"দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত রাজ্য..." পশ্চিমবঙ্গ নয়, রাহুলের ন্যায় যাত্রার নিশানায় যে রাজ্য

Rahul Gandhi Bharat Jodo Nyay Yatra : রাহুলের দাবি, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা নিজে, তাঁর সন্তান, এবং স্ত্রী- সবাই কোনও না কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত।

inscript
৩ মিনিট
"দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত রাজ্য..." পশ্চিমবঙ্গ নয়, রাহুলের ন্যায় যাত্রার নিশানায় যে রাজ্য

'ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা'-র অসম পর্ব শুরু হয়েছে। আর এই পর্বের প্রথম দিনেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, দেশের মধ্যে একমাত্র অসম রাজ্যেই সম্ভবত সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার এবং সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত মুখ্যমন্ত্রী রয়েছেন। নাগাল্যান্ড থেকে ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা অসমে ঢুকেছে। শিবসাগর জেলার হ্যালোটিংয়ে একটি জনসমাবেশে ভাষণ দিতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপি এবং বিজেপির আদর্শ রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের বিরুদ্ধে সারা দেশে ঘৃণা ছড়ানো এবং জনসাধারণের টাকা লুট করার অভিযোগ এনেছেন। বিজেপিরই শাসনে রয়েছে অসম। আর এই অসম প্রশাসন চূড়ান্তভাবে দুর্নীতিতে ডুবে রয়েছে বলে দাবি রাহুলের।

রাহুল গান্ধি বলছেন, বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার আদিবাসী, চা শ্রমিক এবং অসমের অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অবিচার করছে। আসামে দুর্নীতি প্রবল এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার পুরো পরিবারই দুর্নীতিতে জড়িত। রাহুলের দাবি, হিমন্ত বিশ্ব শর্মা নিজে, তাঁর সন্তান, এবং স্ত্রী- সবাই কোনও না কোনও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। রাহুল বলছেন, "হিমন্ত ভাবছেন, টাকা দিয়ে অসমের মানুষ কেনা যায়। কিন্তু অসমের মানুষকে কেনা যায় না।"

বরাবরই বিজেপির আক্রমণের সামনের সারিতে রয়েছে কংগ্রেস। রাহুলের এমন আক্রমণের পর তাই স্বাভাবিকভাবেই হিমন্ত বিশ্ব শর্মা পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন। তাঁর দাবি গান্ধি পরিবারই আসলে দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত পরিবার। "শুধু দুর্নীতিগ্রস্ত নয়, ওরা নকলও। ওদের পরিবারের পদবি গান্ধীও নয়, কিন্তু সবাই নকল পদবি বয়ে চলেছে,” বলছেন হিমন্ত।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা: কোন পথে মন জিততে চাইছেন রাহুল?

Bharat Jodo Nyay Yatra: বৃহস্পতিবার এই যাত্রার নাম আবার পরিবর্তিত করে রাখা হয়, 'ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা'। অরুণাচলপ্রদেশ সহ ১৫টি রাজ্য জুড়ে এই যাত্রা চলবে।

মণিপুর থেকে শুরু হয়েছিল রাহুলের এই ন্যায় যাত্রা। রাহুল জানাচ্ছেন, গত বছরের ৩ মে থেকে জাতি হিংসার ফলে সেই রাজ্যে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি হয়েছে। মণিপুর ভাগ হয়ে যাচ্ছে অথচ প্রধানমন্ত্রী একবারও সেই রাজ্যে যাননি। কয়েক মাস ধরে সেখানে হিংসা চলছে, মানুষ মারা যাচ্ছে, বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, শান্তি ফিরে আসেনি।

অসমের পুরনো বিদ্রোহের হিংসার দিকে ইঙ্গিত করে রাহুক গান্ধি বলছেন, কংগ্রেস জনগণের পক্ষেই দাঁড়িয়েছিল তখনও, কংগ্রেসই রাজ্যে রক্তপাতের অবসান ঘটিয়েছে। উত্তর পূর্বেরই আরেক রাজ্য নাগাল্যান্ডে নাগা রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান আনতে একটি ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি নয় বছর আগে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তারপর সেই চুক্তির কী হলো কেউ জানে না কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই সম্পর্কে একটি কথাও বলেন না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভারত ন্যায় যাত্রা: মণিপুর থেকে মহারাষ্ট্র, কেন এই রুটম্যাপ বাছলেন রাহুল গান্ধী?

Bharat Nyay Yatra: নির্বাচনকে সামনে রেখেই রাহুল গান্ধী পরিকল্পনা করেছেন 'ভারত ন্যায় যাত্রা'র। ১৪ জানুয়ারি থেকে ২০ মার্চ অবধি চলবে এই যাত্রা। চলবে ৬২০০ কিলোমিটার জুড়ে। ১৪ টি রাজ্য ও ৮৫টি জেলার উপর দিয়ে যাবে যাত্রাটি

রাহুল রাজ্যে রাজ্যে মানুষের সঙ্গে সংযোগ গড়ার কাজ করছেন। কন্যাকুমারী থেকে কাশ্মীর অবধি এর আগে যে ভারত জোড়ো যাত্রা হয়েছিল তা বিশাল প্রভাব ফেলেছে বলেই দাবি রাহুলের। কিন্তু বিজেপি মনে করছে এই ধরনের পদযাত্রায় কংগ্রেসের শিকে ছিঁড়বে না।

রাহুল বলছেন সমস্ত বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতেই অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং রাজনৈতিক অবিচার চলছে, আর তার একমাত্র শিকার হচ্ছেন দরিদ্র এবং প্রান্তিক শ্রেণির মানুষরাই। তাই মণিপুর থেকে মুম্বই এই যাত্রার উদ্দেশ্য শুধু ভারতের প্রতিটি ধর্ম, বর্ণ ও ভাষার মানুষকে একত্রিত করা নয়, ন্যায়বিচার দেওয়াও এই যাত্রার লক্ষ্য। আর এই ন্যায় যাত্রার নেপথ্যে তিনি রাখছেন মধ্যযুগীয় বৈষ্ণব সাধক মহাপুরুষ শ্রীমন্ত শঙ্করদেবকে। অসমের একজন বিখ্যাত মানুষ শঙ্করদেব। সেই শঙ্করদেবের আদর্শেরই যাত্রা কংগ্রেসের এই 'ন্যায় যাত্রা'। শঙ্করদেব যে পথ দেখিয়ে গেছেন সবাইকে একজোট করার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার, কংগ্রেস শুধু অসমের সেই ইতিহাসের শিকড় ধরেই এগোচ্ছে, দাবি রাহুলের।

ন্যায় যাত্রায় বেকারত্ব নিয়ে কথা বলছেন রাহুল। প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, ক্ষমতায় এলে সমস্ত সরকারি শূন্যপদ পূরণ করার। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করে সর্বাধিক সংখ্যক কর্মসংস্থান সৃষ্টির কথা বলছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী ২ কোটি চাকরির কথা বলে আসলে ২-৩ জন শিল্পপতির জন্যই কাজ করছেন। বিমানবন্দর, বন্দর, কৃষি, পরিকাঠামোর মতো সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ গৌতম আদানির কাছে বিক্রি করে ফেলছেন।

কিন্তু দুর্নীতির প্রশ্নে কংগ্রেসেরই গলায় বিঁধে আছে কয়লা কেলেঙ্কারি, ২জি স্পেক্ট্রাম থেকে শুরু করে সত্যম কেলেঙ্কারি অবধি বিবিধ দুর্নীতির অভিযোগ। ইন্ডিয়া জোটের অংশ দলগুলির, এমনকী তৃণমূলের বিরুদ্ধে যে লাগামহীন দুর্নীতির অভিযোগ, তাকে ঢাকা যাবে কোন ন্যায় দিয়ে? কংগ্রেস কি দুর্নীতিমুক্ত ভারতের স্বপ্ন দেখাতে পারবে দেশকে, আদৌ?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।