মাটির নীচে ১৫টি দুর্লভ খনিজের ভাণ্ডার! এবার বদলে যেতে চলেছে অন্ধ্রপ্রদেশের ছবিটাই?

Andhra Pradesh Rare Elements Found : বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠিকমতো এই পদার্থগুলিকে ব্যবহার করলে ব্যাপক বদল আসতে পারে ভারতের অর্থনীতিতে।

inscript
২ মিনিট
মাটির নীচে ১৫টি দুর্লভ খনিজের ভাণ্ডার! এবার বদলে যেতে চলেছে অন্ধ্রপ্রদেশের ছবিটাই?

মাত্র কয়েকমাস আগের কথা। ভারতের গণমাধ্যমে ফের একবার শিরোনামে কাশ্মীর। তবে এবারের কারণটা অন্যান্যবারের থেকে অনেকটাই আলাদা। জম্মু-কাশ্মীরে নাকি বিরাট বড় লিথিয়ামের খনি পাওয়া গিয়েছে। এই খবর রীতিমতো ঝড়ের গতিতে ছড়িয়ে পড়ল সোশ্যাল মিডিয়ায়। লিথিয়াম পাওয়া মানে ভারতের শিল্প মানচিত্রের ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হওয়ার সম্ভাবনা। আর সেটাই আশার আলো দেখাল ভারত সরকারকে। কাশ্মীরের সেই লিথিয়ামের পর ওড়িশায় সোনার খনি, খবর পরপর আসতেই থাকে।

এবার সেই তালিকায় নতুন সংযোজন অন্ধ্রপ্রদেশ। সম্প্রতি দক্ষিণ ভারতের এই রাজ্যের মাটির নীচে বিরল, দুর্লভ খনিজের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা। তাও একটা দু’টো নয়, মোট ১৫টি বিরল খনিজ! আর এই বিষয়টিই সমস্ত লাইমলাইট কেড়ে নিয়েছে। সম্প্রতি হায়দ্রাবাদের ন্যাশনাল জিওফিজিকাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুরের মাটির নীচে এই আবিস্কার করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঠিকমতো এই পদার্থগুলিকে ব্যবহার করলে ব্যাপক বদল আসতে পারে ভারতের অর্থনীতিতে। শিল্পও তরতরিয়ে বাড়বে বলে আশা তাঁদের।

পিটিআইকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে ন্যাশনাল জিওফিজিকাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট বা NGRI অধ্যাপক ও বিজ্ঞানী ডঃ পিভি সুন্দর রাজু জানিয়েছেন, এই ১৫টি খনিজ মৌল এমনিতেই বেশ দুর্লভ। পৃথিবীর সব জায়গায় এটি পাওয়া যায় না। একসঙ্গেও খুবই কম জায়গায় পাওয়া যায়। অনন্তপুরের ওই নির্দিষ্ট জায়গার পাথর ভালো করে পরীক্ষা নিরীক্ষার পরই এই ব্যাপারে গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন। বিজ্ঞানের ভাষায় বলতে গেলে, পর্যায় সারণীর অ্যাক্টিনাইড ও ল্যান্থানাইড সিরিজের মধ্যে পড়ে এই মৌলগুলি। এবং আরও একটা ব্যাপার হল, এরা প্রায় প্রত্যেকেই তেজস্ক্রিয়।

ঠিক কী কী পাওয়া গিয়েছে? NGRI-এর গবেষকরা বলছেন, অন্ধ্রপ্রদেশের অনন্তপুরে মোট ১৫টি বিরল বা দুর্লভ খনিজ মৌল পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে সেরিয়াম, ল্যান্থানাম, স্ক্যান্ডিয়াম, জিরকোনিয়াম, নিওবিয়াম, নিওডিমিয়াম, প্রাসিওডিমিয়াম, হাফনিয়াম, ট্যান্টালামের মতো পদার্থ। কিন্তু এই মৌলগুলি পেলে কী সুবিধা হবে? বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাধারণত এই ধরনের খনিজ পদার্থ বিদেশ থেকে আমদানি করে ভারত। আগে লিথিয়ামও বাইরে থেকেই আমদানি করা হতো। কিন্তু কাশ্মীরে আনুমানিক প্রায় ৬০ লক্ষ টন লিথিয়ামের খনি আবিষ্কার হওয়ায় নতুন সম্ভাবনা উঠে এসেছে। ঠিকঠাকভাবে সেগুলি তোলা হলে আর ব্যবহার করা হলে ভারতের শিল্পজগতের ছবিটাই বদলে যাবে।

ঠিক সেভাবেই এই ১৫টি বিরল খনিজ দ্রব্যও বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। অস্ত্র তৈরির কাজে তো লাগেই; এছাড়াও মহাকাশ গবেষণা, মেডিকেল টেকনোলজি, বিমান ও জেট তৈরি সহ বিভিন্ন শিল্পে অন্যতম প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এখনও অবধি ঠিক কত পরিমাণ খনিজ মৌল রয়েছে, তা জানা যায়নি। কিন্তু এর ফলে আর বিদেশ থেকে আর এসব খনিজ আমদানি করতে হবে না ভারতকে। নিজেদের ঘরের জিনিসই ব্যবহার করতে পারবে। ফলে দেশের অর্থনীতির বৃদ্ধিতেও সাহায্য হবে। আপাতত সেদিকেই চোখ গোটা ভারতের।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের আগে যে ভুলগুলি এড়ানো জরুরি

Stock Market Psychology: শেয়ারবাজারে একজন বিনিয়োগকারীর সবচেয়ে বড় সমস্যা অনেক সময় সে নিজেই। আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর আর্থিক বাজারে এই পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন সমস্যা তথ্যের অভাব নয়, বরং তথ্যের অতিরিক্ত প্রবাহ।

মহাবিশ্বকে বুঝতে গিয়ে সমাজকে ভুলে যাননি অশোক সেন

পিএইচডির প্রথম প্রায় তিন বছর তাঁর গবেষণায় কোনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতিই হয়নি। চারদিকে শুধু স্থবিরতা। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী যেখানে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেলেন বা হতাশ হয়ে পড়েন, অশোক সেন তা করেননি।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।

ডার্কওয়েবে SBI-র তথ্য ফাঁস, কতটা সুরক্ষিত আপনার সঞ্চয়? যা জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞ

সন্দীপ সেনগুপ্তের পরামর্শ, যাঁদের তথ্য ফাঁস হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে, তাঁদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। তিনি এমনকি ব্যাঙ্কে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং নতুন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার কথাও বলেছেন।

আইনস্টাইনের কাল্পনিক পরীক্ষা এবার বাস্তবে, কোয়ান্টাম জগতের কণা-তরঙ্গ রহস্যের কী হলো?

Einstein Bohr quantum debate: সম্প্রতি ১০০ বছর আগের আইনস্টাইনের সেই কাল্পনিক পরীক্ষাটি ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না (USTC)-এর বিখ্যাত কোয়ান্টামবিজ্ঞানী জিয়ান-উই প্যান (Jian-Wei Pan) এবং তাঁর সহকর্মীরা ল্যাবরেটরিতে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

AI-এর যুগে মানুষ কি নিজের বুদ্ধিটাই মেশিনের হাতে তুলে দিচ্ছে?

Artificial Intelligence: ছোটবেলায় অনেকেই ভাবত রোবট এসে মানুষের কায়িক শ্রমের কাজগুলি করে দেবে। মানুষ অবসর পেয়ে গান শুনবে, কবিতা লিখবে কিংবা বারান্দায় বসে কফি খাবে। বাস্তবে দেখা গেল ঠিক তার উল্টো চিত্র। রোবট এখন কবিতা লিখছে, ছবি আঁকছে আর কোড তৈরি করছে। অন্যদিকে মানুষ সকাল থেকে রাত ল্যাপটপের সামনে বসে শিখছে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং।

মহাকাশে রওনা নাসার টেলিস্কোপের, বদলে দিতে পারে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি?

NASA’s Roman Space Telescope: নাসার নতুন ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ বদলে দেবে মহাবিশ্বকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি? হাবল ও জেমস ওয়েবের পর কেন প্রয়োজন হলো এই নতুন মহাকাশ-চোখের? ডার্ক ম্যাটার, ডার্ক এনার্জি, গ্যালাক্সি ও এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে কি নতুন তথ্য দেবে রোমান? মহাবিশ্বের প্রসারণের ইতিহাস বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এই অত্যাধুনিক টেলিস্কোপ?

সৌরপৃষ্ঠ আসলে কেমন? ৩৩ বছর পর মিলল উত্তর

Sun’s surface mystery: সূর্যের পৃষ্ঠকে এতদিন দূর থেকে তুলোর মতো নরম ও শান্ত দেখালেও, তা কি সত্যিই এমন? বিশ্বের বৃহত্তম সৌর টেলিস্কোপ ড্যানিয়েল কে ইনোয়ের তোলা সর্বোচ্চ-রেজোলিউশনের ছবিতে দেখা গেল ছোট ছোট হিংস্র প্লাজমার ঘূর্ণি। ৩৩ বছর আগে করা জোয়ান কার্পেনের সেই ভবিষ্যদ্বাণী কি অবশেষে সত্যি প্রমাণিত হলো? এই আবিষ্কার কি বদলে দেবে সৌরপৃষ্ঠ সম্পর্কে ধারণা?