ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা: কোন পথে মন জিততে চাইছেন রাহুল?

Bharat Jodo Nyay Yatra: বৃহস্পতিবার এই যাত্রার নাম আবার পরিবর্তিত করে রাখা হয়, 'ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা'। অরুণাচলপ্রদেশ সহ ১৫টি রাজ্য জুড়ে এই যাত্রা চলবে।

Sindhu Som
৩ মিনিট
ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা: কোন পথে মন জিততে চাইছেন রাহুল?

সারা দেশের বরিষ্ঠ কংগ্রেস নেতারা গত বৃহস্পতিবার দিল্লিতে একটি বৈঠক করেছেন। বৈঠকে আলোচনার বিষয় ছিল—আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের কৌশল, আসন সমঝোতা এবং মণিপুর থেকে মহারাষ্ট্র যাত্রার প্রস্তুতি। বৃহস্পতিবার এই যাত্রার নাম আবার পরিবর্তিত করে রাখা হয়, 'ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা'। অরুণাচলপ্রদেশ সহ ১৫টি রাজ্য জুড়ে এই যাত্রা চলবে। দিল্লির এআইসিসি (অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটি) সদর দফতরে দলের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ ঘোষণা করেছেন, যাত্রার নাম আরেকবার পরিবর্তন করা হয়েছে। আগে এর নাম রাখা হয়েছিল 'ভারত ন্যায় যাত্রা'। ওইদিন দলের বিভিন্ন রাজ্যস্তরীয় নেতা থেকে এআইসিসি সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে পর্যন্ত উপস্থিত ছিলেন সেই বৈঠকে।

বৈঠকের পর, কংগ্রেস ৬৬ দিনের 'ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা’-র রুটম্যাপ প্রকাশ করেছে। ১৫টি রাজ্যের ১১০টি জেলার উপর দিয়ে যাবে যাত্রাটি। ১৪ই জানুয়ারি, মণিপুরের ইম্ফল থেকে শুরু হয়ে যাত্রা চলবে মুম্বই পর্যন্ত। জয়রাম রমেশ বলেন, এই যাত্রায় অংশগ্রহণের জন্য ইন্ডিয়া ব্লকের (I.N.D.I.A) সমস্ত নেতাদের কংগ্রেসের তরফে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রত্যেককে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হচ্ছে। এটি একটি হাইব্রিড যাত্রা। যাত্রাপথের একটি অংশ বাসে যাবেন যাত্রাকারীরা। বাকি অংশ পায়ে হেঁটে যাওয়া হবে। মণিপুরের ১০৭ কিমি যাত্রাকারীরা অতিক্রম করবেন ১ দিনে। চারটি জেলার উপর দিয়ে যাবেন তাঁরা। নাগাল্যান্ডের ২৫৭ কিমি পথের জন্য সময় বরাদ্দ ২ দিন। পাঁচটি জেলা ছুঁয়ে এগিয়ে যাবে যাত্রা। আসামের ১৭ টি জেলা, মোট ৮৩৩ কিমি পথ পেরোতে যাত্রাটি সময় নেবে ৮ দিন। আরুণাচলের ১টি জেলা, অতিক্রম করতে হবে ৫৫ কিমি। বরাদ্দ ১ দিন। এরপর মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গ। বাংলার পাঁচটি জেলা, ৫২৩ কিমি পথ বেছে নিয়েছে কংগ্রেস। বাংলা হয়ে বিহার। বিহার হয়ে ঝাড়খণ্ড। ঝাড়খণ্ডের ১৩টি জেলার ৮০৪ কিমি পথ অতিক্রম করতে যাত্রা সময় নেবে ৮ দিন। এরপর উড়িষ্যার ৩৪১ কিমি, সাকুল্যে চারটি জেলা যাত্রাকারীরা পার হবেন চারদিনে। ছত্তিশগড়ের ৫৩৬ কিমি পাঁচ দিনে পেরোবেন তাঁরা। এরপর উত্তরপ্রদেশ। উত্তরপ্রদেশে যাত্রার দীর্ঘতম পথ অতিক্রম করবেন যাত্রাকারীরা। ১০৭৪ কিমি। ২০টি জেলা পেরোতে সময় লাগবে ১১ দিন। উত্তরপ্রদেশের পরে মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান হয়ে গুজরাট। গুজরাটে সাতটি জেলা ৪৪৫ কিমি পথের জন্য বরাদ্দ ৫ দিন। সবশেষে মহারাষ্ট্র। ৬টি জেলায় ৪৭৯ কিমি পথ অতিক্রম করে যাত্রা শেষ হবে মুম্বইতে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভারত ন্যায় যাত্রা: মণিপুর থেকে মহারাষ্ট্র, কেন এই রুটম্যাপ বাছলেন রাহুল গান্ধী?

Bharat Nyay Yatra: নির্বাচনকে সামনে রেখেই রাহুল গান্ধী পরিকল্পনা করেছেন 'ভারত ন্যায় যাত্রা'র। ১৪ জানুয়ারি থেকে ২০ মার্চ অবধি চলবে এই যাত্রা। চলবে ৬২০০ কিলোমিটার জুড়ে। ১৪ টি রাজ্য ও ৮৫টি জেলার উপর দিয়ে যাবে যাত্রাটি

দলের শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশ্যে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন, কেন্দ্র সরকার নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে স্পর্শকাতর বিষয়গুলি উত্থাপন করছে। তিনি আরও বলেন, "I.N.D.I.A ব্লকের প্রধান শক্তি আঞ্চলিক দলগুলি। যাদের বিপুল কর্মীসংখ্যা এবং আদর্শ এই জোটের ভিত্তি।" তাঁর অভিযোগ, আধুনিক ভারত গঠনে কংগ্রেসের অবদানকে অবিরত উপেক্ষা করে চলেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। এর জবাব দেওয়া প্রয়োজন বলেই মনে করছেন তিনি। সংসদীয় গণতন্ত্র এবং আধুনিক ভারতের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনে কংগ্রেসের অবদান আরেকবার দলীয় কর্মীদের স্মরণ করিয়ে দেন খাড়গে।

গত বৃহস্পতিবার, ওয়াইএসআর তেলেঙ্গানা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এবং অন্ধ্রপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াইএস রাজশেখর রেড্ডির কন্যা, ওয়াইএস শর্মিলা কংগ্রেসে যোগ দেন। রাজশেখর রেড্ডি পরপর দু'বার অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। ২০০৮-এ সালে একটি মর্মান্তিক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি। গত এক বছর ধরে শর্মিলার সঙ্গে বোঝাপড়ায় আসার চেষ্টা করছিল কংগ্রেস। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসেই হায়দরাবাদে একটি সমাবেশে যোগ দেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তখনো পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত বোঝাপড়া না হওয়ায় সমাবেশে আসেননি তিনি। তার যোগদান নির্বাচনে প্রভূত সাহায্য করবে কংগ্রেসকে─এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

লিখেছেন
Sindhu Som
Sindhu Som
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।