মাটির নীচে ১৫টি দুর্লভ খনিজের ভাণ্ডার! এবার বদলে যেতে চলেছে অন্ধ্রপ্রদেশের ছবিটাই?
Andhra Pradesh Rare Elements Found : বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠিকমতো এই পদার্থগুলিকে ব্যবহার করলে ব্যাপক বদল আসতে পারে ভারতের অর্থনীতিতে।

মাত্র কয়েকমাস আগের কথা। ভারতের গণমাধ্যমে ফের একবার শিরোনামে কাশ্মীর। তবে এবারের কারণটা অন্যান্যবারের থেকে অনেকটাই আলাদা। জম্মু-কাশ্মীরে নাকি বিরাট বড় লিথিয়ামের খনি পাওয়া গিয়েছে। এই খবর রীতিমতো ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ল সোশ্যাল মিডিয়ায়। লিথিয়াম পাওয়া মানে ভারতের শিল্প মানচিত্রের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হওয়ার সম্ভাবনা। আর সেটাই আশার আলো দেখাল ভারত সরকারকে। কাশ্মীরের সেই লিথিয়ামের পর ওড়িশায় সোনার খনি, খবর পরপর আসতেই থাকে।
এবার সেই তালিকায় নতুন সংযোজন অন্ধ্রপ্রদেশ। সম্প্রতি দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যের মাটির নীচে বিরল, দুর্লভ খনিজের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা। তাও একটা দু’টো নয়, মোট ১৫টি বিরল খনিজ! আর এই বিষয়টিই সমস্ত লাইমলাইট কেড়ে নিয়েছে। সম্প্রতি হায়দ্রাবাদের ন্যাশনাল জিওফিজিকাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুরের মাটির নীচে এই আবিস্কার করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠিকমতো এই পদার্থগুলিকে ব্যবহার করলে ব্যাপক বদল আসতে পারে ভারতের অর্থনীতিতে। শিল্পও তরতরিয়ে বাড়বে বলে আশা তাঁদের।
পিটিআইকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ন্যাশনাল জিওফিজিকাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা NGRI অধ্যাপক ও বিজ্ঞানী ডঃ পিভি সুন্দর রাজু জানিয়েছেন, এই ১৫টি খনিজ মৌল এমনিতেই বেশ দুর্লভ। পৃথিবীর সব জায়গায় এটি পাওয়া যায় না। একসঙ্গেও খুবই কম জায়গায় পাওয়া যায়। অনন্তপুরের ওই নির্দিষ্ট জায়গার পাথর ভালো করে পরীক্ষা নিরীক্ষার পরই এই ব্যাপারে গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন। বিজ্ঞানের ভাষায় বলতে গেলে, পর্যায় সারণীর অ্যাক্টিনাইড ও ল্যান্থানাইড সিরিজের মধ্যে পড়ে এই মৌলগুলি। এবং আরও একটা ব্যাপার হল, এরা প্রায় প্রত্যেকেই তেজস্ক্রিয়।
ঠিক কী কী পাওয়া গিয়েছে? NGRI-এর গবেষকরা বলছেন, অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুরে মোট ১৫টি বিরল বা দুর্লভ খনিজ মৌল পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে সেরিয়াম, ল্যান্থানাম, স্ক্যান্ডিয়াম, জিরকোনিয়াম, নিওবিয়াম, নিওডিমিয়াম, প্রাসিওডিমিয়াম, হাফনিয়াম, ট্যান্টালামের মতো পদার্থ। কিন্তু এই মৌলগুলি পেলে কী সুবিধা হবে? বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাধারণত এই ধরনের খনিজ পদার্থ বিদেশ থেকে আমদানি করে ভারত। আগে লিথিয়ামও বাইরে থেকেই আমদানি করা হতো। কিন্তু কাশ্মীরে আনুমানিক প্রায় ৬০ লক্ষ টন লিথিয়ামের খনি আবিষ্কার হওয়ায় নতুন সম্ভাবনা উঠে এসেছে। ঠিকঠাকভাবে সেগুলি তোলা হলে আর ব্যবহার করা হলে ভারতের শিল্পজগতের ছবিটাই বদলে যাবে।
ঠিক সেভাবেই এই ১৫টি বিরল খনিজ দ্রব্যও বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। অস্ত্র তৈরির কাজে তো লাগেই; এছাড়াও মহাকাশ গবেষণা, মেডিকেল টেকনোলজি, বিমান ও জেট তৈরি সহ বিভিন্ন শিল্পে অন্যতম প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এখনও অবধি ঠিক কত পরিমাণ খনিজ মৌল রয়েছে, তা জানা যায়নি। কিন্তু এর ফলে আর বিদেশ থেকে আর এসব খনিজ আমদানি করতে হবে না ভারতকে। নিজেদের ঘরের জিনিসই ব্যবহার করতে পারবে। ফলে দেশের অর্থনীতির বৃদ্ধিতেও সাহায্য হবে। আপাতত সেদিকেই চোখ গোটা ভারতের।






