সম্পর্ক, প্রেম ও স্মৃতির সংকলন, ইন্দ্রাশিস আচার্যের নতুন সিনেমা 'গুড বাই মাউন্টেন'

Goodbye Mountain : আনন্দীর ফিরে যাওয়া। অর্জুনের ভেঙে পড়া শরীর। সব দিকেই যেন একটা বিদায়ের আগের আকাশ। 'গুড বাই মাউন্টেন'-এর সেই আকাশে মেঘ মুখ ভারি করে বসে নেই। হাওয়া মৃদুমন্দ। মন, স্মৃতিশান্তিজল পেয়ে শীতল!

Abhirup Mukhopadhyay
৪ মিনিট
সম্পর্ক, প্রেম ও স্মৃতির সংকলন, ইন্দ্রাশিস আচার্যের নতুন সিনেমা 'গুড বাই মাউন্টেন'

জীবন গিয়েছে চলে আমাদের কুড়ি কুড়ি বছরের পার

তখন হঠাৎ যদি মেঠো পথে পাই আমি তোমারে আবার!

বহু সময় পেরিয়ে এসে, ফেলে-আসা জীবনকে আরেকবার চোখের সামনে দেখতে পেলে কেমন লাগে? সময়ের ব্যবধানে অনেকটাই বদলে যায় মানুষ। সেই পালটে যাওয়া জীবনের ভেতর, আরও একবার দু-জনের দেখা হয় যদি? জীবনানন্দের কবিতার এই ইচ্ছেকেই হয়তো সত্যি করে তুলতে চায় 'গুড বাই মাউন্টেন'-এর অর্জুন। কলকাতা থেকে, বন্ধুবান্ধব থেকে দূরে কেরলার একটি হিল স্টেশনে নিজের মতো সে একা একা থাকে। সেই একাকিত্বের চারিদিকে পাহাড়। ঝরনা। জঙ্গল। চা বাগান। আর, অফুরন্ত হাওয়া। ছবি যত এগোয়, বোঝা যায় দুরারোগ্য ব্যাধিতে ভুগছে অর্জুন। হয়তো আর কিছু মাস সময় তার হাতে আছে। ঠিক এখানেই, জীবনানন্দের কবিতাকে পরিচালক নিদারুণভাবে ডেকে আনেন। কীভাবে? বলছি।

আনন্দী, অর্জুনের বিগত প্রেম। সত্য অর্থে, কোনো প্রেম-ই কি বিগত হতে পারে? না পারে না। কেবল বিগত হয় সম্পর্কের পোশাকি নাম। মন, একই থেকে যায়। অর্জুন আনন্দীকে বলেছিল বাইশ দিনের জন্য তার কাছে, এই পাহাড়ের নির্জনতায় এসে থাকতে। বাইশ বছর একসঙ্গে থাকলে কেমন লাগত, তা ওই বাইশ দিনে নিজের জীবনে অনুভব করতে চায় অর্জুন। এ-ই তো ফিরে দেখা, কুড়ি-কুড়ি বছরের পরে দেখা হলে কী হত? তার উত্তর খুঁজতেই যেন শুরু হয় ছবিটি।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ঋতুপর্ণর চিত্রাঙ্গদা: ফেলে আসা প্রথম প্রেমের অবিচল চরণধ্বনি

Rituparno Ghosh: পার্থ নেশাঘোর অবস্থায় রিহার্সালের সময় ড্রাম বাজাতে ভুলে যায়। মঞ্চে উঠে, পা দিয়ে মেরে মেঝেয় ফেলে দেয় রুদ্র। তৎক্ষণাৎ উঠে, রুদ্রর পা থেকে তার ঘুঙুরটা খুলে নিয়ে বাথরুমে চলে যায় পার্থ।

‘গুড বাই মাউন্টেন’-এর কয়েকটি দৃশ্য ও সংলাপ মনে থেকে যাওয়ার মতো। আনন্দী আসার পর অর্জুনকে জিজ্ঞেস করে, ‘কী করে সময় কাটাতে?’ শান্ত হাসি-মুখে অর্জুন বলে, ‘অপেক্ষা করে’। এই অপেক্ষা তো আনন্দী-র জন্যই, সে-কথা আনন্দীর মতোই দর্শকও বুঝতে পেরে যান। অর্জুন ও আনন্দী, দু-জনেই মাঝবয়সি এখন। ছবিতে চারপাশে তাদের ঘুরতে যাওয়ার দৃশ্যগুলির মধ্যে সব সময়ই একটা স্মৃতি-সূত্র জাগিয়ে রেখেছেন পরিচালক। যে পাহাড়ে, অথবা ঝরনার ধারে তারা এসে দাঁড়িয়েছে, সেখানেই তারা কথা বলেছে ‘অতীত’ নিয়ে। সেই জায়গাটায় আগে যখন তারা এসেছিল, কে কে ছিল তাদের সঙ্গে? কী হয়েছিল? নতুন কোনো মুহূর্ত নয়, বরং একসঙ্গে উদযাপিত সময়ের স্মৃতির দিকে তারা ফিরে গেছে। ‘কুড়ি কুড়ি বছরের পার’ শুধু ভবিষ্যৎ সময়ে দিকে তাকিয়ে থাকাকেই তো বোঝায় না, কুড়ি-বাইশ বছর পুরনো অতীতের দিকে তাকানোকেও নির্দেশ করে। পরিচালক কবিতার এই সুক্ষ্মতাকে অদ্ভুতভাবে ব্যবহার করেছেন ছবিতে। একটা কথা মনে রাখা জরুরি, ছবিতে অর্জুনের দুরারোগ্য ব্যাধির কথা কিন্তু স্বচ্ছভাবে জানতে পারে না আনন্দী। তাই, সারা ছবি জুড়ে রোগের যন্ত্রণাকে পাশে রেখে, অর্জুনের বাকি ক-দিন আনন্দীর সঙ্গে বেঁচে থাকার প্যাশনকে নিদারুণভাবে দেখতে পাওয়া যায়। ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত এই চরিত্রটিকে এক শান্ত হাসি ও গভীর সহ্যক্ষমতার আবরণে আশ্চর্যভাবে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। উলটো দিকে, ছবি যত এগিয়েছে, আনন্দী চরিত্রটি পরিণত হয়েছে, পালটেছে। এবং পালটে যাওয়া অভিব্যক্তির সঙ্গে আনায়সে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়েছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।

'গুড বাই মাউন্টেন'-এর একটি দৃশ্য

ছবির একটি দৃশ্য বিশেষভাবে মনে জেগে রয়েছে। আনন্দী স্নান করছে আর তার স্নানজল, সাবানের ফেনা, নালি দিয়ে স্নানঘর ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। বাইরে দাঁড়িয়ে অর্জুন, সেই স্নানজল, সাবানের ফেনা এক হাতে অল্প তুলে নিচ্ছে। আর আশ্চর্য হয়ে তাকিয়ে রয়েছে সেই স্নানজল-মাখা নিজেরই হাতের দিকে। কারণ, এই জল আনন্দীকে স্নান করতে দেখেছে। ওর সারা শরীরকে স্পর্শ করেছে এই স্নানজল! সেই জলকে ছোঁয়া মানে তো আনন্দীকেই স্পর্শ করা! খুবই সামান্য আয়োজনে এই অতুলনীয় দৃশ্যটি রচনা করেছেন পরিচালক ইন্দ্রাশিস আচার্য!

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলা সিনেমার উচ্চতা থেকে পতন নিয়ে দু'চার কথা

Future of Bengali Movies : উন্নত মানের সিনেমা থাকতে গেলে উন্নত মানের সিনেমা চাইতে হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বাঙালির কি আদপেও সিনেমা থেকে কিছু চাহিদা আছে?

‘গুড বাই মাউন্টেন’-এর অন্যতম প্রাপ্তি হল রথিজিৎ চরিত্রটি। অভিনয় করেছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য। তিনি এই চরিত্রটিকে দ্বিস্তরী অভিনয় পদ্ধতিতে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। সকালের রোদ্দুরের মতো হাসি-খুশি রথিজিৎ রাত্রে অর্জুনের ফাঁকা ঘরে গিয়ে আনন্দী আর অর্জুনের সম্পর্কের কোনো একটা সূত্র খুঁজতে চায়। ড্রয়ারে আনন্দীর রুমাল চিনতে পেরে এক মুহূর্ত রুমালটিকে দেখে তারপরই ছুড়ে ফেলে দেয় ড্রয়ারের মধ্যে। এই দৃশ্যে, অভিনয়ের এক গভীর সুক্ষ্মতাকে আলো-অন্ধকারের মধ্যে নিজের মুখ-ভঙ্গিমায় এক মুহূর্তে ফুটিয়ে তুলেছিলেন অনির্বাণ! কিন্তু তাই বলে সকালে তার হাসি-খুশি রোদ্দুর মুখ পালটে যায়নি। পাহাড়ের ধারে, অর্জুন যখন রথিজিৎ-কে আক্ষেপস্বরে বলে এই জায়গাটায় আনন্দীকে আনা হল না, তখন আবার সেই হাসিমুখ বজায় রাখতে-রাখতেই আচমকা এক কাঠিন্যকে নিজের ভেতর ডেকে এনে রথিজিৎ বলে, তার জন্যও কিছু একটা এক্সক্লিউসিভ থাকুক। অর্থাৎ এইখানে সে-ই নিয়ে আসবে আনন্দীকে, অর্জুন নয়। সম্পর্কের মধ্যে ‘তৃতীয়’জনের যা যা জটিলতা থাকা সম্ভব সবই চরিত্রটির আছে, কিন্তু সেই জটিলতাকে এমন অদ্ভুতভাবে বহন করেছেন অনির্বাণ নিজের অভিনয়ের মধ্যে যে তাকে আর জটিলতা বলে মনে হয় না। এমনকি, পাহাড়ে খাদের মধ্যে অর্জুনকে ঠেলে ফেলে দিচ্ছে রথিজিৎ, এমন একটি দৃশ্যকে দেখিয়েই সরিয়ে নেন পরিচালক। বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, এ আসলে রথিজিতের মনেরই ইচ্ছাদৃশ্য। সেই রথিজিৎ-ই যখন ফিরে যাওয়ার সময় অর্জুনের কাঁধে হাত রেখে বলেন, ‘ভালো থাকবেন’, তখন অনির্বাণের দ্বিস্তরীয় অভিনয়ের উচ্চতার জন্য আমরা সেই ‘ভালো থাকবেন’ কথাটির মধ্যেকার শুভ ইচ্ছাকেও বিশ্বাস করতে যেন বাধ্য হই। সম্পূর্ণ ছবি কতগুলি দৃশ্যনামের অন্তর্গত। যেমন, 'ভালবাসা বৈধ? না অবৈধ?', 'শো মাস্ট গো অন'। ছবিতে, তেমনই রথিজিৎ আসার পর্বটির নাম অনাহুত। অথচ রথি জিৎ চরিত্রটির উপস্থিতি একথা প্রমাণ করে দিল, সে অনাহুত নয়, বরং খুব বেশি করেই প্রয়োজনীয়!

অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্য

আরও একটা কথা বলতেই হয়, ছবিতে দেখা যায় এক রাতে শরীরী ঘনিষ্ঠতার দিকে এগোচ্ছিল অর্জুন আর আনন্দী, কিন্তু বাইরের আওয়াজে তা ভেঙে যায়। সেই অর্জুনের বাড়িতেই, তার পাশের ঘরে, রথিজিৎ বারংবার মিলিত হয় আনন্দীর সঙ্গে। আনন্দীর ঘাড়ের মধ্যে নিজের মুখ গুঁজে দেওয়ার মধ্যে একটা আদর ছিল ঠিক কথা, কিন্তু এই আদর আসলে জান্তব আদর। এই ‘জান্তব’ কথাটির মধ্যেই রয়েছে প্রতিশোধ ইচ্ছা। এখানে বিশেষভাবে পরিচালক ইন্দ্রাশিস আচার্যকে তারিফ জানাতেই হয়।

আনন্দীর ফিরে যাওয়া। অর্জুনের ভেঙে পড়া শরীর। সব দিকেই যেন একটা বিদায়ের আগের আকাশ। 'গুড বাই মাউন্টেন'-এর সেই আকাশে মেঘ মুখ ভারি করে বসে নেই। হাওয়া মৃদুমন্দ। মন, স্মৃতিশান্তিজল পেয়ে শীতল!

লিখেছেন
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

কেতকী কুশারী ডাইসনের গবেষণায় রবীন্দ্রনাথের বর্ণান্ধতা: কবির দেখা রঙের পৃথিবীটা কেমন ছিল?

Ketaki Kushari Dyson about Rabindranath Tagore color blindness: ডাইসনের ক্ষেত্রে একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ‘রঙের রবীন্দ্রনাথ’-এর ইতিহাসে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তরুণ বয়সে তাঁর নিজের দৃষ্টিশক্তি গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছিল। ডাইসনের নিজের বিবরণ অনুযায়ী ১৯৫৯-৬০ সালে তাঁর চোখে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার হয়।

‘ভারতের সঙ্গে খাপ খায় না ধর্মনিরপেক্ষতা’: মোহন ভাগবতের দাবি কতটা সত্য?

Mohan bhagwat's anti secularism: উজ্জয়নীর যুব ধর্ম সংসদে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা পশ্চিমা ধারণা, ভারতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর সঙ্গে এটি খাপ খায় না। সত্যিই কি তাই? মোহন ভাগবতের ‘সর্ব-পন্থ-সমভাব’-এর যুক্তি এবং আরএসএসের ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে অবস্থানের প্রেক্ষিতে নিবেদিতা মেননের ‘মিসডিরেকশন’ তত্ত্ব কী প্রশ্ন তুলছে?

পাতে মাছ, হাতে ‘সনাতনী’ সার্টিফিকেট, কোনটা চায় বাঙালি?

Dhirendra Shastri fish meat controversy: বিতর্কের সূত্রপাত বাগেশ্বর ধামের ধর্মগুরু ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রীর মন্তব্যে। তিনি সম্প্রতি বাংলায় এসে দুর্গাপুজোর সময় হিন্দু বাঙালিদের মাছ-মাংস না খাওয়ার আহ্বান জানান। আমিষাশী হিন্দু বাঙালিদের ‘পাখণ্ডী’ বিশেষণ উপহার দেন।

ছবির পরিকল্পনা থেকে পলিফোনিক সুর: মণিদার যে কাজগুলি শেষ পর্যন্ত হলো না

Gautam Chattopadhyay: একদিন মণিদা বলল, ‘চল তো, জয়ন্ত বোসের বাড়ি যাব। ওকে দিয়ে ছবিতে একটা পলিফোনিক আবহ সংগীত তৈরি করাব।’ তখন আমরা দূরদর্শনের জন্য ‘মহুয়া সুন্দরী’ তৈরি করছি—ময়মনসিংহ গীতিকার একটি জনপ্রিয় লোকপালা।

এক রাজকন্যার স্মৃতি যেভাবে হয়ে উঠল রাঢ় বাংলার মেয়েদের নিজস্ব উৎসব

Bhadu Festival: অবিভক্ত মানভূম জেলার পঞ্চকোটের রাজা নীলমণি সিংহদেবের অপরূপা কন্যা ভদ্রেশ্বরী দেবীর অনূঢ়া অবস্থায় অকালে মৃত্যু ঘটে। রাজকন্যার এই আকস্মিক প্রয়াণে রাজার সঙ্গে প্রজাসাধারণও শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে। কন্যার স্মৃতি অমলিন রাখতে শোকার্ত রাজা রাজ্যজুড়ে এক বিশেষ উৎসব পালনের নির্দেশ দেন।

আলো দিয়ে অন্ধকার দেখাতেন, ব্যঙ্গ দিয়ে সমাজের মুখোশ খুলে দিতেন গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর

Gaganendranath Tagore: আধুনিক ভারতীয় শিল্পের প্রেক্ষাপটে গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবদান বুঝতে হলে তাঁকে কেবল ‘ঠাকুরবাড়ির মানুষ’ হিসেবে দেখলে চলবে না; বিচার করতে হবে একজন অনুসন্ধিৎসু ও আধুনিক শিল্পী হিসেবে।

বুদ্ধের হাত, বিশ্বকর্মার যন্ত্র! ইলোরার ১০ নম্বর গুহায় আসলে কে বসে আছেন?

The caste history of vishwakarma's: ইলোরার 'সুতারের ঝোপড়ি' থেকে আধুনিক কারিগরের কর্মশালা, বিশ্বকর্মার হাজার বছরের যাত্রা আজও অব্যাহত। ইলোরার দশ নম্বর গুহায় বুদ্ধের মূর্তিকে ভক্তরা ডাকেন বিশ্বকর্মা বলে, যিনি কারিগরদের পূর্বপুরুষ, দেবতাদের স্থপতি। ঋগ্বেদের 'সর্বকর্তা' থেকে পুরাণের 'দেবশিল্পী', ব্রাহ্মণত্বের দাবি থেকে ওবিসি সংরক্ষণ—বিজয়া রামাস্বামী, জ্যান ব্রাউয়ার ও কিরিন নারায়ণের গবেষণায় উন্মোচিত হয়েছে, বিশ্বকর্মাদের ঘিরে গড়ে ওঠা বর্ণবাদ, কারিগরি ও ক্ষমতাকাঠামোর জটিল ইতিহাস।

লেপচাদের দার্জিলিং যেভাবে হয়ে উঠল ব্রিটিশদের শৈলশহর

Darjeeling history: ভারতের প্রথম ‘জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন’ (জিআই) ট্যাগ প্রাপ্ত পণ্য বিশ্বখ্যাত ‘দার্জিলিং টি’। অথচ এই চা গাছ কিন্তু দার্জিলিং-এর ‘ভূমিপুত্র’ নয়। সাহেবরা নিজেদের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে শান দিতেই এখানকার আদি বাস্তুতন্ত্রের খোলনলচে বদলে দিয়েছিল। দেশীয় বনভূমি ধ্বংস করে পাইন আর চা রোপণের মাধ্যমেই জন্ম নিয়েছিল আধুনিক পর্যটন মানচিত্রের এই ‘খাদের ধারের দার্জিলিং’।