দলবদলুদের হাতেই বিজেপির রাশ? আদি বিজেপি তৃণমূলের 'ভূত' দেখছে

Bengal BJP: ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টার মধ্যেই বঙ্গের বিজেপিকে ঘিরে ধরছে বিতর্ক আর বেজায় অস্বস্তি। কিন্তু কেন?

Ramen Das
৩ মিনিট
দলবদলুদের হাতেই বিজেপির রাশ? আদি বিজেপি তৃণমূলের 'ভূত' দেখছে

বহুদিন যাবৎ চুপ ছিলেন তিনি। একদা দলের অর্থাৎ গেরুয়া শিবিরের ঠোঁটকাটা 'ছোট দিলীপ' মুখ খুলছিলেন না একেবারেই। যেন বিমর্ষ, চুপচাপ হয়ে গিয়েছিলেন বিজেপির সায়ন্তন। অবশেষে বোমা বিস্ফোরণ! সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে সায়ন্তনের লেখা একটি চিঠি। যা দেওয়া হয়েছে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জগৎপ্রকাশ নাড্ডাকে উদ্দেশ্য করে। আর সেই চিঠির বয়ান প্রকাশ্যে আসতেই ফের সৌমিত্র খাঁ-অস্বস্তি ছাড়িয়ে বেজায় বিড়ম্বনায় পড়েছেন সুকান্ত, শুভেন্দুরা। ঠিক কী লেখা হয়েছে ওই চিঠিতে?

সায়ন্তন লিখেছেন, দলবদলু নেতারাই দল চালাচ্ছেন। তৃণমূল থেকে আসা এক শ্রেণির নেতার অঙ্গুলিহেলনে চলছে বঙ্গের বিজেপি। তাঁর দাবি, এই অবস্থায় যেন মনে হচ্ছে, তৃণমূলের দুই শিবিরের লড়াই চলছে। সায়ন্তন উল্লেখ করেছেন, ১৯৮০ থেকে ২০১৯-এর সময়কালে বিজেপি কর্মীদের অবদানের কথাও।

যদিও এই চিঠি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি সায়ন্তন। এদিকে বঙ্গ বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলছেন, দলে গুরুত্ব পাচ্ছেন সকলেই।

কিন্তু পুরনো বিজেপি নেতার এই আক্ষেপের পরে ফের তৈরি হয়েছে বিতর্ক। একের পর এক ইস্যুতে শাসক তৃণমূলের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিতের মধ্যেই এই প্রকার চাপে পড়েছে গেরুয়া শিবিরও।

প্রসঙ্গত, তথাগত রায়ের একের পর এক মন্তব্য-বানে বারবার বিদ্ধ হয় বিজেপি। বিতর্ক বাড়ান এই প্রবীণ বিজেপি নেতা। ঠিক এই আবহেই কয়েকদিন আগেই মুখ খুলেছেন বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র। তিনি বলেন, অযোগ্যরা দল চালাচ্ছেন। আমি মানি না সুকান্ত মজুমদারকে। যদিও তাঁর ইঙ্গিতে প্রশংসা ছিল দিলীপ ঘোষ এবং শুভেন্দু অধিকারীর। এদিকে একের পর এক জেলা নেতৃত্বের ক্ষোভের মুখেও পড়েছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় নেতারা, রাজ্যের পর্যবেক্ষকরা হাল ধরতে চাইলেও বারবার অস্বস্তি বেড়েছে সুকান্ত মজুমদারের বিজেপির ঘরে। একবার তথাগত, একবার সৌমিত্র, ফের সায়ন্তন-বিষাদে জর্জরিত হয়েছে মুরলীধর সেন লেনের গেরুয়া বাড়ি। এদিকে একা সুগ্রীবে রক্ষা না দিয়েই কিছুদিন আগেই মুখ খুলেছেন দিলীপ ঘোষ। সুকান্ত মজুমদারের নাম না করেই আক্রমণ শানিয়েছেন ফের। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়েই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টার মধ্যেই বঙ্গের বিজেপিকে ঘিরে ধরছে বিতর্ক আর বেজায় অস্বস্তি। কিন্তু কেন?

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বঙ্গ বিজেপি-র অন্যতম প্রবীণ এক নেতা ইনস্ক্রিপ্ট-কে বলছেন, "আসলে এত বড় বড় ইস্যু। দলের অবস্থান। সঙ্গে আসল তৃণমূল-বিরোধী কে, সিপিআইএম না বিজেপি; এর একটা রাজনৈতিক যুদ্ধের মধ্যে দলের অভ্যন্তরে এই বিতর্ক মানানসই নয়। তবে এর কারণ হিসেবে মনেহয়, রাজ্যের নেতৃত্বের প্রতি সামগ্রিকভাবে অসন্তোষ। দলের কিছু একনিষ্ঠ কর্মীকে গুরুত্ব না দেওয়া। এর ফল ভুগতে হচ্ছে।''

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বঙ্গ বিজেপি-তে সৌমিত্র কাঁটা! পঞ্চায়েতের আগে কেন কোন্দলে জেরবার দল

Saumitra Khan: রাজনৈতিক রাতের শান্তির ঘুমের আগেই ফের আড়মোড়া ভেঙেছেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ।

যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি অন‍্য।

'প্রবীণদের উপেক্ষা'

একদা এই রাজ্যে নুইয়ে পড়া বিজেপি যখন প্রায় নেই তখন থেকেই ময়দানে ছিলেন সায়ন্তনের মতো নেতারা। লড়াই, ত্যাগ, নানা বিপদ উপেক্ষা করেই এগিয়েছেন। কিন্তু এখন সেক্ষেত্রেও সাধিত হয়েছে পরিবর্তন। ক্রমশ বাড়ছে উপেক্ষার বহর। আর যা থেকেই প্রকাশিত হচ্ছে এই ক্ষোভ!

আদি বনাম নব্য

দলের একটা বড় অংশের কর্মী, সায়ন্তনের মতো নেতারা আজ খানিকটা কোণঠাসা। তাঁদের পাত্তা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে দলের অন্দরেই। দলের এক শ্রেণীর নেতাদের ইন্ধনে ক্রমশ বিজেপি কর্মীদের একটা পুরোনো অংশ নিষ্ক্রিয় হয়েছেন। ঠিক সেই জায়গায় উঠে এসেছেন একটা নবীন গোষ্ঠী। যাঁরা প্রায় প্রত্যেকেই অন্য দল থেকে আসা। বিশেষত, তৃণমূল থেকে আসা।

'দলবদলু নেতা'

তৃণমূল থেকে আসা নেতারা, বিশেষত শুভেন্দু অধিকারীর মতো নেতারা আজ দলের সর্বেসর্বা। তাঁদের হাতেই দলের রাশ। ঠিক এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে আদি বিজেপি-র কাছে এই নবীন অনুষঙ্গ মানিয়ে নেওয়া বেশ কঠিন!

'দিলীপ এফেক্ট'

দিলীপ ঘোষ-গোষ্ঠী, এবং দিলীপের মতো একাধিক বিজেপি নেতা, যাঁরা এক সময় দলের রাজ্য শাখার নীতি নির্ধারক ছিলেন। তাঁদের ক্রমশ সরে যাওয়া বা সরিয়ে দেওয়ার কৌশল, দলের অন্দরে অসন্তোষ বৃদ্ধি করেছে।

'সুকান্ত-বিরোধ'

সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্ব মেনে না নেওয়া। দলের রাজ্য সভাপতিকে নিয়ে অসন্তোষ। তাঁকে পছন্দ না করা একটি গোষ্ঠীর ইন্ধন এই অসন্তোষে থাকতে পারে বলেও মত অনেকের।

যদিও সৌমিত্র, সুকান্তের প্রতি অসন্তোষ ব্যক্ত করেও বলেছেন শুভেন্দু অধিকারীর কথা। অর্থাৎ, এক ঢিলে দুই পাখি মেরে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন সুকান্ত নয়, শুভেদু শ্রেষ্ঠ! আবার সায়ন্তনের মতো নেতারা বলছেন ভিন্ন কথা। বিজেপি-র আদিকাল থেকে থাকা নেতার দাবি, একজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয় দলের সার্বিক নীতির বিরুদ্ধে। অর্থাৎ দল যা করছে, যে পন্থা নিয়ে চলছে তা ঠিক নয়, দাবি তাঁর। এখানে সৌমিত্র এবং সায়ন্তন উবাচে পার্থক্য সূচিত হলেও আদতে দুই নেতাই যে বঙ্গের বিজেপি নেতৃত্বের কাজ নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন, যা নিয়ে অচিরেই সৃষ্টি হচ্ছে ব্যর্থ বঙ্গ বিজেপি-র প্রাধান্য। তা স্পষ্ট হয়েছে আবার। আর এখানেই স্পষ্ট হচ্ছে বিজেপি-র অন্দরের কাঁটা। যা বারবার বদলে দিচ্ছে বঙ্গের গেরুয়া শিবিরের চলার গতিপথ। তৃণমূল বিরোধিতা এবং সিপিআইএম-কে ছাপিয়ে যাওয়ার রাস্তা ধরে বেশি করে এগিয়ে আসছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আর দলীয় অন্দরের অশান্তির গাড়ি। যা ঠিক কতটা অক্সিজেন দেবে বিজেপি-কে এই প্রশ্ন তুলে দেওয়ার সঙ্গেই ফের নুইয়ে পড়া বিজেপি-র দিকেই ইঙ্গিত করছে কী! প্রশ্ন উঠছে, উত্তর দেবে সময়।

লিখেছেন
Ramen Das
Ramen Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

প্রতিবেশীর ধর্ম দেখব না! গির্জায় হামলায় যা বলছে বাসন্তী

Basanti church: গির্জার সদস্য প্রদীপ মণ্ডল ইনস্ক্রিপ্টকে জানিয়েছেন, শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ চার্চ অফ নর্থ ইন্ডিয়ার (CNI) বিশপ সুব্রত চক্রবর্তী পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকটি গির্জার যাজকদের নিয়ে শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা করে নারায়ণতলার নবনির্মিত গির্জায় পৌঁছন। তাঁদের স্বাগত জানাতে গির্জার ভিতরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রার্থনা শুরুর ঠিক আগে ৩০-৩৫ জনের একটি দল জোর করে গির্জায় ঢুকে পড়ে বলে দাবি তাঁর।

পাঁচ খুনের 'বদলা'? এবার গুয়াহাটিতে এনকাউন্টার পুলিশের

Guwahati Encounter: গুয়াহাটিতে হোটেলে ঢুকে পাঁচ জনকে খুনের অভিযোগে ধৃত ঘনকান্ত গগৈ পুলিশের গুলিতে নিহত। পুলিশের দাবি, হেফাজত থেকে পালিয়ে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল সে। একই সময়ে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস ও ভোপালে পৃথক এনকাউন্টারে তিন অভিযুক্ত গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। কয়েক দিন আগেই বাংলায় গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে দুই অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছিল।

আমেরিকার প্রথম মুসলিম সেনেটর, ট্রাম্পের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারকে হারিয়ে ইতিহাস গড়লেন আবদুল এল-সায়েদ

Abdul El-Sayed: নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দলের একাধিক নেতা এল-সায়েদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ইসলামবিদ্বেষী প্রচার চালিয়েছিলেন। তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে সামনে এনে তাঁকে আমেরিকার নিরাপত্তার পক্ষে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছিল।

কেন মিডটার্ম নির্বাচনে ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

US Midterm Elections 2026: মার্কিন মিডটার্ম নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় ধাক্কা। কেন ট্রাম্পের ভরাডুবি? এরপর কোন পথে ওয়াশিংটন?

মিডটার্ম নির্বাচন: সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পেতে চলেছে ট্রাম্পের বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা

US Midterm Elections 2026: ভোটের লড়াইয়ে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টিকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে শুরু করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা।

রামলীলার পর কী? কী করবেন বিরোধীরা?

INDIA bloc Unity Under strain: ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে ২১ দল একজোট হলেও মঞ্চ শেষেই ভেতরের টানাপোড়েন স্পষ্ট। বাম নেতাদের বক্তৃতায় প্রাধান্য, ‘ফ্যাসিবাদ’ বিরোধী সুর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘জাতীয় ভূমিকা’র সতর্কবার্তা। প্রিয়াঙ্কা, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত বক্তৃতার সুযোগ না পাওয়ায় শরিক-অসন্তোষ।

ট্রাম্পের অভিবাসন নীতিতে বিপাকে ভারতীয়রা, মিডটার্ম নির্বাচনে কতটা প্রভাব পড়বে?

US Midterm Elections 2026: ২০২৬ সালের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ভোটারদের ৬২% ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে। ট্রাম্পের এইচ-১বি ভিসা কড়াকড়ি ও অর্থনৈতিক নীতির জেরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানাল কার্নেগির সমীক্ষা।

রামলীলার সভার জন্য ক্ষতি হয়েছে ছোট দোকানদারদের, কতটা প্রচার, কতটা সত্যি?

loss claim for Ramlila rally: রামলীলা ময়দানের সমাবেশ ঘিরে ছোট দোকানদারদের ‘২.৫ লক্ষ দোকান বন্ধ’ ও ‘১০-১১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি’র দাবি আসলে, দিল্লির ব্যবসায়ী সংগঠন সিটিআই-এর অনুমান আসলে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের হিসাবের ভিত্তিতে করা হয়েছে। বিজেপি-কংগ্রেস পাল্টাপাল্টি অভিযোগে এই সংখ্যাগুলি এখন রাজনৈতিক হাতিয়ার।