‘স্ট্যালিনবাদী সেন্সরশিপ’! ককরোচ জনতা পার্টিকে কটাক্ষ আরএসএস-ঘনিষ্ঠ পত্রিকার

Cockroach Janta Party: ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ঘিরে এবার সরব আরএসএস-ঘনিষ্ঠ পত্রিকা ‘অর্গানাইজার’। সিজেপির কর্পোরেট মিডিয়া-বিরোধী অবস্থানকে তারা ‘স্ট্যালিনবাদী সেন্সরশিপ’ বলে কটাক্ষ করেছে। বেকারত্ব, তরুণদের ক্ষোভ ও ডিজিটাল রাজনৈতিক ব্যঙ্গকে কেন্দ্র করে তৈরি এই বিতর্ক এখন জাতীয় রাজনীতির আলোচনায়।

inscript
৩ মিনিট
‘স্ট্যালিনবাদী সেন্সরশিপ’! ককরোচ জনতা পার্টিকে কটাক্ষ আরএসএস-ঘনিষ্ঠ পত্রিকার

আরএসএসের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-ঘনিষ্ঠ পত্রিকা ‘অর্গানাইজার’ সম্প্রতি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-কে ঘিরে একটি কড়া সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে। সেখানে এই ভাইরাল ডিজিটাল আন্দোলনকে 'রাজনৈতিকভাবে পরিকল্পিত' একটি প্রচার অভিযান বলে দাবি করা হয়েছে।

গত কয়েক দিনে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামটি ভারতের সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। মূলত তরুণ প্রজন্মের বেকারত্ব, জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ, চাকরির অভাব এবং রাজনৈতিক হতাশাকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলনের উত্থান। ব্যঙ্গ, মিম এবং সোশ্যাল মিডিয়ার ভাষা ব্যবহার করে সিজেপি দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের একটি মন্তব্যকে ঘিরে। একটি শুনানিতে তিনি কিছু বেকার যুবক এবং কর্মহীন মানুষকে 'আরশোলা' ও 'পরজীবী'র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেই মন্তব্যের জেরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ ছড়ায়। পরে তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, তিনি দেশের সমস্ত যুবসমাজকে অপমান করতে চাননি। কিন্তু ততক্ষণে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ একটি ভাইরাল রাজনৈতিক ব্যঙ্গ আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দিনবদলের ক্ষমতা আছে ককরোচ জনতা পার্টির?

ভারতের জেন জি আদতে একরৈখিক নয়। মেট্রো শহরের উচ্চ-মধ্যবিত্ত ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারী এবং প্রত্যন্ত ছোট শহরের চাকরিপ্রার্থী যুবকের রাজনৈতিক চাহিদা ও লড়াই কখনও এক নয়।

এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ অভিজিৎ দিপকে। বিদেশে বসবাসকারী এই রাজনৈতিক কৌশলবিদ দাবি করেছেন, তরুণদের হতাশা ও ক্ষোভই এই আন্দোলনের মূল শক্তি। কয়েক দিনের মধ্যেই সিজেপির ইনস্টাগ্রাম অনুসরণকারীর সংখ্যা কয়েক মিলিয়নে পৌঁছে যায়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বহু তরুণ এই প্ল্যাটফর্মকে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশের জায়গা হিসেবে দেখছেন।

এই পরিস্থিতিতেই ‘অর্গানাইজার’ তাদের সম্পাদকীয়তে সিজেপিকে আক্রমণ করে। “ককরোচ সিনড্রোম: দ্য নিউ ফেস অফ অ্যান্টি-ইন্ডিয়া টেক সিনিসিজম” শিরোনামের ওই লেখায় বলা হয়েছে, এই আন্দোলন আসলে 'ফ্রিবি-নির্ভর, বামঘেঁষা রাজনৈতিক পরিবেশের' অংশ। সম্পাদকীয়তে দাবি করা হয়েছে, সিজেপি তরুণদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে দেশের উন্নয়ন এবং আত্মবিশ্বাসকে দুর্বল করতে চাইছে।

সিজেপির বিভিন্ন দাবিকেও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে ‘অর্গানাইজার’। যেমন, মন্ত্রিসভায় ৫০ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণের দাবি, দলবদলকারী রাজনীতিকদের নির্বাচনে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব বা বড় কর্পোরেট মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিলের দাবি—এসবকে তারা 'অবাস্তব' এবং 'সাংবিধানিক কাঠামোর পরিপন্থী' বলে বর্ণনা করেছে। সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, এই ধরনের প্রস্তাব বাস্তব নীতির বদলে সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তা বাড়ানোর জন্য তৈরি করা হয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চাকরি নেই, ক্ষোভ আছে তাই ভাইরাল ককরোচ জনতা পার্টি!

এই আন্দোলন তথাকথিত রাজনৈতিক শুদ্ধতার ধার ধারে না। তারা সরাসরি সিস্টেমকে আক্রমণ করে, ব্যঙ্গ করে এবং প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলে। জেন-জি’র কাছে এটাই এই সময়ের 'অথেনটিক' রাজনীতি। বহু বছর ধরে একই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি আর চেনা ভাষণ শুনে তারা ক্লান্ত। তারা এমন কাউকে চাইছে, যে অন্তত তাদের ক্ষোভের ভাষায় কথা বলতে পারে।

বিশেষ করে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং আদানি গোষ্ঠীর মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম নিয়ে সিজেপির সমালোচনাকে ‘অর্গানাইজার’ 'স্ট্যালিনবাদী সেন্সরশিপ' বলেও উল্লেখ করেছে। তাদের যুক্তি, বড় শিল্পগোষ্ঠী ছাড়া ভারতের প্রযুক্তিগত ও শিল্প উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই একদিকে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির দাবি করা এবং অন্যদিকে বড় কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে আক্রমণ করা—এই দুই অবস্থান পরস্পরবিরোধী বলেই তারা মনে করছে।

আরএসএসের মুখপত্র আরও দাবি করেছে, দেশের যুবসমাজকে 'শ্রম' থেকে সরিয়ে হতাশা ও ক্ষোভের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাদের বক্তব্য, ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতি এবং এই সময়ে তরুণদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমও এই ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ফিনান্সিয়াল টাইমস এবং দ্য গার্ডিয়ান-এর মতো সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের তরুণ প্রজন্মের হতাশা ও ডিজিটাল রাজনৈতিক সংস্কৃতির নতুন দিক তুলে ধরেছে এই আন্দোলন।

এর মধ্যেই সিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট ব্লক হওয়া, দিল্লি হাইকোর্টে মামলা এবং রাজনৈতিক তরজা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ এই পদক্ষেপকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার উপর আঘাত বলেও অভিযোগ করেছে।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।

হুথিরা যেভাবে স্থানীয় বিদ্রোহী থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিতে পরিণত হলো

Houthi Expansion in Yemen: ইয়েমেনে ফের কেন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? হুথিরা কীভাবে স্থানীয় জায়দি আন্দোলন থেকে শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হল? ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? মোখা ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখলের পর কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দাব? এই সংঘাতের প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পড়বে?