বিক্ষোভে বাধা, নেতাদের আটক! কোন পথে CJP-র আন্দোলন?
রাজধানীতে আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনার আবহে নিরাপত্তা বাহিনীর এই তৎপরতা নজর কেড়েছে। তবে রবিবারের পরবর্তী কর্মসূচি কোথায় এবং কীভাবে হবে, সে বিষয়ে সিজেপি-র ঘোষণার দিকে নজর রয়েছে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত। আন্দোলনকারীদের আটক, বিক্ষোভের অনুমতি না দেওয়া এবং ট্রেন বাতিলের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশে ‘জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি’ তৈরি করা হচ্ছে বলে নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। রবিবার সিজেপি-র নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দিল্লিতে আন্দোলন থামছে না। বরং আগামী দিনে দেশের অন্যান্য অংশেও এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
CJP নেতা সৌরভ দাসের অভিযোগ, সরকার নিজের দেশের নাগরিকদের বিরুদ্ধেই প্রশাসনকে ব্যবহার করছে। তাঁর দাবি, নির্দিষ্ট জায়গায় বিক্ষোভ করতে চাওয়া আন্দোলনকারীদের উপর বিধিনিষেধ আরোপ না করে তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারত প্রশাসন। সৌরভের কথায়, “ওরা আমাদের বেআইনি ভাবে আটক করেছিল। এক বছরের জন্য শান্তিভঙ্গ করা যাবে না বলে শর্ত দেওয়া হয়েছে। শান্তিভঙ্গ করেছে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ এবং জ্ঞানেশ কুমার।” আন্দোলন আরও বিস্তৃত করার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। সৌরভ বলেন, “বিক্ষোভ চলবে। শুধু দিল্লিতে নয়, গোটা দেশেই আন্দোলন হবে।”
আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন CJP নেতা অভিজিৎ দীপকেও। তাঁর দাবি, বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার কোনও মুচলেকায় তিনি সই করেননি। ফলে আন্দোলন বন্ধ রাখার প্রশ্ন নেই। সমাজমাধ্যম X-এ একটি পোস্টে অভিজিৎ লেখেন, “আমরা প্রতিবাদ করব না, এমন কোনও বন্ডে সই করিনি। আমরা আবার রাস্তায় নামব।”
সিজেপি-র অভিযোগ, দিল্লিতে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সময় প্রশাসন আন্দোলনকারীদের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করে এবং নেতাদের আটক করে। সেই পদক্ষেপের পরেও আন্দোলন থেকে সরে আসার কোনও পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন CJP নেতারা।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
শুনানিতে উপস্থিত আইনজীবীদের উদ্দেশে বিচারপতি ভি মোহনা বলেন, আপনারা যদি সত্যিই জনকল্যাণে আগ্রহী হন, তা হলে আপনাদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার এবং অন্য কাউকে উস্কানি না দেওয়ার অঙ্গীকার করা উচিত।
আটকের ঘটনা নিয়ে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন CJP নেতা আশুতোষ রঙ্কা ও সৌরভ দাস। সাংবাদিক বৈঠকে আশুতোষের দাবি, “বিমান থেকে আমাদের অপহরণ করা হয়েছিল।” সৌরভের অভিযোগ, আটকের সময় পুলিশ কোনও আনুষ্ঠানিক নোটিস দেয়নি। তাঁদের মোবাইল ফোনও নিয়ে নেওয়া হয়েছিল এবং আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, এই ধরনের পদক্ষেপের ফলে দেশে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
CJP-র অভিযোগের বিপরীতে আন্দোলনের অনুমতি না দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছে দিল্লি পুলিশ। দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার নেহা যাদবের দাবি, জনপথে অবস্থান-বিক্ষোভের অনুমতি চাইলেও তারা পূর্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ও শর্ত মেনে চলেনি।
নেহার অভিযোগ, অতীতে CJP-র ডাকা একটি বিক্ষোভে ব্যাপক পাথর ছোড়া, অগ্নিসংযোগ এবং হিংসার ঘটনা ঘটেছিল। তাতে সরকারি সম্পত্তিরও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয় বলে দাবি করেছেন তিনি। পূর্ববর্তী ঘটনায় নিয়ম না মানা, প্রয়োজনীয় পদ্ধতি অনুসরণ না করা এবং তৎকালীন নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই জনপথে নতুন বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে পুলিশের বক্তব্য।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Human rights violation in cockroach protests: ১০ অক্টোবর, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির ডাকে দিল্লির বিক্ষোভে, পুলিশি দমনপীড়নে ৭ হাজারের বেশি আটক হয়েছে। জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ বন্দিদের ‘তাৎক্ষণিক নিঃশর্ত মুক্তি’ দাবি করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক এই বিবৃতি, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘অযাচিত হস্তক্ষেপ’ ও ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, দিল্লির একাধিক এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি ছিল। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষার জন্য ওই বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের।
নেহা যাদবের বক্তব্য, ১০ অক্টোবর জনপথে বিক্ষোভের ডাক দেওয়ার ঘটনায় অভিজিৎ দীপকে ও তাঁর দুই সহযোগীকে আটক করা হয়েছিল, কারণ ওই কর্মসূচির জন্য অনুমতি দেওয়া হয়নি।
CJP-র আন্দোলন এবং দলের নেতাদের আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার দিল্লির কনট প্লেস এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সেখানে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-সহ অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা রুট মার্চ করেন।
রাজধানীতে আন্দোলন ঘিরে উত্তেজনার আবহে নিরাপত্তা বাহিনীর এই তৎপরতা নজর কেড়েছে। তবে রবিবারের পরবর্তী কর্মসূচি কোথায় এবং কীভাবে হবে, সে বিষয়ে সিজেপি-র ঘোষণার দিকে নজর রয়েছে।
একদিকে CJP-র নেতারা আন্দোলন আরও ছড়িয়ে দেওয়ার কথা বলছেন, অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ অতীতের হিংসার অভিযোগ এবং নিরাপত্তার যুক্তিতে বিক্ষোভে অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করছে। ফলে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার, প্রশাসনিক বিধিনিষেধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রশ্ন।
CJP-র নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, আন্দোলন শুধু দিল্লিতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। তবে দেশজুড়ে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার এই ঘোষণা বাস্তবে কী রূপ নেয়, তা আগামী দিনের কর্মসূচি থেকেই স্পষ্ট হবে।






