কাঁথির কাউন্সিলর থেকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, ফিরে দেখা শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক জীবন
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তাঁর পথচলা শুরু। ১৯৯৫ সালে কাঁথি পুরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে প্রথম ভোটের লড়াইয়েই জয় পান। পরে ১৯৯৮ সালে বাবার সঙ্গে যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেস-এ।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড-এ রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই, দলবদল, আন্দোলন এবং একাধিক নির্বাচনী সাফল্যের পথ পেরিয়ে বাংলার ক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছলেন শুভেন্দু। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে ফিরে দেখা যাক তাঁর রাজনৈতিক সফর।

১৯৭০ সালের ১৫ ডিসেম্বর পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে জন্মগ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক পরিবারেই বড় হয়ে ওঠা। তাঁর বাবা শিশির অধিকারী ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও বহু দিনের সাংসদ। ভাই দিব্যেন্দু এবং সৌমেন্দুও সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করার পর রাজনীতির ময়দানে পা রাখেন শুভেন্দু।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সম্প্রতি শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে হত্যা করা হলো। কিন্তু এই প্রথম নয়, ২০১৩ থেকে ২০২৬—এই ১৩ বছরে শুভেন্দুর চারজন বিশ্বস্ত সেনাপতি সন্দেহজনকভাবে মারা যান।
নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে কংগ্রেসের রাজনীতি দিয়ে তাঁর পথচলা শুরু। ১৯৯৫ সালে কাঁথি পুরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে প্রথম ভোটের লড়াইয়েই জয় পান। পরে ১৯৯৮ সালে বাবার সঙ্গে যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেস-এ।
শুভেন্দুর রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘোরানো অধ্যায় শুরু হয় ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়। নন্দীগ্রামে জমি আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। ‘ভূমি উচ্ছেদ প্রতিরোধ কমিটি’-র নেতৃত্বে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা তৎকালীন বাম সরকারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা নেয়। সেই আন্দোলনই পরবর্তীকালে বাংলায় ক্ষমতার পালাবদলের ভিত তৈরি করেছিল।
২০০৬ সালে কাঁথি দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর ধীরে ধীরে রাজ্যের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হয়ে ওঠেন শুভেন্দু। ২০০৯ সালে তমলুক লোকসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে প্রথম বার সংসদে যান। ২০১৪ সালেও একই কেন্দ্র থেকে জিতে সাংসদ হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
BJP Government in West Bengal: ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে বিজেপি এল বাংলার ক্ষমতায়। এই পরিবর্তনে কি সত্যিই দুর্নীতি, বেকারত্ব, কাটমানির রাজনীতি শেষ হবে? নাকি শুধু শাসকের মুখ বদলাবে, মানুষের ভাগ্য নয়?
২০১৬ সালে নন্দীগ্রাম থেকে বিধায়ক হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন শুভেন্দু। পরিবহণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে পরে সেচ ও জলসম্পদ দফতরের দায়িত্বও সামলান। কিন্তু ২০২০ সালে তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। রাজনৈতিক মহলে তখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মতপার্থক্যের জল্পনা প্রবল হয়। শেষ পর্যন্ত ওই বছরই ১৭ ডিসেম্বর তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন এবং অমিত শাহের হাত থেকে পতাকা নেন। তৃণমূলের দুর্নীতির আবর্ত থেকে সেদিন বেরিয়ে আসতেই দল ছেড়েছিলেন শুভেন্দু। শুভেন্দুর হাত ধরেই তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যাওয়ার হিরিকের শুরু।
এর পরের অধ্যায়ে কার্যত ইতিহাস রচনা করেন তিনি। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়ে জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসেন শুভেন্দু অধিকারী। পান ‘জায়ান্ট কিলার’ তকমা। পরে বিজেপির পরিষদীয় দলনেতা এবং বিরোধী দলনেতার দায়িত্বও দেওয়া হয় তাঁকে।
২০২৬ সালের নির্বাচন শুভেন্দুর রাজনৈতিক জীবনে আরও বড় বাঁক নিয়ে আসে। নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও জয়ী হন তিনি। ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোকে রাজনৈতিক মহল ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবেই দেখছে। সেই জয়ের পরই বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের রাস্তা খুলে যায়। বিজেপি এবার মোট ২০৭ আসনে জয়লাভ করে এককসংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।
শুক্রবার অমিত শাহের উপস্থিতিতে বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়ক দলের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম চূড়ান্ত হয়েছে। ৯ মে, আগামীকাল বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারী।








