সিগারেট ছাড়তে চান নতুন বছরে? যে উপায়ে হবে মুশকিল আসান
Smoking kills : যেসব কৌশল আপনাকে উপহার দিতে পারে ধূমপান মুক্ত বছর

‘ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর’, ‘তামাক ক্যান্সারের কারণ’, ইত্যাদি হাজারটা সতর্কতাবার্তা বারবার কানের কাছে বাজলেও সেদিকে বিশেষ ভ্রুক্ষেপ দেন না কেউই। এমনকী খোদ সিগারেটের প্যাকেটের ওপরই তো থাকে ভয়াবহ ফলাফলের ছবি,তবুও সেটাই পকেটস্থ করেন সকলে। নেশার কবলে জর্জরিত বর্তমান সময়। অথচ রোগের ভ্রুকুটি তো সেসব মোটেই মানবে না। সে নিজের মতো ডালপালা ছড়াবেই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO)-র মতে, ধূমপানের কারণে সারা বিশ্বে বছরে প্রতি বছর প্রায় সাত মিলিয়নেরও বেশি মানুষ মারা যায়। এর মধ্যে প্রায় আশি শতাংশ মানুষই মাস করেন নিম্ন এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলিতে। অর্থাৎ যেখানে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য পরিষেবা নেই। এর মানে হল ধূমপান করে এমন লোকেদের একটি বড় অংশই তাদের নিজ নিজ দেশে জনস্বাস্থ্য সংকট তৈরি করছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, শুধুমাত্র ভারতেই ধূমপানের কারণে প্রাণ হারানোর সংখ্যাটা প্রায় ৬৫০,০০০ জন।
আগেই বলা হয়েছে ধূমপান ক্যান্সারের কারণ। এর প্রভাবে মূলত ফুসফুস, স্তন, কোলন, মাথা, ঘাড় এবং জরায়ুতে সংক্রমণ হতে পারে। এছাড়াও ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) নামে পরিচিত একটি খুব গুরুতর রোগের কারণ হতে পারে এই বেসামাল ধূমপান। আগেই বলা হয়েছে ধূমপান ক্যান্সারের কারণ। এর প্রভাবে মূলত ফুসফুস, স্তন, কোলন, মাথা, ঘাড় এবং জরায়ুতে সংক্রমণ হতে পারে। এছাড়াও ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) নামে পরিচিত একটি খুব গুরুতর রোগের কারণ হতে পারে এই বেসামাল ধূমপান।
আগামীকাল থেকেই পাট ভাঙছে নতুন বছর। পুরনো বছর ফিরে দেখার আজই শেষ দিন। প্রাপ্তি, অপ্রাপ্তি, ভালো খারাপ সব মিলিয়ে একটা বছর কেটেছে। আবারও একটা বছর কাটবে। তবুও কিছু রেজোলিউশন এর ভিড় এখন। খারাপকে ত্যাগ করে ভালো কিছু অভ্যাস নিতে চাইছেন অনেকেই কিন্তু মানুষের নেশা মানুষকে কিছুতেই সহায়তা করছে না হয়তো! এরকমই কিছু চেইন-স্মোকার, যারা ধূমপান ত্যাগ করতে চাইছেন অথচ সঠিক অনুপ্রেরণা এবং কার্যকর পদ্ধতি খুঁজে পাচ্ছেন না তাদের জন্য নতুন বছরের শুরুতে রইল বেশ কিছু কৌশল, যার জেরে চাইলেই সহজে দূরে সীরাতে পারবেন সিগারেটের প্যাকেটটিকে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
যে পরিবারে আগে কেউ কিডনির রোগ বা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন, সেই পরিবারে এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ২৫ গুণ বেশি। একে বলে ক্লিয়ার সেল কার্সিনোমা। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মহিলাদের থেকেও পুরুষরা এই রোগের শিকার হয় বেশি।
অ্যাপের মাধ্যমে
যান্ত্রিক সময়ে সবকিছুই অ্যাপ নির্ভর, তাই এখানেও সহায়তা করতে পারে কিছু অ্যাপ। বর্তমানে Kwit, MyQuit এবং Smoke Free এর মতো বেশ কিছু অ্যাপ রয়েছে যা আপনাকে সহজেই ধূমপান ত্যাগ করার ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে। এই অ্যাপগুলির মধ্যে রয়েছে টিপস, গেমস এবং অনুপ্রেরণামূলক চিন্তা যা মস্তিষ্ককে অনেকক্ষণ ব্যস্ত রাখবে, ফলে নেশার কথা মনেই পড়বে না আপনাদের। এছাড়াও এই অ্যাপগুলিতে ধূমপান ত্যাগ করার জন্য বিভিন্ন কৌশলের কোথাও বলা রয়েছে।
ট্রিগার এড়িয়ে চলুন
মানুষের মধ্যে একটা প্রবণতা রয়েছে, কোনও কিছু থেকে মানসিকভাবে আঘাত পেলে অথবা, অশান্তির পরিবেশ তৈরি হলে মনের মধ্যে যে দোলাচল তৈরি হয় তা করতে হাতিয়ার করে নেন নেশাকে। সুখ টান দিয়েই ভুলতে চান নানা বাধা বিপত্তি। কিন্তু এটি সবথেকে ক্ষতি করে শরীরের। তাই এমন কোনও কিছু যা আপনাকে ট্রিগার করতে পারে, তা এড়ানো উচিত। তার ফলে ধূমপানকে এড়ানও সহজতর হতে পারে। প্রয়োজনে পার্টি বা বারের মতো জায়গাগুলি থেকে নিজের বিরত রাখুন। নিজেকে সময় দিন, প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান। এবং সর্বোপরি এমন পরিবেশে বেশি করে মিশুন যেখানে ধূমপান করেন না এমন মানুষের ভিড়। পারিপার্শিক পরিস্থিতিই আপনাকে ধোঁয়ার জগৎ থেকে বের করে আনবে।
মানসিক চাপ কমাতে ধূমপান বিকল্প নয়, বিকল্প অন্য কিছু
নিয়মিত শরীরচর্চা, মেডিটেশন, বই পড়া ইত্যাদি অভ্যাস আমাদের মানসিক পরিস্থিতিকে অনেকটাই শান্ত রাখতে সাহায্য করে। এর জেরে মানসিক চাপ এড়ানো ও সহজ হয়ে যায়। তাই চাপ মোকাবেলা করার কার্যকর উপায় হিসেবে যারা ধূমপানকে বেঁচে নিয়েছেন এতদিন তাদের জন্য বিকল্প হতে পারে যোগব্যায়াম, ভিজ্যুয়ালাইজেশন, এবং গান শোনার মতো মাধ্যমগুলিই। এছাড়াও যদি মুখের মধ্যে একটা অস্বস্তি বোধ করেন তাহলে মাঝেমধ্যে জোয়ান জাতীয় মুখশুদ্ধি খেতে পারেন, তবে খেয়াল রাখবেন সেটিও যেন আবার নেশার পর্যায়ে চলে না যায়!







