লোকসভা ভোটেও বাংলায় কৃষ্ণের ভূমিকাতেই প্রশান্ত কিশোর? কোন পথে আইপ্যাক?

Lok Sabha Election 2024: শোনা গিয়েছে, লোকসভা ভোটের আগে নাকি ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি তথা আইপ্যাকের কাজ করার ধরন অনেকটাই বদলেছে।

Sohini Das
৩ মিনিট
লোকসভা ভোটেও বাংলায় কৃষ্ণের ভূমিকাতেই প্রশান্ত কিশোর? কোন পথে আইপ্যাক?

ইতিমধ্যেই লোকসভা ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে দেশে। আর বেশি দেরি নেই। প্রায় সব কটি রাজনৈতির দলেরই ব্যস্ততা তুঙ্গে। দেশ জুড়ে নানা কর্মসূচী, প্রচার। তবে এখন আর ভোট শুধু রাজনৈতিক দল আর জনগণের মধ্যে। এই ভোটযজ্ঞের মধ্যেই রয়েছে আরও একটি পক্ষ। যারা কার্যত ঠিক করে দেয় ভোটনৌকার গতি ও গন্তব্য। কথা বলছি ভোটকুশলীদের নিয়ে। এখনও পর্যন্ত যে রাজ্যে যে দলের হয়ে ভোটকুশলীর কাজ করেছেন প্রশান্ত কিশোর ও তার সংস্থা আইপ্যাক, সেই দলের ভোট ফস্কায়নি কোনওদিনও। ফলে লোকসভা ভোটের কুরুক্ষেত্রে কৃষ্ণের মতোই পিকে কোন দিকে থাকছেন, তা যথেষ্ট জরুরি।

ইতিমধ্যেই সেই নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে রীতিমতো জল্পনা কল্পনা। ২০২১-র নির্বাচনেই ভোটকৌশলের জন্য বেশ চর্চায় এসে পড়ে পিকের সংস্থা। পিকে-ফর্মুলা নিয়ে সেই আলোচনা বঙ্গ রাজনীতির সীমানা পেরিয়ে পৌঁছয় জাতীয় ময়দানেও। শোনা গিয়েছে, লোকসভা ভোটের আগে নাকি ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি তথা আইপ্যাকের কাজ করার ধরন অনেকটাই বদলেছে। ফিল্ড ওয়ার্কের ক্ষেত্রে নাকি বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে সংস্থায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
প্রশান্ত কিশোর নন, এই চাণক্যই তেলঙ্গানা তুলে দিল কংগ্রেসের হাতে

Sunil Kanugolu: জাতীয় রাজনীতির নয়া চাণক্য বললেও ভুল হবে না খুব। যিনি সঙ্গে থাকলে হয়তো কংগ্রেসকে ঠেকানো কঠিন হত কর্ণাটক, ছত্তীসগঢ় বা রাজস্থানেও, এমনটাই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

গোড়া থেকেই ফিল্ড ওয়ার্কের জন্যই বিখ্যাত এই ভোটকুশলী সংস্থাটি। কোন রাজনীতিকের ইতিহাস কেমন, কোথায় কার জনসংযোগ বেশি, সমস্ত হাঁড়ির খবর রীতিমতো ময়দানে নেমে জোগাড় করে আনত তারা। দলের বিভিন্ন কর্মসূচী থেকে স্লোগান তৈরি, সমস্ত কাজই করে আইপ্যাক। যতদূর জানা যাচ্ছে, ২০২৬ সাল পর্যন্ত তৃণমূলের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে আইপ্যাকের। সেই চুক্তি কি শুধুই বিধানসভা ভোটের, নাকি একই সঙ্গে লোকসভা ভোটেরও, পরিষ্কার নয়। ফলে লোকসভা ভোটের আগেও যে তৃণমূলের সারথী হিসেবেই দেখা যেতে চলেছে পিকে-কে, তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। যদিও মাঝখানে আইপ্যাক ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রশান্ত কিশোর। তবে তাই বলে আইপ্যাকের সঙ্গে যে সম্পর্ক তার একেবারে ঘুচে গিয়েছে তা বলা যায় না। কারণ গত সপ্তাহেই রাজ্যে এসেছিলেন পিকে। সেসময় আইপ্যাকের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
একমাত্র এই চালেই পরাজিত হতে পারে বিজেপি, যে উপায় বাতলে দিলেন প্রশান্ত কিশোর

Prasant Kishor on BJP Defeat : বছর গেলেই ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের মহারণ। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক দলগুলিও নিজেদের নীল নকশা তৈরি করে নিচ্ছে।

তবে জানা গিয়েছে, এখন নাকি কাজের ধরনে অনেকটাই বদল এনেছে আইপ্যাক। তারা ময়দানে নেমে কাজ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। জেলাস্তর মহলে খবর, ক্ষেত্রসমীক্ষায় জায়গা ক্রমশ কমিয়ে আনছে আইপ্যাক। আইপ্যাক অর্থাৎ ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর যার সঙ্গে, তাঁর জয় একপ্রকার অনিবার্য, এমনই একটা ভাবনাচিন্তা কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতির অন্দরে। এই যে অটল বিশ্বাস বা খ্যাতি, তার মূলে কিন্তু ছিল আইপ্যাকের কাজের পদ্ধতিই। ফলে তাদের কাজের ধরনে এই বদলের জন্য বিভিন্ন মহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর সমালোচনা।

কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, ইদানীং নাকি জরুরি লোকসভা কেন্দ্রগুলিতে তেমন ভাবে দেখা যাচ্ছে না আইপ্যাকের কর্মীদের। গ্রাউন্ড ওয়ার্ক কার্যত অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছেন তারা। যে যে লোকসভা কেন্দ্রে বর্তমান যাঁরা সাংসদ, তাদের সম্পর্কে খবরাখবর নিতে মাঠে সেভাবে দেখা যাচ্ছে না পিকে-বাহিনীকে। তবে অন্য কোনও ব্রহ্মাস্ত্র আস্তিনের তলায় গুটিয়ে রেখেছে আইপ্যাক। স্বাভাবিক ভাবেই ব্যাপারটা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা জোরদার। যদিও এ ব্যাপারে আইপ্যাকের তরফে কিছু জানা যায়নি।

কিছুদিন আগেই বাংলা থেকে ঘুরে গিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। স্বাভাবিক ভাবেই আইপ্যাকের অফিসেও যান। সেখানে আইপ্যাকের কর্তাদের সঙ্গেও বৈঠকও করেন তিনি। তবে কি পলিসি ও কাজের প্রক্রিয়া বদল নিয়েও আলোচনা হয়েছে তাঁদের? যদিও সূত্রের খবর, সেই বৈঠক ছিল মূলত বিহারকেন্দ্রীক। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের জয়ের নেপথ্যে যে আইপ্যাক ও পিকের বড় ভূমিকা ছিলই, তা বোধহয় অস্বীকার করার নয়। এবার লোকসভা ভোটের আগেও কি তৃণমূলের রথের রশি থাকবে পিকে-র হাতেই। কোন দায়িত্ব সামলাতে চলেছে আইপ্যাক। তা অবশ্য এখনই পরিষ্কার নয়।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।