দীপাবলির আগে সোনা কিনবেন? কী বলছে বাজার?
Gold Price: দীপাবলির আগে সোনার দাম ২০% কমার পরও বড় জুয়েলাররা সোনা কিনছেন না কেন? এখনই কি সোনা কেনার সেরা সময়, নাকি দাম আরও কমবে?
সোনার বাজারে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। জানুয়ারি ২০২৬-এ আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম তার সর্বোচ্চ মূল্য ৫,৪০০ টাকার উপরে পৌঁছেছিল। কিন্তু এখন তা প্রায় ২০% কমে ৪,০০০টাকা/আউন্সের নিচে নেমে গিয়েছে। ভারতেও ২৪ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে প্রায় ১.৪০-১.৪৫ লাখ টাকার আশপাশে ঘুরছে, যা কয়েক মাস আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। তবুও দীপাবলি (৮ নভেম্বর) ও ধনতেরাস (৬ নভেম্বর)-এর আগে ভারতের বড় জুয়েলারি চেইনগুলো নতুন সোনা কেনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না। তারা আরও দাম কমার অপেক্ষায় আছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমার কয়েকটি কারণ রয়েছে। টাকার তুলনায় মার্কিন ডলারের দাম বৃদ্ধি, ক্রমবর্ধমান বন্ড ইল্ড, আমেরিকার বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধির প্রবণতা এই চাপকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এছাড়া বড় ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টররা আগের চড়া দামে কেনা সোনা বিক্রি করে লাভ তুলে নিচ্ছেন। ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও তেলের দাম বাড়লেও সোনার ঐতিহ্যবাহী ‘সেফ হেভেন’ আকর্ষণ এই সময়ে কিছুটা কমে গিয়েছে।
এআই বিপর্যয় এবং মার্কিন বন্ডের ইল্ড ও টাকার তুলনায় মার্কিন ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে সোনা ও রুপার দাম বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাই বিনিয়োগকারীরা নিশ্চিত নন যে এখনই সোনা কেনার সঠিক সময়, নাকি আরও কিছুদিন অপেক্ষা করা উচিত। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্কিন বন্ডের ইল্ডে দরপতনের লক্ষণ স্পষ্ট, কারণ এই মাসে মার্কিন ১০-বছর মেয়াদী বন্ডের ইল্ড ৫%-এর নিচে নেমে গিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমার আরও একটি কারণ হলো ক্রুড অয়েলের দাম ওঠানামা করা। ক্রুড অয়েল বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পণ্যগুলির মধ্যে একটি। বিশ্বের পরিবহন খাতের প্রায় ৯০ শতাংশের বেশি জ্বালানি আসে ক্রুড অয়েল থেকে। এর দাম ওঠানামা করলে পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব পড়ে। মুদ্রাস্ফীতি, পরিবহন খরচ, পণ্যের দাম সব বেড়ে যায়। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে সম্পর্ক ভালো হওয়ার আশায় তেলের দাম অনেকটা কমে গিয়েছে। তাই সোনার দামও বেড়েছে। তবে বছরের শেষে আমেরিকার ফেডারেল রিজার্ভ আবার সুদের হার বাড়াতে পারে, তাই সোনার দাম খুব বেশি বাড়ছে না। তেলের দাম কমায় ডলার ও আমেরিকার বন্ডের সুদের হারের উপর চাপ পড়েছে।
ভারতের পরিস্থিতি আরও জটিল। মে ২০২৬-এ সরকার সোনার আমদানি শুল্ক ৬% থেকে বাড়িয়ে ১৫% করেছে। এতে আমদানিকৃত সোনার খরচ বেড়েছে।
ভারতে সোনার দাম তার সর্বোচ্চ মূল্যের তুলনায় প্রায় ২০% কমেছে, কিন্তু দেশের কয়েকটি বৃহত্তম গহনা ব্যবসায়ী দীপাবলি এবং ধনতেরাসের আগে নতুন করে সোনা কেনা থেকে বিরত থাকছেন। বড় গহনা চেইনগুলো (যারা সাধারণত বাজারের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে) এখনো সম্পূর্ণ ভাবে বাজারে ফিরে আসেনি। তারা স্টক কমিয়ে রাখছে এবং দাম আরও কমার অপেক্ষা করছে। বর্তমানে কেনা-বেচা মূলত ছোট ও মাঝারি গহনা ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে হচ্ছে।
Citi Research-এর পূর্বাভাস অনুযায়ী, অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর কোয়ার্টারে ভারতের সোনা আমদানি স্বাভাবিকের প্রায় অর্ধেক হতে পারে প্রায় ১০৬ টন। এর কারণ হলো উচ্চ শুল্ক, কঠোর আমদানি নিয়ম এবং দুর্বল গ্রামীণ চাহিদা।
সাধারণ ক্রেতাদের জন্য এই পরিস্থিতি কিছুটা বিভ্রান্তিকর। সোনার দাম কমলেও গহনা কেনার সময় পুরো সঞ্চয় পাওয়া যায় না। কারণ মেকিং চার্জ (যা অনেক সময় ১০-২০% বা তার বেশি হয়) এবং GST/অন্যান্য ট্যাক্স যোগ হয়। তাই যারা বিনিয়োগের জন্য কিনছেন, তাদের জন্য কয়েন বা ডিজিটাল গোল্ড/ETF ভালো বিকল্প হতে পারে। গহনা কিনলে BIS হলমার্ক, পিউরিটি এবং মেকিং চার্জ ভালো করে যাচাই করা জরুরি।
সোনার দাম আরও কমতে পারে কি না, তা নির্ভর করছে মার্কিন সুদের হারের সিদ্ধান্ত, ডলারের গতি এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর। দীপাবলি সিজনে চাহিদা কম থাকতে পারে। ক্রেতাদের পরামর্শ তাড়াহুড়ো না করে বাজেট অনুযায়ী এবং প্রয়োজন অনুযায়ী কেনা।






