কেজরিওয়ালের গ্রেফতারির নেপথ্যেও নির্বাচনী বন্ড! কীভাবে?

Arvind Kejriwal Arrest and Electoral Bond: পিনাকা শরৎ চন্দ্র রেড্ডি ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে ৬২ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিলেন। যে অনুদানের ৪৪.৫ কোটি টাকাই পেয়েছে বিজেপি।

inscript
৩ মিনিট
কেজরিওয়ালের গ্রেফতারির নেপথ্যেও নির্বাচনী বন্ড! কীভাবে?

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে ইডি আবগারি নীতি মামলায় গ্রেফতার করেছে। দেশ জুড়ে তোলপাড়। সারা দেশের রাজনীতিতে একের পর এক বড় ঘটনা চলছে নতুন বছরের শুরু থেকেই। রামমন্দিরে প্রাণ প্রতিষ্ঠা, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের গ্রেফতারি, সিএএ চালু, নির্বাচনী বন্ড কেলেঙ্কারি! লোকসভা ভোটের মাসখানেক বাকি থাকতেই রাজধানী দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের গ্রেফতারি তাই নিঃসন্দেহে এক বড় ঘটনা। তবে কেজরিওয়ালের এই গ্রেফতারির সঙ্গে নির্বাচনী বন্ড বিষয়টিও জড়িয়ে আছে। কীভাবে?

এই আবগারি নীতি মামলার একজন প্রধান অভিযুক্ত হচ্ছেন, অরবিন্দ ফার্মার পিনাকা শরৎ চন্দ্র রেড্ডি। তিনি এই মামলার সাক্ষীও এখন। এই পিনাকা শরৎ চন্দ্র রেড্ডি ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে ৬২ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিলেন। যে অনুদানের ৪৪.৫ কোটি টাকাই পেয়েছে বিজেপি।

২০২২ সালের ১০ নভেম্বর অরবিন্দ ফার্মার পিনাকা শরৎ চন্দ্র রেড্ডিকে আবগারি নীতি মামলায় ইডি গ্রেফতার করে৷ এর ৫ দিন পরেই, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর পিনাকা শরৎ চন্দ্র রেড্ডির অরবিন্দ ফার্মা বিজেপিকে ৫ কোটি টাকা দেয় নির্বাচনী বন্ডে৷ ২০২৩ সালের ১ জুন শরৎ চন্দ্র রেড্ডি এই আগবগারি মামলার একজন সাক্ষী হয়ে যান।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কেজরিওয়ালের গ্রেফতারির প্রতিবাদ করতে ১৪ ঘণ্টা সময় কেন নিলেন মমতা?

Mamata Banerjee Arvind Kejriwal: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রতিবাদে ঢিলেমি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নীরবতা আসলে কি 'সেটিং তত্ত্ব'-রই প্রমাণ নয়?

২০২৩ সালের ৮ নভেম্বর শরৎ চন্দ্র রেড্ডির অরবিন্দ ফার্মা এবং এপিএল হেলথকেয়ার বন্ডে বিজেপিকে আরও ৩৫ কোটি টাকা দিয়েছে। শরৎ চন্দ্র রেড্ডি গ্রেফতার হওয়ার পর দেখা যায় নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে অরবিন্দ ফার্মা এবং এপিএল হেলথকেয়ার মোট ৪০ কোটি টাকা অনুদান দেয়৷

গত ১৫ মার্চ ভারত রাষ্ট্র সমিতি অর্থাৎ বিআরএস নেতা এবং তেলেঙ্গানার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাওয়ের কন্যা, কে কবিতাকেও এই আবগারি নীতি মামলায় অর্থ তছরুপের অভিযোগে ইডি গ্রেফতার করে। তারপর ২১ মার্চ গ্রেফতার হলেন খোদ কেজরিওয়াল। ভারতের নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী বন্ডের মাধ্যমে কোন কোন ব্যক্তি এবং কর্পোরেটদের কোন রাজনৈতিক দলকে কত টাকা দিয়েছে সেই বিবরণ পেশ করেছে। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করেই নির্বাচনী বন্ডের সঙ্গে দিল্লির আবগারি নীতির মামলার এক অদ্ভুত সংযোগ পাওয়া গেছে। স্ক্রোল ডট ইন, নিউজলন্ড্রি এবং নিউজমিনিট এই নির্বাচনী বন্ডের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানাচ্ছে, হায়দরাবাদের একটি ফার্মা কোম্পানি, যার পরিচালক কে কবিতার সহ-অভিযুক্ত, এবং যিনি শেষ পর্যন্ত এই আবগারি নীতির একজন সাক্ষীও হন, সেই ব্যক্তি ভারতীয় জনতা পার্টিকে ৫ কোটি টাকা দেন নির্বাচনী বন্ডে৷ ইডি তাঁকে গ্রেফতার করার পাঁচ দিন পরে এই অনুদান দেওয়া হয়েছিল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অরবিন্দ কেজরিওয়াল গ্রেফতার! বিজেপির দিল্লি দখলের মোক্ষম অস্ত্র এটিই?

CM Arvind Kejriwal Arrested by ED: আবগারি নীতিতে মদের হোম ডেলিভারি এবং দোকানগুলি রাত্রি ৩টে পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। লাইসেন্স থাকলে বিক্রেতা যা ইচ্ছা ছাড়ও দিতে পারে।

হায়দরাবাদের ব্যবসায়ী পি শরৎ চন্দ্র রেড্ডি অরবিন্দ ফার্মা লিমিটেডের অন্যতম পরিচালক। কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা করেন শরৎ চন্দ্র রেড্ডির বাবা পিভি রাম প্রসাদ রেড্ডি। ইডি ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর আবগারি কেলেঙ্কারির মামলায় শরৎ চন্দ্র রেড্ডিকে গ্রেপ্তার করে। ১৫ নভেম্বর শরৎ চন্দ্র রেড্ডির কোম্পানি অরবিন্দ ফার্মা ৫ কোটি টাকার নির্বাচনী বন্ড কেনে। নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার দেওয়ার তথ্য অনুযায়ী, সমস্ত বন্ড ভেঙে বিজেপি নগদ টাকা করে ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর।

ইডির গ্রেফতারির সাত মাস পর, শরৎ চন্দ্র রেড্ডি ২০২৩ সালের জুন মাসে এই আবগারি মামলার সাক্ষী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০২৩ সালের নভেম্বরে, অরবিন্দ ফার্মা বিজেপিকে আরও ২৫ কোটি টাকা দেয়। সব মিলিয়ে এই ফার্মটি ৫২ কোটি টাকার নির্বাচনী বন্ড কিনেছে। এর মধ্যে ৩৪.৫ কোটি পেয়েছে বিজেপি, ১৫ কোটি পেয়েছে ভারত রাষ্ট্র সমিতি বা বিআরএস এবং ২.৫ কোটি টাকা পেয়েছে তেলেগু দেশম পার্টি।

২০২১-২২ সালে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নেতৃত্বাধীন সরকার যখন কয়েক মাসের জন্য এই আবগারি নীতিটি প্রয়োগ করে, তখন ইডি অভিযোগ করে, 'সাউথ গ্রুপ' লবিতে উল্লিখিত ব্যক্তিদের মধ্যে শরৎ এবং কবিতা রয়েছেন। এই 'সাউথ গ্রুপ'-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ কী? অভিযোগ, এই লবি আম আদমি পার্টিকে ১০০ কোটি টাকা দিয়েছে বিজয় নায়ারের মাধ্যমে। ইডি অভিযোগ করে, দিল্লিতে মদের ব্যবসার উপর নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার জন্য এই পরিমাণ অর্থ দেওয়া হয়েছিল। ২০২২ সালের গোয়া বিধানসভা নির্বাচনের সময় আম আদমি পার্টি এই অর্থ ব্যবহার করেছিল।

দিল্লির একটি আদালত ২০২৩ সালের ১ জুন শরৎকে এই আবগারি মামলায় সাক্ষী হওয়ার অনুমতি দেয়। এই সাউথ গ্রুপের অন্য দুই সদস্য, ওয়াইএসআর কংগ্রেস পার্টির সাংসদ এম শ্রীনিভাসুলু রেড্ডি এবং তাঁর ছেলে রাঘবও এই মামলায় সাক্ষী হয়েছেন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।

হুথিরা যেভাবে স্থানীয় বিদ্রোহী থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিতে পরিণত হলো

Houthi Expansion in Yemen: ইয়েমেনে ফের কেন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? হুথিরা কীভাবে স্থানীয় জায়দি আন্দোলন থেকে শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হল? ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? মোখা ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখলের পর কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দাব? এই সংঘাতের প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পড়বে?