এশিয়ার সেরা মিউজিয়ামের স্বীকৃতি পাটনার, কীভাবে বিশ্বসেরাদের টেক্কা দিল বিহার মিউজিয়াম?
Patna Outranks paris: বিশ্বের সেরা ১০০টি মিউজিয়ামের তালিকায় নবম স্থান অর্জন করে কীভাবে ল্যুভর ও মেটের মতো বিখ্যাত জাদুঘরকে পিছনে ফেলে এশিয়ার সেরা মিউজিয়াম হয়ে উঠল পাটনার বিহার মিউজিয়াম?
জার্মানির ট্রাভেল গাইড ‘ওয়ার্থ আ জার্নি’র ২০২৬ সালের ‘বিশ্বের সেরা ১০০ মিউজিয়াম’ তালিকায় ৯ম স্থান পেয়েছে বিহার মিউজিয়াম। প্যারিসের ল্যুভর ৩১তম এবং নিউইয়র্কের মেট ১০ম স্থানে রয়েছে। এই মিউজিয়ামটিই এখন এশিয়ার সর্বোচ্চ র্যাংকড মিউজিয়াম এবং তালিকাটিতে থাকা একমাত্র ভারতীয় প্রতিষ্ঠান। প্রিৎজকার পুরস্কার বিজয়ী জাপানি স্থপতি ফুমিহিকো মাকির পরিকল্পনা অনুসারে, ১৩ একরের বেশি জায়গা জুড়ে গড়ে উঠেছে এই মিউজিয়াম কমপ্লেক্স। মৌর্য যুগের বিখ্যাত দিদারগঞ্জ যক্ষী, কুষাণ যুগের বুদ্ধের জন্মস্তূপ, কুর্কিহারের ব্রোঞ্জ মূর্তি এবং বিরল পাণ্ডুলিপির বিশাল সংগ্রহ রয়েছে এখানে। বার্ষিক দর্শনার্থীর সংখ্যা ৫ লাখ ছাড়িয়েছে এবং স্যুভেনির বিক্রিতে দেশের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে এই মিউজিয়াম।
বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী জাদুঘরগুলোকে টেক্কা দিয়ে ভারতের বিহার মিউজিয়াম সম্প্রতি, বিশ্ব দরবারে চমক সৃষ্টি করেছে। ফ্রান্সের ল্যুভর মিউজিয়াম যেখানে পিছিয়ে ৩১ নম্বরে, সেখানে পাটনার এই মিউজিয়াম ৯ম স্থান অর্জন করেছে। মিউজিয়ামটি বিহারের হাজার বছরের ইতিহাস, শিল্প ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত দলিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
র্যাংকিংয়ের নেপথ্য
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Museum of Future in Dubai: এই জাদুঘরকে নিছক মিউজিয়াম বললে সবটা বলা হয় না। বরং একে ডাকা যেতে পারে টাইম ক্যাপসুল নামে, যা আপনাকে ভবিষ্যতে নিয়ে যাবে।
মিউনিখভিত্তিক ট্রাভেল গাইড ‘ওয়ার্থ আ জার্নি’ প্রকাশিত এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে মেক্সিকোর ন্যাশনাল মিউজিয়াম অফ অ্যানথ্রোপলজি, দ্বিতীয় স্থানে স্পেনের প্রাডো মিউজিয়াম। তৃতীয় স্থানে রয়েছে, ডেনমার্কের লুইজিয়ানা মিউজিয়াম অফ মডার্ন আর্ট। এই র্যাংকিং কেবল দর্শনার্থীদের পর্যালোচনার উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়নি; বরং ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং বিশেষজ্ঞদের সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছে মিউজিয়ামগুলির হালহকিকত। বিহার মিউজিয়ামের এই সাফল্য প্রমাণ করে, সঠিক উপস্থাপনার মাধ্যমে, দর্শনার্থীদের নতুন অভিজ্ঞতা প্রদানই, একটি
জাদুঘরকে বিশ্বমানের করে তুলতে পারে।
স্থাপত্য
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Sundarbans Museum: এই সংগ্রহশালা ঘুরে দেখার জন্য তিনি কোনও অর্থ নেননা। নদী ও সমুদ্রে মাছ ধরে যেটুকু অর্থ উপার্জন হয় তার সবটুকু দিয়েই এই সংগ্রহশালা তৈরি হয়েছে।
২০১৩ সালে শুরু হওয়া এই মিউজিয়ামের নির্মাণকাজ শেষ হলে, ২০১৫ সালে আংশিক এবং ২০১৭ সালে সম্পূর্ণভাবে একে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। জাপানি স্থপতি ফুমিহিকো মাকি এবং মুম্বইভিত্তিক ওপোলিস আর্কিটেক্টসের যৌথ ডিজাইনে ১৩.৯ একর জমির উপর গড়ে উঠেছে এই মিউজিয়াম। এখানে রয়েছে উন্মুক্ত উঠোন, সবুজ লন এবং আধুনিক গ্যালারি, যা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। মূলত এটি একটি ‘ক্যাম্পাস’ হিসেবে ডিজাইন করা হয়েছে, যেখানে চারটি আলাদা জোন রয়েছে। যেগুলি, সাতটি থিমভিত্তিক উঠানের মাধ্যমে সংযুক্ত রয়েছে।
অমূল্য সংগ্রহশালা
বিহার মিউজিয়ামের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ, মৌর্য যুগের ‘দিদারগঞ্জ যক্ষী’। খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতাব্দীর এই পাথরের মূর্তিটি তার অসাধারণ মসৃণতা এবং সূক্ষ্ম কারুকাজের জন্য বিখ্যাত। এছাড়াও এখানে রয়েছে কুষাণ যুগের ‘বুদ্ধের জন্ম’ ফলক, পাল রাজবংশের কুর্কিহার ব্রোঞ্জ মূর্তি এবং প্রাগৈতিহাসিক পাথরের উপকরণের সংগ্রহ। শুধু প্রত্নতত্ত্ব নয়, বিহারের লোকশিল্প ও সমসাময়িক শিল্পকলাও এখানে সমান গুরুত্ব পেয়েছে। শিশুদের জন্য রয়েছে আলাদা গ্যালারি, যেখানে ইন্টারঅ্যাকটিভ ডিসপ্লের মাধ্যমে, ইতিহাসকে আনন্দদায়কভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে ।
বিশ্ব দরবারে স্বীকৃতি
এই সাফল্যে ভারতের শিল্প ও সংস্কৃতি মহল, বিপুল উচ্ছ্বসিত হয়েছে। শিল্পপতি আনন্দ মাহিন্দ্রা এক্স-এ এই অর্জনকে একটি ‘ঐতিহাসিক স্বীকৃতি’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এই পুরস্কার ভারতের মিউজিয়াম-সংস্কৃতির জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে উঠবে । বিহার সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং প্রশাসনিক দৃঢ়তার ফলেই এই মিউজিয়াম আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছেছে। বর্তমানে বার্ষিক ৫ লাখের বেশি দর্শনার্থী এখানে আসেন, যা বিহারের সাংস্কৃতিক পর্যটনের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। স্যুভেনির বিক্রিতেও দেশের মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে এই মিউজিয়াম, যা স্থানীয় কারুশিল্পীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হচ্ছে।
বিহার মিউজিয়ামের এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে আধুনিক প্রযুক্তি ও দর্শনার্থী-বান্ধব উপস্থাপনার মাধ্যমে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা সম্ভব। ল্যুভর বা মেটের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা, এই তরুণ মিউজিয়ামটি ভবিষ্যতে, ভারতের সাংস্কৃতিক কূটনীতির অন্যতম শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চলেছে। আগামী দিনে আরও বেশি পর্যটক ও গবেষককে আকর্ষণ করে বিহার মিউজিয়াম তার এই সাফল্যকে , আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশা করা যায়।






