যে কারণে মালদহ মুর্শিদাবাদ রাহুলের 'কাঁটো কা সফর'

Bharat Jodo Nyay Yatra: এদিকে আবার মালদহ শহরে ফের নতুন করে থাকা-খাওয়ার সমস্যা দেখা দিয়েছে রাহুলের। মালদহের রতুয়া থানা এলাকার ভালুকায় একটি গেস্ট হাউজে রাহুল ও কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের মধ্যাহ্নভোজের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তবে তা মেলেনি।

Sohini Das
৩ মিনিট
যে কারণে মালদহ মুর্শিদাবাদ রাহুলের 'কাঁটো কা সফর'

ভারত জোড়ো যাত্রা নিয়ে বাংলা পেরিয়ে বিহারে পৌঁছে গিয়েছেন রাহুল গান্ধি। তবে বাংলায় এখনই শেষ হচ্ছে না যাত্রা। ফের ৩১ তারিখ নাগাদ বাংলায় ফিরবেন রাহুল। অন্তত তেমনটাই কথা রয়েছে। এদিকে একই সময়ে উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই দলের কর্মসূচিই একই দিনে পৌঁছতে চলেছে মালদহে। কী হতে চলেছে আদতে ওই দিন।

গোড়া থেকেই বাংলায় ভারত জোড়ো যাত্রা বাধার মুখে পড়েছে। গত ২৫ তারিখই অসম থেকে বাংলায় ঢুকেছিল যাত্রা। কিন্তু রাহুলের দিল্লি থেকে জরুরি ডাক এসে পড়ায় ফের উড়ে যেতে হয় তাঁকে রাজধানীতে। গুঞ্জন উঠেছিল, ফালাকাটায় যেখানে রাহুলদের থাকার কথা ছিল, সেই জায়গাটা মোটেই কংগ্রেস নেতার বাসযোগ্য ছিল না। সে কারণেই দিল্লি ফিরে যান রাহুল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রতারক পল্টুরামের বিহারে আজ রাহুল, খেলা হবে?

Bharat Jodo Nyay Yatra: এই পালাবদলের বিহারে ঢুকেছে রাহুলের ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা। ২০২০ বিধানসভা ভোটের পরে এই প্রথম বিহারে যাচ্ছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধি।

তারপর দু'দিনের বিরতি নিয়ে ফের বাংলায় শুরু হয় যাত্রা। আসেন রাহুলও। রবিবার জলপাইগুড়িতে যাত্রা করার পর সোমবার উত্তর দিনাজপুর থেকে সকালে কিসানগঞ্জ পৌঁছন তিনি। আপাতত বিহারেই রয়েছে তার সভা। কিসানগঞ্জ থেকে মঙ্গলবার পূর্ণিয়া যাওয়ার কথা তাক, সেখান থেকে পরের দিন যাবেন কাটিহারে। বিহার হয়ে ফের রাহুল ফিরবেন বাংলায়। ৩১ তারিখ মালদায় ফের প্রবেশ করবে কংগ্রেসের ভারত জোড়ো যাত্রা। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, সেদিনই আবার মালদহ শহরের ডিএ, ময়দানে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক সভা। আর এই মেলবন্ধন আদৌ ভালো হতে চলেছে, নাকি কোনও নতুন সমস্যায় জড়াতে চলেছেন রাহুল ও তাঁর দল, সেই নিয়েই শুরু হয়েছে নয়া গুঞ্জন।

গত ২২ জানুয়ারি অসমে ছিল রাহুলের ভারত জোড়ো যাত্রা। সেইদিনই আবার ছিল রামমন্দিরের উদ্বোধন। প্রায় গোটা দেশ জুড়েই আয়োজন করা হয়েছিল নানা ছোট বড় অনুষ্ঠানের। নাগাঁওয়ের কাছে একটি মন্দিরে ঢুকতে বাধা পান রাহুল। সেই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র বিশৃঙ্খলতা তৈরি হয়। অসমের যাত্রা আয়োজকের বিরুদ্ধে এফআইআরও দায়ের হয় অসমে। আইনশৃঙ্খলা নষ্ট করার অভিযোগে কাঠগড়ায় তোলা হয় কংগ্রেসকেও।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ফালাকাটায় রাহুল গান্ধি? না পেলি আমাকে আর তোকেও আমি পেলাম না

Exclusive: প্রায় সাত হাজার স্থানীয় লোককে রাহুল গান্ধির 'ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা'য় সামিল করার পরিকল্পনা ছিল স্থানীয় কংগ্রেসের। কথা ছিল, চা-বলয় থেকে শ্রমিকরা আসবেন। ছাত্র-যুব-মহিলাদের সঙ্গেও মুখোমুখি কথা বলবেন রাহুল।

২৮ জানুয়ারি শিলিগুড়িতেও ন্যায় যাত্রা করার অনুমতি দেয়নি পুলিশ। যে কারণে রাস্তা ঘুরিয়ে জলপাইগুড়ি দিয়েই কনভয় নিয়ে যেতে হয় রাহুলদের। এবারও তেমন কিছু হতে চলেছে না তো? শেষপর্যন্ত হবে তো রাহুলের ফের বাংলা সফর? প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে। স্থানীয় কংগ্রেস মনে করছে, তাঁদের কর্মসূচি পূর্বঘোষিত। তা পণ্ড করতেই ইচ্ছাকৃত ভাবে মালদহ জেলায় প্রশাসনিক সভা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামী ৩১ শে জানুয়ারি বিহারের কাটিহার থেকে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর, রতুয়া হয়ে ইংরেজ বাজারে আসবেন রাহুল গান্ধী। রাহুলের যাত্রা মালদহের সুজাপুরে থেকে শুরু হয়ে ১ তারিখ মুর্শিদাবাদে় পৌঁছবে। এরই মধ্যে আবার ৩১ তারিখ মানে বুধবার ইংরেজ বাজারের ডিএসএ ময়দানে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক সভা। কংগ্রেসের জেলা কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি কালিসাধন রায়ের অভিযোগ, তৃণমূল আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। পুলিশ প্রশাসনকে ব্যতিব্যাস্ত করে কংগ্রেসের সভা নষ্ট করার চেষ্টা করছে তারা। স্বাভাবিক ভাবেই, বিষয়টি নিয়েকংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস কাজিয়া তুঙ্গে উঠেছে।

এদিকে আবার মালদহ শহরে ফের নতুন করে থাকা-খাওয়ার সমস্যা দেখা দিয়েছে রাহুলের। জানা গিয়েছে মালদহের রতুয়া থানা এলাকার ভালুকায় একটি গেস্ট হাউজে রাহুল ও কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের মধ্যাহ্নভোজের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল দলের তরফে। তবে সেই অনুমতি দেয়নি জেলাপ্রশাসন। এদিকে আবার, মুর্শিদাবাদের বহরমপুর স্টেজিয়ামে রাহুল গান্ধীর রাত্রিবাসের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। খারিজ হয়ে যায় তা-ও। কংগ্রেস জানায়, দু-ক্ষেত্রেই লিখিত ভাবে অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন তা নাকচ করে দেয়।

বাংলায় যাত্রাকে বাধা দেওয়া নিয়ে কংগ্রেস কর্মীদের অভিযোগের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চিঠি দিয়েছিলেন দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। নিরাপত্তার ইস্যুতে মমতাকে অবগতও করা হয়েছিল। পাশাপাশি ন্যায় যাত্রার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাধিকবার আমন্ত্রণও জানান হয়েছিল কংগ্রেসের তরফে। রবিবারও মিছিল জুড়ে কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা ছিল, তিনি একটি বার আসবেন যাত্রায়। বিশেষত লোকসভা ভোট ও ইন্ডিয়া জোটের আবহে অনেকেই এমনটা মনে করেছিলেন। তবে শেষপর্যন্ত তেমনটা হয়নি। এবার প্রশ্ন উঠে গেল রাহুলের বাংলায় ফেরা নিয়েই। একে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একই দিনে একই জায়গায় সভা পড়া, তার উপরে থাকা-খাওয়ার জায়গার ক্ষেত্রে ব্যাপর বাধা, ফের রাহুলকে উড়িয়ে নিয়ে যাবে না তো দিল্লিতে। সেই আশঙ্কা কিন্তু ক্রমশই চওড়া হচ্ছে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।

এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই আপত্তি, ১০ মাসে দুই কমিশনারের ১৪ বার প্রশ্ন

Election Commission SIR: এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের অন্দরেই তৈরি হয়েছে মতপার্থক্য। গত ১০ মাসে দুই নির্বাচন কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। ফর্ম ৬ বদল, ভোটার তথ্যভান্ডারের কেন্দ্রীয়করণ, পশ্চিমবঙ্গের আপিল এবং প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনা নিয়েও উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আইন মেনে চলার বিষয়টি ফের আলোচনায়।