বাংলা সিনেমার উচ্চতা থেকে পতন নিয়ে দু'চার কথা

Future of Bengali Movies : উন্নত মানের সিনেমা থাকতে গেলে উন্নত মানের সিনেমা চাইতে হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বাঙালির কি আদপেও সিনেমা থেকে কিছু চাহিদা আছে?

Anindya Sengupta
১৬ মিনিট
বাংলা সিনেমার উচ্চতা থেকে পতন নিয়ে দু'চার কথা

অনুরাগ কাশ্যপের পশ্চিমবঙ্গের বাংলা সিনেমা নিয়ে মন্তব্য প্রসঙ্গে এই লেখায় কিছু কথা পেশ করব। প্রথমেই বলে রাখি, কাশ্যপের উক্তিটি একটা তিক্ত আরাম দিয়েছে আমাকে। কারণ অন্তত ২০ বছর ধরে ছাপা অক্ষরে, সামাজিক মাধ্যমে, ব্লগ পোস্টে বলার চেষ্টা করেছি এই যে বাংলা সিনেমার মান ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী। আমি জানি কিছু মানুষ আছেন যাঁরা এই ব্যাপারটা বুঝবেন, কেন অনুরাগের সোজাসাপ্টা মন্তব্য আরাম দেয়, আবার কেন তা তেতো ভাবও রেখে দেয়। আমি জানি অনেক মানুষ আছেন যাঁরা অস্বীকার করেন যে, বাংলা সিনেমা দীর্ঘদিন হলো সংকটে আছে; এবং আমার মতামতের বিরোধী এই মানুষরা ক্ষমতাবান, কারণ তাঁরা আমার মতো মতাবলম্বীদের ছবি বানাতে দেন না, ছবি নিয়ে মতামত গড়তে দেন না; অর্থাৎ আমাদের বাংলা ছবির জগতে কার্যকর হতে দেন না।

যারা অনুরাগকে তিরস্কার করছেন তাঁরা জেনে রাখুন, এখনকার বাংলা সিনেমার কোনও অভিঘাত জাতীয় স্তরেও নেই (আন্তর্জাতিক তো ডুমুরের ফুল), নিজেদের সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও নেই। বাংলা সিনেমা অন্য ভাষাভাষির চিত্রনির্মাতাদের অনুপ্রেরণা দিচ্ছে না বেশ কয়েক দশক হলো, নিজেদের আগামী প্রজন্মকেও দিচ্ছে না। আমরা আমাদের বন্ধ ঘরে বনসাই গাছের দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকতে পারি কিন্তু আমাদের বাগানে এমন সবুজ নেই যা কিনা প্রতিবেশীর চোখে-মনে আরাম দিতে পারে, এটা প্রমাণ হয়ে গেছে।

২১ ফেব্রুয়ারি এই লেখাটা লিখছিলাম। আমি বাংলা সিনেমার সার্বিক অবস্থার প্রতি বীতশ্রদ্ধ গত কুড়ি বছর ধরে। যেহেতু এই ভাষাটা বড় আদরের, তাই এই ভাষায় শ্রেষ্ঠতম ছবি দেখার বড় সাধ। সেই সাধ বাংলাদেশ মেটায়। কিন্তু কী করব? ইতিহাসের খেয়ালে সেটা অন্য দেশ। আমি যে ভাগ করা ভূখণ্ডে বাস করি সেখানকার বাস্তব, সেখানকার কল্পনাও বাংলা ভাষায় চলমান চিত্রমালায় দেখব, এই সাধটা যায় না। সেই জন্যই অনুরাগের মন্তব্য আমার দীর্ঘদিনের লালিত রাগকে আরাম দেয়, আবার ভালোও লাগে না শুনে। কিন্তু অনুরাগের উপর রাগটা হয় না। রাগটা হয় মূলত যারা বাংলা সিনেমার এই সংকটকে অস্বীকার করেন তাদের উপর, যাদের মধ্যে নির্মাতা এবং দর্শক দুই পক্ষই আছেন।

প্রসঙ্গত, প্রতি বছরই এক দু’খানা ছবি পাই এপার বাংলায় যা ভালো লাগে। যেমন বেশ কিছু খামতি বা আক্ষেপ সহই এই মাসে 'পারিয়া' এবং 'ভূতপরী' ভালো লেগেছে। কিন্তু রাগটা কোথায় হয় বলুন তো? আমি জানি, এরকম হাতে গোনা কিছু ছবি বাংলা সিনেমার কংক্রিটের দেওয়ালে আঁচড় কাটতে পারে না। এই দেওয়ালের পাশে দাঁড়িয়ে বড় ক্লান্ত লাগে এখন। নতুন পরিচালকরা তাদের নতুন ভাবনার ছবি সাকার করতে পারে না, যদি না এই কংক্রিটের দেওয়ালকে মাথার ওপর ছাদ হিসেবে তারা মেনে নেয়। ভালো ছবি, সফল ছবি, তৃপ্তিদায়ক ছবি, বিনোদন করতে পারা ও ভাবাতে পারা ছবি, হৃদয় ও মন দুই স্পর্শ করার ছবি যাতে না হয়, সেই বিশ-পঁচিশ বছর বয়স্ক প্রতিকূলতা বহাল তবিয়তে থেকে যায় সেই বছরে দু’ একটা ছবি সত্ত্বেও।

অনুরাগের মন্তব্যের সমালোচনায় যত তর্ক চোখে আসছে তা মূলত ডিফেন্সিভ বা ডিনায়ালের ভিতে (বা বাংলা সিনেমার পাশে) দণ্ডায়মান। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, জাতীয় বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল ছবির নিরিখে, যে কোনও দেশেই, সামগ্রিক ছবির মানে ঢেউয়ের মতো উত্থান-পতন ঘটে। যেমন, হলিউডে ১৯৬০-এর দশকের ছবি এবং ৮০-র দশকের ছবির মান ছিল তার আগের ও পরের দশকের তুলনায় নিম্নমুখী। কিন্তু বাংলা সিনেমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা চমকপ্রদ! পতন যখন শুরু হয়েছে তারপর থেকে তা তিরিশ পঁয়ত্রিশ বছর ধরে ধারাবাহিক। বড় অংশের দর্শকদের চলচ্চিত্রবোধও সঙ্গত দিয়ে নিম্নমুখী। তাই তারা এখন আর বুঝতেও পারেন না যে অধোগতি ঘটছে। আগে লোকে নিচু মানের হিন্দি ছবি দেখত নিচু মানের বাংলা ছবি দেখার পাশে কিন্তু এখন ওটিটিতে অন্য ভাষায় উচ্চমানের গোয়েন্দা গল্প দেখার পরেও তারা নিম্নমানের বাংলা গোয়েন্দা গল্প দিব্যি দেখেন! মানে, তারাও বাংলা ছবি থেকে এই মানের বেশি কিছু প্রত্যাশা করেন না। তারা 'বাকিটা ব্যক্তিগত'-কে দিব্যি বলেন এবং সবচাইতে ভয়ংকর হলো, দিব্যি বলে ইগনোর করতে জানেন! এতে বাংলা ছবির আরও ক্ষতি হয়।

এইবার আমার এই লেখার প্রতি অভিযোগ আসবে যে, এই সবই আমার ‘ব্যক্তিগত মতামত’, যেন বাংলা সিনেমা নিয়ে আমার বিশেষ গাত্রদাহ আছে। আমি জানি, বাকি লেখাটায় আমি যা যা বলব তাকেও ডিনাই করা হবে; ইন্টারনেট বা সামাজিক মাধ্যমের গড়পরতা পাঠক চিন্তার খোরাক হিসেবে লেখা পড়েন না, পড়েন সাবাশ বা দুচ্ছাই বলার জন্য। সেইজন্যই আমি আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্টের শাটার নামিয়ে দিয়েছি, সেইজন্যই ওয়েবে লেখা প্রকাশ করি কম। কিন্তু লিখতে আরম্ভ করলে শেষ তো করতে হবে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সত্যিই কি ওপেনহাইমার শতাব্দীর সেরা সিনেমা? নাকি...

Oppenheimer Review: ওপেনহাইমার যদি নিজেকে ‘ডেথ’ বলে দাবি করেন, তাহলে রাষ্ট্র সেই মৃত্যুর ব্যবসায়ী। সিনেমার প্রতিটি দৃশ্য, শব্দ, সংলাপ, চরিত্র রাষ্ট্রের সন্দেহজনক ছবিকে বাস্তব করে তোলে।

প্রথমত, অনুরাগকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল তিনি বাংলা ছবি দেখেন কিনা। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়নি বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির উন্নতি কীভাবে হবে। অনুরাগ কাশ্যপ একজন হিন্দিভাষী ফিল্মমেকার। তিনি বাংলা ছবি বিনোদনের জন্যও দেখবেন না, পাশে দাঁড়ানোর জন্যও দেখবেন না। বছরের সমস্ত 'নামকরা' বাংলা ছবি দেখে 'আপডেটেড' থাকার দায়ও তাঁর নেই। তিনি যদি বাংলা ছবি দেখার ইচ্ছে প্রকাশ করেন, করবেন তার 'শৈল্পিক কোয়ালিটি'-র জন্যই। একজন হিন্দিভাষী ফিল্মমেকারের এই কারণ ছাড়া বাংলা ছবি দেখার আর কোনও কারণ নেই এবং এই প্রসঙ্গেই তিনি বলেছেন যে, সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণালের যুগের যে সুউচ্চ মানের ছবির কাছে তিনি বারবার যান, তাদের পরবর্তী প্রজন্মের বাঙালি চলচ্চিত্রকারদের কাজের কাছে সেই কারণে যাওয়ার প্রয়োজন তিনি বোধ করেন না; সেই ছবি তাঁর মতো একজন চলচ্চিত্রশিল্পীকে নান্দনিক-শৈল্পিক তৃপ্তি দেয় না। অনুরাগের সমর্থনে আমার এইটুকুই বলার। বাকি লেখাতে বলব কেন তাঁর উক্তি আমাকে তিক্ত আরাম দিয়েছে। তিক্ত - কারণ বাংলা ছবি আমার সাধের ভালোবাসার ক্ষেত্র; আরাম - কারণ, এই কথাটাই বলে বলে অনেকের বিরাগভাজন হয়েছি গত দুই দশকে।

১। আর্ট সিনেমা যদি সিনেমার শৈল্পিক মানের ক্ষেত্র হয়, বাংলা আর্ট সিনেমার ৯০ দশক থেকে কোনও অস্তিত্ব নেই।আমি 'কমার্শিয়াল' এবং 'আর্ট ফিল্ম'-এর বিভাজন বুঝি না। এমন ছবি হয় নাকি যার লগ্নি টাকা তুলে আনার ইচ্ছে নেই নির্মাতাদের? তাহলে সেই টাকার উৎস তো সন্দেহজনক! যদি লগ্নির টাকা তুলে আনতে হয়, যদি যত বিস্তৃত সম্ভব দর্শকসংখ্যার কাছে পৌঁছে যাওয়া কাম্য হয়, তাহলে সব ছবিই কমার্শিয়াল। যে ছবি সুচারুভাবে গল্প বলতে পারবে, তা শিল্পোত্তীর্ণ হবেই, তাকে আলাদা করে 'আর্ট' তকমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

তাই 'আর্ট-কমার্শিয়াল'-এর বদলে আমার বুঝতে সুবিধে হয় 'ইন্ডাস্ট্রিয়াল মেনস্ট্রিম' এবং 'অল্টারনেটিভ সিনেমা'-র বিভাজনকে। ইন্ডাস্ট্রিয়াল মূলধারা হলো, যে আঙ্গিকে ইন্ডাস্ট্রির ছবি মূলত গল্প বলে ও বিনোদন পেশ করে। 'বিকল্প' ছবি মূলত সেই আঙ্গিকের বিকল্প একটি পরিকল্প বা প্যারাডাইম পেশ করে। যেমন, যখন বাংলা ছবির মূলধারা নিজেকে পেশ করত সামাজিক মেলোড্রামার আঙ্গিকে এবং পরে উত্তম-সুচিত্রার রোমান্টিক মেলোড্রামার আঙ্গিকে, তখন সত্যজিতের বাস্তববাদ, বা ঋত্বিকের রাজনৈতিক আধুনিকতাবাদী মেলোড্রামার ব্যবহার, বা মৃণাল সেনের ৬৯-পরবর্তী রাজনৈতিক ছবি বিকল্প ফর্মের ছবি। তবে ঐতিহাসিকভাবে আর্ট সিনেমা নামক একটি গোত্র অবশ্যই ছিল এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই গ্লোবাল গোত্রটির যখন সূচনা হয়েছিল, সেই গোত্রে বাংলা ছবিরও উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল। এই বিকল্পর জোরালো উপস্থিতি যেমন অজয় কর, অসিত সেন, যাত্রিক-তরুণ মজুমদার প্রমুখের মূলধারার ছবিতেও পড়েছিল, সেরকমই একটা সৃষ্টিশীল মধ্যধারা তৈরি হয়েছিল তপন সিনহা, রাজেন তরফদার বা পার্থপ্রতিম রায়চৌধুরীদের ছবির মারফৎ। 'বিকল্প' সিনেমা সবসময়েই ফর্ম বা আঙ্গিকগত একটি পরিকল্প বা প্যারাডাইম পেশ করে, যার ছত্রতলে আরও অনেক অনুসারী শিল্পী ছবি করতে পারে। এইজন্যই বিকল্প ছবি অনেকক্ষেত্রেই মুভমেন্ট বা আন্দোলনের অংশ হয়, যেখানে একগুচ্ছের আগামী ছবির প্রস্তুতি হবে একরকমের।

গত তিরিশ বছরে এইরকম বাংলা 'আর্ট সিনেমা'-র অস্তিত্ব আছে বলে আমি বিশ্বাস করি না, কারণ সেই ছবিগুলি বিকল্প কোনও প্যারাডাইম দেয়নি যা আগামী প্রজন্মকে উৎসাহ দেবে। উলটে সেই ছবির নির্মাতারা ফিল্ম-ফেস্টিভাল এবং আর্ট-হাউজ সিনেমার বাজারের স্লট-কাঙ্খী হয়ে কলকাতায় সামাজিক-সাংস্কৃতিক কৌলীন্য-কাঙ্খী হয়েছে। বিগত ছবির যে আন্তরিকতা বা আকুতি, তা এই ছবিতে খুব কমই প্রতিভাত হতো। এই ছবিগুলি, আমি আর্ট সিনেমা বলতে যা বুঝি তা ছিল না। বৃহত্তর ধনতান্ত্রিক বাজারেও আর্ট সিনেমা আরেকটি বাজারি ক্যাটেগরিতে পর্যবসিত হয়েছে মাত্র, নব্বই দশক থেকে এই ভিন্নধারার বাংলা ছবি সেই বাজারে নিজেকে বিক্রি করতে চেয়েছে মাত্র, আমাদের প্রেক্ষিতে কোনও অবদান রাখতে চায়নি।

আমি নাম নিতে চাই না, কিন্তু আশি ও নব্বই দশকের সেই ধরনের ছবিগুলি যে ৫০ ও ৬০ দশকের সত্যজিৎ-ঋত্বিক-মৃণাল তো বটেই, এমনকী তপন-রাজেন-তরুণ-রাজেনদের ছবি, অজয় কর, অসিত সেনদের ছবির চাইতেও নিম্নমানের তা না বোঝা গেলে বাংলা সিনেমার উন্নতি হবে না। এখন যদি কাউকে নতুন আর্ট সিনেমা করতে হয়, তাহলে বিগত এই ছবির থেকে নাড়ি ছিন্ন করে নতুন ভাবনা পেশ করতে হবে, ভাবনার ভিতে আমূল বদল আনতে হবে।

সেই সংকটের যুগে, এমনকী কোনও এক পরিচালক যিনি আগে উন্নতমানের ছবি করেছেন এই পর্যায়ে যে নিম্নমানের ছবি করছেন সেটাও এড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। নিজের পুরনো একটা লেখা পুনরাবৃত্তি করে উদাহরণ দিচ্ছি। আশির দশকের মাঝামাঝি তরুণ মজুমদার ‘ভালোবাসা ভালোবাসা’ ছবির ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিটের মাথায় একটি বিচিত্র সাংস্কৃতিক আলোচনা ঘটে। ছবির ভদ্র, ছাপোষা নায়কের বিপ্রতীপে যে পাশ্চাত্য সংস্কৃতিপ্রভাবিত তরুণ, তিনি বলেন যে এদেশি সঙ্গীত আদপেই সঙ্গীত নয়, কারণ তাতে প্রাণপ্রাচুর্য নেই, তা তাৎক্ষণিক নর্তন-কুর্দন ট্রিগার করে না। এই সঙ্গীতের নাম চরিত্রটি করেন, আশির দশকের উদ্দাম নৃত্যের গান ডিস্কো। এইরকম সাংস্কৃতিক বাইনারি সেই সময়ের ছবিতে অস্বাভাবিক নয় এবং ছাপোষা নায়ক যে কিছুক্ষণের মধ্যেই হেমন্ত মুখোপাধ্যায় সুরারোপিত গানে সবার হৃদয়হরণ করবে আমেরিকা-ফেরত বখাটে ছেলেটি অবধারিত নস্যাৎ করে তাও; কিন্তু সবচাইতে চমকাতে হয় যখন সেই চরিত্রটি পাশ্চাত্যের দু’জন গায়কের নাম করেন ডিস্কোর উদাহরণ হিসেবে। প্রখ্যাত গ্রিক গায়িকা নানা মুসকৌরি ছাড়া নাম করা হয় পিট সিগার আর জোন বায়েজের।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
সত্যজিৎ, ঋত্বিক নন; মধ্যবিত্ত সমাজকে থাপ্পড় কষিয়েছিলেন মৃণাল সেনই!

Mrinal Sen: ১৯৮২ সালে মৃণাল সেন তৈরি করলেন ‘খারিজ’। অনেকের মতে এই ছবি নাকি তৎকালীন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সমাজের ভিত্তিটাকেই নাড়িয়ে দিয়েছিল।

সময়টা ১৯৮৫, এক দশকও হয়নি বামফ্রন্ট ক্ষমতায় এসেছে। সেই সময়ে কী ধরনের সাংস্কৃতিক বিস্মরণ ষাট-সত্তর দশকের প্রবাদপ্রতিম দুইজন বামপন্থী সংস্কৃতিকর্মীকে ‘মাতাল’, উদ্দাম নৃত্যসঙ্গীতকারের উদাহরণ হিসেবে পেশ করে তা ভাবতে বিস্ময় লাগে এখন, বিশেষত যখন পরিচালক বাংলা ছবির অগ্রগণ্য শিল্পীদের একজন। বোঝা যায়, বিশ্বের সঙ্গে, আধুনিকতার সঙ্গে বাংলা সিনেমা আর সংস্কৃতির যোগসূত্রে বড়সড় সংকট হাজির হয়েছে।

অর্থাৎ এই সময় থেকেই বাংলা সিনেমা নিজের চৌহদ্দির মধ্যে আটকে যেতে আরম্ভ করেছে। একটি গভীর কুয়োর মধ্যে, অথবা জানলাহীন আয়নাময় একটি বদ্ধ ঘরের মধ্যে। এই ছবি একধরনের আঙ্গিকগত সংকটের মধ্যে আটকে পড়ে যায় - বহির্বিশ্বের সঙ্গে চ্যুতি ঘটে, ক্যামেরা আটকে যায় অন্দরে, অনন্ত কথা-কথা-কথা আর অবসাদ-অন্তর্মুখীতা-গ্লানির মধ্যে ঘুরপাক খেতে খেতে, রাজনৈতিকতা থেকে সরে গিয়ে শুধুই নৈতিকতার হাহাকারে বাঁধা পড়ে যায় এই ছবি। পরবর্তীকালে বাংলা সিনেমার আলোচনায় আকাডেমিক আলোচকরা দেখিয়েছেন মধ্যবিত্তর এই সংকট কীভাবে মধ্যবিত্ত ছবিরই সংকট হয়ে ওঠে। যদিও সত্যজিৎ এবং মৃণালের ছবি এই সংকটের ব্যাপারে যতটা সচেতন, অসহায় ও পীড়িত ছিল, পরবর্তী চলচ্চিত্রকারেরা ছিলেন ততটাই অসচেতন, আত্মতৃপ্ত ও প্রশ্নহীন।

২। বাঙালির ফিল্ম-চর্চার ৯০ দশককালীন 'হিপোক্রেসি'

প্রকাশিতব্য আমার একটি ভিন্ন লেখা থেকে আরও কয়েকটি কথা - আশি ও নব্বই দশকে, একাধিক সেমিনার বা লেখালেখির সম্মুখীন হতাম যার বিষয় ছিল 'বাংলা সিনেমার সংকট'। সত্যিই উত্তমকুমারের মৃত্যুর পর তখন ইন্ডাস্ট্রি সংকটাপন্ন ছিল কিন্তু একসময় বুঝতে পারছিলাম যে ইন্ডাস্ট্রির সংকট এই সমস্ত সভায় ও লেখায় আদপেই আলোচিত হচ্ছে না। সেখানে মূলত আলোচনা হচ্ছে 'সুস্থ', 'ভালো' ও 'উন্নত' বাংলা ছবির সংকটের কথা। যারা এই 'সুস্থ ও ভালো' বাংলা ছবির কুশীলব, তাদের সৃজনশীলতার বা শিল্পসত্ত্বার কোনও সংকট আলোচিত হতো না, তারা যেন তাদের পূর্ণ ফর্মেই আছেন। তাহলে সংকট কোথায় ছিল? বলা হতো, নিম্নমানের 'কমার্শিয়াল' ছবির প্রাদুর্ভাবের ফলে ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে কীভাবে আমাদের ভীষণ বাঙ্ময় ভিন্নধারার ফিল্মমেকাররা বোবা হয়ে মরছেন 'এত ভাষা লয়ে'।

বুঝেছিলাম, সংকট ছিল একটি জায়গাতেই - বাংলা সিনেমা আর শহুরে ভদ্রলোক মধ্যবিত্তের হাতে নেই। এটা এক অদ্ভুত সমাপতন যে বামফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেই ফিল্ম সোসাইটি আন্দোলনে ভাটা আসে, যেন সিভিল সোসাইটি তার দায়িত্ব বন্ধু-সরকারের হাতে তুলে দিয়ে অবসরপ্রাপ্ত হবে এবার। নন্দন নির্মাণ করা ছাড়া বামফ্রন্ট সরকার সেভাবে সিনেমার উন্নতি করতে পারেনি। প্রথমদিকে বেশ কিছু ছবি প্রযোজনার পর তাতে ভাটা পড়েছিল, কারণ সেই ছবিগুলির ডিসট্রিবিউশন, মার্কেটিং ও প্রফিট জেনারেশন সরকারি কাজের দক্ষতার মধ্যে পড়ে না, তাই পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রযোজিত বাংলা ছবির ভাঁড়ার ফুরিয়ে গেল দ্রুত।

এরপর নব্বই দশকে ঋতুপর্ণ ঘোষ বাঙালি মধ্যবিত্তকে আবার প্রেক্ষাগৃহে ফিরিয়ে আনলেন এবং মেট্রোপলিটান মধ্যবিত্ত ছবির একটা ঘরানা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওইসব 'বাংলা সিনেমার সংকট' নিয়ে সভা-আলোচনা-সেমিনার একদম বন্ধ হয়ে গেল। যা থেকে প্রমাণ হয় যে সংকটটা বাংলা সিনেমার আদপেই ছিল না বা উন্নত 'আর্ট সিনেমা'-রও ছিল না। সংকটটা ছিল শুধুমাত্র এই যে, বাঙালি মধ্যবিত্ত সিনেমায় তার কাঙ্খিত উপস্থিতি-হেজিমনি দেখতে পাচ্ছিল না। সেই যে বিগত সভা-সমিতিগুলোতে পরের পর আলোচক-পরিচালকরা তাদের যে 'আন্তর্জাতিক মানের ভাবনা'-র প্রকাশ করতে পারছিলেন না পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ইত্যাদি অভিযোগ করে যেতেন - ঋতুপর্ণ-পরবর্তী মধ্যবিত্তর বাংলা সিনেমার যে পুনর্জাগরণ হলো - সেই 'আন্তর্জাতিক মানের ভাবনার' কিন্তু নব-উদ্যমে আর প্রকাশ পেতে দেখলাম না। বরং এই সময় থেকেই বাংলা ছবি তার আন্তর্জাতিক মাত্রা চিরতরে হারিয়ে ফেলল। আন্তর্জাতিক বা জাতীয় মূলধারার সিনেমায় বাঙালি অংশগ্রহণ করতে চায়, এইবার সেই অংশগ্রহণ কীভাবে হবে এটাও তারা আদপেই আলোচনা করতেন না। তারা সেই আলোচনায় শুধু রুচির দোহাই দিয়ে দোষারোপ করতেন মূলধারাকে, যে মূলধারা তাদের কথা বলে না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলাদেশ নিজের জায়গা ধরে রাখতে পেরেছে; পশ্চিমবঙ্গ পারেনি : কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়

Kamaleshwar Mukhopadhyay Interview : মানুষের যে কোনও ছবি যে কোনও সময় না-ই ভালো লাগতে পারে। তার মানে কিন্তু ছবিটা ভালো নয়, এমন নয়।

তাহলে কি তারা এতটুকুই চাইছিলেন? কলকাতার কূপমণ্ডুক মধ্যবিত্তর সিনেমাটিক মূলধারা ফের প্রতিষ্ঠা হোক? কিন্তু, সেই সভা-সমিতিগুলোয় তারা মোটেও সেটা বলেননি। সত্যজিৎ ও মৃণাল সেনের পদানুসরণ করে যে আন্তর্জাতিক আর্ট সিনেমা বা বিকল্প সিনেমায় তাদের নাকি বিঘ্নিত উত্তরাধিকার, সেই নিয়ে তারা প্রগলভতায় মেতে থাকতেন (এখানে অভ্যাসবশত ঋত্বিকের নাম করলাম না কারণ ঋত্বিকের ছবির আন্তর্জাতিক পরিচিতি তখনও সেভাবে শুরু হয়নি)।

কিন্তু ভেঙ্কটেশ ফিল্মের পৃষ্ঠপোষকতায় যে মধ্যবিত্তের ফের পর্দায় ফেরত আসা নব্বইয়ে, তারপর থেকে তো বাঙালির চলচ্চিত্রভাবনায় আন্তর্জাতিকতার স্পর্শই মোটামুটি বন্ধ হয়ে গেছে। নন্দন, গোর্কি সদন, ম্যাক্সমুলার ভবনে সভার পর সভা, কথার পর কথা জুড়ে আমরা শুনতাম বাঙালির ভাবনা এখনও জ্যান্ত ও ফুটন্ত, অভাব শুধুই প্রযোজক আর দর্শকের পৃষ্ঠপোষকতার এবং ব্যাঘাত শুধুই স্বপন সাহা, হরনাথ চক্রবর্তীদের লুম্পেন ছবির রুচি-দূষণে। যে মুহূর্তে বাংলা ছবির পর্দায় আমাদের 'কালচারাল ইন্টেরিয়র ডেকরেশন', উত্তর কলকাতার 'ঐতিহ্য' ও দক্ষিণ কলকাতার 'লিবারালপনা' মিলিয়ে বাঙালিয়ানার নতুন ইমেজসম্ভার সুপ্রতিষ্ঠিত হলো, বাংলা সিনেমার সংকট নিয়ে সেমিনার ও পুজাবার্ষিকীতে বিদ্বজ্জনের মতামতের সংকলন বন্ধ হয়ে গেল। সেখানে এই আলোচনা একবারও হয়নি যে আমাদের ভিন্ন সিনেমা-ভাবনা বা শিল্পভাবনাতেই হয়তো কোনও সংকট উপস্থিত হয়েছে। একবারও আলোচকরা স্বীকার করতেন না যে, তাদের বিকল্প চলচ্চিত্রভাবনাই সংকটাপন্ন। সংকট ছিল ভাবনায় ও অভিব্যক্তিতে, সংকট ছিল সমকাল থেকে পিছলে যাওয়ায়, সেই সংকট থেকে আজও রেহাই মেলেনি।

৩। বিদ্রোহের অবসানের পরে মেট্রোপলিটান মধ্যবিত্তের মন ও মনন; বাঙালি মূলধারা ছবির নিম্নগামী চলন

ঋতুপর্ণ ঘোষ বাঙালি মধ্যবিত্তকে কোথা থেকে সিনেমা হলে ফিরিয়ে আনলেন? তারা কোথায় গেছিল? ঠিক বর্তমান সময়ের মতো, বাঙালি মধ্যবিত্ত দর্শক আশির দশকের ইন্ডাস্ট্রির সেই দুঃস্থ অবস্থায় ঠিক পাশে ছিল না, ছিল ঘরে। দূরদর্শনে তখন এক অনবদ্য টাইম-ওয়ার্প চলছে; আমাদের বাল্যকালের সেই সিনেমাটিক কালচক্রে আমরা ১৯৫০ থেকে '৭০-এর লুপে ঘুরছি। ইন্ডাস্ট্রি ধুঁকে মরছে, মধ্যবিত্ত টিভিতে উত্তমকুমার-সত্যজিৎ দেখে স্বর্ণযুগ নির্মাণ করছে; উত্তম মারা গেছেন, উত্তম বেঁচে আছেন ছোট পর্দায়, সত্যজিৎ বিগ্রহে পরিণত হচ্ছেন। এই মধ্যবিত্ত হলে যাচ্ছে না, মননশীল বাঙালি তার বদলে ঘ্যানঘ্যান করছে যে বাংলা সিনেমার অধঃপতন হয়েছে।

হ্যাঁ, বাংলা জনপ্রিয় মূলধারার ছবির তখন বেশ মানের স্খলন ঘটছিল। এই সময়েই মূলধারার বাংলা ছবিতে একটি অদ্ভুত রক্ষণশীলতার পিছু হটা শুরু হয় অঞ্জন চৌধুরীর ঘরানার ছবি দিয়ে, যে ছবির আইকন হয়ে উঠবেন রঞ্জিত মল্লিক ও প্রসেনজিৎ। খুবই চিত্তাকর্ষক ব্যাপার, সত্তর দশক শেষ হলো, এমার্জেন্সি উঠে গেল, সাতাত্তরে বামফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠিত হলো। বিগত দশকে আমরা পুলিশ ও রাষ্ট্রের নৃশংস রূপ দেখেছি। 'পুলিশ তুমি যতই মারো, মাইনে তোমার একশো বারো' স্লোগানের পরবর্তী দশকে, ১৯৮৪-তে, বাংলা সিনেমার অবলম্বন হয়ে উঠল অঞ্জন চৌধুরীর 'শত্রু', যেখানে নায়ক হলো পিতৃপ্রতিম একজন পুলিশ অফিসার, যিনি মেরে ঠাণ্ডা করে দেন সমাজের দুর্নীতিগ্রস্তদের। এই প্রশ্ন জাগে, বাঙালির কাছে পুলিশ তখন কাঙ্খিত নায়ক হয়ে গেল কীভাবে? উল্টোদিকে যৌবনের দ্রোহ কেন মূলধারায় নতুন নায়ক তৈরি করতে পারল না?

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অ্যানিমেল : বন্দুক ও পুরুষাঙ্গের জান্তব আস্ফালন

Animal Movie : রণবিজয়ের ক্রোধ অ্যাংরি ইয়ং ম্যান অর্থাৎ বচ্চন পার্সোনার উত্তরসূরি নয়। বচ্চন পার্সোনার রাগের উৎস ছিল সামাজিক, অনেকক্ষেত্রে ওয়ার্কিং ক্লাস পরিসরে।

অঞ্জন চৌধুরীর হাতে বাংলা সিনেমা কিছুটা ঘুরে দাঁড়াবে, যে মূলধারার নিয়ে পূর্বে আলোচিত বুদ্ধিজীবি চলচ্চিত্রকারদের অত অসুবিধে। এই নতুন মূলধারার ছবি কেমন ছিল? একধরনের কল্পিত পরিসরে ছিল এই গল্পগুলোর প্রেক্ষিত, না গ্রাম, না মফসসল, বা দুই-ই, এরকম সেটিং-এ এই গল্পগুলো ছিল যৌথ পরিবারের গল্প। ষাটের দশকের সেই "নীড় ছোট ক্ষতি নেই আকাশ তো বড়"-র নিউক্লিয়ার দম্পতির নতুন পৃথিবীর সন্ধান শেষ হয়ে গেছে; এখন আমরা চার দেওয়ালের মধ্যে ঢুকে গেলাম যেখানে হ্রাসমান সঞ্চয় ও সম্পত্তি নিয়ে প্রজন্মের সঙ্গে প্রজন্মের, ভাইয়ের সঙ্গে ভাইয়ের বিবাদ তুঙ্গে উঠছে। এখন মাঝে মাঝে সেই ছোটবউ, মেজবউ, সেজবউ নাম্নী ছবিগুলি যখন ফিরে দেখি, ছবিগুলি 'পারিয়া' বা 'অ্যানিমাল'-এর চাইতেও ভায়োলেন্ট লাগে! দাদা-ভাই, জা-ননদ, শাশুড়ি-বউ - সবাই সবাইকে চূড়ান্ত সাইকোলজিকাল টর্চার করছে! এতই রিলেন্টলেস সেইসব ছবির কনফ্লিক্ট যে মনে হয়, এরা এক ছাদের তলায় আর এক ঘণ্টার জন্যও আছে কেন? অপমানের পর অপমান চলতে থাকে, কুকুর-বেড়ালের মতো ঝগড়া করে পরিবারের লোকজন, রঞ্জিত মল্লিকের বেল্ট হাতে উঠে আসে, সোহম একটু হরলিক্স চেটে খেতে চায়, সন্ধ্যা রায়ের চোখের জলের ধারা থামে না।

এই ছবিগুলির অন্যতম সিম্পটম হলো, যে শিক্ষিত ভদ্রলোকের আশা-আকাঙ্খা-স্বপ্ন-প্রেম-সংগ্রামের গল্প শোনা যেত স্বর্ণযুগে, সেই ভদ্রলোকের বাতিল হয়ে যাওয়ার নিদান দেওয়া। কালী বন্দ্যোপাধ্যায় বা নির্মল কুমাররা, বা বেল্ট খোলার আগে রঞ্জিত মল্লিক এরকম পরাজিত ভদ্রলোক হতেন এই ছবিগুলোতে, যাদের ব্যর্থতা, অকর্মণ্যতা, অপ্রয়োজনীয়তার রিপোর্ট কড়া-মিঠে ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হতো। যে সংস্কারমূলক প্রগতিশীল মূল্যবোধের তিনি প্রতীক, তা যে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে তা জানানো হতো। এই ঠুঁটো হাতে বেল্ট নেই, মাথায় নেই শাসনের টুপি, অতএব তারা অকিঞ্চিৎকর। ধীরে ধীরে স্পষ্ট হলো যে, একটি নতুন শ্রেণি, ভূমিসংস্কার-পরবর্তী কাঁচা টাকা হাতে আসা একটি শ্রেণির ছবি হয়ে উঠছে বাংলার জনপ্রিয় ছবি, প্রগতিশীল ভাবনাচিন্তা ও নাগরিক আধুনিকতা তাদের কাছে বেশ সন্দেহের, ঠাট্টার বস্তু। একধরনের আধুনিকতার প্রতি এই সন্দেহ ও ভর্ৎসনার ধারা এখনও বহমান মেগাসিরিয়ালে এবং শিবপ্রসাদ এবং নন্দিতার তুমুল জনপ্রিয় ছবিগুলিতে।

বামফ্রন্ট জমানার মধ্যেই রক্ষণশীলতার এই উদযাপন ঘটল কেন জনপ্রিয় ছবিতে? তার সদুত্তর আমার কাছে নেই। তবে একটা ইঙ্গিত আছে। বামফ্রন্ট যে মধ্যবিত্তের পুরোধা ছিল, তারা জনপ্রিয় মূলধারাকে নিজেদের সাংস্কৃতিক ক্ষেত্র মনে করেননি আর; অন্যদিকে 'ভিন্নধর্মী ছবি' (সে যেমনই বস্তু হোক না কেন), সেখানেও তার বিগত এনার্জি দমে গেছিল, পর্যবসিত হয়েছিল কূপমণ্ডুকতায়।

আগেই বলেছি, দূরদর্শনে সেঁধিয়ে যাওয়া সেই অবস্থাপন্ন মধ্যবিত্ত হলে ফিরবে ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবির সঙ্গে, নিজের শ্রেণির সাংস্কৃতিক কূপমণ্ডুকতার আয়নাভরা ঘরে। আমাদের 'কালচারাল ইন্টেরিয়র ডেকরেশন', উত্তর কলকাতার 'ঐতিহ্য' ও দক্ষিণ কলকাতার 'লিবারালপনা'-র একটি বিশ্বায়ন-পরবর্তী ইমেজসম্ভারের সঙ্গে। সেখানে হয় কালচারের ডিসপ্লে ঘটে, অতীতচারিতার উইন্ডো-শপিং হয়, নয় বিবেক ও গ্লানির আত্মরতি ঘটে, সমস্ত ক্রাইসিস পর্যবসিত হয় সম্পর্কের গল্পে। ৫০ ও ৬০ দশকের বাস্তববাদ ও মেলোড্রামার উৎকর্ষ, দুই ধারারই অবসান ঘটিয়ে এক সম্ভাবনাহীন ফর্মে এই ছবি ঘুরপাক খায় ক্লান্তিহীন।

-

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
অ্যানিমাল: এমন জান্তব সিনেমা কি শুধুই বিনোদন? কাদের জন্য?

Animal Movie Propaganda : 'ঘাঁটাস না, মালটার মাথা খারাপ' - বলে ছেড়ে দেব? যার মাথা খারাপ সে তো তার তারকাটামোর দাপট দেখিয়ে ৬৫০ কোটি টাকা কামানোর দিকে এগোচ্ছে!

৪। নতুন শতকে নতুন জনপ্রিয় ছবির মডেল এসেছে কি?

আমাদের প্রগতিশীল মনন তামাদি হওয়ার আগে তার সিনেমা ও শিল্প হারিয়েছে। হ্যাঁ, বাংলা সিনেমার মানের সঙ্গে প্রগতিশীল মননের যোগসূত্র ছিল স্বাভাবিকভাবেই। বিকল্প সিনেমার চর্চা বুড়িয়ে গেছে; জনপ্রিয় মূলধারাকে শিক্ষিত বাঙালি তার ক্ষেত্র করে তুলতে পারেনি, শিক্ষা বলতে যে চলচ্চিত্রবোধের শিক্ষা তার মান নিয়েও যথেষ্ট সন্দেহ তৈরি হয় সোশাল মিডিয়ায় আলোচনার গতর বহর দেখে। গত তিরিশ বছরের বাংলা সিনেমা দেখে বাঙালির চলচ্চিত্রবোধের উৎকর্ষের কোনও প্রমাণ আমরা পাব না কারণ বাঙালির প্রগতিশীল মননই পথভ্রষ্ট, কোন অবস্থান থেকে কোথায় গেলে যে এগনো হয় সেটাই যখন সে নিশ্চিত নয় তার চলচ্চিত্রচেতনায় বা শিল্পচেতনায় আর কী উৎকর্ষ আসবে? তাই মননশীল সিনেমাচর্চায় আমরা নতুন কিছু বলতে পারি না, বড়জোর পুরনো কথার পুনরাবৃত্তি ঘটাই খানিক মিনমিন করে। ভিন্নধারার খাত না হয় হারিয়েছে, জনপ্রিয় ছবিতে এই শতকে কিছু পেলাম কি?

না, পাইনি। এক সময়ে দক্ষিণের ছবির রিমেক নিয়ে প্রচুর কথা হয়েছে। কিন্তু তাতে মৌলিকতার অভাব নিয়ে অভিযোগ করা ছাড়াও জাত্যাভিমানী উন্নাসিকতার সুরই বেশি বেজেছে যা আমার মধ্যে বিরক্তি উদ্রেক করে। এই রিমেক নিয়ে দুটো কথা বলি। রিমেক, অর্থাৎ অন্য ভাষায় সফল একটি ছবিকে নিজের ভাষায় বানানো, এটা সবসময়ে ছিল, থাকবে এবং সেটা আদপেই এমন কিছু প্রক্রিয়া নয় যা কিনা সৃজনশীলতার বিরোধী। বুঝতে হবে যে, বিশ্বায়ন-পরবর্তী বলিউডের আস্ফালনের সময়ে রিমেক আঞ্চলিক ছবির একটা স্ট্রাটেজি ছিল। রিমেকে রিসোর্স ভাগ করা হয়, রিসাইকেল করা হয়। অর্থাৎ একটি তামিল ছবি যদি সফল হয়, তা যদি অন্য ভাষায় রিমেক হয়, সেখানে চিত্রনাট্য ও আইডিয়া থেকে শুরু করে লোকেশন, সেট, পরিকাঠামো ইত্যাদি কাঁচামাল পুনর্ব্যবহৃত হচ্ছে আরও পাঁচটা ভাষায়। অর্থাৎ আঞ্চলিক ইন্ডাস্ট্রিগুলোই একে অপরের সাপোর্ট সিস্টেম হয়ে উঠছে, আপৎকালীন অবস্থায় এটা যথেষ্ট কার্যকর স্ট্র্যাটেজি; এতে এত গেল-গেল রব তোলার কিছু নেই।

একটা ইন্ডাস্ট্রি প্রচুর মানুষের জীবিকার জায়গা। পরিচালক, চিত্রনাট্যকার তাদের আইডিয়ার অভাব নিয়ে মাথা চুলকে যেতে পারেন, কিন্তু হাজার হাজার কর্মীদের সংস্থান করা বন্ধ থাকতে পারে না। সেই সময়ে রিমেক যথেষ্ট গ্রাহ্য পন্থা আমার কাছে এবং সৃজনশীল রিমেক সম্ভব। এর প্রমাণ রাজ চক্রবর্তী দেখিয়েছেন। তিনি একটি মৌলিক জনপ্রিয় ছবির মডেল ধীরে ধীরে তৈরি করছিলেন কিন্তু সমাদর পাননি, তাই সেই মডেল খানিক অধরা থেকে গেছে।

মুশকিল হলো, বাংলা মূলধারার ছবি সিঙ্গল-স্ক্রিন থেকে মাল্টিপ্লেক্স নির্ভর হয়ে যাওয়ায় শহুরে মধ্যবিত্ত-নির্ভর হয়ে গেছে। আমাদের সদর্থে কোনও ওয়ার্কিং ক্লাসের কল্পনা তৈরি হয়নি। তারা যে বাংলা ছবি কখনও সখনও দ্যাখেন, তাতে আঞ্চলিকতা বা মৌলিকতা নেই। শ্রমজীবি মানুষের সংস্কৃতিরও দ্রুত রদবদল হচ্ছে, যার আন্দাজ থাকতে গেলে রাজনৈতিক বোধ থাকতে হয়। অতএব যা পপুলার ছবি আমরা পেয়েছি তা সবসময়েই, রিমেক না হলেও, পুঁজির নিয়মে অন্য ভাষার ছবির ঝাপসা প্রতিফলন মাত্র।

অধুনার শহুরে বাঙালি পপুলার কালচারের ক্ষেত্রে ঠুঁটো অশ্বডিম্ব প্রসবকারী (রেগে বললাম), অথবা কনফিউজড (রাগ কমিয়ে বললাম) - এটা প্রমাণ হয়ে গেছে গানের ক্ষেত্রে, পপুলার সাহিত্যের ক্ষেত্রে। বৌদ্ধিক সাংস্কৃতিক বাঙালি জনপ্রিয় মূলধারায় নিজেকে ব্যক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে অথবা পপুলার ছবিতে যে ব্যক্ত করা যায়, তা নিয়েই তারা অবহিত নন। মূলধারার জনপ্রিয় ছবিতে সে কীভাবে তার উপস্থিতি রাখতে পারে, একধরনের নতুন জনপ্রিয় ছবি কেমন হতে পারে, এই নিয়ে আমরা এতটাই দিশেহারা যে সেটা আমাদের প্রতিটা ছবিতে ফুটে ওঠে। সাহিত্যাশ্রয়ী মেলোড্রামাকে এই বাঙালি কখনই আমল দেয়নি আশির দশকের পর থেকে। তাই জনপ্রিয় গল্পের কাঠামোয়, নায়ক বা নায়িকার কল্পনায় তার ভাবনা শূন্যে ঠেকেছে। আমাদের স্টার আছে, উচ্চমানের অভিনেতা আছে, কিন্তু নায়ক বা নায়িকার কোনও পজিটিভ পারসোনা নেই যা কিনা যুগের প্রতিনিধি। প্রেমের গল্পের কোনও নতুন পরিকল্প নেই স্বর্ণযুগের রোমান্টিক প্যারাডাইমের পরে। তাই আমাদের অতীতচারিতার সাংস্কৃতিক আত্মমৈথুন ছাড়া হাতে বিশেষ কিছু নেই।

একটা সময়ে বোঝা গেছিল, জনপ্রিয় নায়ক বা নায়িকা-কেন্দ্রিক গল্পে ভায়োলেন্সের ধারণা অবশ্যম্ভাবী। সমাজে বৈষম্য, বিপন্নতা, অসাম্য যত বাড়বে এটা অবশ্যসম্ভাবীই। তখন ভায়োলেন্সের ফ্যান্টাসি ও অভিব্যক্তির প্রয়োজন হয়ে পড়ে কিন্তু এই ব্যাপারে এখনকার অবস্থাপন্ন মধ্যবিত্ত বাঙালি আশ্চর্যভাবে কপট, কারণ সে আত্মকেন্দ্রিক ঘেরাটোপে নিরাপদ থাকতে পছন্দ করে। সেই অগ্নিযুগ থেকে, উত্তাল চল্লিশ পেরিয়ে, খাদ্য আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন ও সত্তর দশকের তুঙ্গে ভায়োলেন্স আমাদের ইতিহাসের ওতপ্রোত অঙ্গ। কিন্তু আমাদের জনপ্রিয় গল্পের কল্পনায় তার কখনই এক্সপ্রেসিভ ভূমিকা তৈরি হয়নি, বরং তাকে খাটো চোখে দেখা হয়েছে। প্রসেনজিতের আমল থেকে শুরু করে দেব বা জিৎ অবধি 'অ্যাকশন' থেকে গেছে হিন্দি ও দক্ষিণ ছবি থেকে শেখা অক্ষম অনুকরণযোগ্য স্কিল মাত্র, তার সামাজিক ভিত্তি খুব দুর্বল। অ্যাকশন সেখানে শুধুই বিনোদনের উপাদান যা আদ্যন্ত পুঁজি-নির্ভর এবং সেইজন্যই সবসময়েই তা ডেরিভেটিভ হবে, অপরের দুর্বলতর সংস্করণ হয়ে থাকবে। এটা অবাক লাগে যে এত প্রতিবাদমুখরতা সত্ত্বেও 'অ্যাংরি ইয়াং ম্যান' কল্পনায় বাঙালির কোনও অবদান ছিল না যা কিনা মৌলিক!

৫। শেষ কথা বা এই লেখা শেষ করা

আপাতত বাংলা সিনেমার যে অবস্থা প্রতিভাত তার কিছু বৈশিষ্ট্যর অসমাপ্ত তালিকা দিয়ে শেষ করি। উন্নত মানের সিনেমা থাকতে গেলে উন্নত মানের সিনেমা চাইতে হয়। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বাঙালির কি আদপেও সিনেমা থেকে কিছু চাহিদা আছে? জনপ্রিয় ও বিকল্প, দুই স্তরেই? আমরা একটি অদ্ভুত জাতিতে 'উন্নীত' হয়েছি যার কোনও গল্পের নিয়মিত প্রয়োজন নেই; যে ফেলুদা ও ব্যোমকেশের চর্বিতচর্বণেই খুশি থাকে, আধুনিক গোয়েন্দা নির্মাণ করতে পারে না (ব্যতিক্রম ইন্দ্রনীল রায়চৌধুরীর 'ছোটলোক', কিন্তু ওই, একাকী ব্যতিক্রম হিসেবেই যার ভবিতব্য); যার কোনও 'আধুনিক মিথোলজি'-র (যেমন ধরুন, হ্যারি পটার বা জন উইক) প্রয়োজন নেই; যার তরুণ প্রজন্মকে মৌলিক কিছু অবলম্বন দেওয়ার নেই; পরিবারের রিগ্রেসিভ রক্ষণশীল ধারণাকে মধ্যবয়স্কদের আচারের বয়ামে রাখলেই যে সবচাইতে খুশি হয় (শিবু-নন্দিতার ছবি); যার সবচাইতে নিরাপদ গল্প হলো শহর থেকে দূরে একটি বা দু’টি বালকের বড় হয়ে ওঠার রকমফের...।

গত বিশ বছরে আমার যে যে বাংলা ছবি ভালো লেগেছে, অদ্ভুতভাবে প্রতিটিই হলো পরিচালকের প্রথম ছবি, যাদের দ্বিতীয় ছবি আসতে অনেক সময় লেগেছে বা আসেনি ক্রিটিকাল কমার্শিয়াল সাফল্যের পরেও কারণ তারা অনুকূল পরিকাঠামো পাননি। তাদের ছবি তাদের বানাতে দেওয়া হয়না, তারা যদি গড়পরতা চেনা মাল সাপ্লাই করেন তাহলেই শুধু তারা পৃষ্ঠপোষকতা পাবেন। তাই ব্যতিক্রমী ছবির একটি তালিকা বানানোর কোনও মানে হয় না যেহেতু সেই ছবিগুলি ব্যাপকতর পরিবর্তন আনতে পারছে না। এই তালিকাগুলোই প্রমাণ করে যে, সেই ছবিগুলি বাংলা ছবির ধারা পাল্টাতে ব্যর্থ হয়েছে, কোনও ধারার সূচনা করতে পারেনি উৎসাহের অভাবে। তারা যে ছিল তাতে সার্বিক বাংলা ছবির সিস্টেম ও দর্শককুলের কিচ্ছু যায় আসে না, যেমন যায় আসে না 'ভূতপরী' বা 'পারিয়া' কিছু উৎসাহ-উদ্দীপক নতুন প্রবণতার সন্ধান দিলেও (এই লেখায় তা নিয়ে লিখব না)। এই অধোগমনের ধারাবিবরণ দিতে ক্লান্ত লাগে। তাই অধুনার বাংলা ছবি দেখে বা তাদের নিয়ে বন্ধুবর্গে কথা শুনে অনুরাগ কাশ্যপ যদি শুধুই উচ্চতা থেকে ধপাস পতনের শব্দ শুনতে পান তাতে অবাক হওয়ার কিছু আছে কি?

লিখেছেন
Anindya Sengupta
Anindya Sengupta
0 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

২০২৫ যে শব্দগুলির সঙ্গে পরিচয় করাল

Word of the year: গুগল ইন্ডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয়রা ২০২৫ সালে যেসব শব্দের অর্থ সবচেয়ে বেশি খুঁজেছে, তা তাদের মানসিক অবস্থার প্রতিফলন। যেমন—সিজফায়ার অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি, মক ড্রিল অর্থাৎ নিরাপত্তার জন্য মহড়া।

জ্যোতির্ময় দত্ত: লেখালেখির বাইরে এক খ্যাপাটে মানবতাবাদী

Jyotirmoy Dutta: বামপন্থার সমালোচক ছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। তাঁর আদর্শ ছিল রবীন্দ্রনাথ ও মহাত্মা গান্ধীর মানবতা।

ঘৃণার রাজনীতি: এখন লক্ষ্য খ্রিস্টান?

Anti-Christian violence India: মিচেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশে খ্রিস্টান নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৮৩৪টি (গড়ে মাসে ৭০ টি)। ২০২৫ সালে নভেম্বর মাস পর্যন্ত নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে ৭০৬ টি।

এক বাঙালির জেদে জুড়ল দুই বাংলা: টেলিগ্রাফ ম্যান শিবচন্দ্র নন্দী

Seebchunder Nandy: ১৮৫১ সালে কলকাতা-ডায়মন্ড হারবার লাইনের প্রথম সংকেত প্রেরণের সময় শিব চন্দ্র নন্দী ডায়মন্ড হারবার থেকে বার্তা পাঠান, অন্য প্রান্তে ও'শাগনেসির সঙ্গে ছিলেন লর্ড ডালহৌসি।

অন্যের দুঃখে কেন আমাদের মিষ্টি হাসি? শ্যাডনফ্রয়ডার মনস্তত্ত্ব

Schadenfreude: বর্তমান যুগে এই অনুভূতি আগুনের মতো ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে। আমরা এখন যাকে 'ট্রোলিং' বলি, তার মূলে রয়েছে এই শ্যাডনফ্রয়ডা।

দেশে দেশে নানাবেশে আছেন সে এক সান্তা ক্লজ

Santa Claus Across Cultures: ১৮৬৯ সালে প্রকাশিত রঙিন চিত্র সংকলনে জর্জ ওয়েবস্টার লিখেছিলেন, সান্তা ক্লজের বাড়ি "নর্থ পোলের নিকটে"।

বিপন্ন ভারতের প্রাচীন পর্বতমালা‍! যেভাবে ধ্বংসের মুখে আরাবল্লী

Aravalli Hills Under Threat: পরিবেশবিদদের মতে, আরাবল্লী কেটে ফেললে দিল্লির দূষণ পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নেবে।

শৈশবের ‘রিওয়্যারিং’: স্ক্রিনের নীল আলো গিলে খাচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে?

Screen Addiction Destroying the Mental Health: বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকায় শিশুদের মানসিক কাঠামোর এক আমূল পরিবর্তন ঘটে যাচ্ছে।