বিক্ষোভে বাধা, নেতাদের আটক! কোন পথে CJP-র আন্দোলন?

রাজধানীতে আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনার আবহে নিরাপত্তা বাহিনীর এই তৎপরতা নজর কেড়েছে। তবে রবিবারের পরবর্তী কর্মসূচি কোথায় এবং কীভাবে হবে, সে বিষয়ে সিজেপি-র ঘোষণার দিকে নজর রয়েছে।

inscript
৩ মিনিট
বিক্ষোভে বাধা, নেতাদের আটক! কোন পথে CJP-র আন্দোলন?

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত। আন্দোলনকারীদের আটক, বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়া এবং ট্রেন বাতিলের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশে ‘জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি’ তৈরি করা হচ্ছে বলে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। রবিবার সিজেপি-র নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দিল্লিতে আন্দোলন থামছে না। বরং আগামী দিনে দেশের অন্যান্য অংশেও এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

CJP নেতা সৌরভ দাসের অভিযোগ, সরকার নিজের দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধেই প্রশাসনকে ব্যবহার করছে। তাঁর দাবি, নির্দিষ্ট জায়গায় বিক্ষোভ করতে চাওয়া আন্দোলনকারীদের উপর বিধিনিষেধ আরোপ না করে তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারত প্রশাসন। সৌরভের কথায়, “ওরা আমাদের বেআইনি ভাবে আটক করেছিল। এক বছরের জন্য শান্তিভঙ্গ করা যাবে না বলে শর্ত দেওয়া হয়েছে। শান্তিভঙ্গ করেছে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এবং জ্ঞানেশ কুমার।” আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। সৌরভ বলেন, “বিক্ষোভ চলবে। শুধু দিল্লিতে নয়, গোটা দেশেই আন্দোলন হবে।”

আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন CJP নেতা অভিজিৎ দীপকেও। তাঁর দাবি, বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার কোনও মুচলেকায় তিনি সই করেননি। ফলে আন্দোলন বন্ধ রাখার প্রশ্ন নেই। সমাজমাধ্যম X-এ একটি পোস্টে অভিজিৎ লেখেন, “আমরা প্রতিবাদ করব না, এমন কোনও বন্ডে সই করিনি। আমরা আবার রাস্তায় নামব।”

সিজেপি-র অভিযোগ, দিল্লিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় প্রশাসন আন্দোলনকারীদের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করে এবং নেতাদের আটক করে। সেই পদক্ষেপের পরেও আন্দোলন থেকে সরে আসার কোনও পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন CJP নেতারা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
উস্কানি দেওয়া যাবে না! CJP আন্দোলন নিয়ে কী নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের?

শুনানিতে উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশে বিচারপতি ভি মোহনা বলেন, আপনারা যদি সত্যিই জনকল্যাণে আগ্রহী হন, তা হলে আপনাদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার এবং অন্য কাউকে উস্কানি না দেওয়ার অঙ্গীকার করা উচিত।

আটকের ঘটনা নিয়ে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন CJP নেতা আশুতোষ রঙ্কা ও সৌরভ দাস। সাংবাদিক বৈঠকে আশুতোষের দাবি, “বিমান থেকে আমাদের অপহরণ করা হয়েছিল।” সৌরভের অভিযোগ, আটকের সময় পুলিশ কোনও আনুষ্ঠানিক নোটিস দেয়নি। তাঁদের মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, এই ধরনের পদক্ষেপের ফলে দেশে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

CJP-র অভিযোগের বিপরীতে আন্দোলনের অনুমতি না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছে দিল্লি পুলিশ। দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার নেহা যাদবের দাবি, জনপথে অবস্থান-বিক্ষোভের অনুমতি চাইলেও তারা পূর্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও শর্ত মেনে চলেনি।

নেহার অভিযোগ, অতীতে CJP-র ডাকা একটি বিক্ষোভে ব্যাপক পাথর ছোড়া, অগ্নিসংযোগ এবং হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। তাতে সরকারি সম্পত্তিরও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয় বলে দাবি করেছেন তিনি। পূর্ববর্তী ঘটনায় নিয়ম না মানা, প্রয়োজনীয় পদ্ধতি অনুসরণ না করা এবং তৎকালীন নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই জনপথে নতুন বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে পুলিশের বক্তব্য।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
দিল্লিতে বিক্ষোভ দমন নিয়ে জাতিসংঘের উদ্বেগ, প্রশ্নের মুখে ভারতের গণতান্ত্রিক ভাবমূর্তি?

Human rights violation in cockroach protests: ১০ অক্টোবর, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির ডাকে দিল্লির বিক্ষোভে, পুলিশি দমনপীড়নে ৭ হাজারের বেশি আটক হয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ বন্দিদের ‘তাৎক্ষণিক নিঃশর্ত মুক্তি’ দাবি করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক এই বিবৃতি, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘অযাচিত হস্তক্ষেপ’ ও ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, দিল্লির একাধিক এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি ছিল। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষার জন্য ওই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের।

নেহা যাদবের বক্তব্য, ১০ অক্টোবর জনপথে বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার ঘটনায় অভিজিৎ দীপকে ও তাঁর দুই সহযোগীকে আটক করা হয়েছিল, কারণ ওই কর্মসূচির জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি।

CJP-র আন্দোলন এবং দলের নেতাদের আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার দিল্লির কনট প্লেস এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সেখানে র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-সহ অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা রুট মার্চ করেন।

রাজধানীতে আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনার আবহে নিরাপত্তা বাহিনীর এই তৎপরতা নজর কেড়েছে। তবে রবিবারের পরবর্তী কর্মসূচি কোথায় এবং কীভাবে হবে, সে বিষয়ে সিজেপি-র ঘোষণার দিকে নজর রয়েছে।

একদিকে CJP-র নেতারা আন্দোলন আরও ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলছেন, অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ অতীতের হিংসার অভিযোগ এবং নিরাপত্তার যুক্তিতে বিক্ষোভে অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করছে। ফলে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার, প্রশাসনিক বিধিনিষেধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্ন।

CJP-র নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুধু দিল্লিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তবে দেশজুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার এই ঘোষণা বাস্তবে কী রূপ নেয়, তা আগামী দিনের কর্মসূচি থেকেই স্পষ্ট হবে।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ইজরায়েলের গণতন্ত্রে ফিলিস্তিনের জায়গা কোথায়?

Ballot Box Apartheid in israel: ইজরায়েলের ২৬তম নেসেট নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট কিংবা এইজেনকটের ‘চেঞ্জ ব্লক’—কেউই ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। আরব দলগুলি ১৯ আসনে ‘কিংমেকার’, কিন্তু উভয় পক্ষই তাদের সঙ্গে জোট নাকচ করেছে। ইজরায়েলি নির্বাচনের ‘ব্যালট বক্সে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বর্ণবাদ’ই এখন মুখ্য।

স্ট্যাচু অব লিবার্টি ও আমেরিকার অভিবাসন: আমেরিকার ইতিহাসে আশ্রয়প্রার্থীদের জায়গা কোথায়?

Statue of Liberty: স্ট্যাচু অব লিবার্টির ধারণার সূত্রপাত ১৮৬৫ সালে। ফরাসি রাজনৈতিক চিন্তাবিদ এদুয়ার্দ দ্য লাবুলে আমেরিকার স্বাধীনতার শতবর্ষ এবং ফ্রান্স-আমেরিকার বন্ধুত্বকে স্মরণ করে স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ধারণা দেন।

তেলের দাম বাড়লে কেন পড়ে সেনসেক্স-নিফটি?

crude oil price: তেলের দাম বাড়লেই কেন পড়ে যায় সেনসেক্স-নিফটি? কিভাবে তেলের দাম বাড়লে ভারতীয় টাকার দাম কমে যায়, মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে,কোন কোন শেয়ারে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে?

যুদ্ধের অস্ত্র পরিবহণে অস্বীকার, ২২ দেশের ১১৩ বন্দরে শ্রমিকদের আন্তর্জাতিক ধর্মঘটে কোন বার্তা উঠে এল?

Dock Workers: বিশ্বের ২২টি দেশ ও ১১৩টি বন্দরে যুদ্ধ ও সামরিকীকরণের বিরুদ্ধে ধর্মঘটে শামিল হলেন শ্রমিকরা। গাজায় ইজরায়েলি আগ্রাসন থেকে ইউক্রেন সংঘাত, অস্ত্র পরিবহণ বন্ধের দাবিতে গড়ে উঠল আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংহতি

পূর্ব মেদিনীপুরে খ্রিস্টান পরিবারের উপর হামলার অভিযোগ, ধর্মান্তরণের চাপ বজরং দলের বিরুদ্ধে

পার্বতীর অভিযোগ, সন্ধ্যায় যখন তাঁরা প্রার্থনা করতে বসেন, সেই সময় ৩০ জনেরও বেশি ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় জোর করে বাড়িতে ঢুকে তাঁদের মারধর করেন। তাঁর চুলের মুঠি ধরে মারধর করা হয়, স্বামীকে গালিগালাজ করা হয় এবং তাঁর ননদ অর্থাৎ মোহন সোরেনের মেয়ে রেণু সোরেনকেও আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ।

প্রাথমিকে ‘এক ক্লাস, এক শিক্ষক’ নীতি! পড়ুয়াদের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে শিক্ষকদের ইনক্রিমেন্ট?

West Bengal Primary Education: প্রাথমিক শিক্ষায় বড় পরিবর্তনের পথে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চালু হতে পারে ‘এক ক্লাস, এক শিক্ষক’ নীতি। পড়ুয়াদের অগ্রগতির ভিত্তিতে শিক্ষকদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্টও কি নির্ধারিত হবে?

ইজরায়েলে সরকার গড়বে কে?

Israel election results: নির্বাচনে কোনো পক্ষই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় নেতানিয়াহুর টিকে থাকা ও আইজেনকটের ক্ষমতায় আসা অনিশ্চিত; এমতাবস্থায় আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া শেষ পর্যন্ত কে সরকার গঠন করবে?

আইডিবিআই বিক্রির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ, রাহুলের চিঠিতে জোর পেল ব্যাঙ্ক কর্মীদের আন্দোলন

IDBI Bank privatisation: কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনে, আইডিবিআই ব্যাঙ্কের ৬০.৭২ শতাংশ মালিকানা কানাডার ফেয়ারফ্যাক্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কাছে ₹৫২,৮৭৮ কোটি টাকায় বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাহুল গান্ধী ব্যাঙ্ক কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, লোকসানে থাকা ব্যাঙ্ক মুনাফায় ফেরার পর কেন বিক্রি করছে সরকার? ২ ও ৩ নভেম্বর দেশব্যাপী অনশনের ডাক ব্যাঙ্ক কর্মচারীদের।