বাংলাদেশের এক 'হত্যাকারী' সম্পর্কে কেন বিতর্ক উস্কে দিলেন মমতা?

Mamata Banerjee: কেন ফের বিতর্কের কেন্দ্রে বাংলাদেশের আলোচিত হত্যাকাণ্ড? কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করছেন যে পশ্চিমবঙ্গে ধরা পড়া অভিযুক্তদের বিষয়ে তাঁকে চুপ থাকতে বলেছিলেন অমিত শাহ? এই মামলায় কারা জড়িত ছিল, আর কেনই বা নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে বাংলাদেশের বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ড?

Tanvia Barua
৫ মিনিট
বাংলাদেশের এক 'হত্যাকারী' সম্পর্কে কেন বিতর্ক উস্কে দিলেন মমতা?

তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোড়ন তৈরি হয়েছে ভারত ও বাংলাদেশ, দুই দেশেই। ২ জুন ধর্ণামঞ্চ থেকে তিনি দাবি করেছেন, বাংলাদেশের একটি বহুল আলোচিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এক অভিযুক্তকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ) গ্রেফতার করেছিল। কিন্তু সেই ঘটনার তদন্তে উঠে আসা কিছু তথ্য প্রকাশ্যে না আনার জন্য তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

কলকাতার ধর্মতলায় ওয়াই-চ্যানেলে ধর্নায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,

“বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে এসটিএফ অ্যারেস্ট করেছিল জেনে রাখুন। যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক রেভল্যুশন হয়েছিল। অন্য দেশের কথা আমি বলছি না, আমার সেই অধিকার নেই। কিন্তু আমার মুখ্য বক্তব্য হলো, তারা মেঘালয় দিয়ে বাংলায় চলে আসে। তখন আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে।”

মমতার কথায়, তদন্তের সময় এমন কিছু তথ্য সামনে এসেছিল যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন,

“কাকে দিয়ে খুন করিয়েছিলেন? কার কার নাম বেরিয়েছিল? আজ গভর্নমেন্ট চেঞ্জ হলেও আমি তো সবটাই জানি। আমার হৃদয়টাই একটা কথা ভাণ্ডার, তথ্য ভাণ্ডার, সত্য ভাণ্ডার।”

মমতার দাবি, ওই ঘটনার পর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। মমতার বক্তব্য অনুযায়ী,

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলাদেশ গণঅভ্যুত্থান থেকে রাজনীতিতে আসা ওসমান হাদি কে?

Osman Hadi: ব্যক্তিগত জীবনে শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন একজন শিক্ষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন।

“হোম মিনিস্টার নিজে আমাকে ফোন করে বলেন, আপনি বেঙ্গল পুলিশকে বলে দিন এই কথা যেন বাইরে না যায়। এটা দেশের স্বার্থে।”

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বক্তব্যে কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট ঘটনার নাম উল্লেখ করেননি। কিন্তু তিনি যে কয়েকটি সূত্র দিয়েছেন, তা থেকেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে তিনি বলেছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বাংলাদেশ থেকে মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছিল এবং পরে এসটিএফ তাকে গ্রেফতার করে। এই তথ্যের ভিত্তিতে ওয়াকিবহল মহল মনে করছেন, তিনি সম্ভবত শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গই তুলেছেন।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে এই হত্যাকাণ্ডটি অত্যন্ত আলোচিত একটি ঘটনা। সেই ঘটনার তদন্ত, অভিযুক্তদের পরিচয় এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক যোগসূত্র নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য নতুন করে পুরনো প্রশ্নগুলিকে সামনে নিয়ে এসেছে।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির উপর হামলার ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর, ঢাকার পল্টন এলাকার বক্স কালভার্ট রোডে। সেদিন জুম্মার নামাজ শেষে তিনি একটি রিকশায় করে যাচ্ছিলেন। দুপুর প্রায় ২টা ২৫ মিনিট নাগাদ একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই হামলাকারী তাঁর রিকশার কাছে এসে গুলি চালায়। পুলিশের দাবি, মোটরসাইকেলের পেছনে বসা ব্যক্তি খুব কাছ থেকে হাদির মাথায় গুলি করে। পুরো ঘটনাটি আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সিঙ্গাপুরে তাঁর মৃত্যু হয়। তাঁর মৃত্যুর পর বাংলাদেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ, অবরোধ এবং সহিংসতার ঘটনা ঘটে। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান।

তদন্তকারীদের বাংলাদেশের পুলিশ দাবি করে, হাদি হত্যা মামলার দুই প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের পর মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে আসে। ২০২৬ সালের মার্চে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে এসটিএফ। পরে তদন্তে ফিলিপ সাংমা নামে এক সীমান্ত-দালালের নামও সামনে আসে, যিনি অভিযুক্তদের ভারতে প্রবেশে সহায়তা করেছিলেন বলে অভিযোগ।

বাংলাদেশ পুলিশের তদন্তে দাবি করা হয়েছে, শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং এর পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার উদ্দেশ্য কাজ করেছিল। তদন্তকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, হাদি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের জনপরিসরে দ্রুত প্রভাবশালী হয়ে উঠছিলেন। জুলাই-পরবর্তী আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন এবং একাধিক বিতর্কিত বিষয়ে সরব অবস্থান নিয়েছিলেন। সেই কারণেই তাঁকে টার্গেট করা হতে পারে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
হাদি হত্যার দুই সহযোগী গ্রেফতার মেঘালয়ে! কী পরিচয় তাদের?

Sharif Osman Hadi Case: পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফিলিপ পাল ও সঞ্জয় নামে দুই ভারতীয় নাগরিক প্রথমে তাদের আশ্রয় দেয়। এরপর তাদের মেঘালয়ের টুরা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের দাখিল করা চার্জশিটে ১৭ জনের নাম উঠে আসে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, হামলার পরিকল্পনা, অর্থ জোগান এবং ঘাতকদের পালিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা—সবই একটি সুসংগঠিত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে করা হয়েছিল। চার্জশিটে অভিযোগ করা হয়, এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে তৎকালীন ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক বলয়ের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তি যুক্ত ছিলেন।

তবে অভিযুক্তদের আইনজীবী এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক শিবির শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, তদন্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার জন্য একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে হত্যাকাণ্ডের রাজনৈতিক যোগসূত্র নিয়ে এখনও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। আদালতে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তদন্তকারীদের দাবি ও অভিযুক্তদের অস্বীকার—দুই পক্ষের বক্তব্যই সমানভাবে বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

এই কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তদন্ত চলাকালীন কিছু নাম উঠে এসেছিল, যেগুলি জনসমক্ষে আসেনি। ফলে হাদি হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, সীমান্তপারের যোগাযোগ এবং তদন্তের অপ্রকাশিত তথ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

তবে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল নেত্রী স্পষ্টভাবে জানাননি তিনি ঠিক কোন হত্যাকাণ্ডের কথা বলছিলেন। তাঁর বক্তব্যে এমন কোনো নামও নেই, যা থেকে নির্দিষ্টভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়। কিন্তু রাজনৈতিক ভাষণের মধ্যেই তিনি এমন ইঙ্গিত রেখে গিয়েছেন, যা দুই দেশের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু করে দিয়েছে।

ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, যদি সত্যিই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কোনো নাম উঠে এসে থাকে, তাহলে সেই তথ্য এতদিন প্রকাশ্যে এল না কেন? আবার অন্য একটি অংশের মত, কোনো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য বা সরকারি নথি ছাড়া শুধুমাত্র রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো উচিত নয়।

ভারতের রাজনৈতিক মহলেও এই মন্তব্যের তাৎপর্য কম নয়। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করে দাবি করেছেন, তাঁকে তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ না করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এই অভিযোগ সত্য হলে তা কেন্দ্র ও রাজ্যের প্রশাসনিক সম্পর্ক, নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাজের ধরন এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ তদন্তের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

অবশ্য কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অমিত শাহ বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকও মমতার অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেনি। ফলে অভিযোগ এবং পাল্টা ব্যাখ্যার মধ্যবর্তী একটি ধূসর ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে, যেখানে জল্পনাই আপাতত সবচেয়ে বেশি।

এই প্রসঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে উঠে এসেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি মেঘালয় হয়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছিল। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাছে একটি সংবেদনশীল এলাকা। বিভিন্ন সময়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, পাচার, অপরাধী চক্রের গতিবিধি এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। ফলে তৃণমূল নেত্রীর মন্তব্য সেই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটকেও নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, একে ‘পলিটিক্স অফ ব্ল্যাকমেলিং’-এর কৌশল হিসেবেও দেখা যেতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে ‘তথ্য ভাণ্ডার’ বা ‘সত্য ভাণ্ডার’-এর অধিকারী হিসেবে তুলে ধরছেন। এর মাধ্যমে তিনি যেন এই বার্তাই দিতে চাইছেন, তাঁর কাছে এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি এবং প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে তিনি সেগুলিকে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন।

এটি অবশ্য প্রথমবার নয়। এর আগেও তিনি দাবি করেছিলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অনুরোধে নিউটাউন এলাকায় বহু বাংলাদেশি নাগরিককে রাখা হয়েছিল। সেই মন্তব্যও রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।

তবে বাস্তবতা হলো, এখনও পর্যন্ত এই পুরো বিতর্ক অনুমান এবং ইঙ্গিতের উপর দাঁড়িয়ে আছে। কোনো সরকারি তদন্ত রিপোর্ট, আদালতের নথি বা প্রশাসনিক তথ্য সামনে আসেনি। ফলে মমতার বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে যতই তাৎপর্যপূর্ণ হোক না কেন, তার পূর্ণ সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আরও তথ্য প্রয়োজন।

লিখেছেন
Tanvia Barua
Tanvia Barua
7 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে কপিল সিব্বল, প্রশান্ত ভূষণ: ১,০০০-র বেশি আটক, দায়ের ৩ মামলা

Jantar Mantar protest: এসআইআর-এর প্রতিবাদে ১,০০০-র বেশি মানুষকে আটক করা হলো। কেন তিনটি এফআইআর দায়ের করল দিল্লি পুলিশ?

এসআইআর বিক্ষোভ: ২ অক্টোবর গান্ধী যেভাবে ফিরে এলেন

Gandhi Jayanti 2026: সত্যাগ্রহ, অহিংসা, অসহযোগ ও আইন অমান্য আন্দোলনের যে রাজনৈতিক ভাষা গান্ধী তৈরি করেছিলেন, তা স্বাধীনতার পরও ভারতের প্রতিবাদ রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছে। এসআইআর-বিরোধী আন্দোলন কীভাবে সেই উত্তরাধিকারকেই নতুন ভাবে সামনে আনল?

ওমান এয়ার থেকে বাদ পড়েও কীভাবে হামাম আল-হাম্মামি পেলেন ফ্লাইদুবাইয়ের উড়ানের ছাড়পত্র?

Hamam al-Hammami Flydubai: ঘটনার পর হামামের সমাজমাধ্যমের পাতাগুলি মুছে ফেলা হলেও ফরেনসিক তদন্তে তাঁর চরমপন্থী মানসিকতার ভয়াবহ ছবি বেরিয়ে এসেছে। ২০২১ ও ২০২২ সালের মধ্যে করা প্রায় তিন হাজার মুছে ফেলা টুইট বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দেখেছে, চরম নারীবিদ্বেষ এবং ধর্মান্ধতায় আচ্ছন্ন ছিলেন তিনি।

জ্ঞানেশ বিরোধী আন্দোলন কোথায় কোথায় সংক্রমিত হলো?

Gyanesh Kumar resignation: ২ অক্টোবর গান্ধীজয়ন্তীতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কোথায় কোথায় ছড়িয়ে পড়ল প্রতিবাদ?

গান্ধীর পথেই ‘জেল ভরো’: SIR-বিরোধী আন্দোলনে কতটা প্রাসঙ্গিক সত্যাগ্রহ?

CJP and the Gandhian method of Jail bhoro: ২রা অক্টোবর, ২০২৬, গান্ধীজয়ন্তীতে মুম্বাইয়ের শিবাজী পার্কে ‘জেল ভরো’ ঘোষণা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি। তাঁদের দাবি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, এসআইআর স্থগিত করে জানুয়ারি ২০২৫-এর তালিকা বহাল, এবং কমিশনার নিয়োগে স্বচ্ছতা। সাতটি রাজ্যে এই প্রতিবাদী সফরের পর মাসের শেষে, ককরোচরা পৌঁছাবে যন্তর মন্তরে। মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী, সমর্থন জানিয়েছেন ককরোচদের।

যৌনকর্মীদের প্রসঙ্গে যা ভাবতেন গান্ধী

Mahatma Gandhi: গান্ধীর রাজনৈতিক দর্শনে নারীর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাঁর নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক নারী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেন। চরকা, খাদি, সত্যাগ্রহ, অহিংসা এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়। গান্ধীর নেতৃত্বে নারীরা জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে বড় পরিসরে যুক্ত ছিল, যৌনকর্মীদের ক্ষেত্রে কি তাঁর অবস্থান একই ছিল?

যন্তর মন্তর বিক্ষোভ: অতিশী-বৃন্দা কারাত-সহ আটক ১১০০

Gyanesh Kumar resignation: দিল্লিতে যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার বিভিন্ন রাস্তা সকাল থেকেই ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলে পুলিশ। টলস্টয় মার্গ, জনপথ রোড এবং সংসদ মার্গে ছিল কড়া নজরদারি। নতুন দিল্লি জেলায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। এর ফলে অনুমতি ছাড়া পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। পরিস্থিতির প্রভাব পড়ে দিল্লি মেট্রোতেও। রাজীব চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, জনপথ, প্যাটেল চক এবং মাণ্ডি হাউস-সহ অন্তত ১২টি মেট্রো স্টেশনে পরিষেবা বন্ধ বা নিয়ন্ত্রিত করা হয়।

গান্ধীর ছাতার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে কারিগরের ইতিহাস

Mahatma Gandhi umbrella: গান্ধীর ছাতা কীভাবে স্বদেশি ভাবনা, দেশীয় উপকরণ ও কারিগরের শ্রমের ইতিহাস তুলে ধরে? আধুনিক বাজারে সস্তা ও যন্ত্রনির্মিত ছাতার দাপটে ঐতিহ্যবাহী ছাতা তৈরি ও মেরামতির কারিগরি জ্ঞান হারিয়ে যাচ্ছে?