গ্রাহকের চাঁদাতেই বাঁচবে সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা, বলেছিলেন গান্ধী
Mahatma Gandhi's Journalism and Subscription Economy: বিজ্ঞাপন ছাড়াই সংবাদপত্র টিকে থাকতে পারে? গান্ধীজি কীভাবে ‘ইন্ডিয়ান ওপিনিয়ন’, ‘ইয়ং ইন্ডিয়া’, ‘নবজীবন’ ও ‘হরিজন’-এর মতো পত্রিকাকে শুধুমাত্র গ্রাহকদের অর্থে চালিয়েছিলেন? তাঁর সাংবাদিকতা, গ্রাহক-অর্থনীতি ও স্বাধীন গণমাধ্যমের সেই মডেল আজকের বাণিজ্যিক সংবাদমাধ্যমের জন্য কতটা প্রাসঙ্গিক হতে পারে?
মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ব্রিটিশ-বিরোধী অহিংস আন্দোলনের প্রবক্তাই শুধু তাই ছিলেন না, একাধারে সাংবাদিক, সম্পাদক ও প্রকাশকও ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভারত, তাঁর প্রায় পাঁচ দশকের রাজনৈতিক জীবন, ভারতীয় উপমহাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসে একটি অনন্য অধ্যায় হয়ে রয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকাতে ‘ইন্ডিয়ান ওপিনিয়ন’ (১৯০৩) পত্রিকা দিয়ে শুরু করে শেষ জীবনের ‘হরিজন’ (১৯৩৩) পত্রিকা পর্যন্ত তাঁর সম্পাদিত ও পরিচালিত পত্রিকাগুলি শুধুমাত্র সংবাদ ও মতামতের বাহন ছিল না, বরং সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনের অপরিহার্য অঙ্গ ছিল তারা। গান্ধীজির পত্রিকাগুলির গ্রাহক-অর্থনীতি বা সাবস্ক্রিপশন অর্থনীতির একটি অনন্য গণমাধ্যমের মডেল গড়ে তুলেছিল।
গান্ধীজির পত্রিকা পরিচালনার মূল দর্শন ছিল ‘অ্যাডভোকেসি জার্নালিজম’-র আদলে গড়ে ওঠা, যেখানে পত্রিকার মূল লক্ষ্য মুনাফা ছিল না, বরং জনসেবা ও সত্যের প্রচারই ছিল পত্রিকাগুলির লক্ষ্য। তিনি মনে করতেন, সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত জনসেবা, এবং একটি পত্রিকার উদ্দেশ্য—জনতার অনুভূতিকে বোঝা, তার প্রকৃত প্রকাশ ঘটানো, জনগণের মধ্যে প্রতিরোধী মনোভাব জাগ্রত করা, এমনকি নির্ভয়ে জনগণের দোষ-ত্রুটিও তুলে ধরা। এই দর্শনই তাঁর পত্রিকা পরিচালনার মূল ভিত্তি ছিল।
গান্ধীজির সাংবাদিক জীবনের সূচনা লন্ডনে, যেখানে তিনি ‘দি ভেজিটেরিয়ান’ নামক একটি পত্রিকায় লেখালেখি করতেন। তবে তাঁর প্রকৃত সাংবাদিক জীবন শুরু হয় দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘ইন্ডিয়ান ওপিনিয়ন’ পত্রিকার মাধ্যমে। এই পত্রিকাটি তিনি শুরু করেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত ভারতীয়দের অধিকার বিষয়ে অভিযোগগুলি তুলে ধরার জন্য। ১৯০৩ সালের ৪ জুন ‘ইন্ডিয়ান ওপিনিয়ন’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। গান্ধীজি বলেছিলেন, এই পত্রিকার মূল উদ্দেশ্য ছিল ‘এই উপমহাদেশে ব্রিটিশ ভারতীয়দের পক্ষে ওকালতি করা’।
গান্ধীজি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রবল সমর্থক ছিলেন। তিনি এই প্রসঙ্গে বলতেন,
বাকস্বাধীনতা ও কলমের স্বাধীনতাই আসন্ন স্বরাজের ভিত্তি।
কিন্তু গান্ধী দর্শনে এই স্বাধীনতার সঙ্গে জাগতিক দায়-দায়িত্বও জড়িত। তিনি তাঁর নিজের আত্মজীবনীতে লিখেছেন,
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Freedom Of Speech in India: ভার্নাকুলার প্রেস অ্যাক্ট থেকে শুরু করে এমারজেন্সি হয়ে আজকের সাংবাদিকতা! ভারতের মত প্রকাশের স্বাধীনতা ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে?
সংবাদপত্র একটি মহান শক্তির উৎস, কিন্তু যেমন নিয়ন্ত্রণহীন বন্যার স্রোত গোটা গ্রামকে প্লাবিত করে ফসল নষ্ট করতে পারে, তেমনি একটি অনিয়ন্ত্রিত কলমও ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এই দর্শনই তাঁর পত্রিকা পরিচালনার মূল ভিত্তি ছিল। ‘ইন্ডিয়ান ওপিনিয়ন’ ছিল গান্ধীজীর প্রথম সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকা। এটি ছিল একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা যা ইংরেজি, গুজরাটি, হিন্দি ও তামিল ভাষায় প্রকাশিত হতো। পত্রিকাটির গ্রাহক-অর্থনীতি ছিল অনন্য। গান্ধীজি স্পষ্টই বলে ছিলেন, এই পত্রিকাটি কখনই একটি বাণিজ্যিক উদ্যোগ ছিল না; এটি ছিল প্রবাসী ভারতীয়দের সেবার একটি মাধ্যম। ‘ইন্ডিয়ান ওপিনিয়ন’-এর গ্রাহক সংখ্যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। গান্ধীজির প্রচেষ্টায় গ্রাহক সংখ্যা ১,২০০ থেকে বেড়ে ৩,৫০০-এ পৌঁছায়। পত্রিকাটির গ্রাহক সংখ্যা ৩৫,০০০ জন পাঠক পর্যন্ত পৌঁছেছিল।
তবে পত্রিকার আর্থিক সমস্যা ছিল প্রকট। পত্রিকাটি ক্রমাগত লোকসানে চলছিল। এই সমস্যা মোকাবিলায় গান্ধীজি পত্রিকার আকার ১৬ পৃষ্ঠা থেকে কমিয়ে ৮ পৃষ্ঠাতে নামিয়ে আনেন এবং পত্রিকা প্রকাশের দিনটিকে শনিবার থেকে বুধবারে পরিবর্তন করেন। গান্ধীজি ‘ইন্ডিয়ান ওপিনিয়ন’-এর তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য নির্বাচন করেছিলেন, যার মধ্যে মুখ্য ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রিটেনের সরকার এবং ভারতের জনগণের কাছে ভারতীয়দের অভিযোগ তুলে ধরা। দ্বিতীয়ত, একেবারে গান্ধীবাদী কায়দায় পত্রিকার মাধ্যমে, দক্ষিণ আফ্রিকার ভারতীয়দের নিজেদের ত্রুটি সম্পর্কে সচেতন করা এবং সেগুলি দূর করার চেষ্টা করা। এবং, অতি অবশ্যই পত্রিকাটির মুল লক্ষ্য ছিল হিন্দু-মুসলিম ও বিভিন্ন আঞ্চলিক গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্যমান বিভেদ দূর করা। গান্ধী তাঁর আত্মজীবনীতে এই সময়কাল সম্পর্কে লিখছেন,
আমি এই পত্রিকার পাতায় আমার আত্মাকে উজাড় করে দিতাম এবং সত্যাগ্রহের নীতি ও অনুশীলনকে সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করতাম।
পত্রিকাটি সত্যিই সত্যাগ্রহ আন্দোলনের জন্য প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছিল। ‘ইন্ডিয়ান ওপিনিয়ন’এ দুই বা ততোধিক সম্পাদকীয়, একটি চিঠিপত্রর কলাম এবং বিভিন্ন জার্নাল থেকে নেওয়া ভারতীয় সমস্যা সম্পর্কিত পুনর্মুদ্রিত নিবন্ধ থাকত। পত্রিকায় ‘সাপ্তাহিক ডায়েরি’ নামে গান্ধির একটি জনপ্রিয় কলাম ছিল, যা সত্যাগ্রহের বিভিন্ন দিক তুলে ধরত। পত্রিকাটি টলস্টয়, আব্রাহাম লিঙ্কন, জর্জ ওয়াশিংটন ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনীও প্রকাশ করত। ১৯০৪ সালে গান্ধীজি ‘ফিনিক্স সেটেলমেন্ট’-এ ‘ইন্ডিয়ান ওপিনিয়ন’এর মুদ্রণ কেন্দ্র স্থানান্তরিত করেন। এটি ছিল তাঁর গ্রাহক-অর্থনীতির বিকাশের ক্ষেত্রে আরও এক বৈপ্লবিক পদক্ষেপ। তিনি পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত সকল কর্মীকে ফিনিক্সের জমিতে বসবাসের ব্যবস্থা করেন এবং তাদের মাসিক ৩ পাউন্ড করে অগ্রিম প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন। বছরের শেষে পত্রিকার সমস্ত লাভ, পত্রিকার কর্মীদের মধ্যে সমানভাবে বিতরণ করা হতো।
গান্ধীজী চেয়েছিলেন, তারা প্রকৃতির বুকে সরল জীবনযাপন করুক এবং কৃষিকাজের মাধ্যমে নিজেদের ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করুক। এই উদ্যোগকে তিনি এমনভাবে গড়তে চেয়েছিলেন, যা সফল হলে ব্যবসায়িক পদ্ধতিতে বিপ্লব আনতে পারে। ফিনিক্স প্রকল্পের মাধ্যমে গান্ধীজি প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন, একটি পত্রিকা বাণিজ্যিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সম্প্রদায়ের সেবাও করতে চেয়েছিলেন। পত্রিকার প্রতিটি শব্দ তিনি নিজে যত্ন সহকারে নির্বাচন করতেন এবং কোনো প্রকার তথ্যগত অতিরঞ্জন বা পক্ষপাতদুষ্ট আবেগপ্রবণতা কে এড়িয়ে চলতেন।
ভারতে ফিরে এসে গান্ধীজি ‘ইয়ং ইন্ডিয়া’ (১৯১৯), ‘নবজীবন’ (১৯১৯) এবং ‘হরিজন’ (১৯৩৩)-এর মতো পত্রিকা সম্পাদনা করেন। ‘ইয়ং ইন্ডিয়া’ ছিল একটি ইংরেজি ভাষার সাপ্তাহিক পত্রিকা। গান্ধীজি যখন পত্রিকাটির দায়িত্ব নেন তখন এর গ্রাহক সংখ্যা ছিল মাত্র ১,২০০। তিনি কমপক্ষে ২,৫০০ গ্রাহক সংগ্রহের লক্ষ্য স্থির করেছিলেন। পত্রিকাটি একদা সর্বোচ্চ ৩০,০০০ গ্রাহকের সীমারেখায় পৌঁছেছিল। তবে, ১৯২৫ সালে এর গ্রাহকসংখ্যা ৫,০০০-এ নেমে আসে। গান্ধীজির কারাবাসের সময় ১৯২২ থেকে ১৯২৪ এর মধ্যে ‘ইয়ং ইন্ডিয়া’-র গ্রাহক সংখ্যা ২১,৫০০ থেকে কমে ৩,০০০-এ দাঁড়ায়। ‘নবজীবন’ ছিল গুজরাটি ভাষার পত্রিকা। প্রাথমিকভাবে এটি ছিল মাসিক পত্রিকা, পরে গান্ধীজি এটিকে সাপ্তাহিকে রূপান্তরিত করেন। পত্রিকাটি দ্রুত লাভের মুখ দেখেছিল এবং এর গ্রাহক সংখ্যা একদা ১২,০০০-এ পৌঁছায়। ১৯২৪ সালে গান্ধীজি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর, এর গ্রাহক সংখ্যা ১২,০০০ থেকে কমে ১,৪০০-এ নেমে আসে। গান্ধীজি সতর্ক করেছিলেন, পত্রিকাটিকে আত্মনির্ভর করতে হলে, কমপক্ষে ৪,০০০ গ্রাহক প্রয়োজন। নবজীবন প্রেসের ব্যবস্থাপনায় ৫০,০০০ টাকা জনসেবায় ব্যয় করা হয়েছিল।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Journalism in India: 'বাংলা যা ভাবছে' অনুষ্ঠানে 'গোদি মিডিয়ার কীর্তিফাঁস' সূচক আলোচনায় বক্তব্য রেখেছিলেন সাংবাদিক পরঞ্জয় গুহঠাকুরতা, সাংবাদিক স্নিগ্ধেন্দু ভট্টাচার্য, বাংলা পক্ষের প্রধান গর্গ চট্টোপাধ্যায় এবং সাংবাদিক প্রতীক। প্রতীকের বক্তব্যের লিখিত সংরূপ তুলে ধরা হল ইনস্ক্রিপ্টের পাতায়।
১৯৩৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ‘হরিজন’ পত্রিকার প্রথম সংখ্যা প্রকাশিত হয়। পত্রিকাটির তিনটি ভাষার, ইংরেজি, হিন্দি ও গুজরাটি সংস্করণ প্রকাশিত হতো। এই পত্রিকার প্রথম সংখ্যার মুদ্রণ ছিল ১০,০০০ কপি। প্রাথমিক পর্যায়ে ‘হরিজন’-এর গ্রাহক সংখ্যা ৪০,০০০-এ পৌঁছেছিল। তবে ১৯২৫ সালে এই পত্রিকার গ্রাহক সংখ্যা ৬,০০০-এ নেমে আসে। পত্রিকাটি ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত প্রকাশিত হয়েছিল। গান্ধীজির পত্রিকার গ্রাহক-অর্থনীতির কয়েকটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ছিল, গান্ধীজী বিশ্বাস করতেন বিজ্ঞাপন নেওয়া, পত্রিকার চরিত্রকে কলুষিত করে। তিনি বলতেন, পত্রিকার বিজ্ঞাপনের উপর নির্ভর করার ফল বিপর্যয়কর হতে পারে। তিনি পত্রিকাগুলিকে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থের মাধ্যমেই চালাতে চাইতেন।
‘ইয়ং ইন্ডিয়া’-তে তিনি কোনোদিন, কোনো বিজ্ঞাপন গ্রহণ করতেন না। গান্ধীজি গ্রাহকদের পত্রিকার মালিক ও অংশীদার হিসেবে দেখতেন। ‘নবজীবন’-এর ক্ষেত্রে তিনি দেখিয়েছিলেন, একটি পত্রিকা শুধুমাত্র গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থের মাধ্যমেই চলতে পারে। ‘ইয়ং ইন্ডিয়া’-র বার্ষিক গ্রাহক মূল্য ছিল চার টাকা। পত্রিকাগুলি অত্যন্ত স্বল্প মূল্যে সহজলভ্য ছিল।
গান্ধীজি কপিরাইটের ধারণাকে প্রত্যাখ্যান করে ছিলেন। তিনি চাইতেন তাঁর লেখা, আরও বেশি সংখ্যক মানুষ সহজেই পড়ুক এবং সেগুলি প্রচারিত হোক। গান্ধীজি প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন, যে একটি পত্রিকা বিজ্ঞাপন ছাড়াই শুধুমাত্র গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত অর্থের মাধ্যমে চলতে পারে। ‘নবজীবন’ পত্রিকার মুনাফার অর্থ চরকা ও খাদির প্রচারে ব্যয় করা হতো। ‘ইয়ং ইন্ডিয়া’-এর লভ্যাংশ, গান্ধীজির সর্বভারতীয় কাজে ব্যয় করার পরিকল্পনা ছিল।
গান্ধীজির গ্রাহক-অর্থনীতি ছিল তাঁর অহিংস আন্দোলন ও সমাজ-সংস্কারের নিজস্ব ধারার একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। তিনি প্রমাণ করেছিলেন, যে সাংবাদিকতা কেবলমাত্র মুনাফার জন্য নয়, বরং জনসেবার জন্যও সংগঠিত হতে পারে। তাঁর পত্রিকা পরিচালনার মডেলটি ছিল অনন্য, যেখানে গ্রাহকরা ছিলেন অংশীদার, বিজ্ঞাপন নেওয়া ছিল নিষিদ্ধ, এবং পত্রিকাগুলির মূল লক্ষ্য ছিল সত্যপথের সন্ধান ও অহিংসা ধর্মের প্রচার। এই গ্রাহক-অর্থনীতি শুধু আর্থিক স্বনির্ভরতা অর্জন করেনি, বরং একটি সচেতন ও দায়িত্বশীল উপনিবেশ-বিরোধী পাঠকসমাজ গঠনে সহায়ক হয়েছিল। বর্তমান বাণিজ্যিক গণমাধ্যমের যুগে, গোদি মিডিয়া তথা মোদী মিডিয়ার যুগে গান্ধীজীর এই মডেল আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা, যাকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমের দায়িত্ব ও নৈতিকতার প্রশ্ন নিয়ে নতুন করে ভাবতে পারি, নতুন করে গ্রাহক অর্থনীতি নির্ভর বিকল্প মিডিয়ার গঠনের কাজে হাত লাগাতে পারি।
গান্ধীজির পত্রিকা চালানো ও তাঁর স্বনির্ভর গ্রাহক অর্থনীতির ধারণাই, আমাদের, ইনস্ক্রিপ্টের একমাত্র পাথেয়। পশ্চিমবঙ্গের প্রবল রাজনৈতিক বিভাজনের আবহে স্বাধীন চিন্তার মুক্তাঞ্চল রচনা করার তাগিদ, গ্রাহকের অর্থায়নে সামাজিক উদ্যোগের মতো সামাজিক স্বার্থে সংবাদসংস্থা চালানোর উদ্যমের একমাত্র পূর্বসূরি হিসাবে আমরা গান্ধিকেই বেছে নিয়েছি। এই পথের পথিক হোন পাঠক আপনিও। একমাত্র আপনার আর্থিক সহযোগিতাই আমাদের এই স্বাধীন সংবাদ, তথ্য ও তথ্য পরিবেশনাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে, গান্ধীর পথ আমাদের অভিযাত্রাকে টিকিয়ে রাখতে পারে।
সূত্র:
১. বুলা, ডেভিড ডব্লিউ. (সম্পা.)। গান্ধী, অ্যাডভোকেসি জার্নালিজম অ্যান্ড দ্য মিডিয়া। নিউ ইয়র্ক: পিটার ল্যাং, ২০২২।
২. জোসেফ, তেরেসা। মহাত্মা গান্ধী অ্যান্ড মাস মিডিয়া: মিডিয়েটিং কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সোশ্যাল চেঞ্জ। অ্যাবিংডন: রাউটলেজ, ২০২১।
৩. কৌল, চন্দ্রিকা (সম্পা.)। এম. কে. গান্ধী, মিডিয়া, পলিটিক্স অ্যান্ড সোসাইটি: নিউ পার্সপেক্টিভস। শাম: প্যালগ্রেভ ম্যাকমিলান, ২০২০।
৪. ভট্টাচার্য, ভবানী। গান্ধী দ্য রাইটার। নয়াদিল্লি: ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট, ২০০২।
৫. নন্দা, বি. আর.। মহাত্মা গান্ধী: আ বায়োগ্রাফি। নয়াদিল্লি: অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস, ১৯৯৮।
৬. ভট্টাচার্য, এস. এন.। মহাত্মা গান্ধী দ্য জার্নালিস্ট। ওয়েস্টপোর্ট, কানেকটিকাট: গ্রিনউড প্রেস, ১৯৬৫।








