রামলীলা ময়দানে বিরোধীদের বক্তৃতা: কে কত নম্বর পেলেন?
INDIA Bloc Rally at Ramlila Maidan: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ২১টি বিরোধী দলের নেতা ও কর্মীরা। কে, কী বললেন?
১ নভেম্বর, রবিবার দিল্লির রামলীলা ময়দানে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগান তুলে বড় সমাবেশ করল বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ২১টি বিরোধী দলের নেতা ও কর্মীরা। লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, আরজেডির তেজস্বী যাদব, পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি-সহ একাধিক বিরোধী নেতা বক্তব্য রাখেন।
সমাবেশের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল বিরোধী দলগুলির যৌথ উপস্থিতি। কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি, রাষ্ট্রীয় জনতা দল এবং বাম দলগুলির পতাকা একই মঞ্চ ও ময়দানে দেখা গিয়েছে। একসময় যাঁদের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ ছিল, তাঁদের অনেককেই একই খোলা গাড়িতে চেপে মিছিল করতে দেখা যায়। মিছিলের রাস্তা জুড়ে উঠেছে ‘ভোট চোর গদি ছোড়’ স্লোগান। কারও হাতে ছিল সংবিধানের প্রতিলিপি, কেউ আবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছিলেন নানা ভাবে।
বক্তৃতাগুলিতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, এসআইআর বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া, ভোটাধিকার এবং কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ নির্বাচন এবং আগামী দিনের বিরোধী রাজনীতির দিকনির্দেশও উঠে আসে। বক্তৃতার বিষয়বস্তু, রাজনৈতিক প্রভাব, বক্তব্যের স্পষ্টতা এবং সমাবেশের মূল দাবির সঙ্গে তার সম্পর্ক বিচার করে নেতাদের বক্তৃতাকে ১০-এর মধ্যে নম্বর দেওয়া যেতে পারে।
রাহুল গান্ধী: ৯/১০
সমাবেশের মূল আকর্ষণ ছিলেন রাহুল গান্ধী। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল নির্বাচন কমিশন, জ্ঞানেশ কুমার এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ভূমিকা। তিনি সরাসরি আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন।
রাহুল বলেন,
অমিত শাহ বলেছেন, নরেন্দ্র মোদী কোথাও যাচ্ছেন না। আমি তার উল্টো কথা বলছি। নরেন্দ্র মোদী কোথাও যেতে পারবেন না। তিনি যেতে চাইলেও আমরা তাঁকে যেতে দেব না। জ্ঞানেশ কুমারের পর আমরা সরাসরি আপনাদের সামনে দাঁড়াব। ভোট চুরির জন্য আপনাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা থেকে ১৩.৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে। রাহুলের কথায়,
এটা কোনো সাধারণ চুরি নয়। আইনের ভাষায় একে বিরলতম অপরাধের মধ্যে ফেলা যায়।
তিনি আরও বলেন,
জ্ঞানেশ কুমার না থাকলে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না, অমিত শাহ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন না।
আদানি প্রসঙ্গ, কর্মসংস্থান, কৃষকদের অধিকার এবং দেশের সম্পদ কয়েকজনের হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার অভিযোগও তোলেন। বলেন,
কৃষক তাঁর অধিকার পাচ্ছেন না। যুবকেরা কাজ পাচ্ছেন না। শ্রমিকেরা তাঁদের অধিকার পাচ্ছেন না। দেশের সমস্ত সম্পদ চলে গিয়েছে দু-তিনজন মানুষের হাতে। আমরা এমন ভারত চাই না।
তবে ভোট চুরির অভিযোগের পক্ষে আরও নির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরলে বক্তব্যটি আরও শক্তিশালী হতে পারত। তা সত্ত্বেও সমাবেশের মূল সুর তৈরি করার ক্ষেত্রে রাহুল ছিলেন সবচেয়ে এগিয়ে।
অখিলেশ যাদব: ৮.৫/১০
আগামী ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে অখিলেশ যাদব এসআইআর-এর পাশাপাশি রামমন্দিরের অনুদান নিয়ে ওঠা অভিযোগও সামনে আনেন। অখিলেশ বলেন,
রামলীলা ময়দান গণতন্ত্রের হলদিঘাটির মতো। উত্তরপ্রদেশ থেকে যাঁরা কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করেছেন, তাঁদের উত্তরপ্রদেশ থেকেই পরাজিত হতে হবে।
মোদীর বারাণসী কেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,
যাঁরা একসময় উত্তরপ্রদেশ থেকে এসেছিলেন, তাঁদের উত্তরপ্রদেশ থেকেই বিদায় নিতে হবে।
তাঁর বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল এসআইআরে ভোটার বাদ যাওয়ার হিসাব নিয়ে প্রশ্ন। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের এক কোটির বেশি হিন্দু ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে অখিলেশ বলেন, ৪০৩টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভাগ করলে প্রতিটি কেন্দ্রে গড়ে প্রায় ৩১ হাজার ভোটারের নাম বাদ পড়ার হিসাব দাঁড়ায়।
তিনি বলেন,
সত্যিটা হলো, নিজেদের আসন্ন পরাজয়ের দায় অন্যের উপর চাপাতে চাইছে বিজেপি। বিজেপি জানে, মানুষের ভোটে তারা জিততে পারবে না। তাই নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করছে।
মল্লিকার্জুন খাড়গে: ৮.৫/১০
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেন,
ওদের পক্ষে কারা ভোট দেবে, তা ওরাই ঠিক করছে। জনগণ ওদের নির্বাচিত করছে না। বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার এবং মহারাষ্ট্র, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের সরকারও ভোট চুরির মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে।
তিনি আরও বলেন,
এই চোরদের সরাতে হবে। মোদী ক্ষমতা থেকে না গেলে গণতন্ত্র বাঁচবে না।
বিরোধী জোটের সমাবেশে খাড়গের বক্তব্য ছিল রাজনৈতিকভাবে স্পষ্ট। তবে তাঁর বক্তৃতায় নতুন কোনো তথ্য বা বিশদ আইনি ব্যাখ্যা বিশেষভাবে উঠে আসেনি। বরং বিরোধীদের একসঙ্গে লড়াই করার বার্তাই ছিল প্রধান।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: ৮/১০
রাহুলের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য নিয়ে। মঞ্চে উঠে মমতা শুরুতেই সোনিয়া গান্ধীকে ‘আমার নেত্রী’ এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে ‘নেতা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এরপর বিজেপি-বিরোধী আন্দোলনের জন্য তিনি রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, বিভিন্ন সংগঠন, আইনজীবী ও বামপন্থীদের আন্দোলনের প্রশংসা করেন। শুভেচ্ছা জানান ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্ব ও জেন জিকেও।
ভোট চুরির অভিযোগে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে পাল্টা তোপ দেগে রাজ্য বিজেপি নিজেদের ‘এক্স’ হ্যান্ডলে পোস্ট করে জানায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হিন্দুবিদ্বেষ অত্যন্ত গভীর। তিনি বলেছেন,
‘কাফেররা’ ভীত। তবে আমরা তাঁর হতাশা বুঝতে পারি, কারণ তাঁর দল ‘কাফেরদের’ হাতে নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে।
মমতা বলেন,
জ্ঞানেশ কুমার এসআইআর-এর অর্থ বদলে দিয়েছেন। তাঁর কাছে এসআইআর এখন বিজেপির জন্য স্পেশাল ইনটেনসিভ রিলিফ।
তিনি আরও বলেন,
এই মানুষগুলি ভোট চুরির মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধান লুট করেছে। তার পরেও গণতন্ত্রের উপর আক্রমণ চালাচ্ছে। বিজেপি যুবকদের কাজ, মহিলাদের সম্মান এবং মানুষের অনুদান চুরি করেছে। আমাদের ওদের ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।
মমতার বক্তব্যে ছিল বিরোধী ঐক্যের বার্তাও। ককটেল জনতা পার্টি বা সিজেপি সমাবেশে উপস্থিত না থাকলেও তিনি তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। তরুণদের আন্দোলনকেও সমর্থন জানান।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা থেকে জাতীয় স্তরে এসআইআরের প্রভাব তুলে ধরতে পেরেছেন মমতা। তবে তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনী অনিয়মের নির্দিষ্ট উদাহরণ ও তথ্য আরও বেশি থাকলে তা আরও কার্যকর হতে পারত।
দীপঙ্কর ভট্টাচার্য: ৮.৫/১০
সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন,
বিহারের পর এখন সবার কাছে পরিষ্কার, এসআইআর আসলে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক।
তাঁর বক্তব্যের রাজনৈতিক গুরুত্ব ছিল এই যে, তিনি নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপকে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক সংকটের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তবে বক্তব্যের আরও বিস্তারিত তথ্য ও উদাহরণ থাকলে তা আরও জোরালো হতে পারত।
নেহা বরা: ৮/১০
অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় সভাপতি নেহা বরা ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁর বক্তব্যে যুবসমাজের প্রতিবাদী অবস্থান উঠে আসে।
তিনি বলেন,
আপনারা যতই ষড়যন্ত্রের চিত্রনাট্য লিখুন না কেন, সাধারণ মানুষ আপনাদের প্রতিটি দেশবিরোধী উদ্দেশ্য ব্যর্থ করে দেবে।
সমাবেশে সিপিআইএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের সদস্যদেরও নেহার বক্তব্যের সময় তাঁকে সমর্থন করতে দেখা যায়। ছাত্র রাজনীতির দুই প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠনের সদস্যদের এই সংহতি বিরোধী ঐক্যের একটি উল্লেখযোগ্য ছবি হয়ে ওঠে।
তেজস্বী যাদব: ৮/১০
বিহারের বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব বিজেপি ও আরএসএসের দেশপ্রেমের দাবিকে সরাসরি আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রে ছিল স্বাধীনতা সংগ্রাম, নাগরিক অধিকার এবং ভোটাধিকার।
তেজস্বী বলেন,
বিজেপি-আরএসএসের যে মানুষগুলি স্বাধীনতা সংগ্রামে কোনো ভূমিকা নেয়নি, তারাই এখন আমাদের দেশপ্রেমের শংসাপত্র দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন,
আজ সেই মানুষগুলিই ঠিক করছে, দেশের কে ভোট দিতে পারবে আর কে পারবে না। এই লড়াই দেশের ভোটারদের সঙ্গে প্রতারকদের। তাই দেশের গণতন্ত্র বাঁচাতে আমাদের একসঙ্গে আসতে হবে।
তবে তাঁরও বক্তৃতায় এসআইআর নিয়ে আরও নির্দিষ্ট তথ্য এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্লেষণ থাকলে তা আরও কার্যকর হত।
মেহবুবা মুফতি: ৮/১০
পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি সংবিধান এবং ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নে বিরোধীদের এক হওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্যে জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ছাপ ছিল।
তিনি বলেন,
বিজেপির মানুষ সংবিধান বদলাতে চাইছে। যে সংবিধান মানুষকে এত অধিকার দিয়েছে, এখন তারাই মানুষের ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নিতে চাইছে।
তিনি আরও বলেন,
এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে এক হতে হবে। ভারতের ধারণাকে ধ্বংস হওয়ার হাত থেকে বাঁচাতে হবে।
তাঁর বক্তব্য ছিল সংক্ষিপ্ত, কিন্তু রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট।
এম এ বেবি: ৮/১০
সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘মিথ্যার সম্রাট’ বলে আক্রমণ করেন। তাঁর বক্তব্যে কৃষক, মহিলা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠে আসে।
তিনি বলেন,
মোদী মহিলাদের এবং কৃষকদের ব্যর্থ করেছেন। এই দেশে তাঁর ফ্যাসিবাদী রাজনীতি চলবে না।
পাশাপাশি তিনি বলেন,
ভোট চুরি বন্ধ করতে, গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষা করতে আমাদের একসঙ্গে লড়াই করতে হবে।
বাম রাজনীতির পরিচিত বক্তব্য হলেও বিরোধী ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে তাঁর বক্তৃতা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
ডি রাজা: ৭.৫/১০
সিপিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক ডি রাজার বক্তব্যে গণতন্ত্র রক্ষার প্রশ্ন উঠে আসে। তবে সমাবেশে তাঁর বক্তব্যের বিস্তারিত অংশ তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত হয়েছে। বিরোধী দলগুলির যৌথ আন্দোলন এবং ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নে তাঁর উপস্থিতি রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হলেও বক্তব্যের নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু ও বিশ্লেষণের দিক থেকে তাঁকে কিছুটা পিছিয়ে রাখতে হয়।
সঞ্জয় রাউত ও সুপ্রিয়া সুলে: ৭.৫/১০
শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) নেতা সঞ্জয় রাউত এবং এনসিপি (শরদচন্দ্র পাওয়ার) নেত্রী সুপ্রিয়া সুলের উপস্থিতি বিরোধী ঐক্যের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করা দুই শিবিরের প্রতিনিধিত্ব এই সমাবেশে দেখা গিয়েছে।
রামলীলা ময়দানের সমাবেশের সবচেয়ে বড় সাফল্য ছিল বিরোধী দলগুলির কর্মী-সমর্থকদের এক জায়গায় নিয়ে আসা। নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের আমলে বিরোধীরা সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে, এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। রবিবারের সমাবেশ সেই ধারণাকে অন্তত কিছুটা চ্যালেঞ্জ করেছে।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও চোখে পড়েছে। আম আদমি পার্টি এবং ডিএমকে এই সমাবেশে অংশ নেয়নি। দুটি দলই আলাদাভাবে এসআইআরের বিরোধিতা করলেও তাদের অনুপস্থিতি বিরোধী ঐক্যের সীমাবদ্ধতা সামনে এনেছে।
অন্যদিকে, বিজেপি ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার বার্ষিকীর দিনে সমাবেশ করার জন্য কংগ্রেসকে আক্রমণ করেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ অভিযোগ করেছেন, বিদেশ থেকে নির্দেশ দিয়ে এই দিনে সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ মিছিলের নেতৃত্ব দেন। ফলে বিরোধীদের সমাবেশকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।
বক্তৃতার বিচারে রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অখিলেশ যাদব ছিলেন সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য। রাহুলের বক্তব্যে ছিল সরাসরি রাজনৈতিক ও আইনি চ্যালেঞ্জ, মমতা বাংলার অভিজ্ঞতাকে জাতীয় আলোচনায় নিয়ে এসেছেন, আর অখিলেশ উত্তরপ্রদেশের আগামী নির্বাচনের সঙ্গে ভোটার তালিকার বিতর্ককে যুক্ত করেছেন।
গণতন্ত্র রক্ষার স্লোগানকে বাস্তব রাজনৈতিক আন্দোলনে পরিণত করতে পারলে তবেই রামলীলা ময়দানের এই জমায়েত দীর্ঘমেয়াদি গুরুত্ব পাবে।





