হাদি হত্যার দুই সহযোগী গ্রেফতার মেঘালয়ে! কী পরিচয় তাদের?
Sharif Osman Hadi Case: পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফিলিপ পাল ও সঞ্জয় নামে দুই ভারতীয় নাগরিক প্রথমে তাদের আশ্রয় দেয়। এরপর তাদের মেঘালয়ের টুরা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ঢাকায় শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করীম মাসুদ এবং তার সহযোগী আলমগীর শেখ ঘটনার পরপরই বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যায় বলে দাবি করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে তারা সীমান্ত পেরিয়ে আত্মগোপনে চলে যায় বলেও জানায় তারা। মেঘালয় পুলিশ হাদির হত্যাকারীর দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে।
ডিএমপি জানায়, হত্যার পর ফয়সাল ও আলমগীর প্রথমে ঢাকার ভেতরেই অবস্থান বদল করতে থাকে। তারা একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে বাংলাদেশের আমিনবাজার পর্যন্ত যায়। সেখান থেকে একটি প্রাইভেট গাড়িতে বাংলাদেশের কলাম্পুর পৌঁছায়। এরপর তারা ময়মনসিংহ সীমান্তের দিকে রওনা দেয়। পুলিশের দাবি, বৈধ কোনো পথ ব্যবহার না করে তারা সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে।
তদন্তে উঠে এসেছে, সীমান্ত পার হওয়ার ক্ষেত্রে ফয়সাল ও আলমগীর একা ছিল না। ভারতীয় কয়েকজন নাগরিক তাদের এই পালিয়ে যাওয়ার কাজে সহায়তা করে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ফিলিপ পাল ও সঞ্জয় নামে দুই ভারতীয় নাগরিক প্রথমে তাদের আশ্রয় দেয়। এরপর তাদের মেঘালয়ের টুরা এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পুরতি নামে আরেক ব্যক্তির সাথে তাদের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়। পরে সামি নামের এক ব্যক্তি গাড়িতে করে তাদের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় নিয়ে যায়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Osman Hadi: ব্যক্তিগত জীবনে শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন একজন শিক্ষক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করতেন।
বাংলাদেশ পুলিশ জানায়, মেঘালয় পুলিশ ওই দু'জনকে গ্রেফতার করেছে। দুই দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমেই এই গ্রেফতার সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত ফয়সাল ও আলমগীর এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।
এই হত্যাকাণ্ডটি নিছক ব্যক্তিগত শত্রুতার ফল নয় বলেই মনে করছে পুলিশ। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে জানা গিয়েছে, এর পেছনে রাজনৈতিক প্ররোচনা থাকতে পারে। যদিও তদন্তের স্বার্থে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করছে না পুলিশ, তবে তারা বলছে, ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং ঠান্ডা মাথায় করা।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Bangladesh NCP crisis: একদিকে নীতিগত অবস্থান নিয়ে দ্বন্দ্ব, অন্যদিকে প্রার্থী বাছাই ও জোট রাজনীতির কৌশল নিয়ে অসন্তোষ— এই দুই মিলেই এনসিপিকে একটি দ্বিমুখী সংকটে ফেলেছে।
এখন পর্যন্ত এই মামলায় ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। আরও চারজন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। পুলিশ বলছে, এই স্বীকারোক্তি ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই হত্যাকাণ্ডের পুরো চিত্র ধীরে ধীরে পরিষ্কার হচ্ছে। কে কী ভূমিকা পালন করেছে, কারা পরিকল্পনায় ছিল এবং কারা সরাসরি হত্যায় যুক্ত ছিল, সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডিএমপি আরও জানায়, তদন্ত এখন শেষ পর্যায়ে। আগামী সাত থেকে দশ দিনের মধ্যেই মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হতে পারে। পুলিশ আশাবাদী, প্রমাণের ভিত্তিতেই তারা অভিযোগপত্র জমা দিতে পারবে।
এই ঘটনাটি নতুন করে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ড-সহ নানা ধরনের সহিংস অপরাধ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সংঘটিত খুনের ঘটনা সমাজে ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করছে।
এই ঘটনায় ভারতীয় নাগরিকদের গ্রেফতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা একটাই, এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত দায়ীরা যেন আইনের আওতায় আসে এবং কোনোভাবেই যেন অপরাধ করে পার পাওয়ার সংস্কৃতি তৈরি না হয়। এখন দেখার বিষয়, তদন্তের শেষ পর্যায়ে এসে পুলিশ কতটা সফলভাবে এই মামলার পরিণতি টানতে পারে।






