যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত খোদ বাংলার রাজ্যপাল? যে ভয়ানক অভিযোগ সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে

CV Ananda Bose: বৃহস্পতিবার রাতেই রাজভবনে রাত্রিবাসের কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। তার আগেই রাজ্যপালের বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ জানিয়ে বসলেন ওই মহিলা।

Sohini Das
৩ মিনিট
যৌন হেনস্থায় অভিযুক্ত খোদ বাংলার রাজ্যপাল? যে ভয়ানক অভিযোগ সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে

সন্দেশখালির ঘটনা নিয়ে যখন রাজ্য-রাজনীতি উত্তাল, সে সময় সন্দেশখালির নির্যাতিতাদের রাজভবনে সেফ হোম খুলে দেওয়ার কথা বলেছিলেন রাজ্যপাল। এবার তাঁর বিরুদ্ধেই উঠল যৌন হেনস্থার অভিযোগ। বাংলার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ দায়ের করেছেন এক মহিলা। গোটা ঘটনায় ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাজ্যে।

বৃহস্পতিবার রাতেই রাজভবনে রাত্রিবাসের কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। এ দিন রাতেই কলকাতায় আসেন মোদি। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি রাজভবনেই যাওয়ার কথা তাঁর। তবে তার আগেই রাজ্যপালের বিরুদ্ধে হেয়ার স্ট্রিট থানায় অভিযোগ জানিয়ে বসলেন ওই মহিলা। নিজেকে রাজভবনের অস্থায়ী কর্মচারী বলে দাবি করেছেন তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগকারিণী যখন হেয়ার স্ট্রিট থানায় আসেন, সেসময় লালবাজারের উচ্চপদস্থ কর্তারাও রয়েছেন থানায়। রয়েছেন ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
'ফেরার' রেভান্নার বিরুদ্ধে জারি লুক আউট নোটিস! বিজেপি-ঘনিষ্ঠ নেতাকে ধরতে সাহায্য করবেন মোদি-শাহরা?

Prajwal Revanna sex scandal: যতদূর জানা গিয়েছে, আপাতত জার্মানির মিউনিখে রয়েছেন তিনি। আগামী ১৫ মে দেশে ফেরার জন্য টিকিট বুক করেছেন তিনি।

পুলিশ আরও জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ রাজভবনে পুলিশ ফাঁড়ির ওসির ঘরে পৌঁছন ওই মহিলা। যিনি রাজ্যপালের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ তোলেন। জানা গিয়েছে, অভিযোগকারিনী রাজভবনের পিস রুমের অস্থায়ী কর্মী। তাঁকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজ্যপাল একাধিক বার যৌন হেনস্থা করেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। মহিলার অভিযোগ পাওয়ার পরেই রাজভবনে পৌঁছন হেয়ার স্ট্রিট থানার অ্যাডিশনাল ওসি। তাঁর সামনেই রাজ্যপালের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মহিলা। এর পর ওই মহিলাকে থানায় নিয়ে যান তাঁরা। সেখানে মহিলাকে জেরা করে ঘটনাক্রম জানার চেষ্টা চলছে।

রাজ্যপালের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ ওঠার পরেই রাজ্য-রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে যায়। সুযোগ পেয়েই রাজ্যপালের বিরুদ্ধে আসরে নেমে পড়েছে তৃণমূল। দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যপালের সঙ্গে সংঘাত লেগেই রয়েছে রাজ্যের। গত মার্চ মাসের রাজ্যপালের সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নির্বাচন কমিশনে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান সিভি আনন্দ বোস। সংবিধানের দেওয়া ক্ষমতার পরোয়া না করেই তিনি লোকসভা ভোটের আগে বাংলায় একটি নিজস্ব নির্বাচনী ব্যবস্থা চালাচ্ছেন। এমনকি, নির্বাচন কমিশন থাকা সত্ত্বেও বাংলার মানুষের জন্য অভিযোগ জানানোর একটি আলাদা পোর্টাল খুলেছেন রাজ্যপাল বলে অভিযোগ জানায় তৃণমূল সরকার। রাজ্যপালের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ করার আর্জি জানানো হয়। রাজ্যপালের সন্দেশখালি সফর এবং তারপর তৃণমূলকে নিশানা করে তাঁর বক্তব্য, সব কিছু মিলিয়ে রাজ্য-রাজ্যপাল সংঘাত চলছিলই।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কুস্তিগীরদের যৌন হেনস্থার 'শাস্তি'? ব্রিজ ভূষণের ছেলেকে এবার টিকিট বিজেপির

Karan Bhushan Singh Lok Sabha Election 2024: ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে, ব্রিজ ভূষণ কায়সারগঞ্জ আসন থেকে দুই লক্ষ ভোটে জিতেছিলেন। ২০১৯ সালে, ব্রিজ ভূষণ ৫,৮১,৩৫৮ ভোট পান।

ফলে রাজ্যপাত সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরেই একের পর এক তোপ দাগতে শুরু করেন তৃণমূল নেতা-নেত্রীরা। তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ সাগরিকা ঘোষ ইতিমধ্যেই এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে বিষয়টি নিয়ে পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘‘বাংলার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ভয়াবহ! প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কলকাতায় যাচ্ছেন। রাজভবনে তাঁর রাত্রিবাস করার কথা। তার মধ্যেই এক মহিলা অভিযোগ করেছেন যে, তিনি আজ যখন রাজভবনে যান রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে, তখনই তাঁর শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। অভিযোগকারিণীকে হেয়ার স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’’ তোপ দেগেছেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজাও। তাঁর বক্তব্য, ‘‘একটি মেয়ের শ্লীহতাহানি হয়েছে। এটা তো ক্ষমাযোগ্য নয়। এটার তো বিহিত হওয়া দরকার। এতে কোনও চেয়ার (পদ) অভিযুক্তকে রক্ষাকবচ দিতে পারে না। সন্দেশখালির ঘটনা নিয়ে সবাই এত সরব ছিল। এখন সবাই কোথায়? আমরা তো কখনও বলিনি, সন্দেশখালিতে কিছু হয়নি। এখন যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়েও মানুষের মুখ খোলা দরকার। এ সবের জন্য বাংলার বদনাম হচ্ছে। বাইরে থেকে এসে বাংলাকে কলঙ্কিত করা হচ্ছে।’’ সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এদিকে, শ্লীলতাহানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাজ্যপাল বোসের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর।

তবে এই প্রসঙ্গে ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপাল তথা বিজেপি নেতা তথাগত রায় জানান, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩৬১ অনুসারে, রাষ্ট্রপতি এবং রাজ্যপালদের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি পদক্ষেপ করা যায় না। সাংবিধানিক রক্ষাকবচ রয়েছে রাজ্যপালের। তবে জমিজমা সংক্রান্ত কোনও দেওয়ানি মামলা করা যেতেই পারে। এই ধরনের অভিযোগ এর আগে কোনও রাজ্যপালের বিরুদ্ধে উঠেছে কিনা বলা শক্ত বলেই জানান তথাগত। অপরাধ প্রমাণ হলে কী হতে চলেছে, তা এখনও পরিষ্কার। আদৌ রাজ্যপালের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার প্রক্রিয়াও স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে সিভি আনন্দ বোসের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগের নেপথ্যে চক্রান্ত রয়েছে বলেও মনে করছেন তথাগত। রাজ্যের একের পর এক দুর্নীতি ও সন্দেশখালি কাণ্ড থেকে নজর ঘোরাতেই রাজ্যপালকে ফাঁসানো হতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজ্যপাল।

লিখেছেন
Sohini Das
Sohini Das
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

এসআইআর বির্তক: যে খবর স্বাভাবিক হওয়ার কথা, সেটাই আজ বিস্ময়

Gyanesh Kumar, SIR and Election Commission: এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কেন প্রক্রিয়া চালানো হল? জ্ঞানেশ কুমার কীভাবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হলেন? ২০২৩ সালে আইন বদলে প্রধান বিচারপতিকে নির্বাচন কমিশনার বাছাইয়ের কমিটি থেকে সরানো হল কেন? এতদিন এই প্রশ্নগুলি গণমাধ্যম তুলল না কেন?

এসআইআর: বিশুদ্ধ ভোটার তালিকা তৈরির নামে যা পেল বাঙালি

Real Effect of SIR in bengal: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে ৯১ লক্ষ ভোটার বাদ যান, যারা ছিলেন মোট ভোটারের ১২ শতাংশ। যাদের মধ্যে ৩৪% ছিলেন মুসলিম , নারীরা সংখ্যায় ছিলেন ৬১.৮%, এছাড়াও ছিলেন, মতুয়া ও রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষেরা, যারা অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, অ্যালগরিদম-নির্ভর যাচাই, ১৯টি আপিল ট্রাইব্যুনালে ১ লক্ষ মামলা, সব মিলিয়ে ২০২৬-এর ভোটে যোগ্য নাগরিকরাও বাদ পড়েছিলেন।

‘সব নির্বাচনেই কারচুপি’, কেন এমন দাবি রাহুল গান্ধীর?

Rahul Gandhi election rigging claim: রাহুল গান্ধী কেন দাবি করলেন, ভারতের সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে কী প্রশ্ন তুলেছেন তিনি? সরকারবিরোধী মনোভাব বা অ্যান্টি-ইনকামবেন্সি কীভাবে ভোটের রাজনীতিতে কাজ করে? তাঁর অভিযোগের পক্ষে কী কী তথ্য ও প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে?

সিজেপির তিন দাবি, জ্ঞানেশ কুমার না সরলে ফের বড় আন্দোলন

Election Commission of India: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নির্বাচন পরিচালনার পদ্ধতি এবং ২০২৩ সালের আইনের বৈধতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে সিজেপি। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া স্থগিত করা এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত আইন প্রত্যাহার।

থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?

Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।

দুই কমিশনারের আপত্তিতে ফের আলোচনায় সীমা খান্না, কমিশনে ঠিক কী দায়িত্ব তাঁর?

Seema Khanna and ECINet: ভোটার তালিকা ও ইসিআইনেট (ECINet) নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিতে সামনে এসেছে আইটি বিভাগের ভূমিকা এবং ডিরেক্টর জেনারেল (IT) সীমা খান্নার নাম। কে এই সীমা খান্না? নির্বাচন কমিশনে তাঁর দায়িত্ব কী? ভোটার তালিকা পরিচালনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েই বা কেন উঠছে প্রশ্ন?

সরকারকে ৪ দিনের সময়সীমা বেধে দিল চা-শ্রমিকরা, ঠিক কী কী দাবি?

Dooars tea workers: ২২ সেপ্টেম্বর বকেয়া মজুরি ও অন্যান্য পাওনা মেটানোর দাবিতে হাঁটাপাড়া, ধুমচিপাড়া ও গারগান্ডার চা-শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পদযাত্রা শুরু করেন। একই দিনে তোর্সার প্রস্তাবিত ল্যান্ড পোর্ট প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষও জমি ও অধিকার রক্ষার দাবিতে পদযাত্রা করেন। দুই পদযাত্রাই পুলিশ আটকে দেয়।

বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার: ডিজিটাল উন্নয়নের দাম দেবে জল ও পরিবেশ?

Digital Thirst of vizag ai data centres: গুগল-আদানি-এয়ারটেলের যৌথ উদ্যোগে বিশাখাপত্তনমে গড়ে উঠছে ১ গিগাওয়াটের এআই ডেটা সেন্টার, বিনিয়োগ ১.২৫ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু শহরের জলসংকট, কাম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের নৈকট্য আর পরিবেশবাদীদের বিক্ষোভ এই প্রকল্পকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। 'স্টপ বিশাগ ডেটা সেন্টারস'-এর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করেছে ভারত সরকার।