অত্যধিক ধূমপান চরম ক্ষতি ডেকে আনছে কিডনির, জেনে নিন কীভাবে

আপনার কি ঘন ঘন জ্বর হয়? অথবা আপনি কি প্রায়শই কোমরের ব্যথায় ভোগেন? উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে? এই উপসর্গগুলো আপনার শরীরে হয়ে থাকলে ফেলে রাখবেন না। এই সাধারণ উপসর্গগুলিই কিন্তু হতে পারে কিডনি ক্যানসারের লক্ষণ। চিকিৎসাশাস্ত্রে যার পোশাকি নাম রেনাল সেল কার্সিনোমা, সংক্ষেপে আরসিসি। কিডনির ক্যানসার কোনওভাবেই সম্পূর্ণ নির্মূল করা যায় না। কিন্তু কিছু কিছু জিনিস মেনে চললে অনেকটাই কমে যায় কিডনির ক্যানসারের ঝুঁকি।

কিডনি আমাদের দেহের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমাদের দেহ থেকে যাবতীয় টক্সিন বের করে দিতে প্রধান ভূমিকা নেয় কিডনি। কিডনির কোনও সমস্যা হলে গোটা দেহের ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ঠিকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দেয়। বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা থেকেই কিডনির সমস্যা হতে পারে, কিন্তু বর্তমানে কিডনির ক্যানসার খুবই প্রচলিত একটি রোগ হয়ে উঠেছে। পরিসংখ্যান বলছে, সারা বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় তিন লক্ষেরও বেশি মানুষ কিডনির ক্যানসারে আক্রান্ত হয়। জিনগতভাবেও কিডনির ক্যানসার হতে পারে।

যে পরিবারে আগে কেউ কিডনির রোগ বা ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন, সেই পরিবারে এই রোগ হওয়ার আশঙ্কা প্রায় ২৫ গুণ বেশি। একে বলে ক্লিয়ার সেল কার্সিনোমা। বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মহিলাদের থেকেও পুরুষরা এই রোগের শিকার হয় বেশি। এর একটা বড় কারণ বিশ্বজুড়ে মহিলাদের থেকে পুরুষদের ধূমপানের প্রবণতা বেশি।

আরও পড়ুন: এবার ওষুধেই সারবে ক্যানসার! ঐতিহাসিক আবিষ্কারের পিছনে কারা?

কিডনির ক্যানসারের খুঁটিনাটি
রেনাল সেল কার্সিনোমা বা আর সি সির চারটি স্তর রয়েছে। যদি ক্যানসার তিন নম্বর স্তর পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে দুশ্চিন্তার তেমন কোনও কারণ নেই। এই স্তরগুলিতে ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণ সাধারণভাবে কিডনির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। এই ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের সাহায্যে আংশিকভাবে কিডনির যে অংশটি আক্রান্ত হয়েছে, সেটি বাদ দিয়ে দিলে রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। আবার অনেক সময় সম্পূর্ণ কিডনিও বাদ দিতে হয়। সেক্ষেত্রে ল্যাপ্রোস্কোপিক পদ্ধতিতে বা রোবোটিক পদ্ধতিতে এই অপারেশন খুব সহজভাবেই হয়।

কী কী কারণে হতে পারে কিডনির ক্যানসার?

ধূমপান: গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নিয়মিত ধূমপান কিডনির ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। যে ব্যক্তি নিয়মিত সিগারেট খান না, তার থেকে যিনি চেন স্মোকার, তাঁর কিডনির ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই বেশি থাকে।

বয়সজনিত সমস্যা: অল্পবয়স্কদের থেকে বয়স্কদেরই কিডনির ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সাধারণভাবে ৫০ থেকে ৭০ বছরের মধ্যেই এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে।

ওবেসিটি বা মেদজনিত সমস্যা: ওবেসিটি এমনিই বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে অনুঘটকের ভূমিকা নেয়। ফলে যাদের ওবেসিটির সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কিডনির ক্যানসারের ঝুঁকি অন্যান্যদের থেকে অনেকটাই বেশি থাকে।

হাইপারটেনশন: এমনিই হাইপারটেনশন থেকে উচ্চ-রক্তচাপজনিত বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়াও হার্টের বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয় হাইপারটেনশন থেকে। শুধু তাই নয়, কিডনির ক্যানসারেরও কারণ হিসেবে কাজ করে হাইপারটেনশন।

কিডনির সমস্যা: কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কিডনির ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই বেশি থাকে। যেসব ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ডায়ালিসিস করান, তাঁদের ক্ষেত্রে কিডনির ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

পারিবারিক সূত্রে কিডনির সমস্যা: কিডনির ক্যানসার জিনগতভাবেও হয়ে থাকে। যাঁদের পারিবারিক সূত্রে কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে কিডনির ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি থাকে।

কিডনির ক্যানসারের প্রতিকার কী?

ধূমপান ত্যাগ: নিয়মিত ধূমপান যেহেতু কিডনির ক্যানসারের দিকে ঠেলে দেয়, তাই কিডনির ক্যানসারের হাত থেকে রেহাই পেতে অবিলম্বে ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

সুস্থ ডায়েট: ওবেসিটি এবং কিডনির সমস্যা এড়াতে সময় মেনে সঠিক পুষ্টির খাবার খেতে হবে। নিয়মিত যোগব্যায়ামও এক্ষেত্রে ভীষণ উপকারী।

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: যাঁদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা আছে, তাঁদের নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা জরুরি। নইলে উচ্চ রক্তচাপ থেকে শুধু কিডনির ক্যানসার নয়, আরও অন্যান্য রোগও হতে পারে।

নিয়মিত রুটিন চেক আপ: বহুক্ষেত্রেই দেখা যায় অন্যান্য ক্যানসারের মতোই কিডনির ক্যানসারও শেষ পর্যায়ে ধরা পরে। এই কারণেই সামান্য কোনও উপসর্গ দেখা দিলেই ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

 

More Articles

;