পরপর দলত্যাগ, নেতৃত্বের অভাব! কেন এমন অবস্থা হল বঙ্গ বিজেপির?

বঙ্গ বিজেপি-র অন্দরের তুমুল ডামাডোল সামাল দিতেই নাকি দু'দিনের সফরে বাংলায় এসেছিলেন অমিত শাহ। সেই কাজে তিনি কতখানি সফল হয়েছেন, তা স্পষ্ট হয়েছে শাহি-সফরের অব্যবহিত পরেই দলীয় সাংসদ অর্জুন সিংয়ের দলত্যাগের ঘটনায়। ওই দলত্যাগের পর গেরুয়া শিবিরের অন্তর্কলহ শত গুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। আদি বিজেপি নেতারা কোমর বেঁধে নেমেছেন নব্য-বাহিনীকে দুরমুশ করতে। উল্টোদিকে নব্য-বিজেপি তোয়াক্কাই করছে না আদি নেতাদের।

 

ওদিকে জল্পনা বাড়ছে একাধিক গেরুয়া-নাম নিয়ে। শোনা যাচ্ছে, দলের কয়েকজন নেতা-নেত্রী নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ স্তরে। ফিলার পাঠাচ্ছেন। বিজেপির রাজ্য কমিটি এখন কার্যত ঘূর্ণি-পিচে ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে আছে। যে কোনও মুহূর্তেই দু'-একটি উইকেটের পতন হতে পারে।

 

গত আট বছর যাবৎ যে দলটি দেশ শাসন করছে, সেই দলের বঙ্গ-কমিটির এই কাছাখোলা অবস্থার জন্য দায়ী কে? যে কোনও রাজনৈতিক দলের কাছেই ১৬ জন সাংসদ, ৭০ জন বিধায়ক থাকা বিরাট ব্যাপার। এই শক্তি নিয়ে কাঁপিয়ে দেওয়া যায় শাসক দলকে। বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এমন সেনাবাহিনী পাননি। সীমিত রসদেই প্রবল ঝড় তুলে তিনি কিন্তু উড়িয়ে দেন ৩৪ বছরের জগদ্দল বাম-পাথর। ভিন রাজ্যের দৃষ্টান্ত এটি নয়, বাংলাতেই এই ঘটনা ঘটেছে‌। অথচ তা দেখেও কিছুই শিখতে পারেননি রাজ্য বিজেপির নেতারা। আসলে বঙ্গ বিজেপি আজও নিজের পায়ে দাঁড়াতেই শেখেনি  বলা ভালো, বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতারা বঙ্গ বিজেপিকে স্বাবলম্বী হতে দিতে আদৌ রাজি নয়। বাংলার বিজেপি নেতৃত্ব নিজেরাই নিজেদের এগিয়ে চলার পথ খুঁজতে শুরু করলে বিপদে পড়বে দলেরই তথাকথিত কিছু কেন্দ্রীয় নেতা। বিজেপির হাই কম্যান্ড পশ্চিমবঙ্গের দলীয় নেতাদের উপর ছড়ি ঘোরানোর দায়িত্ব দিয়েছেন এমন কিছু লোকজনকে, যাঁদের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা কার্যত শূন্য। বাংলার রাজনৈতিক চালচিত্রের সজ্জা অন্যান্য রাজ্যের থেকে ব্যতিক্রমী। সাধারণ মানুষের পাশে না থাকলে বাংলায় কোনও রাজনৈতিক দল বা নেতা ন্যূনতম প্রতিষ্ঠাও পায় না। বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতারা যে একথা জানেন না, তা নয়। কিন্তু তাঁদের হাত-পা বাঁধা দিল্লির শিকলে। স্বাধীনভাবে, পরিস্থিতি অনুযায়ী কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারই বঙ্গ-নেতাদের নেই। সব বিষয়েই তাঁদের তাকিয়ে থাকতে হয় দিল্লির দিকে। বিজেপি নেতা-কর্মীরা আবার এই সিস্টেমের জয়গান গাইতে বেশ পছন্দ করেন। কথায় কথায় বলেন, বিজেপি আর পাঁচটা দলের মতো নয়, এই দলে কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমতি ছাড়া যা খুশি করা যায় না, দলে একটা শৃঙ্খলা রয়েছে। এসব কথা দেখতে বা শুনতে খুব ভালো। কিন্তু ময়দানে নেমে সাংগঠনিক কাজ যাঁরা করেন বা করতে চান, তাঁদের কাছে এই প্রক্রিয়া একশো শতাংশ বিড়ম্বনার৷ বাংলায় দল কী করবে, কোন পথে হাঁটবে, কোন কাজটা এখনই করা জরুরি, তা স্থির করার একচ্ছত্র অধিকার শাহ-নাড্ডা দিয়েছেন জনৈক অমিত মালব্যর হাতে। কে এই মালব্য? উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের বাসিন্দা এই লোকটির ন্যূনতম রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। দলটাও সেভাবে কোনওদিন করেননি। 'ফ্রেন্ডস অফ বিজেপি' নামে একটি সংস্থা খুলে সেই সংস্থাকে সিঁড়ি বানিয়ে, স্রেফ স্তাবকতার জোরে দলের নেতাদের নজরে আসেন। অসত্য ট্যুইট ভালো করতে পারেন। বিজেপি তাঁকে ধরে এনে বসিয়ে দেয় দলের আইটি সেলের মাথায়। জীবনে এক ঘণ্টার জন্যও নিজে নেতৃত্ব দিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ না করা মালব্য-ই কালক্রমে হয়ে গিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মতো স্পর্শকাতর রাজ্যে বিজেপির পলিসি মেকার। ময়দানে নেমে রাজনীতি করার অভিজ্ঞতায় এই মালব্যকে যখনতখন দশ গোল মারার যোগ্যতা রয়েছে কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর সজল ঘোষের। মালব্য জানেনই না বাংলার ইতিহাস, ভূগোল, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজতত্ত্ব। অথচ তাঁর নির্দেশেই চলতে হবে দিলীপ ঘোষ, শুভেন্দু অধিকারীর মতো পোড় খাওয়া নেতাদের। মানুষ ভুলে যায়নি, একুশের ভোটে বিজেপিকে ডোবানোর পিছনে দিল্লি থেকে আসা বিজয়বর্গীয়, অরবিন্দ মেনন, শিবপ্রকাশদের ভুল তথ্য পরিবেশন করা, অকারণে হামবড়া ভাব দেখানো, দলের অন্দরে তৈরি করা গোষ্ঠীবাজি, কুকর্মে জড়িয়ে পড়ার পর ঘটনা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। আজ ওইসব 'দক্ষ' নেতারা কোথায়? বাংলায় দলকে ভাসিয়ে দিয়ে এখন তাঁরা অন্য রাজ্যের মধু খাচ্ছেন। এসব দেখে এবং জেনেও কিন্তু এতটুকুও চৈতন্য হয়নি মোদি, শাহ, নাড্ডাসাহেবদের। এখনও রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের পায়ে বাঁধা শিকল খোলেননি। এমনই নাকি দলের গঠনতন্ত্র। এই 'আত্মঘাতী' গঠনতন্ত্রে যে দল চালিত হয়, সেই দল মুখ থুবড়ে পড়বে না তো কি ক্ষমতায় আসবে? বিজেপি বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হতে চাইলে, বঙ্গ-দলের মাথার ওপর থেকে ওই বিজয়বর্গীয়, মালব্য-মার্কা শাকের আঁটি প্রথমেই সরিয়ে নিক।

 

আরও পড়ুন: অর্জুনের প্রত্যাবর্তন নিয়ে দলের অন্দরেই অশান্তি, কেন ভিন্ন সুর কিছু নেতার?

 

বাংলায় বিজেপির সঙ্গে প্রদেশ কংগ্রেসের প্রভূত মিল খুঁজে পেয়েছে রাজনৈতিক মহল। ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে কংগ্রেস ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে প্রদেশ কংগ্রেস দিল্লির হাই কম্যান্ডের কাছে কম দরবার করেনি হিংসার উৎসব চলা বাংলায় ৩৫৫ বা ৩৫৬ ধারা জারি করার আর্জি নিয়ে। প্রতিবারই দিল্লি 'দেখছি' বলে ফিরিয়ে দিয়েছে তৎকালীন হেভিওয়েট প্রদেশ নেতাদের। রাজ্যে ফিরে ওই নেতারা অন্যান্য নেতা এবং কর্মীদের আশ্বাস দিয়ে গিয়েছেন, "এবার একটা ব্যবস্থা হবেই৷ দিল্লি খুব মন দিয়ে বিষয়টি শুনেছে।" ওইখানেই ব্যাপারটি শেষ হয়েছে। তদানীন্তন এআইসিসি নেতৃত্ব আমলই দেয়নি বাংলার নেতাদের কথায়। পশ্চিমবঙ্গে টানা ৩৪ বছর রাজত্ব চালিয়ে গিয়েছে বামফ্রন্ট। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্ভেদ্য রাজনৈতিক কৌশলের কাছে হার মানে বামেরা। প্রদেশ কংগ্রেসের নেতারা মধ্যবর্তী সময়কালে কেন্দ্রকে সক্রিয় করতে যত চেষ্টা চালিয়েছিলেন, সবই ব্যর্থ হয়েছিল।

 

বর্তমান বঙ্গ বিজেপি এখন ওই সময়কার 'কংগ্রেস সিনড্রোম'-এ আক্রান্ত৷ বঙ্গ বিজেপি নেতাদের একাংশ এখনও ভেবে চলেছেন, বাংলায় রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করবে দিল্লি, কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে সিবিআই, ইডি সক্রিয় হয়ে তৃণমূল নেতাদের জেলে ঢোকাবে, নির্বাচন কমিশন পদ্ম-শিবিরের দিকে একটু ঝুঁকে বাংলায় ভোট করবে, সব বুথ চলে যাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে, বাছাই করা ইভিএমে ভোট হবে, আর আমরা দিব্যি স্নো- পাউডার মেখে রাজভবনে গিয়ে শপথ নেব। প্রফুল্ল সেন, অতুল্য ঘোষ, জ্যোতি বসু, প্রমোদ দাশগুপ্ত, ত্রিদিব চৌধুরী, চিত্ত বসু, বিশ্বনাথ মুখোপাধ্যায় সোমনাথ লাহিড়ী, সুবোধ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি, সুব্রত মুখোপাধ্যায় বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা কি এতটাই সহজে বাংলার ক্ষমতায় এসেছিলেন? এত সহজ ক্ষমতা দখল করা? এক বছর অতিক্রম করেছে বিজেপি বাংলার প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে। এই এক বছরে বিরোধী দল হিসেবে কোন কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পেরেছে বিজেপি? বিবৃতি, ফেসবুক, ভাষণ, টিভিতে মুখ দেখানো আর আদালতে মামলার পর মামলা করে গেলেই সংগঠন মজবুত হবে, এই ফর্মুলায় পাড়ার ক্লাবও চলে না। অথচ গেরুয়া নেতারা ভাবছেন, দারুণভাবে দল ছুটছে। ব্যক্তিগতভাবে আরও ক্ষমতাশালী হতেই হবে, এই আদর্শকে সামনে রেখেই রাজ্য নেতারা দল 'পরিচালনা' করছেন আর প্রতারণা করে চলেছেন দলের নিষ্ঠাবান কর্মী-সমর্থক-ভোটারদের সঙ্গে। এত সাংসদ, এত বিধায়ক যে দলের রয়েছে, সেই দলটি স্রেফ দিল্লিমুখী হওয়ার কারণেই এভাবে ধীরে ধীরে ভেন্টিলেশনে চলে যাচ্ছে।

 

বিজেপির রাজ্য নেতারা দফায় দফায় দিল্লি গিয়ে দরবার করেছেন, ৩৫৬ না হোক, রাজ্যে অন্তত ৩৫৫ ধারা জারি করুক কেন্দ্রীয় সরকার। ভোট-পরবর্তী হিংসার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বহুবার এই দাবিতে সরব হয়েছেন রাজ্য বিজেপি-র নেতারা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি ভবনেও দরবার করেছেন তাঁরা। এবার রাজ্যে এসে বঙ্গ বিজেপির নেতাদের সেই আশায় জল ঢেলে দিয়ে গিয়েছেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-ই। শাহ সাফ শুনিয়ে গিয়েছেন যে, কোনও অজুহাতে কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ভেঙে দেবে না। সেদিন রাজ্য নেতাদের অমিত শাহ বুঝিয়ে দিয়েছেন, মাত্র এক বছর আগে বিপুল জনমত নিয়ে যে সরকার গঠন হয়েছে, তাকে এভাবে ফেলে দেওয়া যায় না। শাহ-সফর হওয়ার পর বঙ্গ-বিজেপির হাল দেখে স্পষ্ট হচ্ছে, শাহি পরামর্শ মনঃপূতই হয়নি বঙ্গ নেতাদের।

 

ওদিকে, বঙ্গ-বিজেপির অফিসিয়াল নেতাদের ওপর ন্যূনতম আস্থা নেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘেরও। রাজ্য নেতাদের গোষ্ঠীবাজি, ঔদ্ধত্য, বিবেচনাহীন সিদ্ধান্তই বাংলায় দলকে ডুবিয়ে দিচ্ছে বলে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে সংঘ পরিবারের তরফে রিপোর্টও জমা পড়েছে। সেই রিপোর্ট পেয়ে চমকে গিয়েছেন দিল্লির নেতারা। তারপরেই রাজ্য কমিটিকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বার্তা, গোটা রাজ্য ঘুরে বাস্তব পরিস্থিতিভিত্তিক রিপোর্ট দিল্লিতে পাঠান। ঘরে বসে মনগড়া তথ্যে ঠাসা রিপোর্ট নয়, জেলায় ঘুরতে হবে। শুধু অফিসিয়াল গোষ্ঠীকেই নয়, বিক্ষুব্ধ নেতাদের কাছেও রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। দেরিতে হলেও দিল্লি বুঝেছে, বাংলার দলে কার্যত শুম্ভ-নিশুম্ভের লড়াই চলছে‌‌। এই কাঠামোয় দল যে কিছুতেই আগামী নির্বাচনে ফ্যাক্টর হতে পারবে না, তাও বুঝেছে দিল্লি। ওপর ওপর দেখলে বঙ্গ-বিজেপিকে আপাতত দু'-টুকরো বলে মনে হলেও, বাস্তবে একাধিক তাঁবু-র হদিশ মিলেছে দলের অন্দরে। একদিকে রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এবং তাঁর অন্যতম মদতদাতা শুভেন্দু অধিকারী গোষ্ঠী। অন্যদিকে সুকান্ত ও শুভেন্দুদের যে কোনও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরব সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি দিলীপ ঘোষ, সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, রাহুল সিনহারা। আবার রীতেশ তেওয়ারি বা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়দের মতো অনেকেই এখন পার্টি অফিসেই যান না। দিল্লিতে এই সুকান্ত ও শুভেন্দুদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ জমা পড়েছে। মূল অভিযোগ, দলের পুরনো নেতাদের অসম্মান করছে এই নেতারা। দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিনহার মতো আদি নেতারা এখন দলে 'অপ্রয়োজনীয়' হয়ে পড়ছেন। এর ফলে দলের অন্দরে গোষ্ঠী কোন্দল তুঙ্গে উঠেছে।

 

একদিকে দলের অন্দরে বাঁধনছাড়া কোন্দল, অন্যদিকে নেতাদের দলত্যাগ, কোনও কিছুই সামলাতে পারছে না অফিসিয়াল গোষ্ঠী৷ ওদিকে রাজ্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন এগিয়ে আসার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ২০২৩-এ এই ভোট হওয়ার কথা থাকলেও, মনে করা হচ্ছে চলতি বছরেই হতে পারে নির্বাচন। পঞ্চায়েত ভোট মিটলেই বিজেপিকে ঝাঁপাতে হবে পরবর্তী লোকসভা নির্বাচন নিয়ে। নরেন্দ্র মোদির অগ্নিপরীক্ষা হবে লোকসভা নির্বাচনে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে মোদিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়তে পারে। তেমন হলে বাংলার ৪২টি আসন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বঙ্গ বিজেপির এখন যা অবস্থা, তাতে ২০১৯-এ জেতা আসনগুলো ধরে রাখা বিজেপির পক্ষে কার্যত অসম্ভব। বহু 'অ্যাক্সিডেন্টাল' সাংসদের হার নিশ্চিত।

 

আর তার ওপরে শাকের আঁটি হয়ে বঙ্গ বিজেপির ঘাড়ে চেপে বসেছে নেতা-সাংসদ-বিধায়কদের দলত্যাগ। দলবদলের ঘটনা বাড়তে থাকলে ভেন্টিলেশনে থাকা অবস্থাতেই চিরনিদ্রায় ঢলে পড়তে পারে বঙ্গ বিজেপি।

 

তাই বঙ্গ বিজেপিকে বাঁচিয়ে তুলতে চাই 'বিশল্যকরণী'। শক্তিশেলাহত লক্ষ্মণকে বাঁচাতে যে মহৌষধির প্রয়োজন হয়েছিল, একমাত্র সেই মৃতসঞ্জীবনী সুধাতেই বাংলার বিজেপি বাঁচতে পারে। কিন্তু মুশকিল হল, শ্রীরামচন্দ্র বিজেপির মুখে থাকলেও, বঙ্গ বিজেপির হাতে কোনও হনুমান নেই। বঙ্গ বিজেপির কে আছেন, যিনি গোটা গন্ধমাদন পর্বত উপড়ে আনবেন? শক্তিশালী দূরবিনেও তো এই মুহূর্তে কেউ নজরে আসছে না।

More Articles

;