আলোচনার টেবিলে কেন্দ্র, কোন পথে আরশোলাদের আন্দোলন?

Dharmendra Pradhan resignation: সোনম ওয়াংচুক অনশন ভাঙলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় ককরোচ জনতা পার্টি। ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি, কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠক এবং নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে সরকারের আশ্বাসের পরও যন্তর মন্তরের এই আন্দোলন কোন দিকে এগোবে?

inscript
৩ মিনিট
আলোচনার টেবিলে কেন্দ্র, কোন পথে আরশোলাদের আন্দোলন?

দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ৩৫ দিনের আন্দোলন এক নতুন মোড়ে দাঁড়িয়ে। আন্দোলনের অন্যতম মুখ সোনম ওয়াংচুক ২৬ দিনের অনশন শেষ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন্দ্রের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠকেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরেও আন্দোলন থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছে না ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বরং তাদের বক্তব্য, মূল দাবিগুলির কোনোটিরই এখনও বাস্তব সমাধান হয়নি। তাই আপাতত আন্দোলন চালিয়েই যাওয়া হবে।,

আন্দোলনের শুরু থেকে সিজেপি বারবার দাবি করে এসেছে এটি কোনো একক ঘটনার প্রতিবাদ নয়। নিট প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে তারা গোটা পরীক্ষাব্যবস্থার জবাবদিহি, স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্ন তুলেছে। সেই কারণেই তাদের প্রথম এবং প্রধান দাবি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।

সোনম ওয়াংচুকের অনশন এই আন্দোলনকে জাতীয় স্তরে আরও বেশি আলোচনায় নিয়ে আসে। পরিবেশ আন্দোলন এবং লাদাখের স্বার্থ রক্ষার লড়াইয়ের জন্য পরিচিত এই সমাজকর্মী অনশনে বসার পর বিভিন্ন মহলের নজর ঘুরে যায় যন্তর মন্তরের দিকে। দীর্ঘ অনশনের ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও তিনি আন্দোলনের প্রতি সমর্থন বজায় রাখেন। অবশেষে কেন্দ্রের আশ্বাস এবং একাধিক শর্তের ভিত্তিতে তিনি অনশন ভাঙেন।

তবে অনশন শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনও শেষ হয়ে যাবে, এমন ধারণাকে শুরু থেকেই নাকচ করেছে সিজেপি। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ওয়াংচুকের সিদ্ধান্তকে তাঁরা সম্মান করেন। কারণ একজন মানুষের জীবন যে কোনো আন্দোলনের চেয়ে মূল্যবান। কিন্তু আন্দোলনের রাজনৈতিক এবং নৈতিক দাবিগুলি এখনও অমীমাংসিত। ফলে সেই দাবিগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যন্তর মন্তরের কর্মসূচি চলবে।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সিজেপির বৈঠকের সম্ভাবনা এই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সরকারও চাইছে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অচলাবস্থার একটি রাজনৈতিক সমাধান বের করতে।

তবে বৈঠকের আগেই সিজেপি তাদের অবস্থান আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে অভিজিৎ দীপকে আবারও লিখেছেন,

ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতেই হবে।

অর্থাৎ আলোচনায় অংশ নিলেও তারা নিজেদের মূল দাবি থেকে একচুলও সরে আসছে না। এর ফলে আলোচনার পথ কতটা সহজ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

আন্দোলনের গতিপথ বোঝার ক্ষেত্রে গত কয়েক দিনের ঘটনাও গুরুত্বপূর্ণ। সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দেওয়ার পর বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী দিল্লির রাস্তায় নামেন। সেই কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস এবং মহিলা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ সামনে আসে। এই ঘটনাগুলি আন্দোলনকে আরও আবেগপ্রবণ করে তোলে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংহতির কর্মসূচিও দেখা যায়।

এর মধ্যেই অভিজিৎ দীপকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। উচ্চ জ্বর থাকা সত্ত্বেও তিনি আবার যন্তর মন্তরে ফিরে আসেন। তাঁর বক্তব্য, ব্যক্তিগত অসুস্থতার চেয়ে আন্দোলনের প্রশ্ন বড়। এই বার্তাকে সামনে রেখেই সিজেপি বোঝাতে চাইছে আন্দোলনের নেতৃত্ব এখনও পিছিয়ে আসতে রাজি নয়।

অন্যদিকে আন্দোলন নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও ক্রমশ বাড়ছে। আরএসএস নেতা ইন্দ্রেশ কুমার মন্তব্য করেছেন, যন্তর মন্তরে উপস্থিত যুবকদের সতর্ক থাকা উচিত। তাঁর দাবি, দেশের উন্নয়ন রুখতে কিছু অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত শক্তি সক্রিয় রয়েছে এবং তারা এই ধরনের আন্দোলনকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে আন্দোলনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।

সরকারের অবস্থানও একেবারে নরম নয়। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই পরীক্ষা সংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। প্রশ্নফাঁস রোধে আইন আরও কঠোরভাবে প্রয়োগ করার কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু আন্দোলনকারীদের মতে, শুধু ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়। অতীতের ব্যর্থতার জন্যও রাজনৈতিক দায় স্বীকার করতে হবে। সেই কারণেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি এখনও তাদের আন্দোলনের কেন্দ্রে রয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনের সামনে তিনটি সম্ভাব্য পথ খোলা রয়েছে। প্রথমত, কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় যদি কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসে, তাহলে আন্দোলনের চরিত্র বদলাতে পারে। দ্বিতীয়ত, আলোচনা ব্যর্থ হলে যন্তর মন্তরের অবস্থান আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে এবং দেশজুড়ে নতুন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হতে পারে। তৃতীয়ত, সরকার যদি আংশিক ছাড় দেয় কিন্তু মূল দাবিতে অনড় থাকে, তাহলে আন্দোলন সীমিত আকারে চললেও তার রাজনৈতিক প্রভাব বজায় থাকতে পারে।

এখন পর্যন্ত সিজেপির বক্তব্য থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার। তারা আন্দোলনকে শুধুমাত্র একটি ছাত্র প্রতিবাদ হিসেবে দেখাতে চাইছে না। এটি শিক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর লড়াই বলে তুলে ধরছে। সেই কারণেই সোনম ওয়াংচুক অনশন ভাঙলেও আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়নি।

আগামী কয়েক দিনের ঘটনাই নির্ধারণ করবে এই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ। কেন্দ্রের সঙ্গে বৈঠক কি কোনো সমঝোতার রাস্তা খুলে দেবে, নাকি দুই পক্ষের অবস্থান আরও কঠোর হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই আন্দোলন ইতোমধ্যেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, পরীক্ষার স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে জাতীয় বিতর্ক তৈরি করেছে। এখন সেই বিতর্কের পরিণতি কী হবে, তার উত্তর অনেকটাই নির্ভর করছে আলোচনার টেবিলে কী সিদ্ধান্ত হয় এবং সরকার আন্দোলনকারীদের দাবিকে কতটা গুরুত্ব দেয় তার উপর।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

হুথিরা যেভাবে স্থানীয় বিদ্রোহ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিতে পরিণত হলো

Houthi Expansion in Yemen: ইয়েমেনে ফের কেন যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে? হুথিরা কীভাবে স্থানীয় জায়দি আন্দোলন থেকে শক্তিশালী সামরিক-রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হল? ইরানের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর? মোখা ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জ দখলের পর কেন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বাব আল-মান্দাব? এই সংঘাতের প্রভাব কি শেষ পর্যন্ত বিশ্ব বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহণ ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে পড়বে?

জেন্ডার গ্যাপে ভারতের ১৩১তম স্থান : আইন বদলালেও যে কারণে বদলালো না মানসিকতা

Global Gender Gap Report 2026: সার্বিক বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায়, গত দুই দশকে পৃথিবী জুড়ে নারী-পুরুষের বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি হলেও, পূর্ণাঙ্গ সমতা অর্জন করতে বিশ্বকে আরও অন্তত ১২০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। ২০০৬ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে জেন্ডার গ্যাপ কমানোর গতি যতটা দ্রুত ছিল, তার পরবর্তী দশকে সেই গতি অনেকটাই মন্থর হয়ে পড়েছে।

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচন কীসের ইঙ্গিত?

Nandigram Election: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে বিতর্ক, মমতা-পন্থী প্রার্থীর সরে দাঁড়ানো, কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেফতার—সব মিলিয়ে বদলে গিয়েছে রাজনৈতিক সমীকরণ? মমতা কেন কংগ্রেসকে সমর্থন করলেন? কংগ্রেস কি এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারবে?

এসআইআর: ৫ মাসে নিষ্পত্তি ১.২৬ লক্ষ, বাকি মামলা মিটাবে ১২ বছরে?

SIR Appeals: এসআইআর-এর পর পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা নিয়ে জমা পড়া আপিলের মধ্যে পাঁচ মাসে মাত্র ১.২৬ লক্ষ আবেদন নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমান গতিতে কাজ চললে বাকি ৩৭ লক্ষেরও বেশি আপিল নিষ্পত্তি করতে প্রায় ১২ বছর সময় লাগতে পারে।

তাঁর গলায় কি শুভেন্দু বকলস পরিয়ে রেখেছেন? ইনস্ক্রিপ্টের পডকাস্টে কী বললেন ঋতব্রত?

Ritabrata Bandyopadhyay: ইনস্ক্রিপ্টে প্রকাশিত হয়েছে ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টের নতুন পর্ব। এই পর্বে অনিন্দ্য জানার মুখোমুখি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সদ্য রাজ্যের বিরোধী দলনেতার দায়িত্ব পাওয়া ঋতব্রত কথা বলেছেন তাঁর রাজনৈতিক উত্থান, তৃণমূলের অন্দরের টানাপোড়েন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং দলীয় প্রতীক নিয়ে চলা বিতর্ক নিয়ে।

খ্রিস্টধর্ম পালন করায় পরিবারকে গ্রামছাড়া করার হুমকি, ভাটোরায় আক্রান্ত দম্পতি

Howrah Christian family: হাওড়ার ভাটোরায় প্রায় আট বছর ধরে খ্রিস্টধর্ম পালন করা এক পরিবারের উপর হামলা, মারধর ও গ্রাম ছাড়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। কেন ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিয়ে এমন প্রশ্ন উঠছে? স্থানীয়দের একাংশের আচরণের অভিযোগ কতটা সত্য?

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

কুমোরটুলিতে কেন এখনও হাতে গোনা মহিলা মৃৎশিল্পী?

Women in Kumartuli’s Idol-Making Tradition: কুমোরটুলিতে দুর্গার প্রতিমা গড়ার কাজে এখনও কেন হাতে গোনা মহিলা শিল্পী? ‘মেয়েদের কাজ নয়’—এই ধারণা, কাজের শারীরিক পরিশ্রম এবং পুরুষ-প্রধান পরিবেশ পেরিয়ে কীভাবে নিজেদের জায়গা তৈরি করছেন চায়না পাল, মালা পাল, কাকলি পালরা?