১৬ বছর পর ফের ভারতের পথে ললিত মোদী

Lalit Modi return to India: দীর্ঘ সময় পর দিল্লির আপিল ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আর্থিক অনিয়মের বড় অভিযোগ ও জরিমানা বাতিল করে দেওয়ার পরেই এই আলোচনার সূত্রপাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ললিত মোদী নিজেই স্পষ্ট করেছেন, সমস্ত বড়সড় আইনি জটিলতা কাটার পর ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭-এর শুরুতেই ফের তিনি ভারতে পা রাখতে চলেছেন।

inscript
৩ মিনিট
১৬ বছর পর ফের ভারতের পথে ললিত মোদী

“অবশেষে এতদিন ধরে যে সত্যিটার কথা আমি বলে আসছিলাম, সেটাই সামনে এল। ষোলো বছরের এক দীর্ঘ লড়াইয়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।”

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন ললিত মোদী।

দক্ষিণ আফ্রিকার ঝকঝকে স্টেডিয়ামে কোটি কোটি টাকার ক্রিকেট লিগ উপহার দিয়ে যিনি রাতারাতি বিশ্ব ক্রীড়াজগতের সংবাদের শিরোনামে এসেছিলেন, ২০১০ সাল থেকে সেই নামটির সঙ্গেই জুড়ে গিয়েছিল দীর্ঘ দেশ ছাড়ার অধ্যায়। প্রায় ১৬ বছর ধরে লন্ডনে বসবাস করার পর, আইনি লড়াইয়ে স্বস্তি পেয়ে অবশেষে ভারতে ফেরার আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত দিলেন ‘আইপিএল’-এর প্রথম চেয়ারম্যান ও কমিশনার ললিত মোদী।

দীর্ঘ সময় পর দিল্লির আপিল ট্রাইব্যুনাল তাঁর বিরুদ্ধে থাকা আর্থিক অনিয়মের বড় অভিযোগ ও জরিমানা বাতিল করে দেওয়ার পরেই এই আলোচনার সূত্রপাত। সোশ্যাল মিডিয়ায় ললিত মোদী নিজেই স্পষ্ট করেছেন, সমস্ত বড়সড় আইনি জটিলতা কাটার পর ২০২৬ সালের শেষ দিকে অথবা ২০২৭-এর শুরুতেই ফের তিনি ভারতে পা রাখতে চলেছেন।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
ছাত্র আন্দোলনে বুদ্ধিজীবীরা কে কোথায় দাঁড়িয়ে?

Cockroach Janta Party Jantar Mantar Student Protest India: ২৬ মে ২০২৬ সালে ভারতের ছাত্র ও যুব আন্দোলনের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছিল একটি নাম— ‘কোকরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি (CJP)। নিট (NEET) পরীক্ষা প্রশ্নপত্র ফাঁস, সিবিএসই (CBSE) খাতা মূল্যায়নে কারচুপি, বারবার নিয়োগ পরীক্ষার চরম ব্যর্থতা এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে দিল্লির যন্তর মন্তর। কিন্তু এই আন্দোলন কেবল আর সাধারণ ছাত্র কিংবা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি, তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে বিনোদন, বুদ্ধিজীবী মহল ও জাতীয় রাজনীতির আঙিনায়।

২০০৯ সালে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের কারণে নিরাপত্তার তাগিদে তড়িঘড়ি আইপিএলের দ্বিতীয় সংস্করণ স্থানান্তরিত করতে হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়। সেই টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজন করলেও, পরবর্তীকালে অভিযোগ ওঠে যে বিদেশে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়ায় আরবিআই (RBI)-এর উপযুক্ত অনুমতি নেওয়া হয়নি।

বৈদেশিক মুদ্রা সংক্রান্ত নিয়ম বা 'ফেমা' (FEMA) লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ভিত্তিতে বিসিসিআই (BCCI)-এর পাশাপাশি ললিত মোদীর উপর ১০ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকার বিশাল জরিমানা চাপানো হয়েছিল। এই ঘটনার পরপরই ২০১০ সালে ভারত ছেড়ে লন্ডনে পাড়ি দেন ললিত মোদী।

দীর্ঘ ১৬ বছরের আইনি টানাপোড়েনের পর সম্প্রতি ‘সাফেমা’ (SAFEMA) আপিল ট্রাইব্যুনাল ইডির অধিকাংশ পর্যবেক্ষণ ও জরিমানার নির্দেশ একলহমে খারিজ করে দেয়। ট্রাইব্যুনাল তাদের রায়ে স্পষ্টভাবে জানায়, ২০০৯ সালে বিদেশে টাকা পাঠানোর এই লেনদেনে আইন লঙ্ঘনের পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব রয়েছে। এটি একটি কারেন্ট অ্যাকাউন্ট লেনদেনের মধ্যে পড়ে এবং ব্যক্তিগতভাবে ললিত মোদীকে একা এই প্রক্রিয়ার আইনি দায়ভারের জন্য অভিযুক্ত করা যায় না।

  • আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
কাশ্মীর থেকে দিল্লি: পেলেট গান কেন বারবার বিতর্কের কেন্দ্রে?

Pellet guns: দিল্লির ছাত্র আন্দোলনে পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ উঠছে। কাশ্মীরে ব্যবহৃত বিতর্কিত এই অস্ত্র কেন বারবার আলোচনায় আসে? ‘প্রাণঘাতী নয়’ বলা হলেও কীভাবে এটি গুরুতর আঘাত, অন্ধত্ব এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে?

এই রায়ের পরই নিজের স্বস্তি প্রকাশ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ললিত মোদী লেখেন, “অবশেষে এতদিন ধরে যে সত্যিটার কথা আমি বলে আসছিলাম, সেটাই সামনে এল। ষোলো বছরের এক দীর্ঘ লড়াইয়ের পরিসমাপ্তি ঘটল।”

ভারতের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়িক পরিবার ‘মোদী এন্টারপ্রাইজেস’-এর বড় ছেলে ললিত মোদী। তাঁদের ব্যবসা শুধুমাত্র ক্রিকেটের ময়দানেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ১৯৩৩ সালে তাঁর ঠাকুরদা গুজরমল মোদীর হাত ধরে যে ব্যবসার সূচনা হয়েছিল, পরবর্তীকালে ললিত মোদী তার পরিধি আরও বিস্তার করেন। কেমিক্যাল, ফ্যাশন, পার্সোনাল কেয়ার, রিটেল, পর্যটন থেকে শুরু করে বিনোদন জগতের একাধিক নামী ব্র্যান্ড— যেমন মোদিকেয়ার, কালারবার, গডফ্রে ফিলিপ্স এবং পান বিলাস রয়েছে তাঁদের পরিবারের অধীনে।

লন্ডনের সোলান স্ট্রিটের ৭,০০০ স্কয়ার ফিটের রাজকীয় অট্টালিকা কিংবা গ্যারেজে সাজানো বিশ্বমানের বিলাসবহুল গাড়ি— তাঁর জীবনযাত্রা বরাবরই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজর কেড়েছে। অন্যদিকে, বলিউড অভিনেত্রী ও প্রাক্তন মিস ইউনিভার্স সুস্মিতা সেনের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর তা নিয়ে নেটপাড়ায় ব্যাপক চর্চা হয়।

তবে এই সমস্ত গ্ল্যামার ও বিতর্কের উর্ধ্বে গিয়ে ললিত মোদী স্পষ্ট করেছেন, বর্তমানে তাঁর প্রথম অগ্রাধিকার পরিবার। আগামী অক্টোবরে তাঁর মেয়ে সন্তানের জন্ম দিতে চলেছেন। দাদু হওয়ার সেই পারিবারিক মুহূর্ত উদযাপন করার পরেই তিনি ভারতের উদ্দেশে রওনা হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী দীপাবলি হয়তো তিনি দেশেই কাটাবেন।

যদিও ২০১৩ সালে বিসিসিআই তাঁকে আজীবন নির্বাসিত করেছিল এবং ক্রিকেট প্রশাসনিক ক্ষেত্রে তাঁর সরাসরি ভূমিকা নেওয়ার পথ বন্ধ, তবুও ললিত মোদীর ভারতে ফেরার বার্তা ভারতীয় খেলাধুলো এবং কর্পোরেট জগতে এক নতুন কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে।

আজ যে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বিশ্ব ক্রীড়াজগতের অন্যতম লাভজনক ও জনপ্রিয় টুর্নামেন্ট, তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বাণিজ্যিক রূপ দেওয়ার নেপথ্যে ললিত মোদীর দূরদর্শিতা ও অবদানের কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। ১৬ বছর পর তাঁর এই প্রত্যাবর্তন কোনো আবেগের বিষয় নয়, বরং দীর্ঘ এক আইনি প্রক্রিয়ার যৌক্তিক পরিণতি। ভারতের মাটিতে পা রাখার পর ক্রিকেট বোর্ড, সংবাদমাধ্যম কিংবা ব্যবসায়িক মহলে তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক কী হয়, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর বজায় রাখছে দেশবাসী।

লিখেছেন
inscript
inscript
16 Followers
column image
রৌদ্রছায়ার ফুটবল|এদোয়ার্দো গালেয়ানো: সকার ইন সান অ্যান্ড শ্যাডো-র অনুবাদ
Srikumar Chattopadhyay
Srikumar Chattopadhyay
column image
আমার মণিদাLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
দু'দশ কদম Rahul Arunodoy BanerjeeRahul Arunodoy Banerjee
column image
আশমানদারি
Aveek Majumdar
Aveek Majumdar
column image
শিখে লিখুন লিখতে শিখুন বাংলাBiswajit RayBiswajit Ray
column image
আমার সাংবাদিক জীবনRanjan BandyopadhayRanjan Bandyopadhay
column image
হাওয়াগাড়ির রূপকথাTarun GoswamiTarun Goswami
column image
তাহাদের শান্তিনিকেতনLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
পাগলের সঙ্গে যাবিLadly MukhopadhayaLadly Mukhopadhaya
column image
ঋতুপর্ণ নির্জন সিনে-মনAbhirup MukhopadhyayAbhirup Mukhopadhyay

আরও পড়ুন

নারী টেস্টে এত অনীহা কেন, লর্ডসের ইতিহাসও বদলাবে না সেই ছবি?

Women’s Test Cricket: লর্ডসে ভারতের নারী ক্রিকেট দলের ঐতিহাসিক জয় নারী টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ বদলানোর সুযোগ এনে দিয়েছে? এত সাফল্য ও জনপ্রিয়তার পরও কেন এই ফরম্যাটে নিয়মিত ম্যাচ নেই?

শিব-পরশুরামের যুদ্ধবিদ্যা কালারিপায়াট্টু থেকেই জন্ম কুংফুর!

Kalaripayattu Indian Martial Art: ভারতীয় পৌরাণিক ঐতিহ্যে কালারিপায়াট্টুকে স্রেফ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে দেখা হয়নি, বরং এটিকে মানব শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রাণশক্তিকে জাগিয়ে তোলার এক মহান সাধনা বলে মনে করা হয়।

দু'হাজার বছর পুরনো ‘আত্য পাত্যা’: এই খেলাই শিখিয়েছিল যুদ্ধের কৌশল!

Atya Patya Traditional Indian Game: আনুমানিক ১০০ থেকে ৩০০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে রচিত প্রাচীন তামিল সাঙ্গম সাহিত্য ‘নাটতৃণৈ’-তে এই খেলার প্রথম লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়। অতএব, এই খেলার বয়স প্রায় দুই হাজার বছরেরও বেশি। সেখানে বলা আছে, প্রাচীন চোল রাজবংশের সেনারা যুদ্ধক্ষেত্রে যাওয়ার আগে নিজেদের ক্ষিপ্রতা, দ্রুত দৌড়ানোর ক্ষমতা আর শরীরকে এক নিমেষে বাঁকানোর চপলতা বাড়াতে এই খেলায় মেতে উঠত।

গোলের আড়ালে ঘৃণার খেলা: ২০২৬ বিশ্বকাপে ট্রাম্প, ফিফা আর ফুটবলের পরাজয়

Trump FIFA World Cup: এই বিশ্বকাপ শুধুই একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়; মাঠের লড়াই ছাপিয়ে তা হয়ে উঠেছে ভূ-রাজনীতি, বর্ণবিদ্বেষ এবং বাণিজ্যিক আধিপত্যের এক জটিল ময়দান।

একটা রাজপুত্তুর যার মুকুট হারিয়ে গিয়েছে

Lionel Messi Retirement: তিনটে ফাইনালের বোঝা। একে একে ছেড়ে যায় সহযোদ্ধারা। রক্তাক্ত মাসচেরানো চলে যান, কুন আগুয়েরোর অসুখ... তবু লিও পড়ে থাকে, আমরা পড়ে থাকি আর কিছুদিন। বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজন ছিল একজন স্ক্যালোনির, তিনি সেটুকু সেতু নির্মাণের দায়িত্ব নিলেন। আমরা অপেক্ষা করলাম লুসাইলে। আমরা তো কবেই হেরে গিয়েছিলাম, সৌদি আরব শুধু চিনিয়ে দিয়েছিল আশপাশটা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬: যেভাবে ১৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসায় পরিণত হল ফুটবল

FIFA Revenue 2026: 'কুইন্টেট প্রাইভেট ব্যাংক'-এর সাম্প্রতিক একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, শেয়ারবাজারের দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের অনুঘটক হওয়ার চেয়ে বিশ্বকাপ আসলে একটি শক্তিশালী স্বল্পমেয়াদি বাণিজ্যিক উদ্দীপক হিসেবেই বেশি কাজ করে। ফিফা, সম্প্রচারকারী সংস্থা, স্পোর্টসওয়্যার ব্র্যান্ড এবং আতিথেয়তা (হসপিটালিটি) ক্ষেত্রগুলি বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আয় করলেও, কোম্পানির শেয়ারের দামে সেই ইতিবাচক প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে রাখা বেশ কঠিন।

যখন ইউরোপে নারীরা গৃহবন্দি, তখন অসমে মেয়েরা খেলছিলেন ধোপখেল

Dhop Khel Assam: আহোম রাজাদের রাজপ্রাসাদ থেকে বিহুর মেঠো মাঠ—অসমের মাটিতে একসময় গমগম করত ধোপখেলের আওয়াজ। ফুটবল, কাবাডি আর দূরন্ত নিশানার এই অদ্ভুত রোমাঞ্চকর খেলাটি শুধু পুরুষদের বীরত্ব প্রমাণের লড়াই ছিল না; যখন ইউরোপে নারীদের জীবন ছিল চার দেওয়ালে বন্দি, তখন অসমে মেয়েরাও মাঠে নেমে মেতে উঠতেন ধোপখেলে।