থানার গেটেই মারধর প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরকে, সাধারণ মানুষ কতটা নিরাপদ?
Humayun Kabir: ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।
২২ সেপ্টেম্বর মুকুন্দপুরে দলীয় কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে মমতা-তৃণমূল ও বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় একাধিক তৃণমূল কর্মী ও নেতার আহত হওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর পরেই কয়েকজন দলীয় নেতা-কর্মীকে পূর্ব যাদবপুর থানায় আটকে রাখার খবর পান হুমায়ুন কবির।
হুমায়ুন কবিরের দাবি, ঘটনার আগে তিনি ধর্মতলায় ব্যক্তিগত কাজে ছিলেন। সেখান থেকে ফেরার সময় খবর পান, মমতা-তৃণমূলের আইটি সেল প্রধান উপাসনা চৌধুরীর বাড়িতে হামলা হয়েছে। উপাসনার সঙ্গে ফোনে কথা বলে তাঁর বাড়ির ঠিকানা নেন তিনি। এরপর পূর্ব যাদবপুর থানার ওসিকে ফোন করে সেখানে পুলিশ পাঠানোর অনুরোধ করেন।
পরে জানতে পারেন, তাঁদের দলের আইনজীবী বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়-সহ কয়েকজনকে পূর্ব যাদবপুর থানায় ধরে রাখা হয়েছে। সেই খবর পেয়েই তিনি থানায় যান।
হুমায়ুনের বয়ান অনুযায়ী, থানায় পৌঁছে গাড়ি থেকে নামার পর তিনি গেটের দিকে এগিয়ে যান। বাইরে বেশ কয়েকজন লোক দাঁড়িয়েছিলেন। প্রথমে তাঁদের নিজের দলের লোক বলে মনে করেছিলেন তিনি। এরপর গেটের কাছে গিয়ে ভিতরে ঢোকার জন্য দরজা খুলতে বলেন। তখন তাঁকে ‘আপনি কে?’ বলে পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। নিজের নাম ‘হুমায়ুন কবির’ বলার পরই পিছন থেকে একজন তাঁকে ‘তৃণমূলের হুমায়ুন’ বলে চিহ্নিত করেন বলে তাঁর দাবি।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Ritabrata Banerjee: তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেই ১৪ জনকে নির্বাচনে হারিয়ে দেওয়ার তালিকা তৈরি হয়েছিল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, সেই তালিকায় প্রথম নাম ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আর কারা ছিলেন ওই তালিকায়? নির্দেশ এসেছিল কোথা থেকে?
এর পরেই কয়েকজন পিছন থেকে তাঁর জামা ধরে টানতে শুরু করেন এবং মারধর করেন বলে অভিযোগ হুমায়ুনের। তাঁর দাবি, প্রায় দু’মিনিট ধরে তাঁকে মারধর করা হয়। সেই সময়ই মুখে আঘাত লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত হন। পরে থানার পুলিশকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে থানার ভিতরে নিয়ে যান বলে জানিয়েছেন তিনি।
থানার ভিতরে গিয়ে হুমায়ুন কবির ফেসবুক লাইভ করেন। তাঁর কথায়, তখন মাথা ঘুরছিল। কিছুক্ষণ পর চেয়ারে বসে পড়ে যান তিনি। পরে পুলিশ তাঁকে পিয়ারলেস হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরও তাঁর ঘাড়ে ব্যথা রয়েছে এবং আরও পরীক্ষা করাতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ইনস্ক্রিপ্ট-কে হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, তাঁর মুখের যে জায়গায় চোট লেগেছে সেখানে তৎক্ষণাৎ সেলাই করা সম্ভব হয়নি। ফোলা কিছুটা কমার পর সেলাইয়ের বিষয়ে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেবেন বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘাড়ে একাধিক পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে। প্রয়োজনে নিউরোলজি বিশেষজ্ঞকেও দেখাতে হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন,
ঘাড়ে প্রচুর মেরেছে, যন্ত্রণা হচ্ছে।
- আপনার জন্য আরও কিছু লেখা
Ritabrata Banerjee: ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, তৃণমূল নেতাদের উপর আড়ি পাতার কাজে তাঁকে ব্যবহার করা হয়েছিল। কাদের কাছে সেই তথ্য পৌঁছে দিতেন তিনি? ২০২১-এর ভোট পর্যন্ত চলা সেই নজরদারির নেপথ্যে কারা ছিলেন?
ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত তিনি কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তখন অভিযোগ করা সম্ভব হয়নি। সুস্থ হয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ করবেন।
ঘটনার সময় থানার বাইরে প্রচুর পুলিশকর্মী উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি হুমায়ুন কবিরের। তাঁর বক্তব্য, প্রায় ৩০-৪০ জন পুলিশকর্মী সেখানে ছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে থানার গেটের সামনে তাঁকে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিক হিসেবে নিজের দীর্ঘ কর্মজীবনের প্রসঙ্গ তুলে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। হুমায়ুনের দাবি, ৩১ বছর পুলিশে চাকরি করার সময় এমন পরিস্থিতি তিনি দেখেননি। তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে পুলিশ ‘মিউট স্পেক্টেটর’-এর মতো ভূমিকা পালন করছে এবং পুলিশের মধ্যে পক্ষপাতিত্ব দেখা যাচ্ছে।
হুমায়ুন কবিরের আরও দাবি, তাঁকে যারা মারধর করেছেন তাঁরা বিজেপির লোকজন। তিনি বলেন, মুকুন্দপুরের সংঘর্ষের পর দলীয় নেতা-কর্মীদের থানায় আটকে রাখার খবর পেয়েই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন এবং সেই সময়ই তাঁকে টার্গেট করা হয়।
তবে বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মুকুন্দপুরের সংঘর্ষের সূত্রপাত তৃণমূলের কর্মীদের সঙ্গে তাদের কর্মীদের বচসা থেকে এবং তৃণমূলই প্রথমে তাদের এক কর্মীর উপর হামলা চালায়। ফলে হুমায়ুন কবিরকে কারা মারধর করেছে এবং সংঘর্ষের সূত্রপাত কীভাবে? এই দুই বিষয়েই দুই পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।
মুকুন্দপুরের ঘটনাটি স্থানীয় দলীয় কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক উত্তেজনার পর ঘটে। সংঘর্ষে হুমায়ুন কবির ছাড়াও মমতা তৃণমূলের আইটি সেল প্রধান উপাসনা চৌধুরী এবং কাউন্সিলর বসুন্ধরা গোস্বামী-সহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
হুমায়ুন কবির অবশ্য এই ঘটনাকে বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে ‘আইনের শাসন নেই’ এবং ‘গুন্ডারাজ’ চলছে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন, বিজেপি এবং ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়েও একাধিক অভিযোগ তোলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে বলেও জানান হুমায়ুন। তিনি বলেন, নেত্রী তাঁকে ভালো করে চিকিৎসা করাতে এবং বিশ্রাম নিতে বলেছেন।






