মমতার বিকল্প মীনাক্ষী! যে চালে রাহুলের 'যাত্রা'র মোড় ঘোরাতে চাইছে কংগ্রেস

Bharat Jodo Nyay Yatra: রাহুলের ন্যায় যাত্রায় যোগ দিতে পারেন কংগ্রেসের 'পুরনো বন্ধু' বামেরা। শোনা যাচ্ছে, সূজন চক্রবর্তী, মহম্মদ সেলিমের পাশাপাশি যাত্রায় যোগ দিতে পারেন বামনেত্রী মীনাক্ষীও।

Sohini Das
৩ মিনিট
মমতার বিকল্প মীনাক্ষী! যে চালে রাহুলের 'যাত্রা'র মোড় ঘোরাতে চাইছে কংগ্রেস

বহু দিনের জোটসঙ্গী। একসময়ে কেন্দ্রে সরকারও বানিয়ে ফেলেছিল এই দুই দল। তারপরের দীর্ঘদিনের দূরত্ব পিছনে ফেলে ফের কাছাকাছি আসে বাম ও কংগ্রেস। ফের জড়ে ওঠে জোট। এবার ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রার মঞ্চে সেই বন্ধুতার ছবিই কি দেখা মিলতে চলেছে ফের একবার?

ভারত জোড়ো যাত্রা নিয়ে ইতিমধ্যেই একবার বাংলায় ঘুরে গিয়েছে কংগ্রেস। ফের ৩১ তারিখ বিহার ঘুরে বাংলার মালদহে প্রবেশ করবে যাত্রা। সেখান থেকে মুর্শিদাবাদ হয়ে ঝাড়খণ্ডে চলে যাবে যাত্রা। ঘটনাচক্রে সেদিনই আবার মালদহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যাপাধ্যায়েরও জনসভা। ইতিমধ্যেই কংগ্রেসের তরফে একাধিক বার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তবে তিনি শেষপর্যন্ত আসেনি। এমনকী গোটা যাত্রার সময়টাই উত্তরবঙ্গ সফরেই রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবু ইন্ডিয়া জোটের সঙ্গী কংগ্রেসের থেকে বেশ খানিকটা দূরত্বই বজায় রেখে চলেছেন তৃণমূল।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
যে কারণে মালদহ মুর্শিদাবাদ রাহুলের 'কাঁটো কা সফর'

Bharat Jodo Nyay Yatra: এদিকে আবার মালদহ শহরে ফের নতুন করে থাকা-খাওয়ার সমস্যা দেখা দিয়েছে রাহুলের। মালদহের রতুয়া থানা এলাকার ভালুকায় একটি গেস্ট হাউজে রাহুল ও কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের মধ্যাহ্নভোজের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। তবে তা মেলেনি।

তবে রাহুলের ন্যায় যাত্রায় যোগ দিতে পারেন কংগ্রেসের 'পুরনো বন্ধু' বামেরা। যতদূর শোনা যাচ্ছে, সূজন চক্রবর্তী, মহম্মদ সেলিমের পাশাপাশি রাহুলের এই যাত্রায় নাকি যোগ দিতে পারেন বামেদের তরুণ তুর্কি মীনাক্ষী। জানা গিয়েছে, বাম যুব সংগঠনের নতুন 'মুখ' মীনাক্ষীকে নাকি বিশেষ ভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে কংগ্রেসের তরফে। বিগত কয়েক বছর ধরেই বামেরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে মীনাক্ষীকে। এমনকী তাঁকে 'ক্যাপ্টেন' বলেও সম্বোধন করেন দলের বহু প্রবীণ নেতারা। হবে না-ই বা কেন। নন্দীগ্রামের মতো হেবিওয়েট কেন্দ্রে মমতা, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ২১-র ভোটে প্রার্থী হয়েছিলেন মীনাক্ষী। তার পরেও বারবার নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন তরুণ এই নেত্রী। আসন্ন ভোটেও যে মীনাক্ষীকেই সামনে রাখতে চাইছে দল, তা মোটামুটি পরিষ্কার হয়ে গিয়েছিল বামেদের ইনসাফ যাত্রায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
তরুণীর 'মহব্বত'-এর উপহার নিমেষে পৌঁছে গেল কিশোরের হাতে! বাংলায় যে ম্যাজিক দেখালেন রাহুল

Bharat Jodo Nyay Yatra: তবু রাহুলের চোখ চলেই গিয়েছিল সেই তরুণীর দিকে। যার হাতে ছিল একটি টাটকা গোলাপ। যে গোলাপ প্রাণের মানুষটির হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলেন তিনি।

একদিকে কেন্দ্রে বিজেপি বিরোধিতায় জোট বেঁধেছে ছাব্বিশটি বিরোধী দল। তবে সেই ইন্ডিয়া জোটে শরিক দলের মধ্যে তেমন বনিবনা হয়নি গোড়া থেকেই। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বেশিরভাগ সময়েই খড়্গহস্ত তৃণমূলনেত্রী। বিভিন্ন সময়ে রাহুলকে বিঁধতে ছাড়েন না তিনি। তার মধ্যে সাম্প্রতিক কালে আসনভাগ নিয়ে রাজ্যের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীর সঙ্গে নতুন করে বিবাদে জড়িয়েছেন। ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুজনেই দোষারোপ করে গিয়েছে একে অপরকে। আর এই দ্বৈরথের মধ্যেই কংগ্রেসের ভারত জোড়ো যাত্রা প্রবেশ করেছে বাংলায়। প্রথম থেকেই বিভিন্ন ভাবে অসহোযোগীতার মেজাজেই রয়েছে এ রাজ্যের শাসকদল। ২৮ তারিখ অর্থাৎ গত রবিবার শিলিগুড়ি দিয়ে রাহুলের যাত্রা নিয়ে যাওয়ার অনুমতি পায়নি কংগ্রেস। বাধ্য হয়ে জলপাইগুড়ি দিয়েই রবিবার গিয়েছে রাহুলের 'ভারত জোড়ো ন্যায় যাত্রা'। বিহার ঘুরে ৩১ তারিখ ফের মালদহে প্রবেশ করার কথা রাহুলদের। তবে ওই দিনই আবার মালদহে সভা করার কথা মমতারও। একই সঙ্গে মালদহ ও মুর্শিদাবাদের সরকারি জায়গাগুলিতে রাহুলদের থাকা ও খাওয়ার অনুমতি দেয়নি প্রশাসন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বারবার যাত্রায় যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও সেই ডাক ফিরিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এর আগে জনসমক্ষে এই যাত্রা নিয়ে উষ্মাপ্রকাশ করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। মমতার দাবি, রাহুল গান্ধি নাকি তাঁকে যাত্রার বিষয়ে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। আর সেই 'অসৌজন্য' নিয়েই ক্ষুব্ধ তিনি। যদিও জয়রাম রমেশের মতো প্রবীণ নেতারা বারবার জানিয়েছেন, মমতা সভায় এলে তাঁকে সর্বতো ভাবেই স্বাগত জানাবে কংগ্রেস। পাশাপাশি কংগ্রেস ও তৃণমূলের রাস্তা যে কার্যত এক, সে কথাও বারবার জানানো হয়েছে কংগ্রেসেক তরফে। তবে তাতেও চিড়ে ভেজেনি। তেমনটাই মনে হচ্ছে এখনও পর্যন্ত। বরং ক্রমশ চওড়া হচ্ছে দু'দলের ফাটল। আর তৃণমূল-কংগ্রেসের এই দ্বৈরথের মধ্যেই ফের জমে উঠতে পারে বাম-কংগ্রেস রসায়ন। অন্তত যাত্রার আগামী কয়েকদিনে তেমনই ছবি দেখা যেতে চলেছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞদের অনেকে।

যতদূর জানা যাচ্ছে, রাহুলের যাত্রা মালদায় প্রবেশ করলে সেখানে যোগ দিতে চলেছেন সূজন চক্রবর্তী, শতরূপ ঘোষ। মুর্শিদাবাদে রাহুলের সঙ্গে থাকার কথা খোদ সিপিএম রাজ্য-সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের। অধীরের জেলাতেও বিশেষ আমন্ত্রণ পেয়েছেন মীনাক্ষীও। সব মিলিয়ে যাত্রাকে কেন্দ্র করে বাম-কংগ্রেস সহাবস্থানের জায়গাটা আরও জোরালো হয়ে উঠতে চলেছে বলেই আশা করছেন অনেকে।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

চশমা যখন টেকসঙ্গী, কীভাবে কাজ করে এআই গ্লাস?

Meta AI Glasses: চশমা ব্যক্তিগত এআই সহকারী। চোখের ইশারা ও মৌখিক নির্দেশে কল, ছবি তোলা, ভিডিও রেকর্ডিং থেকে গুগল সার্চ—সবই যখন সম্ভব, তখন এই প্রযুক্তি কীভাবে কাজ করে? আর ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও এআই-নির্ভর এই চশমা আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কতটা সুরক্ষিত রাখবে?

টাকার বিনিময়ে বিজেপি-র প্রচার করেছেন সায়ক! আর আইনি জালে জড়ালেন অলিপাবের বেয়ারা

Sayak Chakraborty Olypub controversy: নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, পাঁচটি রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের নির্বাচনে বিজেপির কেন্দ্রীয় দফতরের মোট খরচ ছিল ৫২৯.৩৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই খরচ হয়েছে প্রায় ২৮৬ কোটি টাকা। সেই প্রচারের একটি অংশ ছিল সোশ্যাল মিডিয়া ও ডিজিটাল কনটেন্ট।

SRFTI: কীভাবে অনুষ্ঠান থেকে পরিস্থিতি গড়াল সংঘর্ষে?

SRFTI Clash: SRFTI-তে ডানপন্থী সংগঠনের অনুষ্ঠান ঘিরে কেন আপত্তি জানালেন পড়ুয়ারা? বক্তৃতায় কী বলা হয়েছিল, যা নিয়ে তৈরি হয় উত্তেজনা? কীভাবে অনুষ্ঠান থেকে পরিস্থিতি গড়াল সংঘর্ষে? পড়ুয়া ও আয়োজকদের পাল্টা অভিযোগের মধ্যে আসল ঘটনা কী?

যে নির্বাচন কমিশনার ভোট চুরি আটকেছিলেন

Election reforms of T. N. Seshan: ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন কমিশনারের চেয়ারে বসেছিলেন যে ব্যক্তি, সেই টি. এন. শেষন বলেছিলেন, 'আমাকে এই পদে বসাবেন না, আমি আপনাদের অসুবিধার কারণ হয়ে দাঁড়াব।'

ছদ্ম-বিরোধী তৈরিই কি তবে ভারতের রাজনীতিতে ক্ষমতার নতুন কৌশল?

Indian opposition politics: বিরোধীদের সরাসরি নিষিদ্ধ না করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চাপ, আইনি ফাঁকফোকর এবং সুপরিকল্পিত দল ভাঙার মাধ্যমে তৈরি করা হচ্ছে অনুগত ‘ছদ্ম-বিরোধী’।

EXCLUSIVE: কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদে ভোট না-করানো তৃণমূলের বড় ভুল, নিজেদের ভুল নিয়েও আলোচনার দরকার ছিল: কুণাল

Kunal Ghosh on Mamata Banerjee: ইনস্ক্রিপ্টে ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে তিনি একদিকে যেমন দাবি করেছেন মমতাকে ভয় পেয়েই তাঁকে বারবার নিশানা করা হচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে দলের ভুলত্রুটি স্বীকার করে আত্মসমালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন।

EXCLUSIVE: শেষদিকে দল পরিচালনায় গ্যাপ ছিল, অভিষেকের অফিসও ঠিকঠাক ম্যানেজ করা হয়নি: কুণাল

Kunal Ghosh on Abhishek Banerjee: ইন্সক্রিপ্টের ‘অনিন্দ্য এবং’ পডকাস্টে অভিষেক প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে কুণাল জানিয়েছেন, শেষ পর্যায়ের দল পরিচালনায় আরও ‘সতর্কতা’ প্রয়োজন ছিল। তাঁর দাবি, অভিষেকের অফিসও সব সময় ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি।

মমতা-অভিষেকের দল পরিচালনায় বিরাট গ্যাপ তৈরি হয়েছিল: ইনস্ক্রিপ্ট পডকাস্টে আর কী বললেন কুণাল?

Kunal Ghosh Interview: বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পরে প্রতীক, নাম হারিয়ে কার্যত দিশাহারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। তার মধ্যেও ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই জারি রয়েছে। যদিও দলের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে মমতার কাছাকাছির বৃত্ত ক্রমশ সঙ্কুচিত হয়েছে। নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনে মুখ পুড়েছে। এই প্রেক্ষিতে আসন্ন পুরভোটে কেমন করবে তৃণমূল? ঘুরে দাঁড়ানোর কোনও সম্ভাবনা আছে? অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী? বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে যা বললেন দলের বিধায়ক এবং অন্যতম মুখপাত্র কুণাল ঘোষ।