লোকসভা ভোটেও বাংলায় কৃষ্ণের ভূমিকাতেই প্রশান্ত কিশোর? কোন পথে আইপ্যাক?
Lok Sabha Election 2024: শোনা গিয়েছে, লোকসভা ভোটের আগে নাকি ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি তথা আইপ্যাকের কাজ করার ধরন অনেকটাই বদলেছে।

ইতিমধ্যেই লোকসভা ভোটের দামামা বেজে গিয়েছে দেশে। আর বেশি দেরি নেই। প্রায় সব কটি রাজনৈতির দলেরই ব্যস্ততা তুঙ্গে। দেশ জুড়ে নানা কর্মসূচী, প্রচার। তবে এখন আর ভোট শুধু রাজনৈতিক দল আর জনগণের মধ্যে। এই ভোটযজ্ঞের মধ্যেই রয়েছে আরও একটি পক্ষ। যারা কার্যত ঠিক করে দেয় ভোটনৌকার গতি ও গন্তব্য। কথা বলছি ভোটকুশলীদের নিয়ে। এখনও পর্যন্ত যে রাজ্যে যে দলের হয়ে ভোটকুশলীর কাজ করেছেন প্রশান্ত কিশোর ও তার সংস্থা আইপ্যাক, সেই দলের ভোট ফস্কায়নি কোনওদিনও। ফলে লোকসভা ভোটের কুরুক্ষেত্রে কৃষ্ণের মতোই পিকে কোন দিকে থাকছেন, তা যথেষ্ট জরুরি।
ইতিমধ্যেই সেই নিয়ে শুরু হয়ে গিয়েছে রীতিমতো জল্পনা কল্পনা। ২০২১-র নির্বাচনেই ভোটকৌশলের জন্য বেশ চর্চায় এসে পড়ে পিকের সংস্থা। পিকে-ফর্মুলা নিয়ে সেই আলোচনা বঙ্গ রাজনীতির সীমানা পেরিয়ে পৌঁছয় জাতীয় ময়দানেও। শোনা গিয়েছে, লোকসভা ভোটের আগে নাকি ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি তথা আইপ্যাকের কাজ করার ধরন অনেকটাই বদলেছে। ফিল্ড ওয়ার্কের ক্ষেত্রে নাকি বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে সংস্থায়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Sunil Kanugolu: জাতীয় রাজনীতির নয়া চাণক্য বললেও ভুল হবে না খুব। যিনি সঙ্গে থাকলে হয়তো কংগ্রেসকে ঠেকানো কঠিন হত কর্ণাটক, ছত্তীসগঢ় বা রাজস্থানেও, এমনটাই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
গোড়া থেকেই ফিল্ড ওয়ার্কের জন্যই বিখ্যাত এই ভোটকুশলী সংস্থাটি। কোন রাজনীতিকের ইতিহাস কেমন, কোথায় কার জনসংযোগ বেশি, সমস্ত হাঁড়ির খবর রীতিমতো ময়দানে নেমে জোগাড় করে আনত তারা। দলের বিভিন্ন কর্মসূচী থেকে স্লোগান তৈরি, সমস্ত কাজই করে আইপ্যাক। যতদূর জানা যাচ্ছে, ২০২৬ সাল পর্যন্ত তৃণমূলের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে আইপ্যাকের। সেই চুক্তি কি শুধুই বিধানসভা ভোটের, নাকি একই সঙ্গে লোকসভা ভোটেরও, পরিষ্কার নয়। ফলে লোকসভা ভোটের আগেও যে তৃণমূলের সারথী হিসেবেই দেখা যেতে চলেছে পিকে-কে, তা এখনও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। যদিও মাঝখানে আইপ্যাক ছাড়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রশান্ত কিশোর। তবে তাই বলে আইপ্যাকের সঙ্গে যে সম্পর্ক তার একেবারে ঘুচে গিয়েছে তা বলা যায় না। কারণ গত সপ্তাহেই রাজ্যে এসেছিলেন পিকে। সেসময় আইপ্যাকের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও করেন তিনি।

- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Prasant Kishor on BJP Defeat : বছর গেলেই ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের মহারণ। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক দলগুলিও নিজেদের নীল নকশা তৈরি করে নিচ্ছে।
তবে জানা গিয়েছে, এখন নাকি কাজের ধরনে অনেকটাই বদল এনেছে আইপ্যাক। তারা ময়দানে নেমে কাজ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। জেলাস্তর মহলে খবর, ক্ষেত্রসমীক্ষায় জায়গা ক্রমশ কমিয়ে আনছে আইপ্যাক। আইপ্যাক অর্থাৎ ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর যার সঙ্গে, তাঁর জয় একপ্রকার অনিবার্য, এমনই একটা ভাবনাচিন্তা কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতির অন্দরে। এই যে অটল বিশ্বাস বা খ্যাতি, তার মূলে কিন্তু ছিল আইপ্যাকের কাজের পদ্ধতিই। ফলে তাদের কাজের ধরনে এই বদলের জন্য বিভিন্ন মহলে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর সমালোচনা।
কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, ইদানীং নাকি জরুরি লোকসভা কেন্দ্রগুলিতে তেমন ভাবে দেখা যাচ্ছে না আইপ্যাকের কর্মীদের। গ্রাউন্ড ওয়ার্ক কার্যত অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছেন তারা। যে যে লোকসভা কেন্দ্রে বর্তমান যাঁরা সাংসদ, তাদের সম্পর্কে খবরাখবর নিতে মাঠে সেভাবে দেখা যাচ্ছে না পিকে-বাহিনীকে। তবে অন্য কোনও ব্রহ্মাস্ত্র আস্তিনের তলায় গুটিয়ে রেখেছে আইপ্যাক। স্বাভাবিক ভাবেই ব্যাপারটা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা জোরদার। যদিও এ ব্যাপারে আইপ্যাকের তরফে কিছু জানা যায়নি।
কিছুদিন আগেই বাংলা থেকে ঘুরে গিয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। স্বাভাবিক ভাবেই আইপ্যাকের অফিসেও যান। সেখানে আইপ্যাকের কর্তাদের সঙ্গেও বৈঠকও করেন তিনি। তবে কি পলিসি ও কাজের প্রক্রিয়া বদল নিয়েও আলোচনা হয়েছে তাঁদের? যদিও সূত্রের খবর, সেই বৈঠক ছিল মূলত বিহারকেন্দ্রীক। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের জয়ের নেপথ্যে যে আইপ্যাক ও পিকের বড় ভূমিকা ছিলই, তা বোধহয় অস্বীকার করার নয়। এবার লোকসভা ভোটের আগেও কি তৃণমূলের রথের রশি থাকবে পিকে-র হাতেই। কোন দায়িত্ব সামলাতে চলেছে আইপ্যাক। তা অবশ্য এখনই পরিষ্কার নয়।







