কংগ্রেস-তৃণমূল দ্বৈরথে নয়া মোড়! কেন রাহুলের পথ ধরেই এগোতে চাইছেন মমতা?
Bharat Jodo Nyay Yatra: গত কয়েকদিনের দ্বৈরথের পর যেন আশ্চর্য এক স্নায়ুযুদ্ধে পা দিয়েছে কংগ্রেস-তৃণমূল সম্পর্ক। প্রথম থেকেই যে 'একলা চলো' নীতির কথা বলেছিলেন মমতা, তা কার্যত হাতে-কলমে বুঝিয়ে দিতে চাইছেন নেত্রী।

সামনেই লোকসভা ভোট। তার আগে প্রায় সব দলই প্রচার ও জনসংযোগে ব্যস্ত। গত ১৪ জানুয়ারি থেকে ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা শুরু করেছে কংগ্রেস। মণিপুর, অসম হয়ে বাংলায় যাত্রার প্রথম পর্ব সেরে রাহুল ও তাঁর যাত্রা পৌঁছে গিয়েছে বিহারে। সেখানে দু'দিন থাকার পর ফের বাংলায় ফিরবে কংগ্রেসের যাত্রা। প্রথম পর্যায়ে জলপাইগুড়ি শহরে যাত্রা করার পর সোমবার উত্তর দিনাজপুর হয়ে কিসানগঞ্জ পৌঁছন রাহুল। সেখান থেকেই শুরু হয় তার বিহার যাত্রার। ৩১ জানুয়ারি ফের বঙ্গে ফেরার কথা রাহুলের। মালদহ হয়ে তিনি যাবেন মুর্শিদাবাদে। তবে মালদহে ওই একই দিনে সভা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। মুখ্যমন্ত্রীর সভার জন্য প্রশাসনিক বাধার মুখে পড়তে হবে না তো রাহুলদের। ঘনিয়েছে প্রশ্ন।
২৫ তারিখ অসম সীমানা পেরিয়ে বাংলায় ঢুকলেও সেদিন বিশেষ দরকারে দিল্লি ফিরে যেতে হয়েছিল রাহুলকে। দু'দিনের বিরতির পর ফের বাংলায় শুরু হয় ভারত জোড়ো যাত্রা। তবে দ্বিতীয় পর্যায়ে বাংলায় এসে বারংবার বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে রাহুলদের। একে তো একই দিনে মমতারও সভা রয়েছে মালদহে। তার উপর আবার মালদহের রতুয়া থানা এলাকায় ভলুকার একটি সরকারি গেস্ট হাউজে মধ্যাহ্নভোজ সারার অনুমতি চেয়েছিল কংগ্রেস। তবে প্রশাসনের তরফে তা খারিজ করে দেওয়া হয়। মুর্শিদাবাদেও রাহুলের রাত্রিবাসের জন্য সরকারি গেস্ট হাউজের অনুমতি মেলেনি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Bharat Jodo Nyay Yatra: এদিকে আবার মালদহ শহরে ফের নতুন করে থাকা-খাওয়ার সমস্যা দেখা দিয়েছে রাহুলের। মালদহের রতুয়া থানা এলাকার ভালুকায় একটি গেস্ট হাউজে রাহুল ও কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের মধ্যাহ্নভোজের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তবে তা মেলেনি।
একে তো সামনে ভোট। তার উপর বিজেপি বিরোধী 'ইন্ডিয়া' জোটের তাঁদের অন্যতম সঙ্গী তৃণমূল। তাই প্রথম থেকেই সৌজন্য দেখিয়ে এসেছে কংগ্রেস। বারবার করে আমন্ত্রণও জানানো হয়েছিল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সে সময়ে উত্তরবঙ্গে থাকা সত্ত্বেও আমন্ত্রণ এড়ান মমতা। জয়রাম রমেশের মতো একাধিক প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জানিয়েছেন, যাত্রায় মমতাকে স্বাগত জানানোর জন্য উদগ্রীব তাঁরা। তবে প্রথম থেকেই যেন 'রণং দেহি' মূর্তি মমতার। তাঁর ক্ষোভ, রাহুলদের যাত্রার ব্যাপারে তাঁকে নাকি আগে থেকে জানানো হয়নি। আর সেই অসৌজন্যেই ক্ষুব্ধ নেত্রী।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Bharat Jodo Nyay Yatra: রাহুলের ন্যায় যাত্রায় যোগ দিতে পারেন কংগ্রেসের 'পুরনো বন্ধু' বামেরা। শোনা যাচ্ছে, সূজন চক্রবর্তী, মহম্মদ সেলিমের পাশাপাশি যাত্রায় যোগ দিতে পারেন বামনেত্রী মীনাক্ষীও।
তবে কংগ্রেসের তরফ থেকেই যতই মৈত্রীর বার্তা দেওয়া হোক না কেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু সেই ব্যাপারটাকে রীতিমতো প্রতিদ্বন্দ্বিতার স্তরে নিয়ে গিয়েছেন। কারণ আগামীকাল ঠিক সেই সেই জায়গা দিয়েই যেতে চলেছে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়। গোড়া থেকেই 'একলা চলো' নীতি নিয়েছে তৃণমূল। নিজের রাজ্যে যে অন্য কোনও দলের সঙ্গে জোট বেঁধে ভোট লড়বে না তাঁরা, সেই নিয়ে সাফ বার্তা দিয়ে দিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন বিশ্বাসের সঙ্গে বেশ বাদানুবাদও বেঁধেছে তাঁর। জলপাইগুড়িতে কার্যত জনজোয়ারে ভেসেছে রাহুলের 'যাত্রা'। রাহুল জাতীয় স্তরের নেতা। বাংলায় তাঁর তেমন কোনও জোর নেই বললেই চলে। তা সত্ত্বেও যে বিপুল গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন তিনি জলপাইগুড়ি-সহ উত্তর বঙ্গের ওইসব অঞ্চলগুলিতে, তা নজিরবিহীন। ৩১ তারিখে ফের বাংলায় ঢুকে যে দু'টি জেলায় পা রাখতে চলেছেন রাহুলের কনভয়, সেগুলি কার্যত কংগ্রেসের গড়। ফলে সেখানেও যে একইরকম সাড়া মিলতে চলেছে, তা খানিকটা প্রত্যাশিতও।
তবে রাহুলের এই বিপুল জনপ্রিয়তাকেই কি এবার টক্কর দিতে চাইছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। গত কয়েকদিনের দ্বৈরথের পর যেন আশ্চর্য এক স্নায়ুযুদ্ধে পা দিয়েছে কংগ্রেস-তৃণমূল সম্পর্ক। আর সেখানে কংগ্রেসের তরফে যতই নমনীয়তা দেখানো হোক না কেন, মমতা মানতে নারাজ। প্রথম থেকেই যে 'একলা চলো' নীতির কথা বলেছিলেন মমতা, তা কার্যত হাতে-কলমে বুঝিয়ে দিতে চাইছেন নেত্রী। তিনিও যে কারওর চেয়ে কম যান না, তা এই উত্তরবঙ্গের সভাতেই বুঝিতে দিতে চাইছেন মমতা। হবেই বা না কেন! এমনিতেই উত্তরবঙ্গে দারুণ জনপ্রিয় মুখ্যমন্ত্রী। সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য একাধিক কল্যাণমূলক প্রকল্প নিয়েছেন। প্রায়শই উত্তরবঙ্গ সফরে যেতে দেখা যায় তাঁকে। কিছুদিন আগেই উত্তরবঙ্গের চা বাগানে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। সেখানে চা শ্রমিকদের সঙ্গে চা বাগানের কাজে হাত লাগাতে দেখা যায় তাঁকে। বিতড়ণ করেন কম্বলও। নিজের এমন গড়ে বাইরে থেকে জাতীয় স্তরের এক নেতা আসবেন, দেখবেন এবং জয় করবেন, তা বোধহয় মানতে পারছে না তৃণমূল। সে কারণেই কি রাহুলের পথেই নিজের ম্যাজিক দেখাতে চাইছেন মমতা। মালদহে তাঁর কর্মসূচি দেখে অবশ্য তেমনটাই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ।






