ভারতে শব্দ দূষণ আইন কবে থেকে চালু, কী কী নিয়ম?
সম্প্রতি পিটিআই-কে (PTI) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন "একটি স্পষ্ট নির্দেশ জারি করা হয়েছে যে, ধর্মীয় স্থানগুলিতে লাউডস্পিকারগুলি নির্ধারিত ডেসিবেল সীমার বাইরে চালানো যাবে না। নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।" এই নির্দেশিকা সরকারের তরফ থেকে জারি করা হয়েছে, কিন্তু 'নয়েজ পলিউশন রুলস'- এ ঠিক কী কী নিয়ম রয়েছে?
সম্প্রতি পিটিআই-কে (PTI) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন
একটি স্পষ্ট নির্দেশ জারি করা হয়েছে যে, ধর্মীয় স্থানগুলিতে লাউডস্পিকারগুলি নির্ধারিত ডেসিবেল সীমার বাইরে চালানো যাবে না। নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এই নির্দেশিকা সরকারের তরফ থেকে জারি করা হয়েছে, কিন্তু 'নয়েজ পলিউশন রুলস'- এ ঠিক কী কী নিয়ম রয়েছে?
রাস্তায় বেরোলে কান ফাটানো হর্ন, পাড়ায় জোরে বক্স বাজানো বা উৎসবের নামে ডিজে—এই সব কিছুই আমাদের অতিষ্ঠ করে তোলে। আমরা অনেকেই ভাবি, কেউ মাইক বাজালে বোধহয় আমাদের কিছু করার নেই। কিন্তু আসলে তা নয়। আমাদের দেশে শব্দ দূষণ রুখতে আইন আছে। এই আইন কবে এল এবং ঠিক কী কী নিয়ম আছে, তা আমাদের জেনে রাখা জরুরি।
আইনটি কেন এবং কবে তৈরি হলো?
ভারতে শব্দ দূষণ রোখার প্রধান আইনটি হলো 'নয়েজ পলিউশন রুলস, ২০০০'। এটি ২০০০ সালে কেন্দ্রীয় সরকার তৈরি করে। এর আগে শব্দের তাণ্ডব রুখতে তেমন কোনো কড়া নিয়ম ছিল না। মূলত সুপ্রিম কোর্ট এবং বিভিন্ন হাইকোর্ট যখন দেখল যে অতিরিক্ত শব্দের কারণে সাধারণ মানুষের হার্টের অসুখ হচ্ছে, কানে শোনার ক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে এবং ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে, তখন আদালত সরকারকে কড়া আইন বানাতে বাধ্য করে। আমাদের পশ্চিমবঙ্গ তো এ বিষয়ে আরও এক ধাপ এগিয়ে। এখানকার হাইকোর্ট অনেক আগেই জানিয়ে দিয়েছিল, শান্তির অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার।
এলাকা অনুযায়ী শব্দের নিয়ম
আইনে স্থান অনুযায়ী শব্দের সীমাকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। কোথায় কত জোরে আওয়াজ করা যাবে, তার একটা সীমা আছে:
এলাকা
রাতের বেলা (সীমা)
হাসপাতাল ও স্কুল সংলগ্ন এলাকা: দিনের বেলা হাসপাতাল ও স্কুল সংলগ্ন এলাকায় ৫০ ডেসিবেেলের বেশি শব্দ করা নিষিদ্ধ। এবং রাতে
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
West Bengal Animal Slaughter Control Act 1950: ইদুল আজহার আগে পশ্চিমবঙ্গে ১৯৫০ সালের পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর হচ্ছে। কোরবানির জন্য কি এখন ‘ফিট ফর স্লটার’ শংসাপত্র বাধ্যতামূলক? কোথায় পশু জবাই করা যাবে? কী বলা হয়েছে নির্দেশিকায়?
৪০ ডেসিবেলের বেশি আওয়াজ করা যাবে না।
আবাসিক বা পাড়া-মহল্লা: দিনে ৫৫ ডেসিবেলের বেশি এবং রাতে ৪৫ ডেসিবেলের চেয়ে বেশি শব্দ নিষিদ্ধ এই আবাসিক বা পাড়া-মহল্লায়।
বাজার বা বাণিজ্যিক এলাকা: দিনে ৬৫ ডেসিবেল এবং রাতের বেলা ৫৫ ডেসিবেলের বেশি শব্দ করা যাবে না বাজার সংলগ্ন এলাকায়।
কলকারখানা এলাকা: কলকারখানা সংলগ্ন এলাকায় শব্দসীমা দিনের বেলা ৭৫ ডেসিবেল এবং রাতের বেলা ৭০ ডেসিবেলের মধ্যে বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল, স্কুল বা কোর্টের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো মাইক বা জোরে হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একে বলা হয় 'সাইলেন্স জোন'।
মাইক ও বক্স বাজানোর কড়া নিয়ম
পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ উৎসব বা অনুষ্ঠানের জন্য কিছু বিশেষ নিয়ম করে দিয়েছে:
রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত খোলা জায়গায় কোনো লাউডস্পিকার বা সাউন্ড বক্স বাজানো যাবে না। এমনকী ইনডোর প্রোগ্রামেও আওয়াজ যেন হলের বাইরে না যায়।
খোলা জায়গায় মাইক বা বক্স বাজালে তাতে 'সাউন্ড লিমিটার' নামের একটি ছোট যন্ত্র লাগাতে হবে। এই যন্ত্র থাকলে শব্দের আওয়াজ একটা সীমার উপর উঠবে না।
মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিকের মতো বড় পরীক্ষার সময় পাড়ায় মাইক বাজানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ।
বাজি ও ডিজে (DJ) নিয়ে সরকারের কড়া বার্তা
আজকাল বিয়েবাড়ি বা বিসর্জনে ডিজে বক্সের খুব চল হয়েছে। কিন্তু আইন বলছে, খোলা রাস্তায় ডিজে বাজানো অপরাধ। এতে শারীরিক ক্ষতি হয়। এছাড়া বাজির ক্ষেত্রেও নিয়ম আছে—১২৫ ডেসিবেলের বেশি শব্দ হয় এমন বাজি ফাটানো যাবে না। এখন সরকার কেবল 'সবুজ বাজি' বা গ্রিন ক্র্যাকার্স ব্যবহারেরই অনুমতি দেয়।
নিয়ম ভাঙলে শাস্তি কী?
সরকার বলছে, এই নিয়মগুলি মানা বাধ্যতামূলক। যদি কেউ নিয়ম না মানে তবে:
১. পুলিশ এসে সাউন্ড বক্স বা মাইক বাজেয়াপ্ত করতে পারে।
২. বড় অঙ্কের জরিমানা হতে পারে।
৩. এমনকী নিয়ম ভাঙলে কারাবাসও হতে পারে।
আজানের ক্ষেত্রে মাইকে নির্দিষ্ট সময়ে আমরা আজান শুনতে পাই। যদি, ধর্মীয় কারণে শব্দসীমা বেঁধে দেওয়া হয়, তাহলে সেই আওয়াজের কী হবে? এই প্রশ্ন স্বাভাবিকভাবেই মনে আসে।
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী এই নির্দেশ জারির পর নাখোদা মসজিদের ট্রাস্টি নাসের ইব্রাহিম বলছেন,
আমরা সমস্ত আইনগত নিয়মাবলী মেনে চলতে দায়বদ্ধ এবং আশা করি একই মান সবার জন্য সমানভাবে বজায় রাখা হবে
সর্বভারতীয় প্রাচ্য একাডেমির অধ্যক্ষ জয়ন্ত কুশারী বলছেন,
একটি সভ্য সমাজে এমনই হওয়া উচিত। প্রার্থনা মূলত একটি ব্যক্তিগত এবং আধ্যাত্মিক বিষয়। আমি যতদূর জানি, কোনো ধর্মের শাস্ত্রই বিশ্বাসের নামে লাউডস্পিকার ব্যবহারের নির্দেশ দেয় না। ধর্মকে অবশ্যই নাগরিক দায়িত্ব, জনস্বাচ্ছন্দ্য এবং অন্যের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার সঙ্গে সহাবস্থান করতে হবে।






