নিভে গেল আশার আলো
আশা ভোঁসলের পুত্র আনন্দ ভোঁসলে মায়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, "মা আর আমাদের মধ্যে নেই। মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে ১৩ এপ্রিল বিকেল ৪টের সময় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।"
ভারতীয় সঙ্গীত জগতের আকাশ থেকে খসে পড়ল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। প্রজন্মের পর প্রজন্মকে নিজের কণ্ঠের মায়ায় বেঁধে রাখা কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে ১২ এপ্রিল, রবিবার প্রয়াত হয়েছেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে থামল তাঁর সাত দশকের সুর-সফর।
আশা ভোঁসলের পুত্র আনন্দ ভোঁসলে মায়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান,
মা আর আমাদের মধ্যে নেই। মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে ১৩ এপ্রিল বিকেল ৪টের সময় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
শনিবার বিকেলে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। বার্ধক্যজনিত কারণে শরীর অত্যন্ত দুর্বল থাকায় শেষ পর্যন্ত তিনি আর লড়াই চালিয়ে যেতে পারেননি। চিকিৎসকদের আপ্রাণ চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি পাড়ি দিলেন অমৃতলোকে। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় চলচ্চিত্র ও সঙ্গীত জগতের একটি স্বর্ণযুগের অবসান ঘটল।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
স্রষ্টা হিসেবে পণ্ডিত রবিশঙ্করের কাজের মধ্যেও আমরা নন্দনতত্ত্বের সেই চিরাচরিত নীতিগুলো খুঁজে পাই। প্রায় সকলেই তাঁর তিলক শ্যাম রাগটির সঙ্গে পরিচিত।
শনিবার সকাল থেকেই আশা জি-র শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। হাসপাতাল সূত্রে এবং সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর খবর অনুযায়ী, হাসপাতালে পৌঁছনোর আগে থেকেই তিনি ফুসফুসের সমস্যায় (Pulmonary issues) ভুগছিলেন।
তবে তাঁর অসুস্থতার কারণ নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালের ফিজিশিয়ান ডাঃ প্রতীত সামদানি জানিয়েছেন, শনিবার সকালে তিনি হৃদরোগে (Cardiac Arrest) আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং তখনই তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। অন্যদিকে, গায়িকার নাতনি জনাই ভোঁসলে সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন, আশা জি মূলত তীব্র ক্লান্তি (Extreme exhaustion) এবং বুকে সংক্রমণের (Chest Infection) কারণে ভর্তি হয়েছিলেন হাসপাতালে।
১৯৩৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের বোম্বে-র সাংলিতে (বর্তমান মহারাষ্ট্রের) জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর ভারতীয় সঙ্গীতে অবদান অনস্বীকার্য। মাত্র ১০ বছর বয়সে ১৯৪৩ সালে মারাঠি ছবি 'মাঝা বাল'-এ প্রথম প্লে-ব্যাক করেন তিনি।
শুরুতে 'ও হাসিনা জুলফোওয়ালি'-র মতো ক্যাবারের জন্য তাঁকে সীমাবদ্ধ রাখা হলেও, পরে তিনি প্রমাণ করেন যে গজল (দিল চিজ কেয়া হ্যায়) বা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে (তোরা মন দর্পণ কেহলায়ে)-ও তিনি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। 'দম মারো দম', 'পিয়া তু অব তো আজা', 'কাজরা মহব্বত ওয়ালা' থেকে শুরু করে 'চুরা লিয়া হ্যায় তুমনে', 'অভি না যাও ছোড় কর',' ইন্তাহা হো গয়ি ইন্তেজার কি'-র মতো হাজার হাজার গান আজও মানুষের হৃদয়ে অম্লান।
জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত গায়িকা আশা ভোঁসলে ইন্ডাস্ট্রিকে 'লে গয়ি', 'দিল তো পাগল হ্যায়', 'শারারা', 'মেরে ইয়ার কি শাদি হ্যায়', 'লগান'-এর 'রাধা ক্যায়সে না জলে', 'দিওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে'-র 'জারা সা ঝুম লু ম্যায়', 'তাল'-এর 'কহি আগ লাগে আগ জায়ে'-র মতো হিট গান দিয়েছেন ইন্ডাস্ট্রিকে। 'দিল চিজ কেয়া হ্যায়' এবং 'মেরা কুছ সামান' গানের জন্য দু'বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পেয়েছেন।
২০০০ সালে দাদাসাহেব ফালকে এবং ২০০৮ সালে পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত হন। এছাড়া সাতটি ফিল্মফেয়ার এবং একটি লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ২০১১ সালে বিশ্বের ইতিহাসে সর্বাধিক স্টুডিও রেকর্ডিং করার জন্য তাঁর নাম গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে অন্তর্ভুক্ত হয়।







