বাংলার দেশি খাসির মাংস থেকে চিংড়ি শুঁটকি, জিআই তকমার অপেক্ষায় কোন কোন খাবার?

GI Tag Registration: বাংলার দেশি খাসির মাংস, ইলিশের বিভিন্ন পণ্য ও চিংড়ি শুঁটকি জিআই স্বীকৃতি পেতে চলেছে। আবেদন প্রক্রিয়া এগিয়েছে, আগামী এক বছরের মধ্যে স্বীকৃতি পাওয়ার আশা। কিন্তু জিআই তকমা কী এবং এই স্বীকৃতি পেলে বাংলার উৎপাদকদের কী লাভ হবে?

inscript
৩ মিনিট
বাংলার দেশি খাসির মাংস থেকে চিংড়ি শুঁটকি, জিআই তকমার অপেক্ষায় কোন কোন খাবার?

বাংলার খাবারের স্বাদ ও ঐতিহ্য এবার পেতে চলেছে নতুন পরিচিতি। দেশি খাসির মাংস, ইলিশ মাছের বিভিন্ন পণ্য এবং চিংড়ি শুঁটকিকে জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) তকমা দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, এই পণ্যগুলির জন্য জমা পড়া আবেদন চলতি মাসের প্রথমার্ধে মঞ্জুর হয়েছে। সব ঠিক থাকলে আগামী দিনে বাংলার এই খাবারগুলি জিআই স্বীকৃতি পেতে পারে। কিন্তু জিআই তকমা আসলে কী? কেন দেওয়া হয় এই স্বীকৃতি? আর বাংলার কোন কোন খাবার রয়েছে এই তালিকায়?

বাংলার কোন কোন খাবার জিআই তকমা পেতে চলেছে?

বাংলার তিন ধরনের মাছ-মাংসের পণ্যের জন্য সম্প্রতি জিআই স্বীকৃতির আবেদন করা হয়েছে।

১. ব্ল্যাক বেঙ্গল গোট মিট বা দেশি খাসির মাংস: বাংলার দেশি ছাগল ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের জন্য পরিচিত। এই জাতের ছাগল ও তার মাংসকে কেন্দ্র করে বাংলার নিজস্ব পরিচিতি তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই পণ্যের জিআই স্বীকৃতির জন্য আবেদন করা হয়েছে।

২. ইলিশ মাছের পণ্য: বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতিতে ইলিশের বিশেষ স্থান রয়েছে। ইলিশের বিভিন্ন পণ্যকে জিআই স্বীকৃতির আওতায় আনার জন্য আবেদন জমা পড়েছে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ভুখা পেটের বিকল্প খাবার থেকে জিআই তকমা, যেভাবে বিখ্যাত হল লাল পিঁপড়ের চাটনি

GI, red ant chutney: ওড়িশার ময়ূরভঞ্জ জেলায় কাই চাটনি নামে পরিচিত এই খাবারটি। মূলত আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার খাবার এই চাটনি।

৩. চিংড়ি শুঁটকি: বাংলার উপকূলবর্তী ও মৎস্যনির্ভর এলাকার খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে শুঁটকি মাছের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। চিংড়ি শুঁটকির স্বতন্ত্র পরিচিতিকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যও আবেদন করা হয়েছে।

জিআই তকমা কী?

জিআই-এর পুরো নাম জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন (Geographical Indication)। বাংলায় একে বলা হয় ভৌগোলিক নির্দেশক বা ভৌগোলিক পরিচয়। কোনও নির্দিষ্ট এলাকার বিশেষ পণ্য, যার গুণমান, বৈশিষ্ট্য, সুনাম বা পরিচিতির সঙ্গে ওই অঞ্চলের ভৌগোলিক পরিবেশ এবং ঐতিহ্যের সম্পর্ক রয়েছে, তাকে জিআই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

সহজভাবে বললে, কোনও পণ্য একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের নিজস্ব পরিচিতি বহন করলে এবং সেই পরিচিতির পিছনে ওই এলাকার পরিবেশ, উৎপাদন পদ্ধতি কিংবা দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের ভূমিকা থাকলে, সেই পণ্য জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য হতে পারে। যেমন, বাংলার রসগোল্লা, বর্ধমানের সীতাভোগ ও মিহিদানা কিংবা দার্জিলিং চা নির্দিষ্ট অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত বিশেষ পণ্য হিসেবে পরিচিত।

জিআই তকমা কোনও পণ্যের নামের সঙ্গে সেই অঞ্চলের পরিচিতিকে যুক্ত করে। এর ফলে ক্রেতারা পণ্যটির উৎস সম্পর্কে জানতে পারেন। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট এলাকার উৎপাদক ও ব্যবসায়ীদের পণ্যের স্বতন্ত্র পরিচিতি তুলে ধরতেও এই স্বীকৃতি সাহায্য করে।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
জিআই ট্যাগ কতটা বদলে দেবে ছৌ শিল্পীদের ভাগ্য

করোনা এবং আরও নানা কারণে মুখ থুবড়ে পড়া ছৌ শিল্পে নিঃসন্দেহে বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে ‘জিআই ট্যাগ’।

কারা জিআই তকমা পান?

জিআই স্বীকৃতি কোনও ব্যক্তিকে দেওয়া হয় না। বরং নির্দিষ্ট এলাকার কোনও পণ্য এই স্বীকৃতি পায়। কোনও উৎপাদক সংগঠন, ব্যবসায়ীদের সংগঠন, সমবায়, সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদকদের সংগঠন বা আইন অনুযায়ী যোগ্য কোনও প্রতিষ্ঠান সেই পণ্যের জন্য আবেদন করতে পারে।

আবেদনের সময় পণ্যটির উৎপত্তিস্থল, বিশেষ বৈশিষ্ট্য, উৎপাদন পদ্ধতি এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার সঙ্গে তার সম্পর্কের প্রমাণ দিতে হয়। এরপর নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ আবেদনটি পরীক্ষা করে। সমস্ত শর্ত পূরণ হলে তবেই জিআই স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

কেন দেওয়া হয় জিআই তকমা?

জিআই স্বীকৃতির মূল উদ্দেশ্য হলো কোনও অঞ্চলের বিশেষ পণ্যের স্বতন্ত্র পরিচিতি রক্ষা করা। এর মাধ্যমে স্থানীয় ঐতিহ্য, উৎপাদন পদ্ধতি এবং পণ্যের সুনামকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
বাংলার ভাঁড়ার শূন্য, ২০২২ সালের জিআই ট্যাগ পেয়েছে এই সব রাজ্যের বিখ্যাত যে খাবারগুলি

Food GI Tags of 2022: কাশ্মীরি জাফরান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১,৬০০ মিটার থেকে ১,৮০০ মিটার উচ্চতায় জন্মায়।

এই তকমা পেলে সংশ্লিষ্ট পণ্যের বাজারে পরিচিতি বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়। ক্রেতাদের কাছে পণ্যটির উৎস ও বিশেষত্ব তুলে ধরা সহজ হয়। পাশাপাশি, স্থানীয় উৎপাদক, কারিগর ও ব্যবসায়ীরা নিজেদের পণ্যের পরিচিতি কাজে লাগিয়ে ব্যবসার পরিধি বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারেন।

আবেদনের নেপথ্যে কারা?

এই উদ্যোগে দেশের জিআই বিশেষজ্ঞ রজনী কান্তের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বাংলার দেশি খাসির মাংস, ইলিশ এবং চিংড়ির মতো পণ্যের জিআই স্বীকৃতির বিষয়টি নিয়ে আগেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে এবার রাজ্য সরকারের শীর্ষ স্তর থেকে সহযোগিতা পাওয়ার পরে আবেদন প্রক্রিয়া এগিয়েছে।

রজনী কান্ত জানিয়েছেন, ক্ষুদ্রশিল্প দফতরের প্রধান সচিব অনুপ আগরওয়ালের সঙ্গেও এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। নাবার্ডের পূর্বাঞ্চলের দফতর এবং রাজ্যের ক্ষুদ্রশিল্প ও বস্ত্র দফতরও এই উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে সূত্রের খবর।

রাজ্যের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী কল্যাণ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, দেশি খাসির মাংস ও চিংড়ি শুঁটকির মতো পণ্যের জন্য আবেদন করা হয়েছে। ইলিশের পণ্যের ক্ষেত্রে একটি বেসরকারি সংগঠন আবেদন জমা দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

মাছ-মাংসের বাইরেও জিআই স্বীকৃতির উদ্যোগ

বাংলার ঐতিহ্যবাহী পণ্যগুলিকে জিআই স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ শুধু খাবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কুমোরটুলির দুর্গাপ্রতিমার জন্যও আবেদন করা হয়েছে। রজনী কান্তের আশা, আগামী দু'-তিন মাসের মধ্যে এই প্রতিমা জিআই স্বীকৃতি পেতে পারে।

এ ছাড়াও বাংলার পাটশিল্পের পণ্য এবং চালতাবেড়িয়ার টেরাকোটার জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই আবেদনগুলির কয়েকটি ইতিমধ্যেই মঞ্জুর হয়েছে। মাছ-মাংসের পণ্যগুলির ক্ষেত্রে আগামী এক বছরের মধ্যে জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার আশা করছেন তিনি।

লিখেছেন
inscript
inscript
17 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

সুকুমার রায়ের সঙ্গে চার্লি চ্যাপলিনের ভীষণ মিল পাই: স্বাগতালক্ষ্মী দাশগুপ্ত

Sukumar Ray Literature: কেউ যদি অনেক বড় বয়সেও ছোট থাকতে চায়— যেমন আমি বলি যে আমার বয়স বাড়েনি— আর যদি নিজের বয়সটাকে একই জায়গায় ধরে রাখতে ইচ্ছে করে, তবে মনে হয় সুকুমার রায়ের সমগ্র তাঁর সারাজীবন বিছানার পাশে গীতবিতানের মতোই চিরসঙ্গী হয়ে থাকতে পারে।

দীপাবলির আগে সোনা কিনবেন? কী বলছে বাজার?

Gold Price: দীপাবলির আগে সোনার দাম ২০% কমার পরও বড় জুয়েলাররা সোনা কিনছেন না কেন? এখনই কি সোনা কেনার সেরা সময়, নাকি দাম আরও কমবে?

ভারতীয় সিঙ্গল মল্টের উত্থান: যেভাবে বিশ্ববাজারে বাড়ছে দেশি হুইস্কির কদর

Indian single malt whisky: CIABC এবং বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি রিপোর্টের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে ২০২৫ সালে ভারতীয় ‘Made in India’ সিঙ্গেল মল্টের ডোমেস্টিক বিক্রি প্রায় ৫ লাখ কেস ছুঁয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২২ শতাংশ বেশি।

ফ্লিপকার্টের চারটি অর্ডারেই এক মাসের নেটফ্লিক্স, নতুন অফারে কতটা লাভ সংস্থার?

Netflix Flipkart partnership: ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই যৌথ পথচলার কথা জানানো হয়। এর ফলে যোগ্য ফ্লিপকার্ট প্লাস সদস্যরা প্রতি মাসে ২৯৯ টাকা বা তার বেশি দামের চারটি নির্দিষ্ট অর্ডার করলে এক মাসের নেটফ্লিক্স মোবাইল সাবস্ক্রিপশন পেতে পারেন। এই সুবিধা ফ্লিপকার্ট, ফ্লিপকার্ট গ্রোসারি ও ফ্লিপকার্ট মিনিটস-এর কেনাকাটায় প্রযোজ্য।

মানুষের শরীরে ইতিহাসের দাগ এঁকেছিলেন যোগেন চৌধুরী

Jogen Chowdhury artist: কিছু শিল্পীর মৃত্যু হয়, অথচ তাঁদের শিল্পের ভিতর দিয়ে সময় কথা বলে যায়। যোগেন চৌধুরী সেই বিরল শিল্পীদেরই একজন।

‘ইতিহাসকে হিন্দু রাষ্ট্রের হাতিয়ার বানানো হচ্ছে’: রোমিলা থাপারের জরুরি সতর্কবার্তা

Sitaram yechury memorial lecture by romila thapar: ৯৪ বছর বয়সি ইতিহাসবিদ রোমিলা থাপার, দ্বিতীয় সীতারাম ইয়েচুরি স্মারক বক্তৃতায় দেখালেন, হিন্দুত্ববাদী ইতিহাসচর্চা আসলে ঔপনিবেশিক মিথের উত্তরাধিকার। জেমস মিলের যুগবিভাজন থেকে ‘আর্য’ তত্ত্ব, হলদিঘাটের যুদ্ধের প্রকৃত অসাম্প্রদায়িক চরিত্র থেকে প্রাচীন ভারতের ইতিহাসবোধ, সবই তাঁর বক্তৃতায়, প্রমাণসহ উপস্থিত হলো।

মেষ নয়, হায়াডিস? ভ্যান গগের ‘স্টারি নাইট’ নিয়ে কী বলছে নতুন গবেষণা?

The Starry Night mystery: এর আগে দীর্ঘকাল ধরে ধারণা করা হতো যে ভ্যান গগের আঁকা ছবিটির উপরের অংশটি মেষ রাশির কোনো তারামণ্ডল। তবে, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস জার্নালে প্রকাশিত 'দ্য অ্যাকচুয়াল স্কাই অফ ভ্যান গগস স্টারি নাইট: এ মাল্টিডিসিপ্লিনারি রিঅকনস্ট্রাকশন' নামক গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, ভ্যান গগের ছবির কেন্দ্রীয় পাঁচ তারার বিন্যাস মেষ রাশির সঙ্গে নয়, বরং হায়াডিস নক্ষত্রপুঞ্জের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মেলে।