ঢাকাই যেন বুয়েনস এইরেস
Bangladesh World Cup fever: বিশ্বকাপের ফাইনাল নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে হলেও, আবেগের আসল লড়াই হবে বাংলাদেশের অলিগলি, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস আর চায়ের দোকানগুলোতে। ঢাকা থেকে রাজশাহী, জাহাঙ্গীরনগর থেকে গ্রামের বাজার—স্পেন ও আর্জেন্টিনার মহারণকে ঘিরে এক রাতের জন্য একই উচ্ছ্বাসে মেতে উঠবে গোটা দেশ।
আজ রাতটা শুধু স্পেন বা আর্জেন্টিনার না, এই রাতটা বাংলাদেশেরও। হাজার মাইল দূরে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে রবিবার (১৯ জুলাই) বিশ্বকাপের ফাইনালের বাঁশি বাজলেও তার প্রতিধ্বনি শোনা যাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, জাহাঙ্গীরনগরের সেন্ট্রাল ফিল্ড, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রাঙ্গণ, চট্টগ্রামের চায়ের দোকান, রাজশাহীর মোড় কিংবা গ্রামের ছোট্ট বাজারে। যেদিকে চোখ যাবে, সেদিকেই থাকবে মানুষের ঢল আর একটি পর্দাকে ঘিরে অদম্য অপেক্ষা। ৯০ মিনিটের ফুটবল এক রাতের জন্য যেন গোটা বাংলাদেশটিকে পরিণত করবে একই গ্যালারিতে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচটি বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণের জন্য হলেও, আবেগের এই ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের অলিগলি থেকে ক্যাম্পাসে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর, ড্যাফোডিল, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, জগন্নাথ, খুলনা কিংবা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সন্ধ্যা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হলের টিভি রুম, খোলা প্রাঙ্গণ কিংবা প্রজেক্টরের সামনে জড়ো হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে দেশের পাড়া-মহল্লার ক্লাব, কমিউনিটি সেন্টার কিংবা ছাদ থেকে চায়ের দোকান—সব জায়গাই যেন কয়েক ঘণ্টার জন্য রূপ নেবে ক্ষণিকের স্টেডিয়ামে। খেলা উপভোগ করতে আসা ভক্ত-সমর্থকেরা কেউ মুখে মাখবেন রঙ, কেউ গায়ে চাপাবেন প্রিয় দলের জার্সি, কেউ আবার হাতে তুলে নেবেন আর্জেন্টিনা বা স্পেনের পতাকা।
তবে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেম শুধুমাত্র তো আর বড় শহরের মধ্যে আটকে নেই। জেলা শহর, উপজেলা, এমনকী গ্রামের বাজারের ছোট্ট চায়ের দোকানও আজ পরিণত হবে একেকটি ক্ষুদ্র স্টেডিয়ামে। গ্রামগঞ্জের একটি ছোট্ট টেলিভিশনের সামনে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে থেকে কিছু মানুষ গোলের মুহূর্তে একসঙ্গে করবে চিৎকার, আবার সুযোগ হাতছাড়া হলে একযোগে দীর্ঘশ্বাস—এমন দৃশ্যই তো বাংলাদেশের বিশ্বকাপ সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফুটবল নিয়ে দেশের মানুষের আবেগ এতটাই তীব্র যে কখনো কখনো তা উত্তেজনারও জন্ম দেয়;
আজ রাতের পর বিশ্বকাপের ট্রফি উঠবে যেকোনো একটি দলের হাতে। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য জয়-পরাজয়ের বাইরেও থাকবে আরেকটি গল্প—একটি রাত, যখন ভিন্ন শহর, ভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ভিন্ন পাড়া আর ভিন্ন চায়ের দোকানে বসেও লাখো মানুষ একই আবেগে, একই উল্লাসে, একই খেলার প্রেমে যুক্ত হয়ে যাবে।






