প্রসেনজিৎরা বাংলা বলা নিয়ে কেন লজ্জিত?

Prosenjit: কয়েকদিন আগেই, ‘মালিক’-এর ট্রেলার লঞ্চ হয়ে গেল বম্বের জুহুতে। আর সেই ট্রেলার লঞ্চের অনুষ্ঠানকে ঘিরেই এখন তীব্র বিতর্ক। সৌজন্যে প্রসেনজিতের উষ্মা।

inscript
৪ মিনিট
প্রসেনজিৎরা বাংলা বলা নিয়ে কেন লজ্জিত?

অনেক দিন পর রাজকুমার রাও আসছেন তাঁর নতুন ছবি ‘মালিক’ নিয়ে। ছবির বিষয়: অ্যাকশন-থ্রিলার। রাজকুমার ছাড়াও, ছবিতে রয়েছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, সৌরভ শুক্লা, স্বনন্দ কিরকিরে, হুমা খুরেশি, মানসী চিল্লার প্রমুখ অভিনেতারা। কয়েকদিন আগেই, ‘মালিক’-এর ট্রেলার লঞ্চ হয়ে গেল বম্বের জুহুতে। আর সেই ট্রেলার লঞ্চের অনুষ্ঠানকে ঘিরেই এখন তীব্র বিতর্ক। সৌজন্যে প্রসেনজিতের উষ্মা। আসলে, ট্রেলার লঞ্চের অনুষ্ঠানে, ছবিটি সম্পর্কে কথা বলছিলেন অভিনেতারা। যেমনটা অন্যান্য ট্রেলার লঞ্চেও হয়ে থাকে। সেখানে বাংলার প্রসিদ্ধ অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কেও সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন। এবং তিনি তাঁর অভিনীত চরিত্র ও ‘মালিক’-এ অভিনয় করার অভিজ্ঞতা বিষয়ে বলতে থাকেন।

এইসব প্রশ্ন-উত্তরের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের একটি দৈনিক সংবাদপত্রের একজন সাংবাদিক প্রসেনজিৎকে সকলের মধ্যে বাংলা ভাষায় নিজের প্রশ্নটি করেন। কী বলেন সেই সাংবাদিক? ট্রেলার লঞ্চের ভিডিওটি লক্ষ করলে দেখা যাবে, সেই সাংবাদিক স্পষ্টত নিজের নাম ও পত্রিকার পরিচয় ইংরেজি ভাষায় জানিয়ে, তারপর নিজের প্রশ্নটি বাংলায় প্রসেনজিতের সামনে রাখছেন। অর্থাৎ তিনি যে ইংরেজি ভাষাতেও সমগ্র কথোপকথনটি চালাতে সক্ষম, তার একটি ভাষাসাবলীল নমুনা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু তিনি নিজের পরিচয়টুকু জানানোর পর, মূল প্রশ্নবক্তব্যে ফিরে যেতে চাইলেন নিজের মাতৃভাষার কাছে। এবং প্রসেনজিৎকে প্রশ্ন করলেন, বাংলায়।

যিনি প্রশ্ন করছেন, তিনি একজন বাঙালি। যাঁকে প্রশ্ন করছেন, তিনিও একজন বাঙালি। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? ফিরে যাব ট্রেলার লঞ্চের ভিডিওটির কাছে। দেখা যাচ্ছে, বাংলায় প্রশ্নটি করামাত্র বাঙালি অভিনেতার মুখমণ্ডল ভরে যাচ্ছে এক অদ্ভুত সংকোচ-বিস্ময়ে। প্রসেনজিৎ সেই সাংবাদিককে সরাসরি জিজ্ঞেস করছেন, ‘ওয়াই ডু ইউ নিড টু টক ইন বেঙ্গলি?’ তখন সেই বাঙালি সাংবাদিক বিনীতভাবে জানাচ্ছেন, ‘আমি বাংলাতে কথা বলতে চাই।’

বম্বেতে, বাঙালি অভিনেতার এই আচরণ অনেকের ভেতরেই কতগুলি তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণকে জাগিয়ে তুলেছে। বিশিষ্ট ভাষাবিদ ও অধ্যাপক পবিত্র সরকার পুরো ঘটনাটির প্রেক্ষিতে জানিয়েছেন:

‘কোনও বাঙালি বাংলা বলার জন্য লজ্জিত বোধ করছেন, এ আমার জীবনে প্রথম অভিজ্ঞতা। এর আগে অমিত শাহ মশাই বলেছিলেন, ভারতীয়রা ইংরেজি বলার জন্য লজ্জিত বোধ করবেন। সেটা করবে কি না করবে, পরের কথা। কিন্তু প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, একজন বাঙালি অভিনেতা হয়ে বম্বেতে গিয়ে তিনি এত বেশি ভারতীয় হয়ে গেলেন যে তিনি বাংলা শুনে লজ্জিত হচ্ছেন, বাংলায় প্রশ্ন করার জন্য লজ্জিত হচ্ছেন, এ আমার পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্যের এক আশ্চর্য বলে মনে হয়। আমি খুবই অবাক হয়েছি।’

‘আমি বাংলাতে কথা বলতে চাই’ ট্রেলার লঞ্চে সাংবাদিকের এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে প্রথম উত্তর কে দেয়? সেই সভায় উপস্থিত আরেকজন বাঙালি-অভিনেতা প্রসেনজিৎ? না। মঞ্চে, তাঁর পাশেই বসে-থাকা ভিন্নভাষী রাজকুমার রাও প্রত্তুত্যরে সেই সাংবাদিককে বলেন, ‘আপনি আপনার ভাষাতেই কথা বলুন, আমরা সকলের জন্য অনুবাদ করে নেব।’ এখন প্রশ্ন হল, বম্বের জুহুতে সমস্ত অবাঙালি মানুষের মধ্যে যদি একজন বাংলা ভাষায় কথা বলেন, বাকিরা বুঝবে কী করে? এ-সম্পর্কে ‘বোধশব্দ’ পত্রিকার সম্পাদক এবং বাংলা হরফ, ভাষা ও বানান বিষয়ে একজন বিশিষ্ট চিন্তক সুস্নাত চৌধুরী-র বক্তব্য:

‘প্রসেনজিতের অবস্থান সত্যিই আপত্তিকর। আমার মাতৃভাষায় কেন আমি পৃথিবীর যে-কোনও জায়গায় কথা বলতে কুণ্ঠিত হব? যদিও মাথায় রাখা উচিত, যদি খুব মূলগত জায়গা থেকে দেখি, আমি যখন কোথাও গিয়ে নিজের বক্তব্যকে প্রকাশ করতে চাইছি, সেই প্রকাশের প্রধান মাধ্যম হল, আমার ভাষা। এখন ভাষার কারণে কারোর কাছে আমার বক্তব্যতথ্য যদি না পৌঁছয়, সেটা মুশকিল। এক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে সেই ভিন্ন ভাষা-পরিমণ্ডলে কি কোনও দোভাষী আছেন? বা কেউ কি ট্রান্সক্রিপ্ট করে দিতে পারবেন? অনেকেই বলছেন, দক্ষিণের অভিনেতারা নিজের ভাষায় দেশের সর্বত্র কথা বলেন। শুধু দক্ষিণ কেন? বিভিন্ন দেশেই এমন হয়ে থাকে। শুধু দেখে নেওয়া উচিত, আমার ভাষাকে তর্জমা করে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে কিনা। কারণ, ভাষার মূল লক্ষ কমিউনিকেট করা।’

এই বক্তব্যের যুক্তিকে মেনে নিয়েই মনে করিয়ে দিতে চাইব, ট্রেলার লঞ্চে সকলের সুবিধার জন্য এবং বাঙালি সাংবাদিকটিকে উৎসাহিত করার জন্যও আনন্দের সঙ্গে রাজকুমার রাও নিজেই সেই সাংবাদিকের প্রশ্নটি তর্জমা করে দিয়েছিলেন। বিরক্তি, সংকোচ, বা বাংলায় প্রশ্ন করছেন কেন? এমন বক্তব্যের বদলে, এই তর্জমাকাজটি তো প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় নিজেই করে দিতে পারতেন! বাংলা, তাঁর মাতৃভাষা। পাশাপাশি, হিন্দি ও ইংরেজিতেও তিনি সাবলীল। সেই সাংবাদিককে বাংলায় উত্তর দিয়ে, সকলের জন্য প্রশ্ন ও উত্তরটির ভাষান্তর করে নেওয়া কি তাঁর পক্ষে খুব কঠিন কাজ হত? বোধহয় না।

তাহলে সেই কাজ করার বদলে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের মুখশ্রী ট্রেলার লঞ্চের অনুষ্ঠানে সংকোচ-বিরক্তিতে ভরে রইল কেন? এখানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি চিন্তার দিকে সুস্নাত চৌধুরী আমাদের নিয়ে যেতে চেয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘প্রসেনজিৎবাবু নতুন কিছু করেননি। আজকের অধিকাংশ বাঙালি এই কাজটিই করে থাকেন। কলকাতা শহরের সামান্য একটু দামি রেস্তরাঁয় গেলে, বেশিরভাগ বাঙালিই অর্ডারটা ইংরেজিতেই দেন। কারণ তাঁদের দেখাতে হয়, তাঁরা ইংরেজিতে কথা বলছেন। যাঁরা প্রসেনজিতের বাংলা ভাষার সংকোচ নিয়ে এত কথা তুলছেন, তাঁদের মধ্যে ক-জন নিজেদের সন্তানের স্কুলের মিটিং-এ গিয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে বাংলায় কথা বলেন? আসলে, আজকের বাঙালিসমাজের এক প্রধান অংশ মনে করেন, ইংরেজি বলতে পাড়ার সঙ্গে আধুনিকতার এবং বিত্তের একটি সম্পর্ক আছে। ফলে, বাঙালি যা করে থাকেন, প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ঠিক তা-ই করেছেন।’

এই মনোভাবের আরও উদাহরণ দেখতে পাওয়া যায়, শহরের বিভিন্ন ফিল্ম পুরস্কার অনুষ্ঠানগুলিতে। যেখানে অনেক সময়, অভিনেতা-অভিনেত্রীরা প্রায় জোর করে একটি পোশাকি ইংরেজি বলার চেষ্টা করেন। ফলে, অনেক সময়েই তাঁদের বক্তব্য ও ব্যক্তিত্ব, দুই-ই অস্পষ্ট থেকে যায়।

এখানে প্রশ্ন জাগে, কোনও এক কাঠামোকে মানতে গিয়ে আমরা নিজের জিনিসকে হারিয়ে ফেলব কেন? একটি নির্দিষ্ট ভাষা, নির্দিষ্ট কিছু পোশাক এবং নির্দিষ্ট কিছু আচরণ সমাজের সামনে রাখতে পারলেই কি আমরা এক অব্যক্ত অথচ অভিজাত সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রবেশ করার রাজ-দরোজাটি দেখতে পাই? নাকি এ কেবলই এক মানসিক দুর্বলতা? নিজের মতো নয়, অন্যের মতো হওয়ার অন্ধ ও নেশাময় ইচ্ছে?

এর উত্তর আজকের বাঙালির কাছে আছে কি?

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

ক্লাইভের মুখে দুগ্গা দুগ্গা, কেমন ছিল শোভাবাজার রাজবাড়ির প্রথম দুর্গাপুজো

Shobhabazar Rajbari Durgapuja: শোভাবাজারের গর্ব সাবেকী এক চালার প্রতিমা। প্রতিমা শিল্পী, মোদক, ঢাকি বংশ পরম্পরায় জড়িয়ে আছেন এই পুজোর সঙ্গে। দশমীর পুজোর অন্যতম নিয়ম ‘কনকাঞ্জলি প্রথা’। লেখাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের ১১ অক্টোবর।

জিতাষ্টমী থেকে শুরু দেবীর আরাধনা, ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির পুজো চলে পনেরো দিন

Jhargram Rajbari Durga Puja: রাজপুতানার ফতেহপুর সিক্রি থেকে আসা চৌহান বংশের ক্ষত্রিয় বীর সর্বেশ্বর সিংহ চৌহান। মুঘল সেনাপতি মানসিংহের বাংলা অভিযানের সময় তিনি জঙ্গলখণ্ডে আসেন। স্থানীয় জংলি মাল রাজাকে দ্বন্দ্বযুদ্ধে পরাজিত করে তিনি এই জঙ্গলমহলে নিজের রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন। নামের সঙ্গে জুড়ে নেন 'মল্লদেব' উপাধি। আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা সেই জায়গার নাম দেন ঝাড়গ্রাম।

রবীন্দ্রনাথ সত্যিই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

The Tagore Myth: ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির সামনে রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর দাবি, 'রবীন্দ্রনাথ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাননি।' ফ্যাক্ট-ওয়াচ ও প্রয়াত অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের মতে, দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ইতিহাসের তথ্য ও তর্কের পরিপ্রেক্ষিতে, দেখে নেওয়া যাক, এই দাবিগুলি কতটা মিথ, কতটা মিথ্যা।

থিম নেই, জাঁকজমক নেই: মানুষের ভালবাসায় গড়া আমার গ্রাম কেশাতড়ার দুর্গাপুজো

Keshatara village Durga Puja: পুজোর সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন গ্রামের মানুষই। ইদানীং সরকারি অনুদান মেলে ঠিকই, কিন্তু পুজোর ভোগের চালটা আজও আসে গ্রামের মানুষের দেওয়া টাকা থেকেই।

দুর্গা মুখ তুলে তাকাবেন হকারদের দিকে?

Durga Puja Economy in Bengal: কর্পোরেট পুঁজির প্রভাব, অসংগঠিত অর্থনীতির সংকট, হকার উচ্ছেদ এবং ধর্মীয় বিধিনিষেধের আবহে কতটা সুরক্ষিত থাকবে শারদোৎসবের নিজস্ব চরিত্র? পুজোর জৌলুস বাড়লেও নাগরিক স্বাধীনতা, শিল্পের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং সাধারণ মানুষের জীবিকার জায়গা ক্রমশ সংকুচিত হবে?

দুর্গাপুজোর উৎসব, অসুরের শোক: বাংলার ইতিহাসে কার জয়, কার পরাজয়?

Mahishasur Puja: ২০১১-র পুরুলিয়া পার করে ২০১৪-র মালদার গাজল। নিত্যানন্দ হেমব্রমরা শুরু করলেন অসুর আন্দোলন। ততদিনে উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে অসুর পুজোর সংখ্যা ৬৫০ ছাড়িয়েছে। কেউ মূর্তি বানিয়ে মহিষাসুর স্মরণ করেন, কেউ ফ্লেক্স বানিয়ে আলোচনা সভা।

প্রতিদিন বদলায় মেনু, বদলায় খাবারের দাম: তবু স্বাদে অটুট কলকাতার সিদ্ধেশ্বরী আশ্রম

Hotel Siddheswari Ashram: সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে চোখ পড়বে সুবিশাল মেনু বোর্ডে, যাতে মুদ্রিত আছে হোটেলটির সামগ্রিক খাদ্য সমাহার। বোর্ডটিতে সেই দিনের প্রাপ্ত পদের পাশে চকখড়িতে হাতে লেখা সেই দিনের দাম। আর অতি অবশ্যই বাংলা ও ইংরাজিতে লেখা থাকে তারিখ।

যে দুর্গাবাড়ির পঞ্চমুণ্ডির আসনে আজও বসেন দেবী, সেখানেই একদিন শপথ নিতেন বিপ্লবীরা

Gangarampur Durgabari,: তন্ত্রশাস্ত্র অনুসারে, পঞ্চমুণ্ডি আসন সাধারণ কোনো বেদি নয়। পাঁচটি নির্দিষ্ট খুলি বা করোটি—যেমন চণ্ডাল বা ডোমের, শিয়ালের, বেজি বা নেউলের, বিষধর সাপের এবং হনুমানের খুলি মাটির নিচে নির্দিষ্ট নিয়মে পুঁতে এই আসন তৈরি করা হয়।