ইরান যুদ্ধের ৫৯তম দিন: পাকিস্তান ছেড়ে মস্কো বৈঠকে আরাঘচি
Iran ceasefire talks: ইরান যুদ্ধের ৫৯তম দিনে পাকিস্তান ছেড়ে রাশিয়ায় কেন পৌঁছালেন আব্বাস আরাঘচি? পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে কি মিলবে যুদ্ধবিরতির নতুন পথ?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ৫৯তম দিনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তান সফর শেষ করে রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। সেন্ট পিটার্সবার্গে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি। ইরানের এই কূটনৈতিক তৎপরতা যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে, আরাঘচি রবিবার (২৬ এপ্রিল) ইসলামাবাদে সংক্ষিপ্ত সফর শেষ করে সোমবার সকালে সেন্ট পিটার্সবার্গে পৌঁছেছেন। পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি ওমান হয়ে রাশিয়ায় মাটিতে পা রাখেন। মস্কোয় পৌঁছে আরাঘচি বলেছেন, পুতিনের সঙ্গে যুদ্ধ, আগ্রাসন এবং স্থানীয় পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি রাশিয়ার ‘দৃঢ় ও অবিরল’ সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য এই যুদ্ধবিরতির মধ্যেও লেবাননে ইজরায়েলের আক্রমণে ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্য়ে দু'জন শিশুও রয়েছে।
পাকিস্তান সফরে আরাঘচি পাকিস্তানি নেতাদের কাছে ইরানের প্রধান মাথাব্যথার যে বিষয়গুলি নিয়ে তার একটি তালিকা তুলে দিয়েছেন। এতে পরমাণু ইস্যু এবং হরমুজ প্রণালী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে বলে তেহরান জানিয়েছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Iran Israel conflict: ইরান সংকটে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ গালিবাফ ও আরাঘচি? এই দুই ব্যাক্তিই কি ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছেন?
পাকিস্তানে ইরান যুদ্ধ সংক্রান্ত আলোচনা নতুন করে শুরু করার চেষ্টা চলছিল। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান সক্রিয় ছিল। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শেষ মুহূর্তে তাঁর দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেদ কুশনারের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করেন। ট্রাম্প জানান, ফোনে আলোচনা সম্ভব। আরাঘচি এই সিদ্ধান্তের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে একহাত নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আলোচনায় অগ্রগতি হলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত দাবি’র কারণে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া আলোচনা ভেস্তে গিয়েছে।
রাশিয়ায় পৌঁছে আরাঘচি আরও বলেছেন, এই যুদ্ধ ইরানের ‘প্রকৃত শক্তি’ প্রমাণ করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হতে পারে। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডারের কাছ থেকে একটি বার্তা পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন। দুই নেতা যুদ্ধ, যুদ্ধবিরতি এবং আঞ্চলিক ইস্যুতে ‘প্রয়োজনীয় সমন্বয়’ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ইরানের এই কূটনৈতিক সফরের তালিকায় পাকিস্তান, ওমান ও রাশিয়া—তিন দেশ রয়েছে। মস্কোয় আরাঘচির উপস্থিতি রাশিয়াকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আরও সক্রিয় করার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
প্রসঙ্গত হরমুজ প্রণালীতে অব্যাহত উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে চাপ বজায় রয়েছে। ইরানের আলোচ্য বিষয়গুলির মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা অন্যতম। আরাঘচি স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ইস্যুগুলোতে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না।
ইরান-মার্কিন আলোচনা বারবার থমকে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে পাকিস্তানে প্রথম ও একমাত্র সরাসরি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। এখন রাশিয়ার মাধ্যমে নতুন করে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আরাঘচির এই সফর ইরানের মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় বাড়ানোর প্রচেষ্টা।
এই মুহূর্তে ইরানে যুদ্ধবিরতি থাকলেও পুরোপুরি শান্তি ফিরে আসেনি। হরমুজ প্রণালী ও পরমাণু ইস্যুতে মতপার্থক্য সুস্পষ্ট। আরাঘচি-পুতিন বৈঠকের ফলাফল কতটা কার্যকর হয়, তা আগামী দিনে স্পষ্ট হবে।








