ মুছে দিয়েছে।

তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে পঞ্জাবে।

কেজরিওয়ালের বক্তব্যে ‘ইডি পার্টি’ বলতে তিনি বিজেপিকেই বুঝিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই আপের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে তদন্তকারী সংস্থা, বিশেষ করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-কে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। সেই প্রেক্ষাপটেই পুরভোটের ফল ঘোষণার পরে বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ইডি-সিবিআই ও ‘ওয়াশিং মেশিন’ রাজনীতি: কেজরিওয়াল মামলার রায় কী বলছে?

Arvind Kejriwal verdict: স্বাভাবিকভাবেই দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে এই মামলার ভয়ংকর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং আম আদমি পার্টি পর্যদুস্ত হয়। সেই সময় গোদি মিডিয়া সমান্তরালভাবে কেজরিওয়াল এবং মণীশের বিরুদ্ধে মিডিয়া ট্রায়াল চালাতে থাকে যাতে তাঁরা গণশত্রু হিসাবে জনতার দরবারে চিহ্নিত হতে পারেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় কেজরিওয়াল লিখেছেন, পঞ্জাবের মানুষ ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ভোটাররা মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান সরকারের কাজের উপর আস্থা রেখেই আপকে সমর্থন করেছেন। তিনি বলেন, মানুষ উন্নয়নের রাজনীতিকে বেছে নিয়েছে এবং ভবিষ্যতেও দল একইভাবে কাজ চালিয়ে যাবে।

পঞ্জাবের বিভিন্ন পুরনিগম, পৌরসভা এবং নগর পরিষদ মিলিয়ে হওয়া এই নির্বাচনে আপ বিপুল সংখ্যক ওয়ার্ডে জয় পেয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দলটি ৮৮৬-রও বেশি ওয়ার্ডে জয়লাভ করেছে। কংগ্রেস দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও তাদের প্রাপ্ত আসন অনেক কম। বিজেপি এবং শিরোমণি আকালি দলও প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি।

পঞ্জাব রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ হয়েছিল ১০২টি নগর স্থানীয় সংস্থায়। গণনা শুরু হয় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে। ভোটদানের হার ছিল প্রায় ৬৪ শতাংশ। ফলাফল স্পষ্ট করে দেয়, শহরাঞ্চলেও আপ এখনও শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মানের রাজনৈতিক ঘাঁটি ধুরিতে আপের সাফল্য নজর কেড়েছে। সেখানে অধিকাংশ ওয়ার্ডেই দল জয়ী হয়েছে। এছাড়া মোহালি, বাথিন্ডা, বারনালা, মোগা এবং বাটালার মতো গুরুত্বপূর্ণ পুরনিগমেও আপ এগিয়ে থেকেছে। মোহালিতে দল ৫০ শতাংশেরও বেশি আসন জিতেছে বলে খবর।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেজরিওয়ালের গ্রেফতারির নেপথ্যেও নির্বাচনী বন্ড! কীভাবে?

Arvind Kejriwal Arrest and Electoral Bond: পিনাকা শরৎ চন্দ্র রেড্ডি ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে ৬২ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিলেন। যে অনুদানের ৪৪.৫ কোটি টাকাই পেয়েছে বিজেপি।

লুধিয়ানা জেলাতেও আপের দাপট দেখা গিয়েছে। সেখানে ছয়টির মধ্যে চারটি পৌর পরিষদ দখল করেছে শাসক দল। যদিও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ডে তারা প্রত্যাশিত ফল পায়নি, তবুও সামগ্রিকভাবে এই ফলাফলকে দলের জন্য বড় সাফল্য বলেই মনে করা হচ্ছে।

এই জয়ের পরে কেজরিওয়াল দাবি করেছেন, পঞ্জাবের মানুষ বিজেপির রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাঁর অভিযোগ, ছোট ব্যবসায়ীদের উপর একের পর এক ইডি অভিযান চালিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। ভোটের ফল সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। কেজরিওয়ালের কথায়, মানুষ ভোটবাক্সের মাধ্যমে তার জবাব দিয়েছে।

অন্যদিকে, বিজেপি এই ফলকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে নারাজ। ভোটের আগেই পঞ্জাব বিজেপির সভাপতি সুনীল জাখড় অভিযোগ করেছিলেন, শাসক আপ সরকার বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে। বিজেপির দাবি ছিল, একাধিক ক্ষেত্রে তাদের প্রার্থীদের অন্যায়ভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কংগ্রেসও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিরোধীদের অভিযোগ, প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আপ নিজেদের সুবিধা আদায় করেছে। যদিও আপ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং দাবি করেছে, তাদের জয়ের একমাত্র কারণ সরকারের কাজ এবং মানুষের সমর্থন।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পুরভোটের ফল ২০২৭ সালের পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। ২০২২ সালে বিপুল জয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর আপ সরকারকে নানা বিতর্ক ও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দলের একাধিক নেতাকে ঘিরে তদন্ত এবং বিরোধীদের আক্রমণও বেড়েছে। সেই পরিস্থিতিতে পুরভোটে এই সাফল্য আপের মনোবল অনেকটাই বাড়াবে।

তবে রাজনৈতিক সমীকরণ এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। অনেক জায়গায় নির্দল প্রার্থীরাও উল্লেখযোগ্য ফল করেছেন। কয়েকশো ওয়ার্ডে নির্দলদের জয় প্রমাণ করেছে, স্থানীয় স্তরে দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

প্রসঙ্গত, বিজেপি ও আপের সংঘাত যে আগামী দিনেও আরও তীব্র হবে, এই ফলাফল তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই পুরভোটের রায়কে রাজনৈতিক দলগুলি যে নিজেদের শক্তি-পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি হিসেবে দেখবে, তা বলাই যায়।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের মাশুল দিচ্ছে মানুষ, তিন মাসে পাঁচ তেল সংস্থার আয় ৫৬ বিলিয়ন ডলার

Big Oil profits 2026: তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ExxonMobil-এর পরিশোধন ব্যবসা একাই মুনাফা করেছে ৯.০৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। অন্যদিকে Chevron-এর পরিশোধন বিভাগ থেকে আয় হয়েছে ৪.৯৩ বিলিয়ন ডলার— যা সংস্থাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

পশ্চিমবঙ্গের জমি নীতি কোন আমলে কেমন?

west bengal land politics: জোতদারদের উচ্ছেদ থেকে সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম পর্ব, কিংবা সাম্প্রতিক সময়ের ল্যান্ড পুলিং বিতর্ক, বাংলার ভূমিনীতি বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারায় বিভক্ত থেকেছে। কংগ্রেসের জমি আইনে ফাঁক, বামেদের অপারেশন বর্গা ও সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামে জোরপূর্বক অধিগ্রহণ, তৃণমূলের খানিক নিস্ক্রিয় শাসনকাল, এখন বিজেপির আমরা ‘জমি কিনব, কাউকে জোর করব না’র দাবি, সব মিলিয়ে বাংলার রাজনীতিতে জমি শুধু সম্পদ নয়, ক্ষমতারও চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে বারবার।

নতুন ভারতের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন মোদী, কতটা সফল তাঁর অর্থনৈতিক মডেল?

Modi jobs promise reality: বছরে দু’কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন মোদী, ২৫ বছর পর কর্মসংস্থানের বাস্তব ছবিটা কী? অর্থনীতির বৃদ্ধি আদৌ কাজের নিশ্চয়তা দিতে পেরেছে?

এনকাউন্টার না পরিকল্পিত খুন? বীরপ্পান, সোহরাবুদ্দিন শেখ, লখন ভাইয়ার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ঘিরে আজও প্রশ্ন

Encounters in India: আমাদের বিশেষ ধারাবাহিক ‘এনকাউন্টার’-এর এই দ্বিতীয় পর্বে রইল ভারতের ইতিহাসের এমন তিনটি বহুল আলোচিত ও হাড়হিম করা ঘটনার নেপথ্য খতিয়ান, যা আমাদের বারবার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয় এক কঠিন প্রশ্নের: ন্যায়বিচার আসলে কার শর্তে চলে?

শহরকে ডেঙ্গু-মুক্ত রাখার পুরস্কার কি শুধুই বঞ্চনা? ক্ষোভে ফুঁসছেন কলকাতা পৌরসভার অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মীরা

Kolkata Municipal Corporation temporary health workers: আমরা ক'জন খোঁজ রাখি যে, এই অস্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মীরা চরম দারিদ্র্য আর অভাবের মধ্য দিয়েই দিন কাটান? যে পরিমাণ পারিশ্রমিক তাঁরা পান, তা দিয়ে বর্তমান বাজারে সংসার চালানো ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। দীর্ঘ ২০-২১ বছর কাজ করার পরও এই কর্মীদের দৈনিক মজুরি মাত্র ৪৮৭ টাকা!

নিজের রাজত্বকালে কী কী করেছেন নেতানিয়াহু? ফিরে দেখা

Benjamin Netanyahu: দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের শাসনে ইজরায়েলকে কতটা বদলে দিয়েছেন নেতানিয়াহু? অর্থনীতি, নিরাপত্তা, গণতন্ত্র ও ফিলিস্তিন নীতিতে তাঁর শাসনের সাফল্য এবং ব্যর্থতার খতিয়ান কী?

যেভাবে ইজরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকট

Israel government formation: নেতানিয়াহুকে পেছনে ফেলে সরকার গঠনের ডাক পেলেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট। কীভাবে সমীকরণ মেলাবেন তিনি?

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে আমেরিকার নজর, কেন ঘোষিত হলো ২০ মিলিয়ন ডলারের পুরস্কার?

Million dollar reward for Iranian nuclear plan: ওয়াশিংটন থেকে সরাসরি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, বৈজ্ঞানিক সরঞ্জাম ও বিজ্ঞানীদের তথ্যের জন্য ২০ মিলিয়ন ডলারের রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস পুরস্কার ঘোষণা করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট। ফেব্রুয়ারিতে ইরানে এবিষয়ে পরিদর্শকদের প্রবেশ বন্ধের পর, সারা বিশ্ব ইরানের এই পারমাণবিক ‘জ্ঞান' সম্পর্কিত তথ্যের ধারাবাহিকতা হারিয়েছে। ট্রাম্প এই প্রকল্পের ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ দাবি করলেও, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এবিষয়ে অনিশ্চিত।