১৫ দিন বাংলায় অমিত শাহ: রাজ্য বিজেপিতে ভরসা নেই?

Amit Shah West Bengal visit: বঙ্গ বিজেপির উপর কি সত্যিই আস্থা হারাচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব? কেন বাংলার ভোটে সরাসরি ময়দানে নামছেন অমিত শাহ? টার্গেট কমানো, বাড়তি কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ—এসবই কি কৌশল, নাকি অবিশ্বাসের ইঙ্গিত? ‌

inscript
৪ মিনিট
১৫ দিন বাংলায় অমিত শাহ: রাজ্য বিজেপিতে ভরসা নেই?

বঙ্গ বিজেপিকে কি সত্যিই ভরসা করতে পারছে না কেন্দ্রীয় বিজেপি? এই প্রশ্নটাই এখন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে। কারণ কিছু ঘটনা একসঙ্গে জুড়লে একটা স্পষ্ট ছবি তৈরি হচ্ছে, কেন্দ্রের শীর্ষ নেতৃত্ব যেন এবার আর কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছে না। আর সেই কারণেই রাজ্যের নির্বাচনকে ঘিরে এক অস্বাভাবিক সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে, যা আগে খুব একটা দেখা যায়নি।

সবচেয়ে বড় ইঙ্গিত এসেছে অমিত শাহের ঘোষণায়। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিজেপির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী নেতা, তিনি নিজে নাকি টানা ১৫ দিন পশ্চিমবঙ্গে থাকবেন নির্বাচনের সময়। এটা নিছক প্রচারের সফর নয়, সরাসরি ময়দানে থেকে নির্বাচন পরিচালনার ইঙ্গিত। ভারতের রাজনীতিতে এমন উদাহরণ খুব বেশি নেই, যেখানে কেন্দ্রীয় স্তরের এত বড় নেতা কোনো একটি রাজ্যে এতদিন ধরে থেকে নির্বাচন পরিচালনা করছেন।

এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই শুধুমাত্র গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখলেও, এর অন্য একটি ব্যাখ্যাও রয়েছে। সেটি হলো, রাজ্য বিজেপির উপর আস্থার অভাব। কারণ সাধারণত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কৌশল ঠিক করে দেয়, আর রাজ্য নেতৃত্ব সেই অনুযায়ী কাজ করে। কিন্তু এখানে যেন উল্টোটা হচ্ছে। মনে হচ্ছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নিজেই মাঠে নেমে পড়তে চাইছে, কারণ তারা নিশ্চিত নয় যে রাজ্য নেতৃত্ব একা এই লড়াই সামলাতে পারবে কি না।

এই সন্দেহের সূত্র খুঁজতে গেলে ফিরে তাকাতে হয় আগের নির্বাচনের দিকে। তখনও বড় বড় লক্ষ্য স্থির করা হয়েছিল। প্রচারের ঝড় উঠেছিল। কিন্তু ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। পরবর্তী সময়ে দলের অন্দরেই অভিযোগ উঠেছিল যে রাজ্য নেতৃত্ব নাকি বাস্তব পরিস্থিতির থেকে অনেক বেশি বাড়িয়ে দেখিয়েছিল সমর্থনের চিত্র। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সেই রিপোর্টের উপর নির্ভর করেই বড় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু ভোটের ফল বেরোনোর পর দেখা যায়, বাস্তবতা সম্পূর্ণ আলাদা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
মাছেভাতে বাঙালির পাতে কোপ পড়বে? বিজেপি শাসিত রাজ্য কী সংকেত দিচ্ছে?

West Bengal election 2026: বাংলার ভোটে কি এখন খাবারই সবচেয়ে বড় ইস্যু? অন্য রাজ্যের অভিজ্ঞতা কি বাংলার ভোটারদের ভাবাচ্ছে? ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ পরিচয় কি এবার ভোটের ফল নির্ধারণ করবে?

সেই অভিজ্ঞতা থেকেই কি এবার এত সতর্কতা? প্রশ্নটা উঠছে স্বাভাবিকভাবেই। কারণ এবারও প্রথমে বিজেপির তরফ থেকে যে টার্গেট দেওয়া হয়েছিল, তা ছিল অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী। ২০০-র বেশি আসন জেতার কথা বলা হয়েছিল। পরে সেই সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। প্রথমে ২২০ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল, তারপর ধাপে ধাপে তা নামিয়ে প্রায় ১৭০-এর কাছাকাছি আনা হয়েছে। এই পরিবর্তন কি শুধুই কৌশলগত, নাকি এর পেছনে রয়েছে বাস্তব পরিস্থিতির নতুন মূল্যায়ন?

অনেকে মনে করছেন, এই টার্গেট কমানোই আসলে সব থেকে বড় ইঙ্গিত। কারণ কোনো দল যখন নিজের লক্ষ্যমাত্রা কমায়, তখন সাধারণত ধরে নেওয়া হয় তারা ময়দানের পরিস্থিতি নতুন করে বুঝতে পেরেছে। অর্থাৎ, আগে যে রিপোর্ট বা মূল্যায়ন ছিল, তা হয়তো পুরোপুরি সঠিক ছিল না। আর এই সংশোধনের প্রক্রিয়াটাই দেখাচ্ছে যে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবার অনেক বেশি সতর্ক।

এই সতর্কতার আরেকটি বড় প্রমাণ হলো কেন্দ্রীয় নেতাদের বাড়তি উপস্থিতি। শুধু অমিত শাহ নন, আরও বহু কেন্দ্রীয় নেতা ইতোমধ্যেই বাংলার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। নরেন্দ্র মোদির সভা, একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ঘন ঘন সফর, বাইরে থেকে পর্যবেক্ষক পাঠানো—সব মিলিয়ে একটা ব্যাপার স্পষ্ট, কেন্দ্র কোনো দিকেই ফাঁক রাখতে চাইছে না।

যদি রাজ্য বিজেপি সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকত, তাহলে কি এতটা ‘হেভি লিফটিং’ করার প্রয়োজন পড়ত? সাধারণত যে রাজ্যে সংগঠন শক্তিশালী, সেখানে কেন্দ্রীয় নেতারা শুধুমাত্র বড় বড় সভা করেন, বার্তা দেন, কিন্তু দৈনন্দিন পরিচালনায় সরাসরি যুক্ত হন না। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে সেই চিত্রটা একেবারেই আলাদা।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভোট আসে ভোট যায়, বাংলার বিড়ি শ্রমিকদের সমস্যা কে মেটায়?

beedi workers West Bengal: বর্তমানে গ্রামীণ মধ্যবিত্ত পরিবারের শিশুদের খাদ্যাভ্যাস কিংবা শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন এসেছে। ইংরেজি মাধ্যম স্কুল কিংবা আধুনিক বিনোদন এখন আর কেবল শহরের একচেটিয়া নয়। কিন্তু এই বাহ্যিক সচ্ছলতা বজায় রাখতে পর্দার আড়ালে কোটি কোটি নারী প্রতিনিয়ত নিজেকে ক্ষয় করছেন।

এই পরিস্থিতি রাজ্য বিজেপির জন্য একদিকে যেমন সুযোগ, তেমনি চ্যালেঞ্জও। সুযোগ এই কারণে, কারণ কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তাদের সর্বশক্তি দিয়ে সাহায্য করছে। অর্থ, প্রচার, কৌশল—সব দিক থেকেই সমর্থন রয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে এটা একটা চাপও তৈরি করছে। কারণ এত কিছু করার পরও যদি ফল ভালো না হয়, তাহলে তার দায় সম্পূর্ণভাবে রাজ্য নেতৃত্বের উপরই বর্তাবে।

এখানে এসেই রাজনীতির ‘প্রেস্টিজ ব্যাটল’-এর বিষয়টি সামনে আসে। শুধু রাজ্য বিজেপির জন্য নয়, এই লড়াই এখন ব্যক্তিগতভাবে অমিত শাহর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাঁকে প্রায়শই বিজেপির ‘চাণক্য’ বলা হয়—একজন কৌশলী সংগঠক, যিনি একের পর এক নির্বাচনে দলের সাফল্য নিশ্চিত করেছেন। সেই ভাবমূর্তির সঙ্গেও এই নির্বাচন জড়িয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, বিরোধীরাও এই বিষয়টিকে হাতিয়ার করছে। তাদের যুক্তি, যদি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে একটি রাজ্যে থেকে নির্বাচন পরিচালনা করেন, তাহলে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। কেন্দ্রীয় বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা—এসব বিষয় কি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে? এই প্রশ্নগুলো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কি রাজ্য নেতৃত্বের ওপর ভরসা করতে পারছে? নাকি তারা নিজেরাই পুরো দায়িত্ব হাতে নিতে চাইছে?

যদি বিজেপি জেতে, তাহলে বলা হবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কৌশল সফল হয়েছে। কিন্তু সেই সঙ্গে প্রশ্ন এটাও উঠবে যে রাজ্য নেতৃত্ব নিজেরা কতটা ভূমিকা রাখতে পেরেছে। আর যদি হারে, তাহলে তার অভিঘাত অনেক গভীর হবে। শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কটাক্ষ নয়, দলের অন্দরেও বড়সড় পরিবর্তন আসতে পারে। কারণ তখন প্রশ্ন উঠবে, এত কিছু করার পরও কেন ফল এল না? কোথায় ভুল হলো? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়েই হয়তো সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বে বঙ্গ বিজেপির নেতৃত্ব।

তাই এখন বিজেপির অন্দরে একদিকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পূর্ণ সমর্থন, অন্যদিকে সেই সমর্থনের মধ্যেই লুকিয়ে থাকা অবিশ্বাসের ইঙ্গিত। আর এই দুইয়ের টানাপোড়েনেই তৈরি হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের আসল গল্প।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।

রামলীলার সভার জন্য ক্ষতি হয়েছে ছোট দোকানদারদের, কতটা প্রচার, কতটা সত্যি?

loss claim for Ramlila rally: রামলীলা ময়দানের সমাবেশ ঘিরে ছোট দোকানদারদের ‘২.৫ লক্ষ দোকান বন্ধ’ ও ‘১০-১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি’র দাবি আসলে, দিল্লির ব্যবসায়ী সংগঠন সিটিআই-এর অনুমান আসলে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের হিসাবের ভিত্তিতে করা হয়েছে। বিজেপি-কংগ্রেস পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এই সংখ্যাগুলি এখন রাজনৈতিক হাতিয়ার।