ট্রাম্পের ফোন আসেনি, মাথা নত করেছিল পাকিস্তানই, বলছেন এস জয়শঙ্কর

Pakistan: তিনি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু ভারতের অবস্থান একই ছিল— পাকিস্তান সামরিক সূত্রের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ না করলে কোনও যুদ্ধবিরতি হবে না।

inscript
৩ মিনিট
ট্রাম্পের ফোন আসেনি, মাথা নত করেছিল পাকিস্তানই, বলছেন এস জয়শঙ্কর

বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর রাজ্যসভায় দাবি করছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কারণেই জঙ্গিবাদ এখন গ্লোবাল ইস্যু।

পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা নিয়ে রাজ্যসভায় মুখ খুললেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।‘অপারেশন সিন্দুর’-এর সৌজন্যে সন্ত্রাসবাদ গ্লোবাল অ্যাজেন্ডা হয়ে উঠেছে। ভারতের জঙ্গিবাদ-বিরোধী বহুমুখী পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে জয়শঙ্কর বলেন, “আমরা বাণিজ্য ও কূটনীতির মাধ্যমে পাকিস্তানের উপর চাপ সৃষ্টি করেছি। প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের একটি রিপোর্টে পাকিস্তান-ভিত্তিক প্রক্সি আতঙ্কবাদী সংগঠন দ্য রেসিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ)-এর নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।”

পাশাপাশি মুম্বই আক্রমণের প্রধান অভিযুক্ত তাহাউর হুসেন রানার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গে জয়শঙ্কর জানান, “আমরা তাহাউর রানাকে ভারতে ফিরিয়ে এনেছি। তিনি এখন আতঙ্কবাদী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও কূটনৈতিক সাফল্য।” জয়শঙ্কর আরও জানান, চিনের বারবার ভেটো সত্ত্বেও ভারতের কূটনৈতিক সাফল্যের ফলে মাসুদ আজহার ও আব্দুল রেহমান মাক্কির মতো কুখ্যাত জঙ্গিদের জাতিসংঘে দাগী জঙ্গি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

কংগ্রেসেকে কটাক্ষ করে জয়শঙ্কর বলেন, ২৬/১১ মুম্বই হামলা ও লন্ডন বোমা হামলার মতো ভয়াবহ ঘটনা সত্ত্বেও পূর্ববর্তী ইউপিএ সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে গিয়েছিল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভারতের বিরুদ্ধে সাফল্যের পুরস্কার! কেন সেনাপ্রধান মুনিরের পদোন্নতি ঘটাল পাকিস্তান?

Asim Munir: প্রয়াত প্রাক্তন সেনাশাসক আয়ুব খানের পর পাক সেনার দ্বিতীয় অফিসার হিসাবে মুনির 'পাঁচ তারা জেনারেল' পদে বসলেন।

জয়শঙ্কর উল্লেখ করেন, কোয়াড এবং ব্রিকস দেশগুলো ২২ এপ্রিলের পাহাড়গাম হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সীমান্ত পেরিয়ে আতঙ্কবাদ নিয়ে ভারতের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ এখন বিশ্বব্যাপী ঐকমত্যের দিকে এগোচ্ছে।

পাকিস্তান প্রসঙ্গে বিদেশমন্ত্রী আরও বলেন, পাকিস্তানের বাহাওয়ালপুর ও মুরিদকে অঞ্চল শুধু ভারত-বিরোধী কার্যকলাপের কেন্দ্র নয়, বরং বিশ্ব আতঙ্কবাদের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। “বিশ্ব এই হুমকির বিরুদ্ধে ভারতের দৃঢ় পদক্ষেপের প্রশংসা করছে,” বক্তব্য এস জয়শঙ্করের।

পাকিস্তান নিয়ে ভারতের কঠোর অবস্থানের কথা তুলে ধরে মোদী সরকারের নেওয়া কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের বিস্তারিত বর্ণনা দেন। জয়শঙ্কর বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত রাখা হয়েছে। “এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। পাকিস্তান জঙ্গিবাদ বন্ধ না হলে এই চুক্তি স্থগিইত থাকবে। এটা জঙ্গিতোষণের মূল্য,” তিনি বলেন।

তিনি জানান,সার্ক কাঠামোয় পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এটি পাকিস্তানের সীমান্ত পেরিয়ে আতঙ্কবাদের সমর্থনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক প্রতিরোধ।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
যে ১১টি শর্তে পাকিস্তানকে ৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ দিল আইএমএফ

IMF Loan for Pakistan: পাকিস্তানকে আট হাজার কোটি টাকার (ভারতীয় মুদ্রায়) বাড়তি ঋণ দিয়েছে আইএমএফ, যার প্রথম দুই কিস্তির টাকা ইতিমধ্যেই পড়শি দেশ পেয়ে গিয়েছে।

“আতঙ্কবাদে ভারতের মতো কোনও দেশ এত ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি,” বলেন জয়শঙ্কর। তিনি উল্লেখ করেন, ইউপিএ আমলে একাধিক আতঙ্কবাদী হামলা ঘটেছিল।

কংগ্রেসের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “কংগ্রেস পাকিস্তানের পাঞ্জাব নিয়ে বেশি চিন্তিত ছিল, জম্মু ও কাশ্মীরের কৃষকদের নিয়ে নয়।” তাঁর মতভারতের নীতি হলো “রক্ত ও জল একসঙ্গে প্রবাহিত হবে না।” তিনি জানান, ‘অপারেশন সিন্দুর’ পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) জঙ্গিঘাঁটি লক্ষ্য করে শুরু করা হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে জয়শঙ্করের দাবি, ভারতের শক্তিশালী সামরিক অবস্থানের পর পাকিস্তান পরোক্ষভাবে বার্তা পাঠিয়ে অপারেশন বন্ধের অনুরোধ করেছিল। “কিন্তু আমাদের বার্তা ছিল স্পষ্ট, পাকিস্তান যদি যুদ্ধবিরতি চায়, তবে তাদের সামরিক অপারেশনের মহাপরিচালক (ডিজিএমও)-এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ করতে হবে,” তিনি বলেন।

লোকসভায় বিরোধীরা যখন বারবার প্রশ্ন করছে, কেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি তত্ত্ব নিয়ে চুপ মোদি সরকার, তিনি স্পষ্ট করে বলছেন, ২২ এপ্রিল থেকে ১৬ মে-র মধ্যে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে কোনও সরাসরি কথোপকথন হয়নি। বিরোধীদের দাবি খণ্ডন করে তিনি বলেন, “কোনও ফোন কল হয়নি। ভালো করে শুনুন, একটিও নয়।”

তিনি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, কিন্তু ভারতের অবস্থান একই ছিল—পাকিস্তান সামরিক সূত্রের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ না করলে কোনও যুদ্ধবিরতি হবে না।

জয়শঙ্কর আরও বলেন, ভারত কখনও পাকিস্তানের পারমাণবিক হুমকির কাছে মাথা নত করবে না। “প্রধানমন্ত্রী মোদী নেহরুর ভুল সংশোধন করেছেন। আমরা পাকিস্তানের পারমাণবিক হুমকির কাছে মাথা নত করব না,” তিনি বলেন।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।