ট্রিনকাসে ফিরে এল লাইভ মিউজিকের আসর

ট্রিনকাসের ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় এবং উজ্জ্বল দিনটি ছিল ১৯৬৯ সালের ১ অক্টোবর। সেই দিন এই মঞ্চে প্রথমবার পা রাখেন এক সাধারণ দক্ষিণ ভারতীয় তরুণী — ঊষা আইয়ার (বিয়ের পর যিনি হন ঊষা উথুপ)।

Deepsubhra Mahato
৬ মিনিট
ট্রিনকাসে ফিরে এল লাইভ মিউজিকের আসর

কলকাতা মানেই একটা অদ্ভুত মায়াবী শহর। এই শহরের অলিগলিতে লুকিয়ে আছে কত শত গল্প, কত ইতিহাস। আর সেই ইতিহাসের একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে পার্ক স্ট্রিটের রাতের আলো, ক্যাফে আর লাইভ মিউজিকের সংস্কৃতি। আজ থেকে কয়েক দশক আগে, যখন ভারতের অন্য কোনো শহরে রাতের জীবন বা 'নাইটলাইফ' শব্দটার চলই ছিল না, তখন কলকাতা মেতে থাকত জ্যাজ, পপ আর ল্যাটিন গানের সুরে। সেই সোনালী যুগের রাতের কলকাতার সবচেয়ে বড় জাদুকর ছিল ‘ট্রিনকাস’ (Trincas)।

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ভারতের বেশিরভাগ শহরের রেস্তোরাঁ ও হোটেলগুলি যখন লাইভ মিউজিক প্রায় বন্ধই করে দিয়েছে, ঠিক তখন ট্রিনকাস তাদের প্রায় একশো বছরের পুরনো ঐতিহ্যকে ফের নতুন করে ফিরিয়ে আনছে। পার্ক স্ট্রিটের এই ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁটি এখন সপ্তাহের কাজের দিনগুলিতে দুপুরে ‘আইল্যান্ড ব্রিজ’ (Island Breeze) ব্যান্ডের গান চালু করেছে। এর ফলে এখানে এখন প্রতিদিন, সব মিলিয়ে চার-চারটি লাইভ মিউজিকের আসর বসছে। যেখানে নানারকম স্বাদের গান শোনার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ট্রিনকাসে লাইভ মিউজিক তো এই প্রথম নয়। তাহলে, কীভাবে এই সংস্কৃতি হারিয়ে গেল আর আজই বা কীভাবে তা আবার প্রাণ ফিরে পাচ্ছে?

সুইস টি-রুম থেকে পার্ক স্ট্রিটের রাজপুত্র (১৯২৭ - ১৯৫৯)

ট্রিনকাসের ইতিহাস ঘাঁটলে আমাদের চলে যেতে হবে প্রায় ১০০ বছর আগে, ব্রিটিশ আমলে। ১৯২৭ সালের কথা। কুইন্টো সিঞ্জিও ট্রিনকা (Quinto Cinzio Trinca) এবং জোসেফ ফ্লুরি (Joseph Flury) নামে দুই সুইস দম্পতি মিলে পার্ক স্ট্রিটে একটি সুইস কনফেকশনারি ও টি-রুম খোলেন, যার নাম ছিল ‘ফ্লুরি অ্যান্ড ট্রিনকা’ (Flury & Trinca)। বিকেলবেলা সাহেব-মেমেরা সেখানে এসে চা-কফি খেতেন, আড্ডা দিতেন।

১৯৩৯ সালে এই পার্টনারশিপ ভেঙে যায়। ট্রিনকা দম্পতি (কুইন্টো এবং লিলি) এখনকার ঠিকানায় অর্থাৎ ১৭ নম্বর পার্ক স্ট্রিটে নিজস্ব একটি দোকান খোলেন। এর নাম দেওয়া হয় ‘ট্রিনকাস টি রুম অ্যান্ড কনফেকশনারি’ (Trincas Tea Room and Confectionery)। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়। কলকাতায় তখন প্রচুর আমেরিকান ও ব্রিটিশ সৈন্য থিকথিক করছে। তাদের বিনোদনের জন্য পার্ক স্ট্রিটের হোটেল ও ক্লাবগুলিতে লাইভ ওয়েস্টার্ন মিউজিক বা পশ্চিমা গানের চাহিদা হু হু করে বাড়তে থাকে। বিশেষ করে জ্যাজ (jazz) মিউিজকের এক বিশাল বাজার তৈরি হয়।

১৯৫৯ সাল নাগাদ ট্রিনকা দম্পতি তাঁদের এই ব্যবসা বিক্রি করে দিয়ে পাকাপাকিভাবে সুইজারল্যান্ডে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই সময় ট্রিনকাসের মালিকানা হাতবদল হয়ে চলে আসে ওম প্রকাশ পুরী (ওমি পুরী) এবং এলিস জোশুয়ার হাতে। এই দুজন মানুষই ট্রিনকাসের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে দেন। তাঁরা সাধারণ একটা চায়ের দোকান বা টি-রুমকে রূপান্তর করেন এক পুরোদস্তুর রেস্তোরাঁ এবং লাইভ মিউজিক বারে। ১৯৬১ সাল থেকে এখানে শুরু হয় লাইভ ব্যান্ডের গান-বাজনা। আর সেখান থেকেই শুরু হয় কলকাতার বিনোদন জগতের এক নতুন অধ্যায়।

যখন পার্ক স্ট্রিট ছিল ‘প্রাচ্যের বৈরুত’ (১৯৬০ - ১৯৮০)

১৯৬০ থেকে ১৯৭০-এর দশক ছিল কলকাতার লাইভ মিউিজকের সবচেয়ে উজ্জ্বল এবং সোনালী সময়। সেই সময় পার্ক স্ট্রিটকে বলা হতো “বিউট অব দ্য ইস্ট” (Beirut of the East) বা প্রাচ্যের বৈরুত। আসলে সেই সময়ে বোম্বেতে (এখনকার মুম্বই) মদ্যপান ও নাইটলাইফের উপর নানা কড়াকড়ি বা নিষেধাজ্ঞা ছিল। আর সেই সুযোগে কলকাতা হয়ে ওঠে পুরো এশিয়ার বিনোদনের প্রধান কেন্দ্র।

পার্ক স্ট্রিট তখন আলোয় ঝলমল করত। ট্রিনকাস, মোকাম্বো (Mocambo), ব্লু ফক্স (Blue Fox), ফিরপোস (Firpo’s), মুলিন রুজ (Moulin Rouge) — প্রায় প্রতিটি রেস্তোরাঁতেই দিনে ৩ থেকে ৪ বার লাইভ গানের আসর বসত। দুপুরের খাবার (লাঞ্চ), বিকেলের চা, সন্ধ্যার আড্ডা এবং গভীর রাতের পার্টি — সব সময়ই কোনো না কোনো ব্যান্ড স্টেজ কাঁপিয়ে গান গাইত। জ্যাজ, ল্যাটিন, ওয়েস্টার্ন পপ, হিন্দি রেট্রো থেকে শুরু করে চমৎকার সব ক্যাবারে ড্যান্স বা ফ্লোর শো চলত সেখানে।

তখনকার দিনে ট্রিনকাসে ঢোকার নিয়মকানুনও ছিল খুব কড়া। ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত পুরুষদের জন্য জ্যাকেট এবং টাই পরা বাধ্যতামূলক ছিল। কোনো গ্রাহক যদি ভুল করে জ্যাকেট-টাই ছাড়া চলে আসতেন, তবে ট্রিনকাস কর্তৃপক্ষ নিজেদের তরফ থেকে অতিরিক্ত জ্যাকেট ও টাইয়ের ব্যবস্থা রাখত, যাতে সম্মানিত অতিথিরা সেগুলি পরে ভিতরে ঢুকতে পারেন। আর কারা আসতেন না সেখানে! উত্তম কুমার, অমিতাভ বচ্চন, সত্যজিৎ রায়, জ্যোতি বসু, শর্মিলা ঠাকুর থেকে শুরু করে দিলীপ কুমার ও সায়রা বানুর মতো মহাতারকারা ১৯৭০ সালে ট্রিনকাসে এসেছিলেন 'সগিনা মাহাতো' সিনেমার শুটিংয়ের সময়।

অ্যাঙ্গলো-ইন্ডিয়ান ও গোয়ান মিউজিশিয়ানদের অবদান

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
১৭৭৭ থেকে ২০২৬, যেভাবে বদলেছে রাইটার্স বিল্ডিং

১৮০০ সালে লর্ড ওয়েলেসলি এই ভবনে ‘ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ’ স্থাপন করেন। ব্রিটেন থেকে যে সমস্ত নতুন রাইটার্স বা ক্লার্করা ভারতে আসতেন, তাঁদের এ দেশের ভাষা (যেমন বাংলা, হিন্দি, ফার্সি ইত্যাদি) এবং সংস্কৃতি শেখানোর জন্য এই কলেজটি ব্যবহার করা শুরু হয়।

এই যে পার্ক স্ট্রিটের এত নামডাক, এর পিছনের আসল কারিগর ছিলেন কলকাতার অ্যাঙ্গলো-ইন্ডিয়ান এবং গোয়ান (Goan) সম্প্রদায়ের মানুষেরা। তাঁরাই ছিলেন এই পশ্চিমা সংগীত সংস্কৃতির মূল স্তম্ভ। ছোটবেলা থেকেই চার্চের কয়্যার বা স্কুলের মাধ্যমে তাঁরা চমৎকার ইংরেজি গান এবং বাদ্যযন্ত্র বাজানো শিখতেন।

তার মধ্যে সবচেয়ে বড় নাম ছিল প্যাম ক্রেন (Pam Crain)। অসাধারণ কণ্ঠ এবং অসামান্য রূপের কারণে তাঁকে বলা হতো 'কুইন অব পার্ক স্ট্রিট' বা পার্ক স্ট্রিটের রানি। ব্লু ফক্স এবং ট্রিনকাসের মঞ্চে তাঁর গান শোনার জন্য মানুষ চাতক পাখির মতো বসে থাকত। এছাড়া ছিলেন কিংবদন্তি জ্যাজ গিটারিস্ট কার্লটন কিট্টো (Carlton Kitto), ড্রামার বেনি রোজারিও এবং লুইজ ব্যাঙ্কসের (Louiz Banks) মতো সুরকারেরা। গোয়ান মিউজিশিয়ান ক্রিস পেরির মতো শিল্পীরাও এখানে বাজাতেন, যাঁরা পরবর্তীকালে হিন্দি সিনেমাতেও ট্রাম্পেট ও স্যাক্সোফোনের আধুনিক সুর নিয়ে এসেছিলেন। এই অ্যাঙ্গলো-ইন্ডিয়ান শিল্পীরা শুধু গান গাইতেন না, তাঁরাই ছিলেন ট্রিনকাসের প্রাণ। আবার তাঁদের গান শোনার জন্য দর্শকদের একটা বড় অংশও আসত এই একই সম্প্রদায় থেকে।

ঊষা উথুপের সেই ঐতিহাসিক ডেবিউ: ১৯৬৯ সালের ১ অক্টোবর

ট্রিনকাসের ইতিহাসের সবচেয়ে স্মরণীয় এবং উজ্জ্বল দিনটি ছিল ১৯৬৯ সালের ১ অক্টোবর। সেই দিন এই মঞ্চে প্রথমবার পা রাখেন এক সাধারণ দক্ষিণ ভারতীয় তরুণী — ঊষা আইয়ার (বিয়ের পর যিনি হন ঊষা উথুপ)।

তখনকার দিনে নাইটক্লাব বা রেস্তোরাঁয় যাঁরা গান গাইতেন, সেই পশ্চিমা নারী শিল্পীরা সাধারণত গাউন বা আধুনিক পশ্চিমা পোশাক পরতেন। কিন্তু ঊষা উথুপ সব নিয়ম আর চেনা ছক ভেঙে দিয়ে একদম খাঁটি ভারতীয় কাঞ্জিভরম শাড়ি পরে, কপালে মস্ত বড় টিপ এঁকে ট্রিনকাসের স্টেজে উঠে দাঁড়ালেন। যখন তিনি মায়াবী ও গম্ভীর গলায় বিখ্যাত ইংরেজি গান “Fever” গাইতে শুরু করলেন, তখন গোটা হলের মানুষ স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল।

ট্রিনকাসে ঊষা উথুপ

শাড়ি পরে যে নাইটক্লাবে ওয়েস্টার্ন পপ বা জ্যাজ গান গেয়ে পুরো হল মাতিয়ে দেওয়া যায়, তা কেউ ভাবতেও পারেনি। এই একটি পারফর্ম্যান্স সমস্ত পুরনো ধারণা ভেঙে চুরমার করে দেয় এবং ঊষাকে রাতারাতি সুপারস্টার বানিয়ে তোলে। এই ট্রিনকাসেই তিনি তাঁর হবু স্বামী জনি উথুপের দেখা পান এবং তাঁদের প্রেম হয়। ২০১৯ সালে তাঁর গান গাওয়ার ৫০ বছর পূর্তিতে ঊষা উথুপ আবার ট্রিনকাসের এই ঐতিহাসিক মঞ্চে এসে গান গেয়ে সবাইকে আবেগপ্রবণ করে তুলেছিলেন।

কীভাবে হারিয়ে গেল এই সংস্কৃতি? (১৯৭০-এর শেষ থেকে ২০০০)

১৯৭০-এর দশকের শেষের দিকে কলকাতার এই ঝলমলে নাইটলাইফে কালো মেঘ ঘনিয়ে আসে। ধীরে ধীরে লাইভ ব্যান্ডের এই সংস্কৃতি প্রায় বিলুপ্তির পথে চলে যায়। এর পিছনে কয়েকটি বড় কারণ ছিল:

১. ১৯৭০-এর দশকে কলকাতায় নকশাল আন্দোলন শুরু হয়। শহরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। এরপর বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় আসার পর নাইটলাইফ এবং লাইভ মিউজিকের উপর কড়া নজরদারি শুরু হয়। এন্টারটেইনমেন্ট ট্যাক্স বা বিনোদন কর বাড়িয়ে প্রায় ৩০% করে দেওয়া হয়। ফলে ব্যবসা চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। বড় বড় শিল্পপতি ও ধনী ব্যবসায়ীরা কলকাতা ছেড়ে চলে যেতে থাকেন, যার ফলে দামি রেস্তোরাঁগুলিতে গ্রাহকদের আনাগোনা কমে যায়।

২. কলকাতার অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হতে থাকায় এই সংস্কৃতির মূল প্রাণ, অর্থাৎ অ্যাঙ্গলো-ইন্ডিয়ান সম্প্রদায়ের একটা বিশাল অংশ পাকাপাকিভাবে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা বা ইংল্যান্ডে চলে যান। এর ফলে ভালো শিল্পী এবং ভালো শ্রোতা — দুইয়েরই অভাব দেখা দেয়। অনেকে বলেন, “অ্যাঙ্গলো-ইন্ডিয়ানরা চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কলকাতার লাইভ মিউজিকের হৃদয়টাও চলে গিয়েছিল।”

৩. আশির ও নব্বইয়ের দশকে ক্যাসেট, সিডি এবং প্রযুক্তির উন্নতি হয়। লাইভ ব্যান্ডের চেয়ে রেকর্ডেড মিউজিক এবং ডিজে (DJ) চালানো অনেক সহজ ও সস্তা হয়ে পড়ে। একটা পুরো লাইভ ব্যান্ডকে প্রতিদিন টাকা দেওয়া অনেক রেস্তোরাঁর পক্ষেই অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।

৪. ক্যাবারে বা ফ্লোর শো নিয়ে সমাজে নৈতিকতার প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। লাইসেন্স পাওয়ার নিয়মকানুনও অনেক কঠিন হয়ে যায়।

এইসব কারণে ১৯৯০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে পার্ক স্ট্রিটের বেশিরভাগ আইকনিক জায়গা, যেমন ব্লু ফক্স বা ফিরপোস বন্ধ হয়ে যায় অথবা সাধারণ রেস্তোরাঁয় পরিণত হয়।

ট্রিনকাসে লাইভ মিউজিকের পুনরাগমন

এখন, ওমি পুরীর তৃতীয় প্রজন্ম আনন্দ পুরি এই রেস্তোরাঁকে আবার তার পুরনো গৌরব ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নিয়েছেন।

নতুন আয়োজনে ট্রিনকাসে এখন প্রতিদিন চারটি আলাদা লাইভ মিউজিক সেশন চলছে, যা ভারতের আধুনিক হসপিটালিটি বা রেস্তোরাঁ ব্যবসায় এক বিরল ঘটনা:

  • উইকডে লাঞ্চ (Weekday Lunch): সপ্তাহের কাজের দিনগুলিতে দুপুরের খাবারের সময় এখানে থাকছে ‘আইল্যান্ড ব্রিজ’ (Island Breeze) ব্যান্ডের পরিবেশনায় ল্যাটিন এবং জ্যাজ (jazz) মিউজিক।

  • সন্ধ্যা (Evening Session): সন্ধ্যায় থাকছে পুরনো দিনের এবং আজকের যুগের হিন্দি গান (Hindi Retro & Contemporary)।

  • রাত (Late Night): রাতের দিকে থাকছে জমজমাট ওয়েস্টার্ন পপ গান।

  • ট্যাভার্ন-বিহাইন্ড-ট্রিনকাস (Tavern-Behind-Trincas): ট্রিনকাসের ভিতরেই তৈরি করা হয়েছে একটি ছোট, শান্ত ও ঘরোয়া পরিবেশের জায়গা। এই ‘লিসেনিং রুম’ বা শোনার ঘরে শোনা যাবে বাংলা রক এবং লোকগান (Folk)।

এর পাশাপাশি চালু করা হয়েছে ‘ট্রিনকাস টাইমলাইন প্রজেক্ট’ (Trincas Timeline Project)। এর মাধ্যমে ট্রিনকাসের পুরনো দিনের ছবি, স্মৃতি, গল্প এবং ইতিহাসকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সংগ্রহ করে রাখা হচ্ছে, যা কলকাতার সংস্কৃতির একটা জ্যান্ত দলিল বা আর্কাইভ বলা চলে।

ট্রিনকাস শুধু একটা খাওয়ার জায়গা বা রেস্তোরাঁ নয়। এটি কলকাতার সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, শহরের সুখ-দুঃখের ইতিহাসের এক নীরব সাক্ষী। যখন আধুনিকতার ভিড়ে আমরা আমাদের পুরনো ঐতিহ্যগুলিকে হারিয়ে ফেলছি, তখন ট্রিনকাসের এই উদ্যোগ কলকাতার সংগীতপ্রেমী মানুষদের মনে এক নতুন আশার আলো জাগিয়েছে।

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কর্নওয়ালিস স্ট্রিট থেকে বিধান সরণি, ধর্মতলা থেকে লেনিন সরণি: যেভাবে ক্ষমতাসীনরা বদলেছে কলকাতার রাস্তার নাম

Renaming politics of kolkata's street: লটারি কমিটির কর্নওয়ালিস স্ট্রিট নির্মাণ থেকে বামফ্রন্টের লেনিন সরণি, হো চি মিন সরণি—কলকাতার রাস্তার নামকরণ প্রথম থেকেই রাজনৈতিক ছিল। ২০২৬ সালে, বিজেপি সরকারের উৎসাহে দশ সদস্যের কমিটি গঠিত হয়েছে লেনিন, কার্ল মার্কস ও হো চি মিন সরণির নাম বদলের সুপারিশ করতে। কিন্তু নাম বদলালেই কি মানুষের স্মৃতি বদলায়?

মাছে-ভাতে বাঙালি, দুর্গাপুজোর ভোগেও আমিষের চল, কী বলছে শোভাবাজার রাজবাড়ির ২৭০ বছরের ইতিহাস?

Durga Puja non vegetarian food: পুজোর দিনগুলিতে সকালে রাজবাড়ির সদস্যরা উপোস করে অঞ্জলি দেন এবং পুজোর কাজে অংশ নেন। দিনের সেই সময়ে তাঁরা নিরামিষ খাবারই গ্রহণ করেন। কিন্তু সন্ধ্যার পর আমিষ খাবার খাওয়ার রীতি রয়েছে। অর্থাৎ পুজোর প্রত্যেক দিনই পরিবারের সদস্যরা মাছ-মাংস খান।

বাংলা কবিতায় যুক্তি ও আবেগের সেতু গড়েছিলেন বিনয় মজুমদার

Binoy Majumdar: বিনয় মজুমদারের কাব্যভাষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল প্রচলিত ‘কবিত্ব’-এর থেকে সচেতন দূরত্ব। তিনি এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন, যা অনেক সময় কবিতার পরিবর্তে কোনো বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, ব্যক্তিগত নোট, গাণিতিক অনুমান অথবা যুক্তিনির্ভর বক্তব্যের মতো মনে হয়।

স্বাধীনতার আগেই নেতাজি যেভাবে এঁকেছিলেন আধুনিক ভারতের অর্থনীতির নকশা

Subhas Chandra Bose economic vision: “কদম কদম বঢ়ায়ে যা, খুশি কে গীত গায়ে যা…” যখনই এই গান বেজে ওঠে, তখন চোখের সামনে ভেসে ওঠে আজাদ হিন্দ ফৌজের সেনাপতি সুভাষচন্দ্র বসুর ছবি। খাকি উর্দি, চোখে গোল চশমা আর হাতে উদ্যত তরবারি। কিন্তু এই সৈনিক রূপের আড়ালে লুকিয়ে ছিলেন এক অসামান্য অর্থনৈতিক দূরদর্শী—যিনি কেবল ব্রিটিশদের তাড়ানোর স্বপ্ন দেখেননি, দেশ স্বাধীন হলে তার কোটি কোটি ক্ষুধার্ত মানুষ কীভাবে দু’মুঠো ভাত পাবে, সেই হিসেবও কষেছিলেন নিখুঁত অঙ্কে।

গণতন্ত্রের আলো প্রতিফলিত হয় ব্যক্তির চরিত্রে, শিখিয়েছিলেন সুমিত সরকার

Historian Pradip Kumar Datta on Sumit Sarkar's historiographical legacy: ‘হিস্ট্রি ফ্রম বিলো’ থেকে আখ্যান বিশ্লেষণ, সাম্প্রদায়িকতার ইতিহাস থেকে হিন্দুত্বের উত্থান—সুমিত সরকারের চিন্তার নানা পর্বের সঙ্গে দীর্ঘ বৌদ্ধিক সম্পর্ক রয়েছে ইতিহাসবিদ প্রদীপ কুমার দত্তের। ‘কারভিং ব্লকস’ ও ‘হেটেরোজিনিয়েটিস’-এর সূত্র ধরে ইতিহাস, সাম্প্রদায়িকতা ও মিথ-হিস্ট্রির রাজনীতি নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলাপচারিতায় অত্রি ভট্টাচার্য।

‘ফ্লপ মাস্টার জেনারেল’ যেভাবে হয়ে উঠলেন ‘মহানায়ক’

Uttam Kumar birth centenary: বড় পর্দার আলোকরবৃত্তে আসার ঢের আগে অরুণ কুমারের অভিনয় চর্চার হাতেখড়ি হয় নিজের পাড়ায়। ভবানীপুরে গিরিশ মুখার্জীর বাড়ির আঙিনায়, সেই বাড়ির তারাপ্রসাদ মুখুজ্যের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠে ‘সুহৃদ সমাজ’; যেটি পরিচালনা করতেন তপোনাথ চট্টোপাধ্যায়। সেখানেই প্রথম ‘মুকুট’ নাটকে অভিনয় করেন অরুণ। এরপর ‘ব্রজদুলাল’ ও স্কুলে ‘গয়াসুর’ নাটকে তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছিল।

থিম পুজো যেভাবে সমাজের বহুত্বকে মণ্ডপে তুলে ধরেছে

Durga Puja Theme Pandals: দুর্গাপুজোর থিমে সমাজের নানা স্তরের মানুষের জীবন, লোকসংস্কৃতি ও বাংলার নিজস্ব শিল্পচেতনা উঠে এসেছে। তাজমহল, টাইটানিক থেকে বাঁকুড়ার লোকশিল্প, কুমোরপাড়া, পরিযায়ী শ্রমিক—বিভিন্ন সময়ের থিম পুজো সমাজের বহুত্বকে মণ্ডপে তুলে ধরেছে। ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি দুর্গাপুজো হয়ে উঠেছে বাঙালির অস্থায়ী শিল্প ও মানবিকতার অনন্য প্রকাশ।

পার্বতী থেকে রাজলক্ষ্মী, মেয়েদের যে চোখে দেখেছেন শরৎচন্দ্র

Sarat Chandra Chattopadhyay: শরৎচন্দ্রের নারী চরিত্রগুলি কি শুধু প্রেম, ত্যাগ ও আত্মবিসর্জনের প্রতীক? রমা, রাজলক্ষ্মী, চন্দ্রমুখী, অচলা, সাবিত্রী থেকে কমল—তাঁদের মনস্তত্ত্ব, আকাঙ্ক্ষা, দ্বন্দ্ব ও আত্মপরিচয়ের লড়াই কীভাবে বদলেছে?