রামমন্দিরের দানেই দুর্নীতির অভিযোগ, গ্রেফতার ৮, নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ ট্রাস্ট’-এর সাধারণ সম্পাদকের

Ayodhya Ram Temple: অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দান তছরুপের অভিযোগে বড় পদক্ষেপ। এফআইআরের ভিত্তিতে আটজনকে গ্রেফতার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। নৈতিক দায় স্বীকার করে শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পৎ রাই-এর পদত্যাগ করেছেন। কী অভিযোগ, কী বলছে তদন্ত?

inscript
৩ মিনিট
রামমন্দিরের দানেই দুর্নীতির অভিযোগ,  গ্রেফতার ৮, নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ  ট্রাস্ট’-এর সাধারণ সম্পাদকের

অযোধ্যার রামমন্দিরকে ঘিরে আবারও বিতর্ক। তবে এবার রাজনৈতিক মন্তব্য বা জমি-সংক্রান্ত নয়, অভিযোগ উঠেছে ভক্তদের দান করা অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী তছরুপের। উত্তরপ্রদেশ পুলিশের তদন্তে এই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং ইতোমধ্যেই অভিযুক্ত আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনাটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

অযোধ্যার শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের অভিযোগের ভিত্তিতে রাম জন্মভূমি থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়। অভিযোগপত্রে আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এঁরা সকলেই মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী গণনা, সংরক্ষণ অথবা সেই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে অনিয়মের একাধিক প্রমাণ সামনে এসেছে। এরপরই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে চুরি, অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ। তদন্তকারীদের বক্তব্য, এই ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কোনো ভুল নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চালানো হয়ে থাকতে পারে। তাই আর্থিক নথি, সিসিটিভি ফুটেজ এবং দান সংগ্রহের সম্পূর্ণ ব্যবস্থাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এই মামলার সূত্রপাত হয় একটি বিশেষ তদন্তকারী দলের বা এসআইটির প্রাথমিক রিপোর্ট থেকে। উত্তরপ্রদেশ সরকার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তিন সদস্যের একটি এসআইটি গঠন করেছিল। সেই কমিটি তদন্ত শেষে প্রাথমিক রিপোর্ট সরকারের কাছে জমা দেয়। রিপোর্টে ফৌজদারি তদন্তের সুপারিশ করা হয় বলেই জানা যায়। এরপরই ট্রাস্টের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন রামশঙ্কর যাদব ওরফে টিন্নু, অবিনাশ শুক্ল, অনুকল্প মিশ্র, লাভকুশ মিশ্র, মনীশ যাদব, রামাশঙ্কর মিশ্র, সুভাষ শ্রীবাস্তব এবং করুণেশ পাণ্ডে। তদন্তকারীদের দাবি, এঁদের প্রত্যেকেই কোনো না কোনো ভাবে দান গণনা বা নগদ অর্থ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কয়েকজনের বাড়ি থেকে নগদ অর্থ উদ্ধার হওয়ার কথাও তদন্তে উঠে এসেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে।

পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা অযোধ্যাতেই ছিলেন। তাই এফআইআর দায়ের হওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। এরপর তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং আদালতে তোলা হয়। পরে আদালত অভিযুক্তদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠায়। তদন্ত এখনও চলছে এবং প্রয়োজনে আরও গ্রেফতার হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে প্রশাসন।

ঘটনার পর উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, অপরাধী যে-ই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাঁর বক্তব্য, ভক্তদের বিশ্বাসের সঙ্গে কোনো ধরনের প্রতারণা বরদাস্ত করা হবে না। সরকার এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত চায় এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপও বাড়তে শুরু করেছে। বিরোধীরা অভিযোগ করেছে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দান নিয়েও যদি দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, তাহলে তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপিকে আক্রমণ করেছেন। তাঁর দাবি, ধর্মের নামে রাজনীতি করলেও আইনের হাত থেকে কেউ রেহাই পাবে না।

বিতর্ক আরও বাড়ে যখন শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায় নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। একই সঙ্গে ট্রাস্টের সদস্য অনিল মিশ্রও পদ ছাড়েন। যদিও তদন্তে তাঁদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি।

রামমন্দিরে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ, সোনা-রুপো এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী দান করেন ভক্তরা। সেই দান কী ভাবে সংগ্রহ করা হয়, কোথায় সংরক্ষণ করা হয় এবং কী ভাবে হিসাব রাখা হয়, তা নিয়ে এতদিন সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশেষ প্রশ্ন ওঠেনি। কিন্তু সাম্প্রতিক এই অভিযোগের পর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এত বড় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ডিজিটাল অডিট, বহুস্তরীয় নজরদারি এবং স্বাধীন আর্থিক নিরীক্ষা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।

তদন্তকারীরা এখন দানবাক্স থেকে অর্থ সংগ্রহ, গণনা, সংরক্ষণ এবং ব্যাঙ্কে জমা দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি খতিয়ে দেখছেন। তদন্তের স্বার্থে বেশ কিছু নথি ও ইলেকট্রনিক তথ্যও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত নয়। তবে প্রশাসনের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য সামনে আনা হবে এবং দোষী প্রমাণিত হলে আইনি বিধান অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখন গোটা দেশের নজর এই তদন্তের অগ্রগতির দিকেই।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রাহুলদের মিছিল, পুলিশের বাধায় ধর্না বিরোধীদের

Opposition March to EC Office: এসআইআর ও ফর্ম ৬ নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে মিছিল করলেন রাহুল গান্ধী-সহ ইন্ডিয়াা জোটের বিরোধী সাংসদরা। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ‘সেভ ডেমোক্রেসি’ স্লোগান ওঠে। তবে কমিশনের দফতরে পৌঁছনোর আগেই মিছিল আটকে দেয় দিল্লি পুলিশ।

ফর্ম ৬ বদলের অনুমোদন দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট: তাহলে বদল করল কে?

Supreme Court on Form 6 Changes: সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন আদালত অনুমোদন করেনি। তাহলে ফর্ম ৬-এ অতিরিক্ত তথ্য চাওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিল? নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় নথি চেয়েছে আদালত।

ব্রাজিলের ভোটে লুলার ধাক্কা, ফ্লাভিওর উত্থান: কেন বদলাচ্ছে সমীকরণ?

Brazil presidential election 2026: প্রথম দফায় ফ্লাভিওর প্রায় দুই শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা ছিল কার্যত অপ্রত্যাশিত। কারণ, অধিকাংশ প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষাতেই লুলাকে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ভোটের এই সংখ্যার আড়ালে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হলো—কেন বোলসোনারোবাদ এখনও এতটা শক্তিশালী?

‘দিল্লিতে রক্ত ঝরলে কলকাতাও আঘাত পায়’: যাদবপুরে নেহা বোরার কণ্ঠে প্রতিরোধের ঐক্যের বার্তা

Neha Bora Jadavpur University: নেহার কথায়, “আমার গলার অবস্থা, আমার শরীরের অবস্থা যা—ঠিক একই পরিস্থিতি আজ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের, সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের (SRFTI)। আর এই যন্ত্রণা যদি কেউ বুঝতে পারে, তবে দিল্লির রাজপথে যাদের রক্ত ঝরেছে, যাদবপুরে যাদের উপর হামলা হয়েছে, এসআরএফটিআই-তে যাদের উপর আক্রমণ হয়েছে—আমরাই একে অপরের ব্যথা সবচেয়ে ভালো বুঝি।”

‘যেই আসে লঙ্কায় সেই হয় রাবণ’: আসলে কেমন শাসক ছিলেন আসলে লঙ্কেশ?

Ravana character analysis: ঊনবিংশ শতাব্দীতে যখন মানুষ কুসংস্কার ও ধর্মীয় গোঁড়ামিতে জেরবার, তখন ১৮৬১ সালে প্রকাশিত 'মেঘনাদ বধ কাব্য' সমাজকে একদম গোড়া থেকে নাড়িয়ে দিল। শিক্ষিত যুবক সমাজকে ভাবতে বাধ্য করল এই মহাকাব্য।

‘ভাই’ থেকে ‘বিরোধী’, কুড়ি বছর পর ফের একসঙ্গে: SIR যেভাবে কাছে আনল উদ্ধব ও রাজকে

Uddhav Thackeray Raj Thackeray: জনসভা থেকে রাজ ঠাকরে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, বাদ পড়া এই দুই কোটি মানুষ আসলে কারা? দিল্লির দরবারে যখন এই বিষয়ে আলোচনা হবে, তখন সমস্ত রাজনৈতিক দলের উচিত এই এসআইআর প্রক্রিয়া পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানানো। একই সঙ্গে তিনি ইভিএমের বদলে পুরনো ব্যালট পেপারে ভোট করানোর জোরালো দাবি তোলেন।

গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে কংগ্রেসের ব্লুপ্রিন্ট কী?

Electoral demands of congress leaders: কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে ৩ সেপ্টেম্বর, সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, নরেন্দ্র মোদি ‘অবৈধ প্রধানমন্ত্রী’, অমিত শাহ ‘অবৈধ মন্ত্রী’, সকল মুখ্যমন্ত্রীরা ‘অবৈধ’। কংগ্রেসের দাবি, লোকসভা ও সকল বিধানসভা ভেঙে ব্যালট পেপারে পুনঃনির্বাচন করানো হোক। এসআইআরে ১৩ কোটি নাগরিকের নাম বিলোপ, ফর্ম-৭-এর অপব্যবহার, ২০২৩-এর সিইসি নিয়োগ আইন চ্যালেঞ্জ, এই সকল বিষয় উঠে এসেছে সাংবাদিক সম্মেলনটিতে। সামনে রয়েছে ইন্ডিয়া ব্লকের দলগুলির ৬ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের অফিসের দিকে পদযাত্রা। ইতোমধ্যে, কালই রাহুল গান্ধী দেশজুড়ে বিভিন্ন গণআন্দোলনের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের জন্য ‘সত্যাগ্রহ’ নামক একটি ওয়েব প্ল্যাটফর্ম লঞ্চ করেছেন।

আরও চাপে জ্ঞানেশ কুমার, দু'দশকের পুরনো মামলায় নতুন করে তদন্তের নির্দেশ

Gyanesh Kumar Under Scrutiny: ২০০৬ সালে কেরলের পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের সচিব থাকাকালীন জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে ফের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কেরল সরকার। রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ চেন্নিথালা ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরোকে এই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।