২২টি যুদ্ধে অপরাজিত থাকার পর এক তীরেই শেষ! কে ছিলেন সম্রাট হেমচন্দ্র বিক্রমাদিত্য?

Hem Chandra Vikramaditya: আনুমানিক ১৫০১ সালে রাজস্থানের আলোয়ারের এক অতি সাধারণ পরিবারে হেমুর জন্ম। ছোটবেলা কেটেছিল হাটে-বাজারে সবজি আর নুন-শোরা বিক্রি করে। এই ব্যবসার সূত্রেই খুব কম বয়সে সেনাবাহিনীর রসদ ও লজিস্টিকসের দুনিয়ার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়।

inscript
৫ মিনিট
২২টি যুদ্ধে অপরাজিত থাকার পর এক তীরেই শেষ! কে ছিলেন সম্রাট হেমচন্দ্র বিক্রমাদিত্য?

হেমু বিক্রমাদিত্য যুদ্ধ-হাতির পিঠে বসে পানিপথের যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে তাকিয়ে আছেন এমন এক সেনাপতির অভিজ্ঞ চোখ নিয়ে, যিনি জীবনে কখনও পরাজয় কী জিনিস তা জানেন না। তাঁর ঝুলিতে তখন বাইশ-বাইশটি জয়ের ইতিহাস—আফগান যুদ্ধবাজ, বিদ্রোহী দলপতি এবং স্বয়ং পরাক্রমশালী মুঘলদের বিরুদ্ধে লড়া ২২টি যুদ্ধজয়ের বীরত্বগাথা। তাঁর চোখের সামনে তাঁরই বিশাল বাহিনী সুশৃঙ্খল তরঙ্গের মতো এগিয়ে যাচ্ছে, পিছু হটিয়ে দিচ্ছে কিশোর সম্রাট আকবরের ফৌজি শক্তিকে। মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে হেমু দিল্লির যে সিংহাসন দখল করেছিলেন, তা পুরোপুরি সুরক্ষিত বলেই মনে হচ্ছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা তুর্কি ও আফগান শাসনের অবসান ঘটিয়ে উত্তর ভারতে হিন্দু সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন, তা একেবারে হাতের মুঠোয়।

ঠিক তখনই একটি তীর ধেয়ে এল।

তীরটি সরাসরি তাঁর চোখের কোটর ভেদ করে মাথার খুলির গভীরে সেঁধিয়ে গেল। হাতির মাহুত টের পেলেন তাঁর পিঠের উপর তাঁর প্রভু আচমকা ঝুঁকে পড়েছেন। বিশাল হাতিটি বুঝতে পারল কোথাও একটা মারাত্মক গড়বড় হয়ে গিয়েছে, সে আতঙ্কে ও যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠল। আর ঠিক সেই একটা মুহূর্তে একটা তীরের মাত্র দুই সেকেন্ডের উড়ানেই গোটা ভারতের ইতিহাসের গতিপথ একেবারে উল্টো দিকে ঘুরে গেল। পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে যে বিশাল বাহিনী কয়েক মুহূর্ত আগেও জয়ের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে ছিল, তা মুহূর্তে ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল, চারদিকে চরম বিশৃঙ্খলা নেমে এল। যেসব সৈন্যরা পঞ্জাব থেকে বাংলা পর্যন্ত ছায়ার মতো হেমুর অনুগামী ছিল, যারা কখনও তাঁর আদেশে প্রশ্ন তোলেনি, যারা তাঁকে অপরাজেয় বলে বিশ্বাস করত—তারা সবাই আচমকা আসা কালবৈশাখী ঝড়ের মুখে পাখির মতো যে যেদিকে পারল পালিয়ে গেল।

হেমু জ্ঞান হারিয়ে ঢলে পড়লেন। সেনাপতিকে পড়ে যেতে দেখে অপরাজেয় সেনাবাহিনীতে আতঙ্ক ছড়াল, মুহূর্তের মধ্যে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। বাজারের সাধারণ এক নুন-শোরা (বারুদের কাঁচামাল) বিক্রেতা থেকে সাম্রাজ্যের অধীশ্বর হয়ে ওঠা এক বীরের গল্প এভাবেই থমকে গেল একটা তীরের নিশানায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মুক্তির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই উধাও! কেন ভারত থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো দিলজিৎ দোসাঞ্জের ‘সতলুজ’?

Diljit Dosanjh Satluj: ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ZEE5-এ কোনো কাটছাঁট ছাড়াই ৩ জুলাই মুক্তি পেয়েছিল দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত ‘সতলুজ’। কিন্তু মাত্র দুদিন কাটতে না কাটতেই, ৫ জুলাই আচমকা ভারত থেকে উধাও হয়ে গেল এই ছবি! কেন একটি সিনেমাকে রিলিজের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এভাবে ভারতের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিতে হলো? কী এমন আছে এই ছবির গল্পে?

সাধারণ ঘরের ছেলে থেকে ‘ওয়াজির’

আনুমানিক ১৫০১ সালে রাজস্থানের আলোয়ারের এক অতি সাধারণ পরিবারে হেমুর জন্ম। ছোটবেলা কেটেছিল হাটে-বাজারে সবজি আর নুন-শোরা বিক্রি করে। এই ব্যবসার সূত্রেই খুব কম বয়সে সেনাবাহিনীর রসদ ও লজিস্টিকসের দুনিয়ার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়।

হেমু সুরি সাম্রাজ্যের সাধারণ চাকুরিতে যোগ দেন। কিন্তু তাঁর অসামান্য সাংগঠনিক ক্ষমতা আর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি তাঁকে দ্রুত উপরে তুলে আনে। শের শাহের ছেলে ইসলাম শাহ সুরির আমলে তিনি দিল্লির বাজার সুপারিন্টেনডেন্ট ও গোয়েন্দা প্রধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান।

১৫৫৩ সালে আদিল শাহ সুরি যখন ক্ষমতায় বসেন, তখন হেমুর যোগ্যতা দেখে তাঁকে সাম্রাজ্যের ‘ওয়াজির’ বা প্রধানমন্ত্রী এবং প্রধান সেনাপতি করা হয়। আফগান ও তুর্কি অভিজাতদের দাপটের যুগে একজন সাধারণ হিন্দু ব্যবসায়ীর এই উত্থান ছিল এক অলৌকিক ঘটনা। আদিল শাহের দুর্বল শাসনের আড়ালে কার্যত হেমুই হয়ে উঠেছিলেন সাম্রাজ্যের আসল চালিকাশক্তি। তিনি পুরো উত্তর ভারত জুড়ে নিজের ক্ষমতা বিস্তার করেন এবং বিদ্রোহীদের দমন করতে গিয়ে পরপর ২২টি যুদ্ধে জয়ী হয়ে এক অপরাজেয় কিংবদন্তিতে পরিণত হন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দানপাত্র থেকে চুরি করলেই কঠোর শাস্তি! কী ছিল প্রাচীন ধর্মশাস্ত্রের বিধান?

Temple Donation Box: প্রাচীন ধর্মশাস্ত্রে মন্দিরের দানপাত্র বা দেবসম্পত্তি চুরি কেন সাধারণ অপরাধের চেয়ে অনেক বেশি গুরুতর বলে বিবেচিত হতো? মনুসংহিতা, যাজ্ঞবল্ক্যস্মৃতি ও বিষ্ণুস্মৃতিতে এই অপরাধের জন্য কী ধরনের রাজদণ্ড, অর্থদণ্ড এবং প্রায়শ্চিত্তের বিধান ছিল? সেই কঠোর শাস্তির পেছনে ধর্মীয় ও সামাজিক যুক্তিই বা কী?

দিল্লির সিংহাসন ও বিক্রমাদিত্য উপাধি

১৫৫৬ সালের শুরুতে মুঘল সম্রাট হুমায়ুনের আকস্মিক মৃত্যুর পর উত্তর ভারতে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এই সুযোগে হেমু বিশাল বাহিনী নিয়ে মুঘলদের হাত থেকে প্রথমে আগ্রা এবং পরে দিল্লির কম্যান্ডার তার্দি বেগ খানকে হারিয়ে দিল্লি জয় করেন।

১৫৫৬ সালের ৭ অক্টোবর দিল্লির পুরানা কিলায় হেমুর রাজ্যাভিষেক হয়। প্রায় সাড়ে তিনশো বছরের মুসলিম শাসনের পর তিনি প্রথম হিন্দু রাজা হিসেবে দিল্লির সিংহাসনে বসেন এবং উপাধি নেন ‘সম্রাট হেমচন্দ্র বিক্রমাদিত্য’। তিনি নিজের নামে মুদ্রা চালু করেন। তাঁর এই পদক্ষেপ কোনো ধর্মীয় উগ্রতা থেকে ছিল না, বরং তা ছিল এক সাধারণ মানুষের নিজের যোগ্যতা আর বাহুবলের এক ঐতিহাসিক ঘোষণা।

হেমুর এই উত্থান মুঘলদের অস্তিত্ব সংকটে ফেলে দেয়। অভিভাবক বৈরাম খানের নেতৃত্বে কিশোর আকবরের মুঘল বাহিনী দিল্লি পুনরুদ্ধারের জন্য এগিয়ে আসে। ১৫৫৬ সালের ৫ নভেম্বর পানিপথের দ্বিতীয় যুদ্ধে দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়।

যুদ্ধের শুরুটা হেমুর রণকৌশলের কারণেই তাঁর পক্ষে ছিল। তিনি অচেতন হওয়ার পর নেতাকে রণক্ষেত্র থেকে সরে যেতে দেখে সুশৃঙ্খল আফগান ও হিন্দু সৈন্যদের গড়া হেমুর বিশাল বাহিনী আতঙ্কে দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পালিয়ে যায়। নিশ্চিত জয় রূপ নেয় এক নৃশংস গণহত্যায়।

অচেতন হেমুকে বন্দি করে আকবর ও বৈরাম খানের সামনে আনা হলে সেখানেই তাঁর শিরচ্ছেদ করা হয়। মুঘলদের ভীতি এতটাই ছিল যে, বিজয়ের প্রমাণ হিসেবে তাঁর কাটা মাথা কাবুলে পাঠানো হয় এবং দেহটি দিল্লির ফটকে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে তাঁর বৃদ্ধ বাবাকেও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতে অস্বীকার করায় হত্যা করা হয়।

হেমুর এই আকস্মিক পতন আসলে যোগ্যতার খামতি ছিল না, ছিল স্রেফ ভাগ্যের পরিহাস। যদি সেই তীরটা লক্ষ্যভ্রষ্ট হতো, তবে ভারতের ইতিহাস আজ অন্যভাবে লেখা হতো—মুঘল সাম্রাজ্যের হয়তো কোনো অস্তিত্বই থাকত না।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

মাতঙ্গিনী হাজরা ও তমলুকের বিদ্রোহ: এক বৃদ্ধার মৃত্যু যেভাবে বদলে দিয়েছিল আন্দোলনের গতিপথ

Matangini Hazra death: ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৪২। তমলুক শহরের দিকে পাঁচ দিক থেকে ধেয়ে এল জনতার উত্তাল মিছিল। সরকারি দপ্তর ঘিরে ফেলতে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার মানুষের এক বিরাট বাহিনী এগিয়ে আসছিল শহরের উত্তর দিক থেকে—ফৌজদারি আদালতের পথ ধরে। আর সেই বাহিনীর পুরোভাগে ছিলেন প্রায় বাহাত্তর বছর বয়সি মাতঙ্গিনী হাজরা।

কুম্ভের রাস্তা চওড়া করতে ভাঙা পড়ল মসজিদ, উজ্জয়িনীর ঘটনায় উঠছে যে প্রশ্ন

Legal Battle of ujjain's Shahi masjid: ২০২৮ সালের সিংহস্থ কুম্ভ মেলার প্রস্তুতিতে উজ্জয়িনীর শাহী মসজিদের তিন ফুট অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। প্রশাসনের ২৭২টি ভবনের তালিকায় রয়েছে ৮০টিরও বেশি ধর্মীয় স্থাপনা। দীর্ঘ আইনি লড়াই ও রাতভর আলোচনার পরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। ছত্রি চকে ছোড়া হয় পাথর, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে ছুড়তে হয় কাঁদানে গ্যাস।

নাৎসি জার্মানি থেকে FTII–SRFTI: ফিল্ম স্কুল কেন ক্ষমতার চোখে এত গুরুত্বপূর্ণ?

History of Film school's against Fasicsm: ১৯৩৩ সালে নাৎসিরা ভাঙচুর করেছিল বার্লিনের ফিল্ম স্কুল টনফিল্মশুলে। ১৯৩৫ সালে মুসোলিনি রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে এনেছিলেন ইতালির ফিল্ম স্কুল সিএসসি। ২০১৫ সালে ভারতে পুনের এফটিআইআইতে মোদী সরকারের নিয়োগ বিষয়ক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ১৩৯ দিনের ধর্মঘট হয়েছিল। ২০২৬-এ কলকাতার এসআরএফটিআইতে, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের ইট-পাথরের হামলা সেই ইতিহাসকেই পুনরাবৃত্ত করল। হামলার পদ্ধতি বদলেছে, কিন্তু ফ্যাসিবাদের উদ্দেশ্য আজও একই, স্বাধীন সাংস্কৃতিক চর্চাকে নিয়ন্ত্রণ করা। যদিও ইতিহাস বলে, ফিল্ম স্কুল কেবল একটি ভবন নয়, একটি ধারণা, একটি মতাদর্শিক বলয়।

জেলের ৭১৬ দিন: কী পড়তেন, কী ভাবতেন, কীভাবে লড়তেন ভগৎ সিং?

Bhagat Singh jail life: জেলখানায় ভগৎ সিংয়ের সবচেয়ে বড় সঙ্গী ছিল বই। দ্বারকাদাস লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান শাস্ত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলের ভিতর বই পাচার করতেন। এই ৭১৬ দিনে তিনি প্রায় ৩০০-র বেশি বই পড়েছেন ভগৎ সিংহ।

টাকার বিনিময়ে বিজেপি-র প্রচার করেছেন সায়ক! আর আইনি জালে জড়ালেন অলিপাবের নিরীহ কর্মী

Sayak Chakraborty Olypub controversy: নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, পাঁচটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনে বিজেপির কেন্দ্রীয় দফতরের মোট খরচ ছিল ৫২৯.৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই খরচ হয়েছে প্রায় ২৮৬ কোটি টাকা। সেই প্রচারের একটি অংশ ছিল সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল কনটেন্ট।

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।