‘দাবাং’ প্রশান্ত বর্মনের ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে কেন প্রশ্নের মুখে পুলিশ?
Prashant Barman: প্রশান্ত বর্মনকে চার মাস ধরে খুঁজে পাচ্ছিল না পুলিশ, ইকোপার্কের দুর্ঘটনার পর সাধারণ মানুষ কীভাবে তাঁকে ধরে ফেললেন? মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগ, ভাইরাল ভিডিয়ো আর পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা ঘিরে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন। তবে কি প্রশাসনের চেয়ে এখন বেশি সক্রিয় সাধারণ মানুষই?
নিউটাউনের ইকোপার্ক এলাকায় একটি গাড়ি দুর্ঘটনার পর ফের আলোচনায় উঠে এসেছে 'দাবাং' প্রশান্ত বর্মনের নাম। যাঁকে গত কয়েক মাস ধরে 'ফেরার' বলে দাবি করছিল তদন্তকারীরা, সেই প্রাক্তন বিডিওকেই এবার প্রকাশ্যে দেখতে পাওয়া গেল দুর্ঘটনার ঘটনায়। অভিযোগ, মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে তিনি এক পথচারীকে ধাক্কা মারেন। আহত হন ওই ব্যক্তি। ঘটনার পরের ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
প্রশান্ত বর্মন একসময় রাজগঞ্জের বিডিও পদে কর্মরত ছিলেন। সল্টলেকের স্বর্ণব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যা খুন মামলায় নাম জড়ানোর পর থেকেই তিনি চর্চার কেন্দ্রে চলে আসেন। গত বছরের ২৯ অক্টোবর স্বপন কামিল্যাকে অপহরণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে। পরে নিউটাউনের যাত্রাগাছির খালধার থেকে উদ্ধার হয় তাঁর মৃতদেহ। সেই মামলায় অভিযুক্তদের তালিকায় উঠে আসে প্রশান্ত বর্মনের নামও। পরে তাঁকে ‘প্রাইম অ্যাকিউজড’ বা মূল অভিযুক্ত হিসেবেও উল্লেখ করা হয়।
প্রথমে তিনি আগাম জামিন পেলেও পরে কলকাতা হাইকোর্ট সেই নির্দেশ খারিজ করে দেয়। আদালত তাঁকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়। অভিযোগ, সেই নির্দেশ মানা হয়নি। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। পরে সুপ্রিম কোর্ট থেকেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ আসে। কিন্তু তারপর থেকেই তিনি কার্যত অধরাই ছিলেন বলে দাবি তদন্তকারীদের। এই ঘটনার পর তাঁকে রাজগঞ্জের বিডিও পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Bengal financial reports: কেন থমকে গেল পশ্চিমবঙ্গের উৎপাদনশীল অর্থনীতি? ‘কনজাম্পশন মডেল’-এর ফাঁদে পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি? বিভিন্ন সরকারি ও আর্থিক রিপোর্ট কী বলছে? কমে যাওয়া উৎপাদনশীল বিনিয়োগ কি রাজ্যের ভবিষ্যৎ অর্থনীতিকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে?
ঠিক এই পরিস্থিতির মধ্যেই নিউটাউনের ইকোপার্ক থানা এলাকায় ঘটে নতুন ঘটনা। অভিযোগ, প্রশান্ত বর্মন গাড়ি চালানোর সময় এক পথচারীকে ধাক্কা মারেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় মানুষজন তাঁকে ঘিরে ফেলেন। সেই সময়ের ভিডিয়ো এখন সমাজমাধ্যমে ভাইরাল। ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে, উপস্থিত এক ব্যক্তি পুলিশকে বারবার বলছেন প্রশান্ত বর্মনের মদ্যপ অবস্থার পরীক্ষা করতে। তাঁর দাবি ছিল, ব্রেথ অ্যানালাইজার দিয়ে পরীক্ষা করা হোক। কিন্তু সেই মুহূর্তে পুলিশের ভূমিকাই এখন বড় প্রশ্নের মুখে।
সমাজমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, যাঁকে চার মাস ধরে পুলিশ খুঁজে পাচ্ছিল না বলে দাবি করা হচ্ছিল, তাঁকে শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষই প্রকাশ্যে ধরে ফেললেন কীভাবে? এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের বক্তব্য, একজন সাধারণ নাগরিক যদি দুর্ঘটনার পর অভিযুক্তকে আটকে রাখতে পারেন, তাহলে এতদিন পুলিশ কেন পারেনি?
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Bikash Ranjan Bhattacharya: দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের হয়ে আদালতে দাঁড়ানো কি শুধুই একজন আইনজীবীর পেশাগত দায়িত্ব, নাকি এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে রাজনৈতিক আদর্শের প্রশ্নও? বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের ভূমিকাকে ঘিরে কেন ক্ষুব্ধ বাম সমর্থকদের একাংশ? আদর্শ বনাম পেশার এই বিতর্কে আসলে কোন বার্তা যাচ্ছে বাংলার রাজনীতিতে?
ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও সামনে আসতে শুরু করেছে। কেউ কেউ বলছেন, রাজ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে আইনের শাসনের চেয়ে সক্রিয় নাগরিকের ভূমিকা যেন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। আরজি কর হাসপাতালের ঘটনায় যেমন সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ বড় ভূমিকা নিয়েছিল, তেমনই এখানেও এক সাধারণ পথচারীর উদ্যোগে অভিযুক্তকে আটকে রাখা সম্ভব হয়েছে বলে মত অনেকের।
সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে ভাইরাল ভিডিয়ো ঘিরে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, উত্তেজিত জনতার পাশে পুলিশ তুলনামূলকভাবে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। উপস্থিত ব্যক্তি বারবার বলছেন, 'নেশা করেছে কিনা টেস্ট করুন।' কিন্তু ভিডিয়ো দেখে অনেকেরই প্রশ্ন, পুলিশ কি যথেষ্ট দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছিল? যদি প্রশান্ত বর্মন সেই সময় গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেন, তাহলে তাঁকে আটকানো যেত কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করছেন অনেকে।
তবে গোটা ঘটনায় আবারও উঠে এসেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং সাধারণ মানুষের
ক্ষোভের প্রশ্ন।






