অভাবনীয় বৃদ্ধি সম্পত্তির! উইপ্রো, নেসলে, ওএনজিসির থেকেও ধনী তিরুপতি মন্দির

Tirupati Balaji Temple Asset: তিরুপতি মন্দির সম্পদের দিক থেকে দেশের বৃহত্তম কোম্পানি যেমন উইপ্রো, নেসলে এবং ওএনজিসিকেও ছাড়িয়ে গেছে। সোজা কথায়, তিরুপতি মন্দির দেশের এই তিনটি বড় কোম্পানির থেকেও ধনী।

Ravhali Biswas
৪ মিনিট
অভাবনীয় বৃদ্ধি সম্পত্তির! উইপ্রো, নেসলে, ওএনজিসির থেকেও ধনী তিরুপতি মন্দির

যে মন্দির যত ধনী, সেই মন্দিরের দেবতা নাকি তত জাগ্রত। কিংবা উল্টোটাও বলা যায়, যে দেবতা যত জাগ্রত, সেই মন্দির তত ধনী। এসব নিয়ে তর্কের আসর বসানো এই লেখার উদ্দেশ্য নয়। বিশ্বাসীরা মন্দিরের পুজো দিন, দান করুন, মানত করুন, আর অবিশ্বাসীরা মন্দিরের ইতিহাস, শিল্পকলা দেখেই মনকে খুশি করুন, যাই করুন না কেন- অগ্রাহ্য করতে পারবেন না যে এই ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ দেশে মন্দিরকে ঘিরেই রাজনীতি, মন্দিরকে ঘিরেই অর্থনীতি, মন্দিরকে ঘিরেই সমাজও! তাই দেশের ধনীতম প্রতিষ্ঠানের তালিকায় থাকে মন্দিররা। এই তালিকার একছত্র অধিপতি বলা যায় এই বিশেষ মন্দিরকে। অবশ্য শুধু দেশই নয়, বিদেশেও এই মন্দির দারুণ বিখ্যাত। আমাদের দেশের ধনী মন্দিরগুলির মধ্যে অন্যতম তিরুপতি বালাজি মন্দির। হিন্দু বিশ্বাস অনুসারে, কলিযুগের দুঃখ ও যন্ত্রণা থেকে মানব সমাজকে ত্রাণ করতে বিষ্ণু তিরুমালায় ‘ভেঙ্কটেশ্বর’ রূপে অবতীর্ণ হয়েছেন। এই মন্দিরের আরাধ্য দেবতার প্রতি ভক্তদের বিশ্বাস অসীম। বালাজির কাছে ভক্তি ভরে যা চাওয়া যায় তাই নাকি পাওয়া যায়। আর মনোবাঞ্ছা পূরণ হলেই ভক্তরা সোনা সহ নানা মূল্যবান ধাতু, অর্থ ইত্যাদিতে মুড়ে দেন ঈশ্বরের মূর্তিকে।

আজও আমাদের দেশে ধর্মই সবচেয়ে বেশি ব্যবসা করে। কেজো বিষয়গুলি নিয়ে তাই মোদির ভারতে মাথা ঘামনো হয় কম। উল্টে মন্দির নিয়ে বেশি মাতামাতি দেশ জুড়ে। আর ভক্তরাই দেশ জুড়ে মন্দির ব্যবসাকে বাঁচিয়ে রাখেন। এটাই এদেশের দস্তুর। তবে মন্দির ব্যবসায় অনেকটা এগিয়ে দক্ষিণ ভারত। এবার রীতিমতো রেকর্ড গড়ল তিরুপতি বালাজি মন্দির। ভক্তদের নানাবিধ দানে এই মন্দিরের তহবিলে প্রতি বছর যে পরিমাণ টাকা জমে তা চোখ কপালে তুলে দেওয়ার মতো। শুধু একমাসেই এই মন্দির যা আয় করেছে তা তাক লাগিয়ে দেবে। তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানম (টিটিডি) শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর স্বামীর ভক্তদের কাছ থেকে অনুদানের আকারে ১৩০.২৯ কোটি টাকারও বেশি সংগ্রহ করেছে কেবল মে মাসে। হুণ্ডি সংগ্রহে একটি সর্বকালের রেকর্ডও গড়েছে, গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন টিটিডি-র কার্যনির্বাহী কর্মকর্তা এভি ধর্ম রেড্ডি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ঈশ্বরকে দীপাবলি উপহার! শিরডি সাই মন্দিরে ১.৫ কোটি টাকা দান অনন্ত আম্বানির!

Anant Ambani Donates at Shirdi Sai Temple: মুকেশ আম্বানির কনিষ্ঠ পুত্র অনন্ত আম্বানি! সোমবার শিরডি সাঁই মন্দির পরিদর্শন করে ঈশ্বরকে দীপাবলির উপহার দিয়েছেন তিনি, উপহারের মূল্য দেড় কোটি টাকা (ওনলি)

তাঁর কথায়, মে মাসে তিরুমালার শ্রী ভেঙ্কটেশ্বর স্বামীর মন্দিরে ২২,৬২,০০০ ভক্ত এসেছিলেন। ১.৮৬ লক্ষ লাড্ডু বিক্রি হয়েছে, প্রায় ৪৭ লক্ষ ভক্ত মাতৃশ্রী তারিগোল্ডা ভেঙ্গামাম্বা অন্নপ্রসাদ ভবনে ‘অন্নপ্রসাদম’ গ্রহণ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, এই একই মাসে দেবতাকে চুল দান করেছেন ১০,৭২,০০০ ভক্ত। হিসেব অনুযায়ী, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দৈনিক প্রায় ২০ হাজার ভক্ত এই মন্দিরে চুল দান করেন। আর ভক্তদের চুল কাটার জন্য মন্দিরে রয়েছে ৫০০-র বেশি নাপিত। বাকি হিসেবটা আপনাদেরই হাতে।

মে মাসে রেকর্ড সংখ্যক ভক্তদের তিরুমালা পরিদর্শনের অন্যতম কারণ হল, দুই বছর ধরে চলা মহামারী। করোনা পরিস্থিতিতে মন্দিরে আসতে পারেননি ভক্তরা। তার উপর, মে মাসে গরমের ছুটি চলায় ব্যাপক পরিমাণে ভক্তরা মন্দির দর্শনে এসেছেন। কার্যনির্বাহী আধিকারিকরা জানিয়েছেন, শনি ও রবিবার তিরুমালায় অপ্রত্যাশিত ভিড় হয়। সপ্তাহান্তে ভেঙ্কটেশ্বরের দর্শন পেতে ভক্তদের দু’দিন ধরে অপেক্ষা করতে হয়।

ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ুর ভক্তরা টিটিডি-এর অধীনে বিভিন্ন ট্রাস্টে অনুদানের আকারে ১০ কোটি টাকা দিয়েছেন। চেন্নাইয়ের এক ভক্ত সরোজা সূর্য নারায়ণন, হিরে জড়ানো একটি সোনার সুতো এবং ২.৪৫ কোটি টাকা মূল্যের ৪.১৫০ কিলোগ্রাম ওজনের একটি সোনার নেকলেসও দান করেছেন তিরুপতি বালাজিকে, জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
চুলের ওজন এক কেজি, দৈর্ঘ্যে ৭ ফুট! যা দেখতে এই গ্রামে আসেন সারা পৃথিবীর পর্যটক

Long Hair Village in China: এই গ্রামে মহিলারা নিজের চুল বাড়াতে বাড়াতে নিয়ে যান ২.১ মিটার বা প্রায় ৬.৮ ফুট পর্যন্ত লম্বা। ওজন প্রায় এক কেজির কাছাকাছি!

এ তো গেল মে মাসের হিসেব। সম্প্রতি আরও একটি প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষ থেকে। বলা হয়েছে, তিরুমালা তিরুপতির মোট সম্পত্তির পরিমাণ ২.২৬ লক্ষ কোটি টাকা। এতে আরও বলা হয়েছে যে, ব্যাঙ্কে ৫,৩০০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ১০.৩ টন সোনাও জমা আছে। এর বাইরে নগদ ১৫,৯৩৮ কোটি টাকা জমা রয়েছে। যেখানে ২০১৯ সালে সোনা জমা ছিল ৭.৪ টন, গত তিন বছরে তাই ২.৯ টন বেড়ে গেছে। আগে ব্যাঙ্কে স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ ছিল ১৩,০২৫ কোটি টাকা, সেখানে এখন তা বেড়ে ১৫,৯৩৮ কোটি হয়েছে। অর্থাৎ তিন বছরে ২,৯০০ কোটি টাকা বেড়েছে।

সম্পত্তির খতিয়ান তুলে ধরতে গিয়ে টিটিডির চেয়ারম্যান আরও জানান, দেশ জুড়ে মন্দিরের অছি পরিষদের মোট ৯৬০ টি সম্পত্তি রয়েছে যার মূল্য ৮৫,৭০৫ কোটি টাকা। তাঁর কথায়, ১৯৭৪ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে সরকারের আমলে ১১৩ টি অছি পরিষদের সম্পত্তি বিক্রি হয়েছে।

প্রশ্ন উঠছে, গত বছরই শ্বেতপত্র প্রকাশ হওয়ার পর আবার নতুন করে এই বছর দ্বিতীয় শ্বেতপত্র কেন প্রকাশ করা হল? এর উত্তরে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই দাবি করেছেন যে মন্দিরের উদ্বৃত্ত তহবিল অন্ধ্রপ্রদেশ সরকারের নিরাপত্তা বিভাগে লগ্নি করা হয়। কিন্তু এই দাবি সত্যি নয়। নতুন প্রকাশিত শ্বেতপত্রে এই দাবি খারিজ করেছে তারা। ট্রাস্টের দাবি, উদ্বৃত্ত তহবিল নির্ধারিত ব্যাঙ্কেই লগ্নি করা হয়। তাই ভক্তরা যেন এই ষড়যন্ত্রমূলক প্রচার বিশ্বাস না করেন। ট্রাস্টের আরও দাবি, বিভিন্ন ভক্ত, ব্যবসায়িক সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের অনুদানই তাদের আয়ের একমাত্র উৎস।

মন্দিরের তরফে জানানো হয়েছে, নিয়ম অনুসারে ব্যাঙ্ক গচ্ছিত দানের ওপর চড়া সুদ দেয়। মন্দিরের নামে ব্যাঙ্কে দান হিসেবে টাকা বা সোনা জমা করতে গেলে বোর্ডের অনুমোদন লাগে। বিনিয়োগ সংক্রান্ত নির্দেশিকা মেনেই ব্যাঙ্ক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানে টাকা এবং সোনা জমা রাখা হয়। মন্দিরের তরফে সেইসব ব্যাঙ্কেই টাকা গচ্ছিত রাখা হয় যেখানে সুদের হার বেশি।

আরেকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য হল, তিরুপতি মন্দির সম্পদের দিক থেকে দেশের বৃহত্তম কোম্পানি যেমন উইপ্রো, নেসলে এবং ওএনজিসিকেও ছাড়িয়ে গেছে। সোজা কথায়, তিরুপতি মন্দির দেশের এই তিনটি বড় কোম্পানির থেকেও ধনী। তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানমের (টিটিডি) দেওয়া বিশদ বিবরণের ভিত্তিতে যে তথ্য পাওয়া গেছে সেই অনুসারে, তিরুমালায় ভেঙ্কটেশ্বরের মন্দিরের সম্পদের পরিমাণ ২.৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি (প্রায় $৩০ বিলিয়ন), যা তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা উইপ্রো, খাদ্য ও পানীয় সংস্থা নেসলে এবং ইন্ডিয়ান অয়েলের মূলধনের চেয়েও বেশি। স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্য অনুসারে, বর্তমান ট্রেডিং মূল্যে, তিরুপতি মন্দিরের নেট মূল্য অনেক ‘ব্লুচিপ’ ভারতীয় কোম্পানির চেয়ে বেশি। সুইস বহুজাতিক কোম্পানি নেসলের ভারতীয় ইউনিট, যা খাদ্য ও পানীয় উত্পাদন করে, এর বাজার মূলধন ১.৯৬ লক্ষ কোটি টাকা। পাবলিক সেক্টরের উদ্যোগ অয়েল অ্যান্ড ন্যাচারাল গ্যাস কর্পোরেশন লিমিটেড (ওএনজিসি) এবং আইওসি-এরও তিরুপতি মন্দিরের ট্রাস্টের তুলনায় কম মূলধন রয়েছে। ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশন (এনটিপিসি) লিমিটেডের বাজার মূলধনও এই মন্দিরের সম্পত্তির চেয়ে কম।

লিখেছেন
Ravhali Biswas
Ravhali Biswas
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।