বছরে ৫০ দিনের ছুটি কমে ৪০! বাদ পড়তে পারে কোন কোন উৎসবের ছুটি?
West Bengal Government Holidays: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের বছরে ছুটির সংখ্যা প্রায় ৫০ দিন থেকে কমিয়ে ৪০ দিন করার পরিকল্পনা করছে শুভেন্দু সরকার। অর্থসচিবকে নতুন ছুটির তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল আমলে চালু হওয়া শিবরাত্রি, ভাইফোঁটা, ছটপুজো-সহ একাধিক ছুটি কি তবে এবার বাতিল হতে চলেছে?
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের ছুটির তালিকায় বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বছরে প্রায় ৫০ দিনের সরকারি ছুটি কমিয়ে ৪০ দিনে আনার পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। অর্থসচিবকে সেই অনুযায়ী নতুন ছুটির তালিকা তৈরির নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে কোন কোন উৎসব বা বিশেষ দিনের ছুটি বাতিল হতে পারে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ফলে ভাইফোঁটা, ছটপুজো কিংবা শিবরাত্রির মতো দিনগুলিতে সরকারি কর্মীরা আর ছুটি পাবেন কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।
শুভেন্দুর এই সিদ্ধান্তের পিছনে রয়েছে প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়ানোর যুক্তি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরে প্রচুর কাজ জমে রয়েছে। সেই বকেয়া কাজ শেষ করতে হলে প্রশাসনে কাজের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। অর্থসচিব প্রথমে ৪৫ দিনের ছুটির একটি তালিকা জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী সেটিও কমিয়ে ৪০ দিন করার নির্দেশ দিয়েছেন। অর্থাৎ বর্তমান ছুটির তালিকা থেকে প্রায় ১০ দিনের ছুটি কমতে পারে। নতুন তালিকা তৈরির কাজ চলছে।
তৃণমূল আমলে কোন কোন অতিরিক্ত ছুটি চালু হয়েছিল?
পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ছুটির তালিকা গত কয়েক বছরে ক্রমশ দীর্ঘ হয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠান এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের জন্মদিন উপলক্ষে একাধিক অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত হয়েছিল।
১. ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার জন্মদিন: রাজবংশী সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ঠাকুর পঞ্চানন বর্মার জন্মদিন উপলক্ষে সরকারি ছুটি চালু হয়।
২. শিবরাত্রি: মহাদেবের আরাধনার এই বিশেষ দিনেও সরকারি কর্মীদের ছুটি দেওয়া শুরু হয়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Government School Closures and Teacher Shortage: দেশজুড়ে সরকারি স্কুল বন্ধ, পশ্চিমবঙ্গে শূন্য-নথিভুক্ত স্কুল ও স্কুলছুটের হার বৃদ্ধির নেপথ্যে আসল কারণ কী? সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করা হচ্ছে? কী বলছে রিপোর্ট?
৩. শবেবরাত: মুসলিম সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান শবেবরাত উপলক্ষেও ছুটি যুক্ত হয়।
৪. হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মদিন: মতুয়া ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মদিন সরকারি ছুটির তালিকায় জায়গা পায়।
৫. বিরসা মুন্ডার জন্মদিন: আদিবাসী সমাজের স্বাধীনতা সংগ্রামী বিরসা মুন্ডার জন্মদিনেও ছুটি ঘোষণা করা হয়।
৬. করম পুজো: আদিবাসী সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎসব করম পুজো উপলক্ষে ছুটি দেওয়া শুরু হয়।
৭. ভাইফোঁটা: আগে ভাইফোঁটায় রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সাধারণ ছুটি ছিল না। তৃণমূল আমলে এই দিনেও সরকারি ছুটি চালু হয়।
৮. পয়লা বৈশাখ: বাংলা নববর্ষ উদ্যাপনের জন্য ১ বৈশাখ সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত হয়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Modi Government: মুখে 'সবকা সাথ সবকা বিকাশে'র কথা বারবার বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু সে কথা আসলে কতটা ঠিক? মোদি জমানায় কতটা বিকশিত হয়েছে সমাজের সব শ্রেণির মানুষজন?
৯. জামাইষষ্ঠী: এই দিনে আগে কোনো সরকারি ছুটি ছিল না। পরে অর্ধদিবস ছুটির ব্যবস্থা চালু হয়।
১০. ছটপুজো: আগে ছটপুজোয় নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের কর্মীরা সেকশনাল হলিডে পেতেন। পরে তা বদলে সবার জন্য সাধারণ ছুটি চালু করা হয়।
এই তালিকার কোন কোন ছুটি এবার বাদ যেতে পারে, তা নিয়ে এখনও সরকারি ঘোষণা হয়নি। তবে নতুন তালিকা প্রকাশিত হলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
দুর্গাপুজোর ছুটিতেও হয়েছিল বড় পরিবর্তন
শুধু নির্দিষ্ট উৎসবের ছুটি নয়, দুর্গাপুজোর ছুটির সময়সীমাতেও তৃণমূল আমলে পরিবর্তন এসেছিল। বামফ্রন্ট সরকারের আমলে সাধারণত ষষ্ঠী পর্যন্ত সরকারি অফিসে কাজ চলত। এরপর সপ্তমী থেকে ছুটি শুরু হয়ে লক্ষ্মীপুজোর পরদিন অফিস খুলত।
কিন্তু তৃণমূল সরকারের আমলে অনেক সময় চতুর্থী থেকেই সরকারি ছুটি শুরু হয়ে যেত। সেই ছুটি চলত ভাইফোঁটা পর্যন্ত। ফলে দুর্গাপুজো থেকে কালীপুজো, লক্ষ্মীপুজো এবং ভাইফোঁটা মিলিয়ে টানা বেশ কয়েক দিন সরকারি অফিস বন্ধ থাকত।
২০২৬ সালেও সেই ভাইফোঁটার পর আগামী ১৩ নভেম্বর সরকারি অফিস, স্কুল ও কলেজ খোলার কথা। ফলে পুজোর মরসুমে সরকারি কাজকর্মে দীর্ঘ বিরতি তৈরি হয়েছে।
কেন ছুটি কমাতে চাইছে নতুন সরকার?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, সরকারি দফতরগুলিতে প্রচুর ফাইল ও কাজ জমে রয়েছে। প্রশাসনের গতি বাড়াতে এবং সাধারণ মানুষের পরিষেবা দ্রুত পৌঁছে দিতে কাজের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনা জরুরি। সেই কারণেই ছুটির সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনা।
এ প্রসঙ্গে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে নিশানা করে রাজস্ব আদায়ের হিসাবও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আগের সরকার গোটা আর্থিক বছরে যে পরিমাণ রাজস্ব আদায় করত, নতুন সরকার প্রথম ছ’মাসেই তার থেকে ৪ হাজার কোটি টাকা বেশি আদায় করেছে। এর জন্য অতিরিক্ত করও চাপাতে হয়নি বলে দাবি তাঁর।







